,

এইচএসসিতে দুই কারণে কুমিল্লায় ফল বিপর্যয়

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 25, 2017
news-image

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ঃ
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর এবার এইচএসসি পরীক্ষায়ও ফল বিপর্যয় হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। ফলে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে ধস নেমেছে। ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক সংকট ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করায় এবার পাসের হার কমেছে। ফল বিপর্যয়ের কারণে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অবস্থান দশমে পৌঁছে স্থান হয়েছে তলানীতে।
শুধু মাত্র ইংরেজি বিষয়েই ৩৭.৯৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করায় এ ফল বিপর্যয় ঘটছে বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
কুমিল্লা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, বোর্ডের আওতায় শহরের কলেজ ছাড়া মফস্বল পর্যায়ে অধিকাংশ কলেজে দক্ষ ও ভালো মানের শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ শতাংশের মতো ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলে। তাই কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। এ বছর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। ফেল করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭.৯৪ শতাংশ ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ইংরেজিতে ২১.৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অধিক ফেল করেছে। এ বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭টি এবং শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩টি।
চলতি বছর এ বোর্ডে মোট এক লাখ ৩৭২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২০ হাজার ১৬৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন ১৪ হাজার ৬৬৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫৭ জন। মানবিকে ৪২ হাজার ৩৯৩ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১৬ হাজার ২৭২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ জন এবং বাণিজ্যে ৩৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন ১৮ হাজার ৭৬৯ জন, জিপিএ-৫ পয়েছেন ৮২ জন শিক্ষার্থী।
গত পাঁচ বছরের কুমিল্লা বোর্ডের এইচএসসি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬১.৪১ শতাংশ, ২০১৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৭০.১৪ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৫৯.৮০ শতাংশ, ১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৬৪.৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছর সব রেকর্ডের পতন হয়ে তা ৪৯.৫২ শতাংশে নেমে এসেছে।
এছাড়াও গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা বোর্ডে শতভাগ ফেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি না থাকলেও এবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। কলেজগুলো হলো ফেনী জেলা সদরে অবস্থিত বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অবস্থিত ফজু মিয়ারহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার উপার মডেল কলেজ। বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৪ জন, ফজু মিয়ারহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন ও উপার মডেল কলেজ থেকে অংশ নেয় ১৭ জন পরীক্ষার্থী।
এদিকে, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে শতভাগ পাশ করেছে আট প্রতিষ্ঠানে। এগুলো হলো ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, কচুয়া চাঁদপুরের ড. মনসুর উদ্দিন মহিলা কলেজ, কুমিল্লার বরুড়ার ছোট তুলাগাঁও মহিলা কলেজ, কচুয়া চাঁদপুরস্থ নিন্দুপুর এম কে আলমগীর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, দেবিদ্বারের কুমিল্লা মডেল কলেজ, চাঁদপুরের দি কার্টার একাডেমি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউনাইটেড কলেজ।
এসব বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, কুমিল্লা বোর্ডের আওতাভুক্ত সদরের কলেজগুলোতে ফল ভালো হয়েছে। বিভিন্ন কারণে গ্রামের কলেজগুলোর ফল খারাপ হয়েছে। ফল খারাপের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমস্যাগুলো উৎঘাটন করার পর তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।