All posts by jitu

যথাযথ তদন্ত ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত, বহিষ্কার এবং একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতাদর্শের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতামত ও স্বাধীন চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অতীতের সরকারগুলোর দমনমূলক চর্চার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের ঐতিহ্য রয়েছে। স্বৈরশাসকেরাই সাধারণত এ ধরনের আলোচনা ও বিতর্ককে ভয় পায়। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কোনো সরকারের এমন ভয় পাওয়ার কারণ থাকা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, অতীতের দমন-পীড়নের অধ্যায় পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান বদলালেও যেন দমনমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এইচআরডব্লিউর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতি, পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা এবং একাডেমিক দায়িত্ব সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এসব ব্যবস্থার পেছনে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সহিংস কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের সহযোগিতা, দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং ইসলামি পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্য বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত শত শত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, যার ফলে তারা উচ্চশিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এসব ঘটনার বিষয়ে শাস্তির মুখে পড়া এক ডজনের বেশি শিক্ষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এইচআরডব্লিউ। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন চিঠিপত্র, টেলিভিশন আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি। সাক্ষাৎকার ও নথিপত্রে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, পরীক্ষার সনদ আটকে রাখা এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, আওয়ামী লীগপন্থী একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্য হওয়ার অভিযোগে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক সংস্থাটিকে জানান, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান না নেওয়া আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের ক্লাস নেওয়া এবং গবেষণার কাজ থেকেও বিরত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সুবিধা দেওয়া এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কর্তৃপক্ষ ৪৪ জন শিক্ষককে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। আরও ২৫ জনের পাঠদানের দায়িত্ব সীমিত করা হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিভাগীয় তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই শিক্ষকদের মধ্যে ছয়জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার তথ্য পেয়েছে এইচআরডব্লিউ। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১২ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত অথবা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৪ জনের পদাবনতি করা হয়েছে কিংবা তাদের দায়িত্বের পরিধি কমানো হয়েছে।

এসব অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি কমিশন গঠন করলেও এর কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হয়নি এইচআরডব্লিউর কাছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তের পর ১২ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও ১০ জনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, তদন্তের সময় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আরও ৮৫ জন শিক্ষক পদোন্নতি পাননি।

এইচআরডব্লিউর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের ২০টিরও বেশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১২৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তাদের পরীক্ষার সনদ আটকে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটির দাবি ছিল, এসব শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ অভিযোগের পক্ষে ছবি, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ থাকার কথাও জানানো হয়।

এ ছাড়া পুলিশের কাছে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগপন্থী আরও ২৭৭ জন শিক্ষার্থীর নাম এসেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় এসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসছেন না। অভিযুক্তদের অনেকেই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

শাস্তির মুখে পড়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান। ২০১৭ সাল থেকে তিনি অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং আন্দোলনকে ‘অবৈধ, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ভিডিও পর্যালোচনা করে এমন বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পায়নি এইচআরডব্লিউ।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি ‘গণহত্যায় উসকানি’ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়। তবে ওই বৈঠকটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

মশিউর রহমান এইচআরডব্লিউকে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ। ওই মিছিলের পরদিনই শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিশন মিছিলটিকে ‘সন্ত্রাসী’ মিছিল হিসেবে অভিহিত করে।

তবে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত মিছিলের ভিডিও পর্যালোচনা করে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, সেখানে একদল মানুষকে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ভিডিওতে কারও সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের দৃশ্য পাওয়া যায়নি।

ওই মিছিলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক পূর্বা ইসলামকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার শাসনামলে নিপীড়ন, নির্যাতন ও গণহত্যাকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এইচআরডব্লিউর পর্যালোচনা করা ভিডিওতে তাকে স্লোগান দিতে দেখা যায়নি।

একই দিনে পশু প্রজনন ও বংশগতিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইয়াহিয়া খন্দকারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে শেখ হাসিনার গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে ইয়াহিয়া খন্দকার দাবি করেন, আন্দোলনের পুরো সময় তিনি ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তিনজন শিক্ষকের দণ্ড হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন কারাগারে রয়েছেন। অপর একজনের বিচার এখনো শুরু হয়নি।

সবশেষে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, আগের সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে সমর্থন করার কারণে কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা যথাযথভাবে সুরক্ষিত নয়।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমন একটি মুক্ত পরিসর, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন। কোনো সময়ের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে কাউকে বাধ্য করা বা ভিন্নমতের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

‎রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের “RCG বর্ষপূর্তি মেলা-২০২৬”-এর শুভ উদ্বোধন

‎স্টাফ রিপোর্টার:
‎
‎”আজ ও আগামীর পথে….” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দেশের স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ-এর আয়োজনে “RCG বর্ষপূর্তি মেলা-২০২৬”-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎১নভেম্বর ২০২৬, রোজ রবিবার, বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে গ্রুপের গুলশান-১-এ অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ও কর্পোরেট সেলস অফিস, নাফী টাওয়ারে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
‎
‎বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতে বিশ্বস্ততা, নির্ভরযোগ্যতা ও গুণগত মানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করে রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ও আমানতদারীত্বের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে মানসম্মত আবাসন হস্তান্তরের লক্ষ্যে গ্রুপের প্রতিটি প্রকল্পে অব্যাহত রয়েছে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরলস প্রচেষ্টা।
‎
‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান মানজুর আহমেদ সোহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান সহ গ্রুপের অন্যান্য সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
‎
‎এই “বর্ষপূর্তি মেলা” কেবল একটি আয়োজন নয়; বরং গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আস্থা, বিশ্বাস ও সম্পর্কের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি বিশেষ উদ্যোগ।
‎
‎রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ-আজ ও আগামীর পথে, আস্থার সঙ্গে আবাসনের নতুন দিগন্তের উম্মোচনের ব্যতিক্রমধর্মী-সমাধান।

‎মোহামেডান স্পোর্টিং ব্লুজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন চবি ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ

‎চবি প্রতিনিধি:

‎চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন মোহামেডান স্পোর্টিং ব্লুজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তিনি ছাত্রদল মনোনীত চাকসু ২০২৫ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী ছিলেন।
‎
‎সম্প্রতি ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মীর হেলালের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১১৪ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে সওয়ার আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শরিফুল ইসলাম তুহিনকে মনোনীত করা হয়েছে।
‎
‎নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনেও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন তিনি।
‎
‎নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “মোহামেডান স্পোর্টিং ব্লুজের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে সম্মানের। আমি এই দায়িত্বকে পদমর্যাদা নয়, বরং চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও তরুণ প্রতিভা বিকাশে অবদান রাখার সুযোগ হিসেবে দেখি।”

আইসিসিবিতে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার:

জাপানের জনপ্রিয় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সমাহার নিয়ে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’। আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে একই ছাদের নিচে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ি দেখার পাশাপাশি দাম ও সুযোগ-সুবিধা তুলনা করে পছন্দের গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের অটোমোবাইল খাতকে আরও গতিশীল করা এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা বাড়ানো এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে জাপান থেকে আমদানি করা জনপ্রিয় গাড়িগুলো এক জায়গায় প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য গাড়ি নির্বাচন ও কেনার প্রক্রিয়া সহজ করাই এ এক্সপোর লক্ষ্য।

এক্সপোতে টয়োটা প্রিয়াস, করোলা ক্রস, হ্যারিয়ার, নোয়া, ভক্সি ও আলফার্ডসহ জাপানের বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি প্রদর্শন করা হবে।

প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সরাসরি গাড়ি দেখার পাশাপাশি মডেল অনুযায়ী এর প্রযুক্তি, বৈশিষ্ট্য, সুযোগ-সুবিধা ও দাম সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি একই স্থানে থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

গাড়ি কেনাবেচায় স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬-এর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী।

এতে দেশের সড়কে জাপানি গাড়ির যাত্রা শুরুর সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত অটোমোবাইল প্রযুক্তির পরিবর্তন ও বিকাশের চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় জাপানি গাড়ির ছবি, ঐতিহাসিক মডেল এবং প্রযুক্তিগত বিবর্তনের নানা দিক দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে জাপানি গাড়ির দীর্ঘদিনের অবদানও তুলে ধরা হবে। নির্ভরযোগ্যতা ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত পুরোনো দিনের গাড়ি থেকে আধুনিক হাইব্রিড ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর মডেলে পৌঁছানোর ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে স্থান পাবে।

আয়োজকদের মতে, জাপানি গাড়ি দেশের পরিবহন খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব আয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বারভিডার মতে, অটোমোবাইল খাত কেবল গাড়ি আমদানি ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও সরাসরি যুক্ত।

এ প্রেক্ষাপটে এক্সপোর মাধ্যমে দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারকে আরও জনপ্রিয় ও গতিশীল করা, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন মডেলের গাড়ি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি।

এ ছাড়া জাপানি গাড়ির গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির পাঁচ দশকের অবদান তুলে ধরা এবং দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব আয়ে এ খাতের ভূমিকা তুলে ধরাও আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬ পরিদর্শনে গাড়িপ্রেমী, সম্ভাব্য ক্রেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, পরিবার, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি।

যারা গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, বিভিন্ন মডেলের বৈশিষ্ট্য ও দাম যাচাই করতে চান কিংবা আধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ প্রদর্শনী বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছে বারভিডা।

৫ থেকে ৭ নভেম্বর আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে দর্শনার্থীরা একই স্থানে বিভিন্ন মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ঘুরে দেখার এবং নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী গাড়ি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।

চবিতে চৌদ্দগ্রাম স্টুডেন্টস সলিডারিটির নেতৃত্বে মোশারফ-কানিজ-নোমান

চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চৌদ্দগ্রাম স্টুডেন্টস সলিডারিটি (সিএসএস), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ২০২৬-২৭ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোশারফ হোসেন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কানিজ আরজুমান্দ স্বর্ণা।সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ করিম।

কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মোতাহের উদ্দিন এবং প্রচার সম্পাদক মাহমুদুন্নবী মাহি।

সংগঠনের নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করাই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা, একাডেমিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে কেবল একটি পদ নয়; বরং চৌদ্দগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার এক পবিত্র আমানত। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা, তাঁদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার করা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা হবে আমাদের নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক কানিজ আরজুমান্দ স্বর্ণা বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে শুধু একটি পদ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। সিএসএসের সব সদস্যের সহযোগিতা নিয়ে সংগঠনের উন্নয়ন, কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং সবার মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “এই দায়িত্বকে আমি সম্মান নয়, আমানত হিসেবে দেখছি। সবাইকে নিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা এবং অ্যাসোসিয়েশনকে সচল রাখাই হবে আমার অঙ্গীকার। আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও হাম-ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও হাম-ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাসুম হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এস. এম. তৌহিদুর রহমান সুমন, সভাপতি, কুমিল্লা মহানগর ড্যাব (স্থগিত) এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ড্যাব (স্থগিত)।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকিরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. শাহ মু. সেলিম, অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল হক, অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. খোরশেদ আলম, সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সোহাগ, সহযোগী অধ্যাপক ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সহসম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাইন উদ্দিন হোসেন পিংকু, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মইনুল ইসলাম ওয়াসিক, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. পিযুষ কর্মকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. আসরাফুল আলম সিদ্দিক, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. ইফরানুল আলম মিশু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. সফিকুর ইসলাম, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি ডা. মো. রবিউল হোসেন পাটোয়ারী রবি, ডা. জাহিদুর হাসান রনি, ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. মো. আবু মুসা, ডা. কামরুল হাসান রায়হান, ডা. মো. মুনীফুল ইসলাম ইনান এবং ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মো. হাফিজুর রহমান তুহিনসহ কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি হাম ও ডেঙ্গুর লক্ষণ, সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায় এবং জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা ও উপস্থিত থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মো. হাফিজুর রহমান তুহিন।

এদিকে, কর্মসূচি আয়োজন ও বাস্তবায়নে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মো. নাজমুল হাসান। তাঁর এ আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

অন্যদিকে, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. মো. মেহেদী হাসানের নবজাতক সন্তান বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

‎চৌদ্দগ্রামে ১১টি কলেজে পাশের হার ২৮.৫৬% শীর্ষে মিয়াবাজার কলেজ

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
‎
‎কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চৌদ্দগ্রামের এগারটি কলেজেই ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। বিপর্যয়ের মধ্যেই ঘোষিত ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মিয়াবাজার কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
‎
‎ অন্যদিকে, বগৈর বালিকা বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থীই পাশ করেনি। উপজেলার আরেক কলেজ চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ থেকে কোন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি। ১১টি কলেজের মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছ। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম সরকারী কলেজে জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত হন ৩ জন, গুনবতী ডিগ্রী কলেজে ০১, কাশিনগর ডিগ্রী কলেজে ০১জন, ও মিয়াবাজার ডিগ্রী কলেজে ০২জন।
‎
‎কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের জেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রামের সাতটি কলেজ থেকে এ বছর মোট ২ হাজার ৪৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৯৮জন। উপজেলায় ১১টি কলেজের সামগ্রিক পাসের হার ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
‎
‎উপজেলা সদরের চৌদ্দগ্রাম সরকারী কলেজও ফলাফল বিপর্যয়ের অংশীদার হয়েছে। সরকারী এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৫৪জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও কৃতকার্য হয় মাত্র ১৮৩জন পরিক্ষার্থী। ঘোষিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার মাত্র ২৪.২৭%
‎চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আরেক পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব নূর মিয়া কলেজে এবারের এইসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ৩১.১৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২৩ জন।
‎
‎উপজেলার আরেক সরকারী কলেজ চিওড়া সরকারী কলেজও রয়েছে ফলাফল বিপর্যয়ের তালিকায়। কলেজটি থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় ১৯৬জন অংশগ্রহণ করেন এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৭জন শিক্ষার্থী। পাশের হার মাত্র ২৯%।
‎মুন্সীরহাট প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে ২৬৫জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৭জন। পাশের হার ২১.৫১%।
‎
‎গুনবতী ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৬২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫২জন। পাশের হার ৩২.১০%।
‎বিজয়করা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ০৬জন। পাশের হার ১৫.৭৯%।
‎ধর্মপুর নাজিম আলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ০৫জন। পাশের হার ১৫.১৫%।
‎
‎বগৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে একজনও পাশ করেনি।
‎
‎এদিকে সামগ্রিক পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
‎
‎চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল করিম জানান, ঘোষিত ফলাফলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১টি কলেজেই খারাপ ফলাফল করেছে। আমি এ উপজেলায় মাত্রই কয়েকদিন আগে যোগদান করি। বিপর্যয়ের কারণ বের করে আগামীতে ফলাফল ভালো করার বিষয়ে কাজ করবো।

‎কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে মেয়েরা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

‎কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীনে মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।
‎
‎শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।
‎
‎প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ হাজার ৪১৫ জন। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৫১ দশমিক ২৫ শতাংশ।


‎
‎অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন। সে হিসাবে ছাত্রদের পাসের হার প্রায় ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
‎
‎এবারের ফলাফলে বোর্ডের অধীন চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। বোর্ডের অধীন ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়েও ফলাফল পর্যালোচনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎এদিকে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ পয়েন্ট।
‎
‎সামগ্রিক ফলাফলে এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জনে। ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলের ব্যবধান, শতভাগ পাস এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র এবারের ফলাফলে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
‎
‎উল্লেখ্য, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ হাজার ৭২৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

দেবীদ্বারে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

সাইফুল ইসলাম ফাহাদ 

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে একটি আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লার নেতৃত্বে একটি সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর মিছিল দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুফিয়া বেগম, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া, পোল্যান্ড বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কাওসার উপজেলা বিএনপি সদস্য আবু তাহের, কসবা উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন। দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহেল নেয়ামত সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশ গঠনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ।

 আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে উপজেলা এবং পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২, পলাতক ৪

‎সাইফুল ইসলাম ফাহাদ:

‎কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজনকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
‎
‎গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই মো. শামীম, এসআই রুপম সরকার, এএসআই কামরুজ্জামান সোহাগসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়নের ধুলাহাঁস গ্রামের জামিল হোসেন (৪২) ও দক্ষিণ তেতাভূমি এলাকার বাবুল মিয়া (৩৮)। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া মামলার পলাতক আসামিরা হলেন সুমন মিয়া (৩৫), মোবারক হোসেন, মানিক (২৫) ও হাসান আলী (২২)। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‎
‎দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।