All posts by jitu

দাউদকান্দিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন গ্রেপ্তার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দির গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন ভুইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(১২সেপ্টেম্বর) রাতে জুরানপুর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজ রবিবার তাকে কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মুক্তার হোসেন ভুইয়া গোয়ালমারী ইউনিয়নের জুরানপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল(অবঃ) সুবিদ আলী ভুইয়ার ভাতিজা।

তিনি দুই মেয়াদে গোয়ালমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই রাতে মনির হোসেন নামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ । মনির হোসেন ঢাকার গাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ডাকাতি, পরোয়ানাভূক্ত ও ভ্রাম্মমান আদালতে সাজা দেয়া আরও ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি, জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মাদক সেবনের অপরাধে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, থানার এসআই মোহাম্মদ মাহতাব হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এফআইআর নং-২৪, দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬/১১৪ ধারার মামলার পলাতক আসামি মোঃ শফিউল প্রকাশ সফিউলকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার রামনগর এলাকার জজু মেম্বারের বাড়ির মোঃ মনির হোসেনের ছেলে।

অপর এক অভিযানে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩) ধারার মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের নাইঘর-নোয়াপাড়া এলাকার মোঃ জালাল হোসেনের ছেলে।

এছাড়া এএসআই মোঃ নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোসাঃ জরিনা খাতুনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া এলাকার মৃত. আকমত আলীর স্ত্রী।

অন্যদিকে এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, এএসআই ইমরান হোসেন, এএসআই মোঃ সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও এএসআই মোঃ নুর আল-আহসানের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে ৭ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ধান্যদৌল এলাকার মোঃ সুজন (৩৫), বরুড়ার চেংগাহাটা এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), দক্ষিণ বালুয়া এলাকার মোঃ শাহ জাহান (৫২), নশরতপুর এলাকার মোঃ ফয়সাল কবির (৪২), হায়দ্রাবাজ এলাকার মোঃ মহসিন খান প্রকাশ রাজু (২৯), ব্রাহ্মণপাড়ার সিদলাই এলাকার মোঃ সারোয়ার (৪২) এবং কল্পবাস এলাকার মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৫)।

পুলিশ জানায়, মাদক সেবনের অপরাধে আটক ৭ জনকে সামারি ট্রায়ালের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার অপর ৩ আসামিকেও আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে: চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে: চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “চাঁদপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পৌরসভার উদ্যোগে ও অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ শহরের ১৯টি স্থানে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম যাতে পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”

তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকসেবীদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ইউনিট চালু করার চিন্তা চলছে। কারাগারে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।” মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “সন্তানরা কখন ঘুম থেকে উঠছে, কখন ঘুমাতে যাচ্ছে এবং সারাদিন কী করছে— এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সংস্কৃতি চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে তরুণদের অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”

জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি, প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মাদক, বিদ্যুৎ, জননিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করার আহ্বান জানান। বাজার মনিটরিং ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ ইটভাটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটায় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। ইটভাটায় খালের মাটি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার এলাকায় নদীতে চলাচলকারী ট্রলার থেকে একটি কুচক্রী মহল চাঁদা আদায় করছে—এমন তথ্য প্রশাসনের কাছে এসেছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নদীপথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না।” জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। পুলিশ সুপার বলেন, “চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকসেবীদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। কারাগারে থাকা মাদকসেবী বন্দিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।” অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। অটোরিকশা আটক করা হলে অনেকেই শুধু পৌরসভার লাইসেন্স দেখান। আমার মনে হয় না, চাঁদপুর পৌরসভা এত বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স দিয়েছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়— এমন কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না।”

সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমাতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন। সিসিটিভি স্থাপন কার্যক্রমকে মডেল হিসেবে নিয়ে এর তদারকির দায়িত্ব জেলা পুলিশকে দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিট স্থাপন করা যেতে পারে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ডিবি পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।সোহেল রুশদী আরও বলেন, “চাঁদপুরে মাদক প্রবেশের প্রধান তিনটি পথ হলো সড়ক, রেল ও নৌপথ। এসব রুটে নিয়মিত অভিযান ও চেকিং জোরদার করা হলে মাদক প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।”

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার পরিচালনায় সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে টাটেরা হাজী মাষ্টার রেহান উদ্দিন আখন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা হাতে লাল কার্ড নিয়ে দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার শপথ নেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া মডেল একাডেমীর অধ্যক্ষ মোঃ খোরশেদ আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন টাটেরা হাজী মাষ্টার রেহান উদ্দিন আখন্দ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ আব্দুল মুবিন আখন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সুপার মাওঃ ফয়েজ আহাম্মদ ভূঁইয়া, সহশিক্ষক মোসাঃ শামিমা আক্তার, সহশিক্ষক মারুফা আক্তার, ক্রীড়া শিক্ষক সালেকা বেগম, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ আবুল হাশেম, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, সহশিক্ষক মাওঃ মোঃ শাহিনুল ইসলাম, সহশিক্ষক আশিকুর রহমান, সহশিক্ষক মোঃ রুবেল প্রামানিক, ইবি: প্রধান মাওঃ মোঃ জাকারিয়া, ইবি: সহশিক্ষক গোলেনুর আক্তার, ক্বারী মাওঃ মোঃ আঃ হাই ভূঁইয়া, ইবি: সহশিক্ষক মোঃ সাদ্দাম হোসেন, অফিস সহকারী মোসাঃ জেসমিন আক্তার, ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান সোহেলসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি ও মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীরা দূর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের গর্তে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের গর্তে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির পাশের মাটিকাটা গর্তে পড়ে সাবা মণি (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চান্দলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাবা মণি ওই এলাকার জাকির মেম্বারের বাড়ির সোহাগ মিয়ার মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে সাবা মণির মা তার আরেক বাচ্চাকে ঘরে বসে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সাবা বাড়ির বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের মাটিকাটা গর্তের পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখেন সজনরা। তারা দ্রুত গর্ত থেকে সাবাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন বলেন, পানিতে পড়া এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনরা। শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতলে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের অভিযানে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের অভিযানে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রহিম (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কামাল্লা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোঃ রহিম রাজনগর গ্রামের নানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় মুরাদনগর থানার এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজনগর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মার্কস অলরাউন্ডারে সেরা পাঁচে কুমিল্লার পরম্পরায়ের রাধিকা সাহা

মার্কস অলরাউন্ডারে সেরা পাঁচে কুমিল্লার পরম্পরায়ের রাধিকা সাহা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এর চূড়ান্ত বাছাইয়ে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন কুমিল্লার পরম্পরায়ের অনলাইন আবৃত্তি শিক্ষার্থী রাধিকা সাহা। এর ফলে প্রতিযোগিতার টেলিভিশন রাউন্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত পর্বের জন্য পাঁচজনকে নির্বাচিত করা হয়। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়ে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন রাধিকা।

পরম্পরায়ের অনলাইন আবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা করছেন রাধিকা সাহা। আবৃত্তির পাশাপাশি তাঁর উপস্থাপন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রাধিকার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরম্পরায়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, টেলিভিশন রাউন্ডেও নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন তিনি।

পরম্পরায়ের সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, মেধা, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে রাধিকার এই সাফল্য এসেছে। টেলিভিশন রাউন্ডে তাঁর জন্য সবার শুভকামনা রয়েছে।

এ বিষয়ে রাধিকা সাহা বলেন, মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। এই অর্জনের পেছনে আমার পরিবার, শিক্ষক এবং পরম্পরায়ের সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে। আগামী টিভি রাউন্ডে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করব। সবার দোয়া ও শুভকামনা চাই।

কোটি টাকার ডেমু পড়ে আছে লাকসাম লোকোশেডে, মরিচায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ

লাকসাম প্রতিনিধি:

ট্রেন আছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম। আবার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ডেমু পড়ে আছে লোকোশেডে। কুমিল্লা অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে বন্ধ হয়েছে ১৮ জোড়া ট্রেন। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য চালু করা চার জোড়া ডেমু ট্রেনও রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেমুগুলোর একটি এখন লাকসাম জংশনের লোকোশেডে পড়ে থেকে ধ্বংস হচ্ছে। কোটি টাকা মূল্যের এই ট্রেনের শরীরজুড়ে মরিচা ধরেছে, নষ্ট হচ্ছে সিট, পাখা, ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। অথচ লাকসাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন হওয়ায় প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় লাকসামসহ কুমিল্লা অঞ্চলে যাত্রীচাপ ও ভোগান্তি বাড়ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে ২০ জোড়া এবং কুমিল্লা-ঢাকা ও কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪ জোড়াসহ লোকাল ও আন্তনগর মিলিয়ে একসময় মোট ৫৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করত। গত পাঁচ বছরে এর মধ্যে ১৮ জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া ট্রেনের মধ্যে চার জোড়া ডেমু।

বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে আন্তনগর ও লোকাল মিলিয়ে ৩৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চলমান ট্রেনগুলোতে যাত্রী চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বাধ্য হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন।

লাকসাম লোকোশেডে পড়ে আছে কোটি টাকার ডেমু

২০১২ সালে চীন থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেন আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ডেমু বিকল হয়ে পড়ে।

কুমিল্লা অঞ্চলে চলাচলের জন্য বরাদ্দ ছিল চার সেট ডেমু। বর্তমানে চারটিই অচল। এর মধ্যে একটি পড়ে আছে লাকসাম জংশনের লোকোশেডে। তিন কোচ ও দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ট্রেনটির পুরো শরীরজুড়ে মরিচা। খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় ভাঙাচোরা সিট, পাখা ও ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ।
লাকসাম জংশনের লোকোশেড ইনচার্জের তথ্য অনুযায়ী, ডেমুটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অচল। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় ট্রেনটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।

লাকসাম স্টেশনে বাড়ছে যাত্রীচাপ

লাকসাম জংশন কুমিল্লা অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে লাকসাম স্টেশনের যাত্রীদের ওপরও।

বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা আগে ডেমু ও লোকাল ট্রেনে কম খরচে যাতায়াত করতেন। এসব ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের অনেকেই আন্তনগর ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে আসনভিত্তিক টিকিটের ওপর চাপ বেড়েছে এবং অনেক সময় টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

কুমিল্লা স্টেশনে এসে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাওয়া ট্রেনযাত্রী সুজন বলেন, ‘কুমিল্লা অঞ্চলে চলাচল করা লোকাল ও ডেমু ট্রেন বন্ধ হওয়ায় মানুষ বিপাকে পড়ছেন। আগে এসব ট্রেনে চড়ে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে যাওয়া যেত। এখন তীব্র ট্রেন সংকটের কারণে চাহিদামতো টিকিটও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সড়কপথে যেতে হচ্ছে।’

সাধারণ যাত্রী হিসেবে ট্রেনে আসা সাংবাদিক আফরাতুল করিম রিমু বলেন, ‘একটা ট্রেন অনেকজন যাত্রী একসঙ্গে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু এখন ট্রেন না থাকায় আমাদের বাসমুখী হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে ডেমু ট্রেন থাকলে আমরা সুবিধা পেতাম।’

চাঁদপুরে মেঘনা, নোয়াখালীতে উপকূল

চাঁদপুর ও নোয়াখালী রুট পুরোপুরি ট্রেনশূন্য নয়। বর্তমানে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস চলাচল করছে। একইভাবে নোয়াখালী রুটে উপকূল এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন হিসেবে চলাচল করছে। কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী রুটেও উপকূল এক্সপ্রেসের পাশাপাশি নোয়াখালী মেইল চলাচলের তথ্য রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব রুটে ট্রেনের সংখ্যা ও সেবার পরিমাণ যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য ডেমু ও লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ফলে লাকসাম, কুমিল্লা এবং আশপাশের স্টেশনগুলোতে চলমান ট্রেনগুলোতে যাত্রীচাপ বাড়ছে।

কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট

প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ডেমু ট্রেন লাকসাম জংশনের লোকোশেডে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ কারিগরি সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে এসব ডেমু মেরামত করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ফলে একদিকে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা মূল্যবান সম্পদ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

টিকিট বিক্রিতে বিপুল আয়

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট চারটি রুটে গত অর্থবছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকার।

যাত্রীদের প্রশ্ন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ রেলপথে যাতায়াত করলেও কেন চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন বাড়ানো হচ্ছে না? বিশেষ করে লাকসাম জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো না হলে যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা তিনগুণ

কুমিল্লা স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেক যাত্রী আন্তনগর ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন না। স্বল্প খরচে তারা ভ্রমণ করতে চান। ডেমুসহ লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে আসনভিত্তিক টিকিটের চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে।’

লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘ডেমুগুলোতে আগে যথেষ্ট আর্নিং ছিল। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি নতুন গাড়ির ব্যবস্থা করে, তাহলে যাত্রীদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।’

ডেমু চালু হলে চাহিদা পূরণ হবে

কুমিল্লা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘ডেমুগুলো পুনরায় মেরামত করা হলে যাত্রীদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করি। এতে স্বল্প ব্যয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ আবারও তৈরি হবে।’

লাকসাম জংশনের লোকোশেড ইনচার্জ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডেমুটি নষ্ট। ডেমুগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আমাদের সড়কপথ ব্যবহার করতে হয়। কুমিল্লা অঞ্চলের যাত্রীরা এতে কয়েকগুণ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

ট্রেন বাড়ানোর দাবি

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরের অন্যতম লাকসাম জংশন। প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। চাঁদপুরে মেঘনা এক্সপ্রেস এবং নোয়াখালীতে উপকূল এক্সপ্রেসসহ কিছু ট্রেন চালু থাকলেও সামগ্রিকভাবে যাত্রী চাহিদার তুলনায় সেবার পরিমাণ কম বলে অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে লাকসাম জংশনের লোকোশেডে কোটি টাকার ডেমু পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্বল্প আয়ের যাত্রীরা পর্যাপ্ত লোকাল ও ডেমু সেবা না পেয়ে বাড়তি খরচে সড়কপথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অচল ডেমু মেরামত করে চালু করা অথবা নতুন ট্রেন যুক্ত করা গেলে কুমিল্লা-লাকসাম অঞ্চলের যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

চৌদ্দগ্রামে টিভি ও মোবাইল কাপ মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে টিভি ও মোবাইল কাপ মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাতে শ্রীপুর ইউনিয়নের পদুয়া সরকারি প্রাথমিক মাঠে খেলায় চিওড়ার টিম ১-০ গোলে পদুয়া টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক প্রচার সম্পাদক মনির হোছাইন মজুমদার।

শ্রীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক শাহীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন রনি, শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি রবিউল হোসেন মিলন, সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন মজুমদার, শ্রীপুর ফাউন্ডেশন ঢাকার সভাপতি ফখরুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ ছোটন, ৬নং ওয়ার্ড যুব বিভাগের সভাপতি আলমগীর হোসেন মজুমদার, ৩নং সহ-সভাপতি মনির হোসেন দুলাল, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি মাঈন উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ড জামায়াতের মাওলানা আরিফুল ইসলাম, যুব বিভাগের সেক্রেটারী শাহীন কাদের, ৯নং ওয়ার্ড রফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ড সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি মাওলানা সামছুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহাদাত হোসেন, যুবনেতা ফিরোজ হোসেন মজুমদার, মনিরুজ্জামান তুষারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। খেলা দেখতে আশ-পাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত কিশোর-তরুন ভীড় জমায়। এরআগে প্রধান অতিথি মনির হোছাইন মজুমদারকে অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল দিয়ে শোডাউন করে খেলার মাঠে নিয়ে যায় খেলার আয়োজক কমিটির যুবকরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মনির হোছ্ইান মজুমদার বলেন, সারাদেশে মাদকে ছেয়ে গেছে। এ মাদক বিষফোঁড়া থেকে বের করে এনে পদুয়া যুব সমাজ যে সুন্দর আয়োজন করছে, এটা স্মরণীয়। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। যুবকরা মাদক থেকে দূরে থাকে। আমরা মানুষ, আমাদের অনেকের অনেক স্বপ্ন থাকে, আমাদের স্বপ্ন হবে সুশৃঙ্খল। স্বপ্ন হবে সকলকে নিয়ে, মানুষের কল্যান নিয়ে। খেলাধুলা নিয়ে কোন রাজনীতি নেই। যুব সমাজ যাতে আগামী দিনে আরও সুন্দর আয়োজন করতে পারে, সেজন্য তাদেরকে উৎসাহ দিতে হবে।

মুরাদনগরে আড়াই বছর পর বাড়িতে ফিরেই খুন হলেন ইউপি সদস্য, হত্যাকান্ডকে ডাকাতি বলে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা থানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মো: আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তিনি উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত. মনু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর পেন্নই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মেম্বার ও বর্তমান ইউপি সদস্য আনোয়ার মেম্বারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয় আনোয়ার মেম্বার। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর ধরে গ্রাম ছাড়া অবস্থায় ছিলো সে।

নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের অভিযোগ, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন আনোয়ার মেম্বার। বিষয়টি জানতে পেরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার দিকে ফিরোজ মেম্বার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে জানান তিনি।

মোমেনা বেগমের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে, এমন ঘোষণা মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাজমুস সাকির জানান, আনোয়ার হোসেনকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচাতো ভাই মো: জসিমের দাবি, প্রায় আড়াই বছর ধরে আনোয়ার গ্রামছাড়া ছিলেন। কিছুদিন আগে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ মেম্বারের লোকজনের পক্ষ থেকে তার কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হামলার পর আনোয়ারকে যে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তাদের মারধর করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হত্যাকারীদের পক্ষে প্রভাবশালী একটি মহল অবস্থান নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তার আনোয়ার হোসেনকে ডাকাত ও সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন।

বাংগরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) শফিউল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি লোক হিসেবে ভালো ছিল না। এলাকাবাসী টাকে পছন্দ করত না। গতকাল রাতেও ওই ব্যক্তি এলাকায় গন্ডগোল করতে আসছিল। তখন এই ঘটনা ঘটে। এর বেশি কিছু জানি না। তদন্ত করে বিস্তারিত জানাবো।