All posts by jitu

দেবিদ্বারের ইউসুফপুর ইউনিয়নে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক ইয়ামিন আলী সদস্য সচিব জাবেদ- মূখ্য সংগঠক শামীম

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় ছাত্রশক্তি দেবিদ্বার উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে অনুমোদিত কমিটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে মো. ইয়ামিন আলীকে আহ্বায়ক, মো. হৃদয় সরকারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাবেদ খান পাঠানকে সদস্য সচিব এবং শাকিব আল হাসান শামিমকে মুখ্য সংগঠক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংগঠক রাখা হয়েছে। অনুমোদিত কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসহ মোট কয়েকটি সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের।

জাতীয় ছাত্রশক্তি দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাজেদুল রাশেদ রাফসান, সদস্য সচিব তানভীর হাসান তুষার এবং মুখ্য সংগঠক কাজী মিজানুর রহমানের সুপারিশক্রমে ইউসুফপুর ইউনিয়ন শাখার এ কমিটি অনুমোদন করা হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্রসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিও এক বছরের জন্য অনুমোদিত।

নতুন কমিটির নেতারা দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ইউসুফপুর ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি:

মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি। এই পদ যিনি অলংকৃত করবেন তিনি হবেন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তার ব্যক্তিত্বের আলোয় আলোকিত হবে দেশের ভাবমূর্তি।

এই পদে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি যাকে মনোনীত করেছেন তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক তাকে কখনো স্পর্শ করেনি। তিনি আপাদমস্তক পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত মানুষ।

জীবনের ৭৮টি বছর পার করলেও নীতি ও আদর্শে তিনি হিমালয়ের মতো অটল। কথা ও আচরণে চিরকাল বিনয়ী এবং মিষ্টভাষী। রাজনীতিতে যখন আক্রমণাত্মক ভাষার আধিপত্য, তখন তিনি এক অনন্য ব্যতিক্রম—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরল ব্যক্তিত্ব।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করে এক দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি কেবল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আদর্শ লালন করা এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করেনি, বরং রাষ্ট্রপতি পদটির মর্যাদাকে করেছে আরও সুসংহত। এটি সুস্থ, নীতিগত ও শালীন রাজনীতির প্রতি এক বড় ধরনের আস্থা ও বিজয়ের প্রতীক।

বর্তমান সমাজে ‘একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ কেমন হওয়া উচিত’—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে গুণাবলীর তালিকাটা বেশ দীর্ঘ হয়। তাকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন থেকে দূরে থাকতে হবে, হতে হবে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের গভীর আস্থার প্রতীক। কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকাটাও জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিক রাজনীতিতে এসব গুণের সংমিশ্রণ মেলা ভার। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পর্যালোচনায় এই গুণগুলোর বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার সময় থেকেই মির্জা ফখরুল সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য এবং এস.এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

পড়াশোনা শেষে ১৯৭২ সালে তিনি অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং একাধিক সরকারি কলেজে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ত্যাগ করে সরাসরি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। যে সময়ে অনেকেই ক্ষমতার মোহ বা ভয়ে দল ত্যাগ করছিলেন, সেই কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নামেন। ১৯৯২ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনীত হন। তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এই নেতা ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা এক রাজনৈতিক সংগঠক। এক ডজনেরও বেশি রাজনৈতিক মামলা, বারবার জেল-জুলুম এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েও তার মনোবল ভাঙেনি। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও শালীন আচরণের কারণে সব দলের মানুষের কাছেই তিনি একজন ‘নিপাট ভদ্রলোক’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে যখন তরুণ সমাজের সামনে রাজনৈতিক রোল মডেলের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে তুলে ধরেছেন এক অনুকরণীয় আইডল হিসেবে।

দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার মতো একজন সৎ, ত্যাগী ও শিক্ষাবিদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন জাতির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে দেশ একজন সত্যিকারের অভিভাবক পাবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।

মুরাদনগরে ডাক্তারকে ‘ম্যাডাম-স্যার’ না বললেই রোগীদের পোহাতে হয় ভোগান্তি

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধন না করলে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধনের বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতাই নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও টানানো হয়েছে লিখিত নির্দেশনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোন মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।’

চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, “আমরা গ্রামের মানুষ। মহিলাদের আপা আর পুরুষদের ভাই বলেই অভ্যস্ত। এখানে ডাক্তারদের ভাই বা আপা বললে তারা রেগে যান। এতে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তারা চিকিৎসকদের ভাই-আপা বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না বলেও জানান তারা।

তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা টানানোয় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক রোগী ও স্বজনের মতে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নিম্ন শ্রেণির কর্মকর্তা বলেন, “আমিও একবার একজন নারী চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং পরবর্তীতে ‘ম্যাডাম’ অথবা ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে বলেন।”

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা: আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।

আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। দেশের অটোমোবাইল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল আইসিসিবির পুষ্পাঞ্জলি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আয়োজকরা। ‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ। আর ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, ফেয়ার গ্রুপের হেড অব গ্রুপ মার্কেটিং তাসলিম কবির, বিওয়াইডি বাংলাদেশের হেড অব ক্যাটাগরি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং ইমতিয়াজ নওশের, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং ডিভিশন মো. ওয়াহেদ ইবনে শাহেদ, চেরি বাংলাদেশের হেড অব সেলস আবু নাসের মাহমুদ, উইজার্ড শোবিজের চেয়ারম্যান মো. ফয়েজ উল্লাহ, সিইও আরিফুজ্জামান রাসেল এবং আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দীন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, ডিলার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ‘সুপার সেল কার বাজার’-এর মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ক্রেতারা নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা ও আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

তাঁদের মতে দেশে অটোমোবাইলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নিয়মিত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভরযোগ্য একটি মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজন রয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি অটোমোবাইল ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতারা একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং সেগুলোর তুলনা করার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি শুক্রবারের এ আয়োজনে বিভিন্ন গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগ থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ এবং কার ও বাইক কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।

হোমনায় নিখোঁজের ৪ দিন পর ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় নিখোঁজের চার দিন পর ছেনোয়ারা বেগম (৭৩) নামের মানুষিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের শরিফপুর এলাকার কাউয়ারটেক বিলের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে হোমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত ছেনোয়ারা বেগম উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের আলমাছ মিয়ার স্ত্রী। তিনি একই গ্রামের রবি উল্লাহ মিয়ার মেয়ে।

এলাকাবাসী ও থানাসূত্রে জানা যায়, নিহত ছেনোয়ারা বেগম মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার কোন আত্মীয় স্বজন নেই। সে ভবঘুরে জীপন যাপন করতো। চারদিন আগে সে নিখোঁজ হয়। চারদিন পর বিলের পানিতে তার মরদেহটি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ টমাস বড়ুয়া জানান, নিহত বৃদ্ধা মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হোমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

বুড়িচংয়ে যুবলীগ নেতা আদনান গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে উপজেলা যুবলীগ নেতা আদনান হায়দারকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মিথিলাপুর খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আদনান হায়দার বুড়িচং উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দারের ছেলে। তিনি উপজেলার সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, আদনান হায়দারের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচং থানায় ২০২২ সালে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় ২০২৪ সালে দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরো দুটি মামলা রয়েছে।

বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলোর তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে সিফাতের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর:

আসন্ন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিক ও সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম সিফাত। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহ জালালের কাছ থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

সাইফুল ইসলাম সিফাত মরহুম হাফেজ মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান খানের মেঝো ছেলে। ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের দোয়া, সমর্থন ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন। তিনি বর্তমানে হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মডার্ণ হাসপাতাল (প্রা.)-এর চেয়ারম্যান এবং হাজীগঞ্জ ই-কমার্সের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি সাপ্তাহিক সকলের কণ্ঠ ও প্রিয় চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, বিজয় টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি এবং নয়া দিগন্তের হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব।

সামাজিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন সাংবাদিক সিফাত। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। এসব মানবিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজেও দুইবার করোনায় আক্রান্ত হন।

আসন্ন হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামীয়া মডার্ণ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবিব উল্যাহ, মাসুদ হোসেন, মেহেদি হাসান রিমেল ও আব্দুস সালাম। এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলামুর রহমান, সদস্য ও উপজেলা আইসিটি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার মো. মোশাররফ হোসেন এবং পৌরসভার বাজার পরিদর্শক খাজা সাফিউল বাসার রুজমন উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাইফুল ইসলাম সিফাত বলেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হলে দায়িত্বের প্রতি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ আগস্ট (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র বিতরণ চলছে ১১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র দাখিল ১৬ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৭ আগস্ট, প্রত্যাহার ১৮ আগস্ট, প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ ১৯ আগস্ট এবং প্রতীক বরাদ্দ ২০ আগস্ট।

কুমিল্লায় মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তিকে লাল কার্ড

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাহের বানু আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ও শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিদ্যালয়ের হলরুমে টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিন নার্গিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহের বানু আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম মজুমদার, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ইয়াছিন, শামীম, সিহাব, আরাফাত, তুহিন, সিয়াম, অন্তু, ইফতি, মেহেদী, সোহান, আশিক, সাইফুল, ফখরুলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, “মাদক ও কিশোর অপরাধ আমাদের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে। আর স্মার্টফোনের অপব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মনোযোগ নষ্ট করে। তাই মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারকে লাল কার্ড দেখিয়ে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই এখন থেকেই সচেতন হও, ভালো মানুষ হও এবং দেশকে ভালোবাসো।”

পরে শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন এবং মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার শপথ পাঠ করান লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল।

উল্লেখ্য, টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।

চান্দিনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের প্রাণহানি, শিশুসহ আহত ৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীরচর ও কোরছাপ এলাকায় পর পর দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন রনি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং শিশুসহ আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন রনি চান্দিনা উপজেলার কোরছাপ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তীরচর এলাকায় বাঁশবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ভ্যান মহাসড়কে ঘোরানোর চেষ্টা করছিল। ঠিক সে সময় পেছন থেকে আসা ‘মুহাইমিন কার্গো সার্ভিস’-এর একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়।

কাভার্ডভ্যানটি উল্টে যাওয়ার পর ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। এর মাত্র দুই মিনিট পর পেছন থেকে আসা ‘তিসা প্লাস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিসা বাসের সামনের অংশ চরমভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা শিশুসহ অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ইলিয়টগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অপরদিকে, বেলা ১১টায় কোরছাপ এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মো. মহিউদ্দিন রনিকে একটি অনিয়ন্ত্রিত মিনি পিকআপ ভ্যান সজোরে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলেই রনির মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক জানায়, অনিয়ন্ত্রিত পিকআপের চাপায় ঘটনাস্থলেই রনি নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং তীরচর এলাকায় বাসের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকটে কুবির হল-ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিনিধি:

জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে গ্যাস উৎপাদন না হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলো ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ায় রান্না বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীরা খাবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ আগস্ট) দুইদিন যাবৎ গ্যাস না থাকায় রান্না হচ্ছে না। এছাড়াও এ মাসের শুরুতে দুইদিন গ্যাস সংকটে রান্না হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ক্যাম্পাসের আশেপাশে খুব বেশি খাবারের হোটেল নেই। এর দরুণ আবাসিক হল ও ক্যাফেটারিয়ার খাবারের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দুইদিন ধরে গ্যাস না থাকায় দুইবেলা খাবার খাওয়া নিয়েও বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ঘনঘন ও দীর্ঘ সময়ের জন্য লোডশেডিং থাকায় একাডেমিক ক্লাস, সেমিস্টার ও মিডটার্মের প্রিপারেশন, প্রেজেন্টেশন, এসাইনমেন্ট, থিসিস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৪। তাঁদের আবাসনের জন্য রয়েছে পাঁচটি আবাসিক হল। এসব হলে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।
এছাড়াও ক্যাম্পাসের আশেপাশের অবস্থিত মেস থেকেও অনেক শিক্ষার্থী এসে ক্যাফেটারিয়ায় খাবার খায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হারেজ আহমদ বলেন, হলে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আমরা শিক্ষার্থীরা বর্তমানে খাবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। হলের ডাইনিংয়ে যেখানে একজন শিক্ষার্থী মাত্র ৪০–৪৫ টাকার মধ্যে খাবার খেতে পারে, সেখানে গ্যাস না থাকায় বাইরে হোটেলে খেতে গেলে একই খাবারের জন্য প্রায় ৮০–১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা অনেক কঠিন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হলের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।

কাজী নজরুল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ওসমান গণি বলেন, কুবির হলে গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর রান্নাবান্নায়। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে নিয়মিত ও সঠিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বিকল্প হিসেবে হলের বাইরে হোটেল থেকে খাবার কিনতে গেলেও অনেক সময় খাবার পাওয়া যাচ্ছে না; পাওয়া গেলেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, আজকে দুইদিন যাবত হলে গ্যাস নেই,  গ্যাস না থাকার কারণে ২ দিন ধরে ডাইনিংয়ে  রান্নাও হচ্ছে না।  তাই শিক্ষার্থীদেরকে বাহিরে খাবার খেতে হচ্ছে, বাহিরে খাবারে দাম বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানসম্মত খাবারও পাচ্ছে না। আজকে শুনলাম ডাইনিংয়ে খাবার রান্না করতে গিয়ে ভাত এবং তরকারি নষ্ট হয়েছে কারণ গ্যাসের সাপ্লাই খুবই অল্প।  প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুতই এই সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খোজা।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা লুৎফা বলেন, গ্যাস সংকটের কারনে হলের খাবারের স্বাভাবিক অবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস না থাকার কারনে গতকাল রাতে হলে খাবার তৈরি হয় নি। আজ দুপুরেও খাবার তৈরি হয় নি। ফলে বাহির থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। যার ফলে সময় অপচয় এবং অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। অনেকের মিডটার্ম এবং সেমিস্টার ফাইনালে চলছে, তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করে শিক্ষার্থীদের খাবারের ভোগান্তি কমানো।

সুনীতি-শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রোম্মানা হোসেন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি গ্যাস সংকটও যুক্ত হয়েছে। গ্যাসের সমস্যার কারণে মিল বন্ধ রাখা হচ্ছে যার পরিবর্তে লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বেশ ভোগান্তির। অন্যদিকে, অনেক সময় হলগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে। এতে পরীক্ষা, পড়াশোনা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে সমস্যা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকাও খুব কষ্টকর। আবার বিদ্যুৎ আসার পরও (Cou) Wi-Fi স্বাভাবিক হতে সময় লাগে, ফলে নেটওয়ার্ক সুবিধাও ব্যাহত হয়। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি কমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, সাধারণত রান্না করার জন্য টেম্পারেচার ৭০ ডিগ্রি রাখতে হয়। এরচেয়ে কম হলে খাবার ঠিকমতো সিদ্ধ হবে না। ফলে নানাবিধ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- ডাইরয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিস এ ও পেটের পীড়া।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট ড. সুমাইয়া আফরিন সানি বলেন, গতকাল গ্যাস না থাকায় আমরা লাকড়ি দিয়ে রান্না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ বৃষ্টি থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। তাই রান্না বন্ধ আছে। যেহেতু মাঝেমধ্যেই গ্যাস চলে যাচ্ছে তাই আমরা প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি দিবো যেন আমাদেরকে একটি শেড দিয়ে রান্নাঘর তৈরী করে দেয়। সেখানে গ্যাস না থাকলেও লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যাবে।

সুনীতি-শান্তি হলের প্রভোস্ট ড. মোসা. শাহীনুর বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাস্ত আছেন বলে কল রেখে দেন।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, হলের প্রভোস্ট হিসাবে আমি সামগ্রিক বিষয় গুলোতে মন্তব্য করতে পারি না। এটা ইতিমধ্যে  আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।  তারা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মো. জনি আলম বলেন, আমি বাখরাবাদে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে এটা ন্যাশনাল সংকটের কারণে হচ্ছে। শুধু কুমিল্লা নয় সারাদেশেই এই সমস্যা। তিন-চারদিনের আগে গ্যাস আসবেনা বলে জানিয়েছে তারা। তবে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করার জন্য আমরা বিকল্প চিন্তা করছি। ভিসি স্যার ও প্রো-ভিসি স্যারের সাথেও যোগাযোগের একটি প্রক্রিয়া চলছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, অন্যান্য সময়ে বাহিরে লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যেত কিন্তু বৃষ্টি থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস হওয়ায় তাদের হাতেও সমাধান নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করেছিলাম তারা বলেছিলো রাতেই গ্যাস চলে আসবে কিন্তু এখনো আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়া কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি বলেন, ক্যাফেতেও গ্যাস সংকটের জন্য রান্না করা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে জানতে বাখরাবাদ গ্যাস অফিস কুমিল্লায় যোগাযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তারা জানিয়েছে, ন্যাশনাল গ্রিডে এল এন জি সরবরাহ কমে গেছে৷ ফলে সংকট দেখা দিয়েছে। আরও দুই-একদিন লাগতে পারে এই সংকট সমাধান করতে।

এবিষয়ে জানতে উপ-উপাচার্যের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।