Tag Archives: করোনা

বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা, মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে ৬ মাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে। এ সংক্রান্ত আবেদনে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হচ্ছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক রাজধানীর সচিবালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আগের দুটি শর্তেই দণ্ডের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর আবেদনে ইতিবাচক মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। তাকে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করার অনুমতিও দিয়েছিলাম। ডাক্তার তাকে চিকিৎসাও করেছিলেন, ডাক্তার তাকে সুস্থও করেছেন।

কেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না, সেই প্রশ্নে পুরোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। বহুবার আমি আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তারপর প্রতিবারই তারা প্রথম যে চিঠি লিখেছিল সেই আকারেই আবেদন করছে।

সরকারপ্রধান চাইলে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, সরকারপ্রধান মানে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেহেতু এটা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন, এখন এটা পরিবর্তন করার আইনি কোনো বিধান নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রধানকে আইনের ভেতরে থেকে মানবিক বিবেচনা করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে তিনি মানবিক কারণ দেখাতে পারবেন না। প্রথম বার থেকেই মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন (নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি) দেওয়া হচ্ছে। এখন সেই মেয়াদ বারবার রিনিউ হচ্ছে, সেটা কিন্তু মানবিক কারণেই হচ্ছে।

গত ৬ মার্চ পরিবারের পক্ষে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম সাত্তার আবেদনের চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, আবেদনপত্রে ম্যাডামের স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ম্যাডামের ছোটভাই (শামীম ইস্কাদার) অসুস্থ থাকায় আমি চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। আবেদনপত্রে শামীম ইস্কাদার বলেন, বেগম জিয়ার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় দরকার দেশের বাইরে চিকিৎসা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেন আদালত। সেই থেকে প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন তিনি। পরে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দুটি শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমটি হলো, তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয় শর্তটি হলো, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তখন করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস অন্তর অন্তর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ মার্চ। এবার নবম বারের মতো মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে খালেদা জিয়ার।

কুমিল্লায় একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ৯৬৪ জনের করোনা শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৩২৮ জনে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ২৮১ জন, আদর্শ সদরে ৩১ জন , সদর দক্ষিণে ১৯ জন , বুড়িচংয়ে ৫১ জন, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩৮ জন , চান্দিনায় ১৭ জন, চৌদ্দগ্রামে ৬৬ জন , দেবিদ্বারে ৩৫ জন , দাউদকান্দিতে ৯০ জন, লাকসামে ৫৯ জন, লালমাইতে ১১ জন , নাঙ্গলকোটে ৪৩ জন , বরুড়ায় ৪৪ জন , মনোহরগঞ্জে ২৮ জন , মুরাদনগরে ৮৪ জন , মেঘনায় ২১ জন , তিতাসে ১৪ জন এবং হোমনায় ৩২ জন রয়েছেন।

কুমিল্লায় চালের বস্তা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩

 

শরীফুল ইসলাম, চান্দিনাঃ

কুমিল্লায় চালের বস্তা থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় পিকআপসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকার হাইওয়ে পুলিশের চেক পোস্টে তল্লাসী চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চরনল গ্রামের মৃত জয়নাল মিস্ত্রির ছেলে মাদক ব্যবসায়ী নূরুজ্জামান (৩০), বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে পিকআপ চালক সাইদুল ইসলাম (২৮) ও মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার যশপুর গ্রামের রুহুল আমিন এর ছেলে পিকআপ হেলপার নূর ইসলাম (২৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- চলমান করোনাকালিন দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ নিশ্চিত করতে ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় চেকপোস্ট করছিল ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ। দুপুর অনুমান আড়াইটার দিকে ঢাকাগামী একটি পিকআপে তল্লাসী চালায় হাইওয়ে পুলিশ। এসময় ৫টি চালের বস্তায় ১০ কেজি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।

পিকআপ চালক সাইদুল ইসলাম জানায়, নিমসার বাজার থেকে চালের ওই বস্তাগুলো গাড়িতে উঠায় নূরুজ্জামান।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (এস.আই) মিঠুন বিশ্বাস জানান- ‘কঠোর লকডাউন’ বাস্তবায়নে মহাসড়কে আমাদের নিয়মিত চেকপোস্টে অভিযান চলছিল। এসময় ওই পিকআপে চালের বস্তা দেখে সন্দেহ হওয়ায় তল্লাসী করে চালের ওই বস্তাগুলো থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় আমার সাথে ছিলেন ফাঁড়ির (টিএসআই) বজলু হকসহ অন্যান্য সদস্যরা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লায় ভয়ানক পরিস্থিতি, এক সপ্তাহে ৩১ জনের মৃত্যু

সোলায়মান হাজারী ডালিম:

কুমিল্লায় ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্য মতে গেল এক সপ্তাহে এ জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন করোনা পজিটিভ রোগী। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫০৬।

স্থানীয়রা বলছেন স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যের বাইরে উপসর্গ নিয়ে কি পরিমাণ মুত্যু রয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই, এর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। কাগজে-কলমে সর্বমোট ১৫ হাজার ৯৫৫ জন আক্রান্ত হওয়ার বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ১১২ জন। তবে জেলার সর্বত্র ঘরে ঘরেই জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গের রোগী।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা ও অধিক জনসংখ্যার নগরী হওয়ায় কুমিল্লায় করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার ডেল্টা ধরনের কারণে দিন দিন বাড়ছে মৃত্যু হার। হাসপাতালগুলোতে স্বল্পতা দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে তৈরি হয়েছে রোগীদের রয়েছে উপচেপড়া চাপ, করোনা ইউনিটে জায়গা না পেয়ে রোগীরা বারান্দায় এবং মেঝেতে অবস্থান করছেন। ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) শয্যাসমূহ নেই খালি।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ দেওয়া তথ্য মতে, এর মধ্যে গেল সপ্তাহের শুক্রবার ২ জন, চলতি সপ্তাহের শনিবার ২ জন, রোববার ৩ জন, সোমবার ৪ জন, মঙ্গলবার ৭ জন, বুধবার ৭ এবং আজ বৃহস্পতিবার ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দৈনিক শনাক্ত ৪৫ শতাংশ, বিপরীতে সুস্থ ১৯ শতাংশ, চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩ হাজার ৮৪৩ জন, গড় মৃত্যু ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শনাক্তের চেয়ে সুস্থ্যের হার কম:

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার কুমিল্লায় যেখানে ৪৫ শতাংশের বেশি, তার তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার মাত্র ১৯ শতাংশ। সর্বশেষ বুধবার একদিনে ৩৯৩ জন করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৭৫ জন। সর্বমোট ১৫ হাজার ৯৫৫ জন আক্রান্ত হওয়ার বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ১১২ জন। অর্থাৎ এখনো কুমিল্লায় ৩ হাজার ৮৪৩ জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কথা হয় কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রেজাউল করিমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় কুমেক করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত ছিলেন ১৪৯ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়েও ভর্তি আছেন অনেকে। এর মধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম থেকে হাই ফ্লো অক্সিজেন পাচ্ছেন ১৩৫ জন। বাকিদের সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমেক হাসপাতালে মারা গেছে আরো ৫ জন।

কুমেকে শয্যা সংকট, খালি নেই আইসিইউ:

কুমেক হাসপাতাল সূত্র মতে, এ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে বেড রয়েছে সর্বমোট ১৩৬টি। এর মধ্যে ২০টি আইসিইউ বেড এবং ১০টি এইচডিইউ বেড রয়েছে। এসব বেডের কোনোটিই খালি নেই, সবগুলোতেই রয়েছে রোগী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ১৪৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। আরও ভর্তি হচ্ছে। এদের সবাইকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। নতুনদের সিলিন্ডার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।

শয্যা সঙ্কটের কারণে অধিকাংশ রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। একাধিক নতুন মুমূর্ষু রোগীকে দেখা গেছে করোনা ইউনিটের নিচতলায় বেডের জন্য অপেক্ষা করতে। এছাড়াও রোগী নামানোর সিগন্যাল না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে অক্সিজেন লাগিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কুমেক হাসপাতালে জেলার ১৭ উপজেলা ছাড়াও ফেনী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসছেন রোগীরা।

কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, করোনা ইউনিটে ১৩৬টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ১৪৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আমরা সাধারণ বেডে নতুন রোগীরা ভর্তি রাখছি।

দুশ্চিন্তায় স্বাস্থ্য বিভাগ:

স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, কুমিল্লায় ৩ হাজার ৮৪৩ জন করোনা আক্রান্ত হাসপাতাল ও নিজেদের বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। কুমেক ও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ওপর চাপ কমাতে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, কুমিল্লার করোনা পরিস্থিতি ভালো না, অবস্থা বেগতিক, দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। করোনার প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বোচ্চ শনাক্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সিভিল সার্জন বলেন, আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ‘ব্যাক আপ’ হিসেবে প্রস্তুত করছি। যাদের অতিরিক্ত প্রেশারের অক্সিজেন না লাগবে তাদের স্ব-স্ব উপজেলায়ই চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি এমন ভয়নক পরিস্থিতিতেও সচেতন না হয়, তাহলে কিছুই করা যাবে না। কোনোভাবেই লাগাম ধরা যাবে না মৃত্যুর মিছিলের। করোনার দৌড় হবে লাগামহীন।

কুমেকে স্থাপন হচ্ছে আরো একটি অক্সিজেন প্লান্ট:

কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, কুমেক হাসপাতালে নতুন আরো একটি প্লান্ট স্থাপন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে যা থেকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫শ জনকে হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হবে।

কুমিল্লায় করোনার ভয়াল থাবা: রেকর্ডসংখ্যক শনাক্ত, আরও ৬ জনের মৃত্যু

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লাজুড়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা অব্যাহত রয়েছে। লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কিছুতেই যেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না জেলার করোনা পরিস্থিতি। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার জেলায় ৪২৮ জনের করোনা শনাক্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।  নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জনের।

বৃহস্পতিবার(৮ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জুলাই) বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ১০০৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে ১৭১ জনই কুমিল্লা নগরীর বাসিন্দা। আক্রান্তের হার ছিলো ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে বধুবার ৩৯৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন আক্রান্তের হার ছিলো ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ। জেলায় এখন পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৩৮৩ জন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম একজন, দেবিদ্বার একজন, লাকসাম একজন, তিতাস তিনজন রয়েছেন। এনিয়ে জেলায় করোনায় মোট ৫১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৮ জন। এনিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ১৮০ জন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, কুমিল্লায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। করোনা মোকাবিলায় সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। সকলকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

করোনা ভাইরাস মহামারিতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের পাশাপাশি নি:স্ব ও অসহায় মানুষের মাঝে উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, কুমিল্লা এরিয়া।

মঙ্গলবার(৬ জুলাই) সকালে কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ৩১ বীরের কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল সাব্বির হাসান,পিএসসি উপস্থিত থেকে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় ক্যাপ্টেন আবরার ফায়িজ খানসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপহার প্যাকেটের মধ্যে ১৫ কেজি চাল,৩ কেজি ডাল,৩ কেজি আলু, ১ কেজি চিনি,১ কেজি লবণ ও ১ লিটার ভোজ্য তেলসহ খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সড়কে করোনা ভাইরাস মহামারিতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাফসসহ নানান স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করছেন সেনাবাহিনী।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে ৩১ বীরের কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল সাব্বির হাসান.পিএসসি বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির আগ্রাসন রোধকল্পে সরকার লকডাউন দেওয়ার শুরু থেকে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে এবং অসহায় ও দিনমজুর, হত দরিদ্রদের মাঝে উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করছে এবং তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

করোনার যত ভ্যারিয়েন্টস, তত ভয়

 

লে. কর্ণেল নাজমুল হুদা খান :

করোনা ভাইরাসের পূর্ব পুরুষদের উৎপত্তি ঘটে আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৮০০০ সালে। আলফা করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ত¡ মিলে খ্রীষ্টপূর্ব ২৪০০, বেটা ৩০০০, গামা ২৮০০ এবং ডেলটা ভাইরাস ধারা তৈরি হয় খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে। এ ক্রমধারায় ২০০৩ সালে সার্স- কোভি-১, ২০১২ সালে মার্স কোভি এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে সার্স কোভি ২ এর উৎপত্তি ঘটে যা নোবেল করোনা ভাইরাস-২০১৯ নামে বিশ^ব্যাপী পরিচিত।

গত ১৫মে’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোভিড-১৯ এ বিশ^ ব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ১৬০.৮ মিলিয়ন, মৃত্যু ৩৩ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৭৯ হাজার, মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১২ হাজারের অধিক। বিশে^র তাবৎ দেশ, স্বাস্থ্য সংস্থা, মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য কর্মী, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংবাদ কর্মীসহ সবাই এ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রায় দেড় বছরব্যাপী অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুতই বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এ রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন। গত ০৮ মে পর্যন্ত বিশ^ব্যাপী প্রায় ৬৫ কোটি লোক প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ভ্যাকসিনের পুরো ডোজ পেয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা ৩১ কোটিরও বেশি। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৫৮, ১৯,৮৫৪ জন এবং দুই ডোজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সংখ্যাক লোক।

এ বিধ্বংসী ভাইরাসটিও বসে নেই। পূর্ব পুরুষদের মতোই ক্রমাগত বিবর্তনের ধারা বজায় রেখে চলেছে। এভাবেই করোনা ভাইরাসের হাজার হাজার ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিস্তারমান এ ভাইরাসের নতুন নতুন স্ট্রেইন বা ভ্যারিয়েন্ট এবং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ কৌশল নিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানী, জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের জীবনচক্র:

সব প্রজাতির করোনা ভাইরাসের কোষে সাধারণত স্পাইক (এস), ইনভেলপ (ই), মেমব্রেন (এম) এবং নিউক্লিওক্যাপসিড (এন) নামক চার ধররের প্রোটিন থাকে। চারদিকের আচ্ছাদনটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট চর্বির আস্তর দিয়ে গঠিত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় ভাইরাসের স্পাইক এবং বাহক কোষের রিসেপ্টরের সংযুক্তির মাধ্যমে। সংযুক্তির পর শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ায় ভাইরাসটি বাহকের কোষের ভেতর প্রবেশ করে। বাহক কোষে প্রবেশের পর এটি আবরণমুক্ত হয় এবং ভাইরাল জিনোম সমূহ কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। এরপর ভাইরাসের RNA সমূহ ট্রান্সলেশনের জন্য বাহক কোষের রাইবোজোমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

এ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিন কমপ্লেক্সের সহায়তার RNA সমূহের অনুলিপি তৈরি হতে থাকে। এন্ডেপ্লাজমিক রেটিকুলামের সহযোগিতায় RNA  ট্রান্সলেশন সম্পন্নের পর Spike (S), Envelope (E) এবং  Membrane(M) এর সংশ্লেষ ঘটে এবং ভাইরাসটি বাহক কোষের গলজি বডির প্রকোষ্টে অবস্থান করে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নিউক্লিও ক্যাপসিড গঠিত হলে নতুন ভাইরাস সমূহ গলজি বডি থেকে বের হয়ে বাহক কোষে অবস্থান করে। এক পর্যায়ে কোষ থেকে বের হয়ে আন্তঃকোষীয় স্পেসে অবস্থান নেয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে নির্গত হয়ে অপরাপর ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে।

চিত্র: করোনা ভাইরাসের জীবনচক্র

মিউটেশন কিভাবে ঘটে:
করোনা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস এ সংক্রমনকালে একটি থেকে অনেক ভাইরাসের অনুলিপি সৃষ্টি হওয়ার সময় এর গঠনে যে পরিবর্তন ঘটে তাকে মিউটেশন বা রূপান্তর বলা হয়।
সংক্রমনের সময় করোনা ভাইরাসের ইনভেলপে থাকাস্পাইক প্রোটিনের মাধ্যমে বাহক কোষের রিসেপ্টরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এ স্পাইকের একটি ক্ষুদ্র অংশের নাম রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেইন RBD। প্রকৃত পক্ষে (RBD ই বাহক কোষের এসি-২, রিসেপ্টরের (Angiotensin Converting Enzyme 2) সঙ্গে বন্ধন সৃষ্টি করে বাহক কোষে প্রবেশ করে। অনুলিপি তৈরি করার সময় মূলত এ রিসেপ্টর বাইন্ডিং প্রোটিনেই মিউটেশন ঘটে। যার ফলে ভাইরাসটির সংক্রমন ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে।

কেন মিউটেশন:
বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে সময়, স্থান ও পাত্রের সঙ্গে সব ভাইরাসেরই পরিবর্তন ঘটে। সার্স কোভি-২ ভাইরাসেও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। করোনা ভাইরাস এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমণের পর বাহক কোষে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অসংখ্য অনুলপি সৃষ্টি করে। নতুন ভাইরাস তৈরির সময় জিনোমে পরিবর্তন ঘটে এবং সৃষ্টি হয় নতুন নতুন স্ট্রেইন। প্রাকৃতিক কারণে ভাইরাসের যত বেশি বিস্তার ঘটবে তত বেশি নতুন স্ট্রেইনের আবির্ভার ঘটবে বলে বিজ্ঞানীদের মত।

মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়িয়ে চলার ক্ষমতা অর্জনের জন্যও ভাইরাস নতুন স্ট্রেইনের উৎপত্তি ঘটায়। এ ছাড়া স্পাইক প্রোটিনের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে সংক্রমণ, বাহকের শরীà¦