বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দাউদকান্দিতে ওয়াকফ স্টেটের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে মারামারি, আহত ৯

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
জুলাই ৬, ২০২৬
news-image

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ওয়াকফ  সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি নিয়ে ফের দুইপক্ষের  মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার(৫জুলাই) রাত নয়টায় উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের হুগুলিয়া গ্রামে এ ঘটনায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এর আগেও কয়েকবার মারামারি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের হুগুলিয়া গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন  তার নিজের নামে ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং মাদ্রাসার জন্য ১২ কানি(তিন একর) জমি দান করে গেছেন। দানকৃত দলিলে সমাজের ১২ জন মাতব্বর  এবং তাদের মধ্যে একজন পরহেজগার আলেমকে মোতাওয়াল্লি করে কমিটি করার কথা উল্লেখ করেছেন । সেই মতে গ্রামের মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে মোতাওয়াল্লি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি মারা যান। এরপর উনার মেয়ের জামাই শাখাওয়াত পরিচালনা শুরু করেন। কিছু দিন আগে  গ্রামবাসীকে না জানিয়ে অন্য উপজেলার লোকজনসহ শাখাওয়াত নিজেকে মোতয়াল্লী করে কুমিল্লায় কমিটি জমা দেয়। কমিটির দন্দ্ব নিয়ে ওয়কফকৃত জায়গায় নির্মিত মারকাজ মসজিদটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। গ্রামবাসী এ কমিটি  বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। এনিয়ে গত ২৭ এপ্রিল  দুই পক্ষের মধ্যে  মারামারির ঘটনা ঘটেছে।  সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার রাত  ৯টার দিকে পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামের নাজমুলের দোকানের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হুগুলিয়া গ্রামের রমজান (৪৫), নাজমুল (২৮), সোহাগ (৩৫), রাকিব (২৩), কাউসার (৩২), আবদুল্লাহ (১৭), রিপন (মহিলা, ৪৫) ও রাফি (১২) রয়েছেন। অপরপক্ষের সোহেল (৪৫) গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত সোহেল ও কাউসারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

হুগুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, মনির হোসেন ও হুমায়ুন কবির জানান, আমরা গ্রামবাসী চাচ্ছি  ওয়াকফ সম্পতির স্থাপনা প্রতিষ্টান দলিলে উল্লেখিত নিয়মমতে কমিটি করে পরিচালিত হবে। কিন্তু মাওলানা শাখাওয়াত ২০১২ সাল থেকে ওয়াকফ  কমিটির সভাপতি পদে আছেন। গত বছর  গ্রামবাসী হিসাব চাওয়ায় তিনি তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব এখানে নিয়ে আসেন। মুলতঃ এখানে তাবলীগ জামায়াত নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমরা শুধু কমিটি থেকে বহিরাগতদের বাদ দিয়ে স্থানীয়দের কমিটিতে রাখা এবং ওয়াকফকৃত মসজিদ মাদরাসার নামে অনুদানের হিসাব প্রকাশের দাবী।
এদিকে কমিটি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হুগুলিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে  আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এবিষয়ে মুফতি শাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম  বলেন, আমি এখানে গতকাল যোগদান করেছি। রাতেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।  পুলিশ  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।