All posts by jitu

দেশে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী

দেশে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত দেশ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা সরকার প্রয়োজন। সামনে যে নির্বাচন সে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার জন্য সাংবিধানিক আইন অনুসরণ করছে সরকার। বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের আস্থা শেখ হাসিনার ওপর। এর কারণ হাচ্ছে এ সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির বেশিও কাজ করেছেন।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে শুক্রবার দুপুরে এক সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সাংবাদিকদের কল্যাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন। বর্তমান তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। দেশের কল্যাণমূলক কাজের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। দেশের উল্লেখযোগ্য ও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকার করেছেন। শেখ হাসিনা আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন। পরবর্তীতে উন্নয়নের মধ্যে মেঘা প্রকল্প হবে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদপুরের সাংবাদিকদের ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং সমৃদ্ধ। এখান থেকে প্রকাশিত অনেকগুলো পত্রিকা শুরু থেকে তাদের মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে অনেকে পত্রিকায় চটকদার হেডলাইন ব্যবহার করলেও ভেতরে তথ্যবহুল কিছুই পাওয়া যায় না। সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা অনুসরণ করবেন। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা অনেক সময় হেডলাইন হয়ে যাই। কিন্তু যখন অকারণে হেডলাইন হই তখন খুবই দুঃখ পাই। আশা করি আপনারা এ বিষয়ে আরও সচেষ্ট হবেন।

দীপু মনি বলেন, সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। কারণ আমার পিতার হাত ধরেই অনেক বড় মাপের সাংবাদিক তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব আমাকে আজীবন সদস্য করে সম্মানিত করেছেন। তাদের সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে সাংবাদিকতা অনেক বিস্তৃত। শুধুমাত্র সংবাদপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন ও ইলিকট্রনিক্স মিডিয়া অনেক এগিয়েছে। কিন্তু বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ উপস্থাপনের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সমাবেশে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান সুমনের সঞ্চালনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন অনু।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএম হান্নান, শরীফ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাদের পলাশ।

ইসরাইল থেকে দেশে ফিরলেন ২০০ ভারতীয় নাগরিক

ইসরাইল থেকে দেশে ফিরলেন ২০০ ভারতীয় নাগরিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরাইল থেকে একটি চার্টার্ড প্লেনে করে ২০০ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার সকালে তারা নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেন বলে জানা যায়।

সম্প্রতি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে নয়াদিল্লি ‘অপারেশন অজয়’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজিব চন্দ্রশেখর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরাইল-ফেরত নাগরিকদের স্বাগত জানান। তাদের ফিরে আসা নিয়ে এক্সে বার্তা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

উচ্চশিক্ষা নিতে ইসরাইলে গিয়েছিলেন শুভাম কুমার। তিনি জানান, ‘আমরা দেশের (ভারতের) কাছে কৃতজ্ঞ। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আতংকের মাঝে দিন কাটাচ্ছিলেন। আমরা ভারতের দূতাবাসের কাছ থেকে বার্তা পাই, যা আমাদের মনোবল বাড়ায়। আমাদের মনে হয়, দূতাবাস আমাদের পাশেই আছে, যা স্বস্তিদায়ক।’

ধারণা করা হয়, ইসরাইলে ১৮ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবস্থান করছেন। পশ্চিমতীরে প্রায় ১২ জন ও গাজায় ৩-৪ জন ভারতীয় অবস্থান করছেন বলেও জানা যায়।

"ঘোষণা ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল: ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা"

“ঘোষণা ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল: ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা”

ডেস্ক রিপোর্ট:

সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মূল ফটকের সামনে মহিলা অধিদপ্তরের ডে কেয়ার ইনচার্জের নিয়োগ পরীক্ষা ঘোষণা ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা।

এক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, ‘কেন হঠাৎ করে পরীক্ষা বাতিল (স্থগিত) করা হলো? আমাদেরকে জানাতে হবে। অধিদপ্তরের লোক এসে কারণ জানাতে হবে।’

আরেক পরীক্ষার্থী জানান, ‘আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) জার্নি করে এসেছি। সারাদিন খাওয়াদাওয়া নেই। এখন আমাদেরকে বলা হচ্ছে পরীক্ষা স্থগিত। এটা অবশ্যই অব্যবস্থাপনা।’

এ সময় পরীক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন। আপনি বিষয়টি দেখুন। দুর্নীতির কারণেই এই অব্যবস্থাপনা।

কুমিল্লার চান্দিনা থেকে মেয়ে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসা একজন অভিভাবক জানায়, ‘পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে আমি মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এসে শুনছি, পরীক্ষা বন্ধ (স্থগিত)। সারা বাংলাদেশ থেকেই পরীক্ষার্থীরা আসছে। আমরা এত কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের টাকাপয়সা দেই। এই অবস্থার জন্য?’

পাবনা থেকে আসা আরেক অভিভাবক জানান, ‘(সকাল) ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। সাড়ে ১০টার সময় আমাদের বলা হলো যে পরীক্ষা হবে না।’

রাস্তা অবরোধের একপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরীক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মূল ফটকের সামনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাস্তা অবরোধ করেন। এ ঘটনায় ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্যাংকিং খাতে চরম অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ‘ফোকলা’ বা ‘ফাঁপা’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিগত ১৫ বছরের অর্থনীতির অবস্থা তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

মির্জা ফখরুল জানান, এটা একদম পুরোপুরি একটা হলফ, ফাঁপা একটা বিষয়। অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে পুরো সম্পদ তারা লুট করে নিয়ে চলে গেছে। সেই সম্পদ বিদেশে নিয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকা ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত আমাদের জানামতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকিং ও অন্যান্য খাত থেকে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, একেবারে লুট।

তিনি জানায়, এখানে এই লোকগুলোর (ক্ষমতাসীনদের) কোনো নতুন বিনিয়োগ নেই, কোনো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। যার ফলে দারিদ্র্য দারিদ্র্যই থেকে যাচ্ছে এবং মানুষের যে আয়ের ফারাকটা, বৈষ্যমটা যেটা সেটা দিনে দিনে বাড়ছে। এমন একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন একটা পয়েন্ট অব রিটার্নে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সিপিডি বলছে, এখানে দুটি সোসাইটি তৈরি হয়ে গেছে, একটা হচ্ছে খুবই বড়লোক শ্রেণি যারা বিদেশে যায়, পোশাক-আশাক, দামি গাড়ি বিএমডাব্লিউ, মার্সিটিজ এগুলোতে চড়ছে। অন্যদিকে এই গুলশানেই দেখবেন সিগন্যালগুলোতে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে অসংখ্য মানুষ তারা তাদের প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা।

বিএনপি মহাসচিব জানান, আর্থিক খাতসহ দেশে আইনের শাসন ও সার্বিক শৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে জবাবদিহি। যেহেতু বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি নেই, তাদের হাতে আমাদের এই দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। আপনাদের মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান- আসুন বাংলাদেশে একটি সত্যিকার জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি এবং দুঃসহ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করি, তাহলেই ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যাংকিং সেক্টর তথা সামগ্রিক অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে টেকসই উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার শুধু রাজনীতিকে নয়, অর্থনীতিকেও পুরোপুরি ধবংস করেছে এবং তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, প্রতারণা করছে জনগণের সঙ্গে। জনগণ শুধু নয়, আন্তর্জাতিক যে সংস্থাগুলোর আছে সেই সংস্থাগুলোর সঙ্গেও তারা প্রতারণা করছে। এমন একটা ন্যারেটিভ খাঁড়া করেছে যে, বাংলাদেশ রোল মডেল হয়ে গেছে যে, থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোর ডেভেলপমেন্টের জন্য… বারবার এই কথাটা বলতে থাকে, জোর দেয় এবং বিভিন্ন সেতু, উড়ালসেতু, টানেল, মেট্রোরেল উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি বলতে চায় যে এটা উন্নয়নের দিকে চলে গেছে। আপনি দেখবেন যে, এটা আমার কথা নয়, আমি যদিও অর্থনীতির ছাত্র কিন্তু অন্যান্য যে অর্থনীতি বিষয়ক যেসব সংস্থা আছে যারা রিসার্চ করে, পড়াশুনা করে বলছে- এটা পুরোপুরিভাবে হলফ, ফাঁপা একটা বিষয়। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। মূলত সরকারের পলিসিগত বা রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা সর্বগ্রাসী লুটপাট আমাদের অর্থনীতির জীবনীশক্তিকে ক্রমেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। যার সর্বশেষ সংযোজন কেবল দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন নামে একটি বিশেষ গ্রুপ তথা ইচ্ছাকৃত লোন ডিফল্টারদের হাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে জনতা ব্যাংক ২২ হাজার কোটি টাকা তুলে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটেছে ইসলামী ব্যাংকে। একটি শিল্পগ্রুপ নামে-বেনামে অস্তিত্বহীন ভুয়া কোম্পানির নামে কেবল ইসলামী ব্যাংক থেকেই ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গ্রুপটি সর্বোচ্চ ২১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যোগ্য। এই গ্রুপটি ন্যূনতম এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ও ক্ষমতা থাকলে ব্যাংক থেকে ঋণের নামে টাকা লুটপাট এখন সবচেয়ে সহজ বলে মন্তব্য করেছেন একজন অর্থনীতিবিদ। দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের মাধ্যমে যারা বিদেশে বিপুল বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়েছে, একজন অর্থনীতিবিদ তাদের জাতীয় দুশমন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা ব্যাংকিং সিস্টেমের অপব্যবহার করে ব্যাংকঋণ নিয়ে তা বছরের পর বছর ফেরত না দিয়ে বিদেশে পাচার করে চলেছেন। তারা ব্যাংকগুলোর ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ হিসেবে ঋণ লুটপাটকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তারা রাজনীতিক পরিচয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাধারণত কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটলে বিদেশি ব্যাংকগুলো সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছুটে আসে। ২০০৯ সাল থেকে দেশে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ১৩টি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও কোনো বিদেশি ব্যাংক কি বাংলাদেশে এসেছে? উল্টো যে কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করছে। একই ধরনের প্রোডাক্ট ও সেবা নিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা করছে দেশের ৫২টি ব্যাংক।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে দেশের ব্যাংকগুলোয় পণ্য আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছিল ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন বা ৬৩৫ কোটি ডলারের। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলো মাত্র ৪৩৭ কোটি ডলারের নতুন এলসি খুলতে পেরেছে। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাসে ব্যাংকগুলোয় আমদানি এলসি খোলা কমেছে ৩১ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি এখন নজিরবিহীন মন্থরগতিতে চলছে। কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। বিনিয়োগ কমছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমছে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটা এক মহাচ্যালেঞ্জ। তার ওপর রয়েছে স্বার্থান্বেষীদের সিন্ডিকেট। মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। অনেকের সঞ্চয়ও শেষ। নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাসতো আছেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও তাদের অবৈধ সুবিধাভোগীরা দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, আমদানি ও রপ্তানি পণ্যমূল্যের মিসইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এভাবে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ফখরুল বলেন, এভাবে নয় বছরেই দেশ থেকে ৭৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। জিএফআই ২০১৫ সালে বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সরকারের সিআইডি বরাতে দেশের পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, শুধু হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে গড়ে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। হুন্ডির সঙ্গে ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না আনার মতো মূল সমস্যাগুলো যোগ করলে দেখা যায়, প্রতিবছর বর্তমানে কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এর মানে, বাংলাদেশ থেকে বছরে কমপক্ষে ১৫-১৬ বিলিয়ন ডলার পুঁজি এখন বিদেশে পাচার হচ্ছে। এই অর্থপাচারের এই বিপুল স্রোত বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি কমপক্ষে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতো। রপ্তানির আড়ালেও সম্প্রতি ১৪শ কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং ইডিএফের আড়ালে ৭০০ কোটি ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।।

তিনি আরও বলেন, ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটি রেটিং এজেন্সি বাংলাদেশের ঋণমান যেভাবে হ্রাস করেছে। নেতিবাচক সংকেত দিয়েছে তাতে অর্থনীতি রেড ফ্ল্যাগস এ উঠে এসেছে। গত মে মাসে বৈশ্বিক রেটিং এজেন্সি মুডিস বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বিএ৩ থেকে নামিয়ে বি১ -এ পুনর্নির্ধারণ করেছে। যেখানে প্রতিটি দেশ ক্রমান্বয়ে ভালো রেটিং পাওয়ার চেষ্টা করে থাকে, সেখানে গত একযুগ পর এই মান কমানো দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের রেটিং আউটলুক হ্রাস করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। তারা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক ঋণমান নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ ফিচ রেটিংসও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নেতিবাচক ঘোষণা করেছে। অর্থনীতি ভঙ্গুর ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বিদেশি ঋণ প্রদানকারী ও বিনিয়োগকারীরা আর আস্থা রাখতে পারছে না। দেশের এ অর্থনৈতিক দুরবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি, অবৈধ সরকারের উন্নয়নের নিচে চাপা পড়েছিল, যা এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ।

ব্যাংকে নজিরবিহীন তারণ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেশ কিছুকাল থেকেই তারল্য সংকটে পড়ে দেশের অনেক ব্যাংক ধার করে চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য কমে তিন হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নেমেছে। এক বছর আগেও যা দুই লাখ তিন হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ছিল। বিশেষ করে শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক নিয়মিত সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হয়ে জরিমানায় পড়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছেন অনেকে। কিন্তু তারল্য সংকটে অনেক ব্যাংক আমানতকারির নিজস্ব আমানতের এমনকি এক লাখ টাকার চেকও অনার করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রবকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম উপস্থিত ছিলেন।

১১ লাখ বাসিন্দাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলের

১১ লাখ বাসিন্দাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলের

ডেস্ক রিপোর্ট:

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে থাকা ১১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে যেতে বলেছে দখলদার ইসরাইল।

বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে এ কথা জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার

জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গাজার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ উত্তরাঞ্চলে বাস করেন। তবে জাতিসংঘ ইসরাইলের এই নির্দেশ বাতিলের জন্য জোরালোভাবে কাজ করছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, ইসরাইলের এমন পদক্ষেপ গাজায় চলমান ট্র্যাজেডিকে আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। গাজায় জাতিসংঘের সব কর্মী, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিকের কর্মীসহ সবাইকে সরিয়ে নিতে বলেছে ইসরাইল।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে মূল গাজা সিটি, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন অঞ্চল রয়েছে।

ইসরাইলের চরম নৃশংসতার শিকার গাজার বাসিন্দারা। দখলদার বাহিনীর হাত থেকে ছাড় পাচ্ছেন না শিশু ও নারীরাও। গত ছয় দিনের অব্যাহত হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক হাজার ৫৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ শিশু রয়েছে। আর নারী রয়েছেন ২৭৬ জন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৬১২ জন।

দখলদার বাহিনী শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। গাজায় খাবার সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিও বন্ধ করে দিয়েছে। জিম্মিদের মুক্তি না দিলে এগুলোর কোনো কিছুই গাজায় সরবরাহ না করার অঙ্গীকার করেছে তারা। ফলে গাজায় মানবিক সংকট গভীর থেকে আরও গভীর হচ্ছে।

এ্যানিকে নির্যাতন করা হয়নি, তিনি আদালতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এ্যানিকে নির্যাতন করা হয়নি, তিনি আদালতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ্যানির নামে লক্ষ্মীপুরে দুটি মামলা ছিল। তিনি জামিন নেননি। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার বাসার কোনো দরজা ভাঙা হয়নি। আদালতকে আকৃষ্ট করতে মিথ্যা বলেছেন তিনি।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত শরৎ উৎসবের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, যারা ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামি তাদের কোর্টে গিয়ে জামিন নিতে হয়। কিন্তু এ্যানি সাহেব জামিন নেননি। তিনি কোর্টে যেটা বলছেন সেটাও অসত্য। কারণ তিনি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। থানা পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি। সেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, আমরা কোনো আলামত খুঁজে পাইনি। তাকে যে সাদা পোশাক পরা অবস্থায় আনা হয়েছিল, এখনো সেই অবস্থায় আছেন।

পুলিশ বিএনপি নেতা এ্যানির বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙেছে- এ অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী সব সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কাজ করে। আমরা সব সময় বলে থাকি- যারা আসামি হয়ে যান বা মামলা হয়, বা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, তারা কোর্টে গিয়ে জামিন নিয়ে নেন। কিন্তু এ্যানি সাহেব জামিন না নেওয়াতে পুলিশ তাকে ধরতে যায়। এটা পুলিশের কর্তব্য। তাকে বলা হয়েছিল, তার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করা হয়েছিল দরজা খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দরজা না খোলাতে পুলিশ দরজায় ধাক্কা দেয়, জোর করে দরজা ভাঙেনি।

এর আগে ১০ অক্টোবর দিনগত রাতে এ্যানিকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে বিএনপি। এরপর বুধবার ধানমন্ডি থানার নাশকতার মামলায় ঢাকার আদালতে এ্যানিকে হাজির করে পুলিশ। এ মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভেনিজুয়েলার কাছে হারালো ব্রাজিল

ডেস্ক রিপোর্ট:

কনমেবল অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট হারাল ব্রাজিল। শুক্রবার এরিনা প্যান্টনাল স্টেডিয়ামে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেলেসাওদের হয়ে গোল করেন গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস, আর ভেনিজুয়েলাকে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরান বেল্লো।

পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখাল স্বাগতিক ব্রাজিল। নেইমার-রিচার্লিসন-ভিনিসিয়ুসদের নিয়ে সাজানো একাদশে ছিল না কোনো দুর্বলতা। আক্রমণও করে যাচ্ছিল একের পর এক। তবে প্রথম হাফে ভেনিজুয়েলার ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল। প্রথম হাফে ৭৯ শতাংশ বলদখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বারে ৬ শট নিয়েছে নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা।

তবে দ্বিতীয় হাফের শুরুতেই প্রত্যাশিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে কর্নার থেকে গোল করেন সেলেসাওরা। নেইমারের নেওয়া কর্নার মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস। এর পর আবারও আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে ব্রাজিল। তবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না। একসময় মনে হচ্ছিল এই এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে ব্রাজিল।

তবে ব্রাজিল সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয় ভেনিজুয়েলার হয়ে বদলি হিসেবে নামা এডুয়ার্ড বেল্লো। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে যায় ভেনিজুয়েলার জেফারসন সাভারিনো। বল পেয়েই ডানদিক থেকে ক্রস করেন তিনি। আর ডি-বক্সে থাকা বেল্লো হাফ বাইসাইকেল শটে বল জালে জড়ান। তাতেই উল্লাসে মাতে সফরকারীরা। আর নিস্তব্ধ হয়ে যায় এরিনা প্যান্টনাল স্টেডিয়াম।

শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু আক্রমণ করেছে ব্রাজিল। তবে তাতে ভেনিজুয়েলার ডিফেন্স শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কনমেবল অঞ্চলে এই প্রথম পয়েন্ট হারাল ব্রাজিল। প্রথম দুই ম্যাচে সহজ জয় পেয়েছিল তারা। পয়েন্ট হারানোর ফলে টেবিলের দুইয়েই থাকলেন সেলেসাওরা। দিনের আরেক ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা।