All posts by jitu

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও ব্যবস্থা নেয়নি কুবি প্রশাসন

 

কুবি প্রতিনিধি:

র‍্যাগিং ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সাথে দৈনিক যায়যায়দিনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক ইকবাল মনোয়ারের উচ্চবাচ‍্যরে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের জন্য তিন সহকারী প্রক্টরকে চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, গত ২৯ মে (সোমবার) ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা মীমাংসিত হতে যাওয়া ঘটনায় “এই বিচার মানি না। আমাদের ডিপার্টমেন্টের ইস্যুতে ছাত্রলীগ কীভাবে আসে দেখে নিবো।” মন্তব্য করেন তিনি। এর রেশ ধরে ইকবাল মনোয়ারের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের (রেজা গ্রুপ) মধ্যে। এরপর ১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহকারী প্রক্টর নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের দায়িত্ব পাওয়া তিন সহকারী প্রক্টর হলেন- সহকারী প্রক্টর মো. জাহিদ হাসান, আবু ওবায়দা রাহিদ, শারমিন সুলতানা।

তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিলো তাদের সাথে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি।’

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয় জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। তারা তদন্ত কমিটি করতে পারে ওই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বাকিটা প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখা হবে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ আছে সেটিরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

নগরীর কাটাবিলে রূপায়নের মাঠ থেকে ২২ কেজি গাঁজাসহ একজন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকা থেকে ২২ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ।

১ আগষ্ট রাত পৌণে ১১ টায় কোতয়ালী মডেল থানার কর্মরত এসআই মো: শেখ মফিজুল ইসলাম এবং সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটাবিল এলাকার ডোবা পুকুরের পশ্চিম পাড়ের রুপায়ন মাঠ হতে ২২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সোহাগকে(২২) আটক করা হয়।

আটক হওয়া মো: সোহাগ কুমিল্লা সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে।

এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লাকসামে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার লাকসামে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শরীফুর রহমান খন্দকার (৬০) নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শরীফুর রহমান উপজেলার খন্দকার আজগরা ইউনিয়নের বড়বাম এলাকার মদিনাতুল উলুম জামিয়া বড়বাম নুরানি ও হাফেজিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও শিক্ষক।

লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাকছুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় বড়বাম মদিনাতুল উলুম জামিয়া নুরানি হেফজ মাদরাসায় গত তিন বছর ধরে ওই ছাত্র পড়ালেখা করছে। ওই ছাত্রকে শরীফুর রহমান প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার মোটরসাইকেলযোগে লাকসাম বাইপাস খন্দকার মার্কেটের চারতলার নিজ রুমে নিয়ে যেতেন। পরে পাশবিক নির্যাতন চালাতেন। প্রতিদিনের মতো গত ২২ জুলাই সন্ধ্যায় ওই শিশুকে সেখানে নিয়ে আবারও বলাৎকার করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত শরীফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাকছুদুর রহমান বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় প্রেম করার অপরাধে কিশোরকে পা’য়ুপ’থে ছু’রি ঢু’কিয়ে হ’ত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় প্রেম করার অপরাধে ফয়সাল আহমেদ নামে এক কিশোরকে পায়ুপথে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের নবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এদিকে ওই কিশোরের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানায়, নবগ্রাম এলাকার চারু মিয়ার ছেলে ফয়সাল একই এলাকার এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি কিশোরীর পরিবার জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা ফয়সালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর পায়ুপথে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে যায়। এ সময় চিৎকার শুনে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত কিশোরের মা রোকেয়া বেগম বলেন, প্রেম করার অপরাধে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার উদ্দেশ্যে পায়ুপথে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্যাপক নির্যাতন করে। ‘আমরা আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নিতে বলেন। ঢাকায় দুই দিন থাকার পর আমার ছেলে মারা যায়। মৃত্যুর আগে আমার ছেলে ঘাতকদের নাম বলে গেছে। আমি আমার ছেলের খুনিদের বিচার চাই।

নিহতের খালা জাহানারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার মেয়ের পরিবারের সঙ্গে বসে আমরা বিষয়টি সমাধান করেছি। এর পর শুক্রবার রাতে এ ঘটনা কেন করা হলো? এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনার পর থেকে মেয়ে আর তার পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই । তারা বাড়িতে তালা মেরে পালিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। ছেলেটি মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে কে কে হত্যার সঙ্গে জড়িত। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরান হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

বাংলাদেশে বিদ্যুতের আর কোনো সমস্যা থাকবে না: শেখ হাসিনা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ওয়াদা দিয়েছিলাম সব ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব, আজকে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি। বাংলাদেশে বিদ্যুতের আর কোনো সমস্যা থাকবে না। বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়লা ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ নিয়ে কয়েকদিন কষ্ট হয়েছে। এখন আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করেছি। ভারত থেকে কিনে আনছি। নেপাল থেকেও কিনে নিয়ে আসবো। বিদ্যুতের কোনো সমস্যা থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, গাইবান্ধায় বিশাল সোলার তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ২০০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ আসবে। সেই ব্যবস্থা করেছি। আমি খালি হাতে আসিনি। আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে আমি কতগুলো প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। যাতে প্রত্যেকটা উন্নয়ন তরান্বিত হয় তার ব্যবস্থা করেছি।

মহাসমাবেশে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন সভাপতিত্বে করেন। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান। সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক একে এম শাহাদাত হোসেন বক্তব্য রাখেন।

ডেঙ্গু টেস্টে অতিরিক্ত ফি আদায়, ১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে ডেঙ্গু টেস্টে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (২ আগস্ট ) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো.কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে জেলার শহর মাইজদী বাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী। অভিযানে দেখা যায় ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩০০ টাকা হলেও ৭৫০ টাকা আদায় করছে মাইজদী আধুনিক হাসপাতাল। এছাড়া ৪০০ টাকা সিবিসি টেস্ট নিচ্ছে ৭০০ টাকা। পরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে মাইজদী আধুনিক হাসপাতালকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন জেলা সিভিল সার্জন অফিসের জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো.শওকত আলী এবং সুধারাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল।

সিলিন্ডার গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল ১৪১ টাকা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। আগস্ট মাসে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৪১ টাকা বাড়িয়ে ১১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা এতদিন বিক্রি হয়ে আসছিল ৯৯৯ টাকায়।

বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দেয়। সন্ধ্যা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হবে।

এর আগে গত জুলাই মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৭৫ টাকা কমিয়ে ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ৯৪ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ৯১ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম মূসকসহ প্রতি লিটারের মূল্য ৫২ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মশা মারতে ১৬৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মশা মারতে প্রতিবছর পাল্লা দিয়ে বাজেট বাড়াচ্ছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু কোনো ক্রমেই সংস্থা দুটি মশাকে বাগে আনতে পারছে না। এখন বর্ষা মৌসুমে এসে এডিস মশা মারতে হিমশিম অবস্থা। অথচ গত একবছরে এ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সংস্থা দুটি।

চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) মশা নিয়ন্ত্রণে আরও ১৬৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে বাজেটে মশা নিধনে ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএনসিসি। তবে ঢাকা দক্ষিণে মশা নিধনে বাজেট বরাদ্দ কম। ডিএসসিসিতে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ১ লাখ টাকা।

মশা নিধনে শত কোটি টাকা ব্যয় করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, মশা নিধনের নামে প্রতিবছর শত কোটি টাকা জলে ফেলছে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। টাকা নয়ছয় করার অভিযোগও রয়েছে তাদের। তারা বলছেন, কেননা করপোরেশনের কাউকে কখনো জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। অথচ নগরে মশা নিধনের জন্য প্রতিমাসে গৃহ করের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিচ্ছেন তারা।

তবে এত চেষ্টা করেও মশা মরছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন খোদ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের দাবি, তারা মশক নিধন কার্যক্রমে সফল।

ঢাকার দুই মেয়রের এমন বক্তব্য ভিন্ন বার্তা দেয় বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও কীটতত্ত্ববিদরা। তারা বলছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা খালি নেই। অনেক হাসপাতালে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। আপাতদৃষ্টিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বাড়বাড়ন্ত বলছে, দুই সিটির ফলাফল প্রায় ‘শূন্য’।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে। মশার ধরন না বুঝে, জায়গা মতো ওষুধ প্রয়োগ না করলে সুফল মিলবে না। এ জন্য মশা নিয়ে গবেষণা করা দরকার। যদিও এখন এ বিষয়ে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা অনেক তৎপর। তিনি বলেন, আগে ঢাকা শহরের ৪০ ভাগ এডিস মশা হতো নির্মাণাধীন ভবন থেকে। সিটি করপোরেশনের অভিযানে সেটি এখন ১৯ ভাগে নেমে এসেছে। কিন্তু এবার গবেষণায় আমরা ৪৩ ভাগ মশা পেয়েছি বহুতল মাল্টিপারপাস ভবনে। আমরা দেখেছি, মাল্টিপারপাস ভবনের যেসব জায়গায় পানি জমে এডিস মশা জন্মায় সেখানে সিটি করপোরেশনের লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা যায় না। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাচ্ছে।

চলতি বছর থেমে থেমে বৃষ্টি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে কবিরুল বাশার বলেন, যখন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়, তখন এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ে। ভারী বর্ষণ হলে এডিস মশার ডেনসিটি কমবে। এখন থেমে থেমে বৃষ্টিটাই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আগে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশা বংশবিস্তার করতো। এখন সারাবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কার কথাও বলেন তিনি।

গুলশানের নগর ভবনে গত ২৪ জুলাই ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ২৬৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করে ডিএনসিসি। এ বাজেটে চলতি অর্থবছরে মশক নিধন কাজের জন্য ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

ডিএনসিসির হিসাব বলছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছর তথা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে বরাদ্দের হার ৬১ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া গত অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি কিনতে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আগের চেয়ে ১০০ শতাংশ বেশি। এর বাইরে চলতি অর্থবছরে ডেঙ্গু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও প্রচারে আরও ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মশা নিধন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এত কিছু করছি, এর পরও মশা কেন নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তর আমরাও জানি না। আমরাও এর উত্তর খুঁজছি। আসলে সমস্যাটা কোথায়?

মেয়রের এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নগরীর অনেকেই সমালোচনা করছেন। মিরপুর-১৪ নম্বরের বাসিন্দা রিয়াদুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন যে মশা মারতে ব্যর্থ, মেয়রের কথায়ই তা স্পষ্ট। অথচ এই খাতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

মশা নিধনে ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মশা নিধনে সিটি করপোরেশন থেকে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। মশার প্রজাতি ও মশার আচরণ নির্ণয় করে সঠিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণা করার জন্য চুক্তি করা হয়েছে। এ বছরের বাজেটেও মশা নিধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মায়। তাই নিজেদের বাসা বাড়ির উঠান পরিষ্কার রাখতে হবে।

অন্যদিকে, গত ৩১ জুলাই ডিএসসিসির নগর ভবনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন সংস্থাটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ বাজেটে মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশক কিনতে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফগার/ হুইল/ স্প্রে-মেশিন পরিবহনে ৩ কোটি ৭৫ কোটি টাকা ও মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি কিনতে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি টাকা।

এর আগে গত ৩০ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মেয়র হানিফ মিলনায়তনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা করেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামও।

এতে ঢাকা দক্ষিণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, অনেকে ঢালাওভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। অথচ ২২ জুলাই সারাদেশে ২ হাজার ২৪২ জন রোগী পাওয়া গেছে। সেখানে ডিএসসিসি এলাকায় ১৫৫ জন রোগী আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। ১৫৫ জনের ঠিকানা, স্থাপনায় গিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মশক নিধন কার্যক্রম যে সফল হয়েছে, ঢাকাবাসী যে সুফল পাচ্ছে, এটি তারই নিদর্শন। আমরা এ পর্যায়ে আমাদের রোগীর সংখ্যা একশ থেকে দেড়শ’র ঘরে রাখতে পেরেছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে এবং কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে।

সূত্র-জাগো নিউজ

তারেকের ৯ ও জোবায়দার ৩ বছরের কারাদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন অভিযোগের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। তারেককে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় পড়া শুরু করেন।

এর আগে চার মামলায় তারেক রহমানের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান। তবে, জোবায়দার এটি প্রথম ও একমাত্র মামলার রায় বলে জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

মুদ্রা পাচারের মামলায় ২০১৩ সালে তারেক রহমানকে প্রথমে খালাস দিয়েছিলেন ঢাকার আদালত। তবে, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের পর হাইকোর্টের রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তার পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেকের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। খালেদার হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড, তারেকের ১০ বছর। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার প্রতিটিতে কয়েকটি ধারায় তাকে তিনবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিস্ফোরক আইনের আরেক ধারায় তার ২০ বছর কারাদণ্ডাদেশ হয়। তবে, সবগুলো সাজা একসঙ্গে কার্যকরের উল্লেখ থাকায় তারেককে যাবজ্জীবন সাজা খাটার বিষয় রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে নড়াইলে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় তারেক রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে, গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে তারেক-জোবায়দার মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪২ জন সাক্ষ্য দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক ও জোবায়দার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক জহিরুল হুদা। এতে তাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত আয়ের বাইরে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া মামলায় আসামি করা হয় তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে।

এরপর ২০০৮ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। এ মামলা থেকে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বর্তমানে তারা পলাতক। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। আর জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে সহযোগিতার অভিযোগে ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।