All posts by jitu

লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কারে ৭ দফা দাবিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন লাকসাম ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে লাকসাম স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার, খেলার মাঠের উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দর্শক গ্যালারি ও খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্টেডিয়ামটিকে পর্যায়ক্রমে একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, লাকসাম কুমিল্লার একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক জনপদ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। লাকসাম স্টেডিয়াম দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে স্টেডিয়ামটির মাঠ ও অবকাঠামোতে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি আধুনিক ও মানসম্মত স্টেডিয়াম গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সাত দফা দাবি হলো—

১. স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি জরিপ ও মূল্যায়ন করা।
২. খেলার মাঠের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. দর্শক গ্যালারি, ড্রেসিংরুম, টয়লেট ও খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন করা।
৪. স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নত করা।
৫. ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা।
৬. তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা অন্বেষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৭. স্টেডিয়ামটিকে পর্যায়ক্রমে একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্প গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, লাকসাম স্টেডিয়ামের সংস্কার ও আধুনিকায়ন শুধু একটি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নয়; বরং এটি এলাকার ক্রীড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণ, তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ এবং সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্মারকলিপিদাতা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে লাকসাম স্টেডিয়াম নতুন প্রাণ ফিরে পাবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে।

দৌলতগঞ্জের তেলকলশিল্পে ধস, বন্ধের মুখে ঐতিহ্যের শেষ ৬ কারখানা

রিয়াদ হোসাইন:

একসময় সরিষার তেলের ঘ্রাণ, কলের শব্দ আর জমজমাট বেচাকেনায় মুখর থাকত কুমিল্লার লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার। এ বাজারে গড়ে উঠেছিল ৩৬টিরও বেশি তেলকল। এসব তেলকল ঘিরে গড়ে উঠেছিল বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা। তবে সময়ের পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রতিযোগিতাসহ নানা সংকটে ঐতিহ্যবাহী তেলকলশিল্প এখন অস্তিত্বসংকটে। ২০২৬ সালে বাজারটিতে চালু রয়েছে মাত্র ছয়টি তেলকল। সেগুলোও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

লাকসাম উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দৌলতগঞ্জ বাজার এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বাজারটি। কিন্তু তেলকলশিল্পের ক্রমাগত সংকোচনে হারিয়ে যেতে বসেছে বাজারটির ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩৬ থেকে নেমে ছয় তেলকলে
একসময় দৌলতগঞ্জ বাজারে ৩৬টিরও বেশি তেলকল চালু ছিল। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তখন মাত্র পাঁচটি তেলকল সচল থাকার তথ্য উঠে আসে। বর্তমানে ২০২৬ সালে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারটিতে ছয়টি তেলকল চালু রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব তেলকলও নানা সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে।

চালু থাকা তেলকলগুলো হলো বাবুল অয়েল মিল, ন্যাশনাল অয়েল মিল, পুতুল অয়েল মিল, জেআর অয়েল মিল, শাহা অয়েল মিল ও কোহিনুর অয়েল মিল। একসময় যে শিল্পকে কেন্দ্র করে বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, সেই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন উদ্বেগ বাড়ছে।

উৎপাদন ব্যয় ও বাজার প্রতিযোগিতায় সংকট
তেলকল মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরিষার উচ্চমূল্য, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারে সস্তা ভোজ্যতেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং খৈল বিক্রিতে মন্দার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কারণে অনেক তেলকল বন্ধ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট তেলকলগুলোও টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

তেলকলের সঙ্গে সরিষার তেল উৎপাদনের পাশাপাশি খৈল ব্যবসা ও শ্রমিকদের জীবিকাও জড়িত। ফলে এ শিল্পের সংকোচন শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলছে।

কমেছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহীম বলেন, “আগে দৌলতগঞ্জ বাজারের তেলকলগুলোতে অনেক শ্রমিক কাজ করতেন। দিনরাত তেল উৎপাদন হতো। আমাদেরও ভালো কাজের সুযোগ ছিল। এখন অনেক তেলকল বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো কাজ নেই। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসে তেলকলগুলো টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিক, যাতে আমাদের কর্মসংস্থানও বজায় থাকে।

মেসার্স বাবুল অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী ছায়ীদুর রহমান বাবু বলেন, একসময় লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজারে প্রায় ৩৬টি তেলকল চালু ছিল। এসব মিলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সরিষার উচ্চমূল্য, বাজারে প্রতিযোগিতা ও খৈল বিক্রিতে মন্দার কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না পেলে আমাদের পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হবে।

জরাজীর্ণ পুরোনো দৈনিক বাজার
দৌলতগঞ্জ বাজারের ঐতিহ্য ও অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো ব্যাংক রোডসংলগ্ন পুরোনো দৈনিক বাজার। ২০২৪ সালের ৮ মে প্রকাশিত একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাজারটির জরাজীর্ণ অবস্থা, দুর্গন্ধ এবং ভেতরের চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে কিছু জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাজারটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে পরিচ্ছন্নতা, চলাচলের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ
দৌলতগঞ্জ বাজারের তেলকলশিল্প টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা, বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট ছয়টি তেলকলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পুরোনো দৈনিক বাজারের পরিবেশ উন্নয়নেও উদ্যোগ প্রয়োজন।

একসময় ৩৬টিরও বেশি তেলকলের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর দৌলতগঞ্জ বাজারে এখন টিকে আছে মাত্র ছয়টি। সেগুলোও বন্ধের আশঙ্কায় থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো উদ্যোগ না নিলে লাকসামের ঐতিহ্যবাহী তেলকলশিল্প একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী উদ্ধার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১২ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে কাজ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো—মাইশা আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং মাইশার ছোট বোন জান্নাত (৮)। তারা কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, গত ১২ অক্টোবর সকালে চার শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। পরে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি দেশের সব থানায় তাদের ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে বেতার বার্তা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। মাইশার সঙ্গে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয় ও জিসান; সোনিয়ার সঙ্গে সুজন ও মিনহাজ এবং ঝুমুরের সঙ্গে মোফাজ্জল ও শোয়েব নামের ছেলেদের পরিচয় হয়। তবে ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা অবগত ছিল না বলে পুলিশকে জানায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় ও আকর্ষণে প্রভাবিত হয়ে চার শিক্ষার্থী বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়। পরে কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে মাইশা পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেই টাকা নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় এবং পরে হবিগঞ্জে যায়।

তাদের পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় গিয়ে উপার্জন করে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা। তবে ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে তারা ওই দিনই ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি বাহার মোবাইল মার্কেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।

চাঁদপুরের মতলবে অজ্ঞাত নারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

মাসুদ হোসেন:

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌর ৪নং ওয়ার্ডের চরমুকুন্দি এলাকার একটি বিল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে গ্রামের এক ব্যক্তি বিলে নিজের জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে পানির মধ্যে কম্বলে মোড়ানো বস্তাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, কয়েক দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কম্বল ও বস্তায় ভরে বিলে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় বা বয়স শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় চিপস কিনে দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে সড়কে ফেলে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসল সত্য উদঘাটন!

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

“চিপস কিনে দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে সড়কে ফেলে গেলেন ‘মা’ শীর্ষক প্রচারিত সংবাদের প্রকৃত ঘটনা সরেজমিন তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

মূলত মা কর্তৃক সন্তান ফেলে যাওয়ার খবরটি যেভাবে প্রচার হয়েছিল, পারিবারিক ও স্থানীয় তদন্তে তার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা (গনি ফকির বাড়ি) গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে ও অটোরিকশাচালক নুর মোহাম্মদ নাছির আলম (২৮)-এর সঙ্গে কোতোয়ালি থানার কালিবাজার জালগাঁও এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে মোসাঃ জেসমিন আক্তার (২৭)-এর প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে (বিবাহ) হয়। তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান—ইসরাত (৮ বছর) এবং রোদা মনি (১৮ মাস)। তারা ব্রাহ্মণপাড়া বাজার পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তবে উভয়ের পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে প্রায় ৫ মাস পূর্বে তাদের আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে। তালাকের পর দুই কন্যাসন্তান তাদের মা জেসমিন আক্তারের সাথেই নানাবাড়িতে বা তার মায়ের দায়িত্বে ছিল।

গত ১১ অক্টোবর দুপুরে মা জেসমিন আক্তার দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে সাবেক স্বামী নুর মোহাম্মদ নাছিরের অজ্ঞাতসারে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে আসেন। বাজারে এসে তিনি তার সাবেক স্বামী নাছিরকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। তখন নাছির তাকে জানান যে, তিনি বর্তমানে অটো রিক্সা নিয়ে কুমিল্লা শহরে অবস্থান করছেন।

এরপর মা জেসমিন আক্তার দুই শিশু কন্যা ইসরাত (৮) ও রোদা মনিকে (১৮ মাস) ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে রেখে কুমিল্লায় চলে যান। পথিমধ্যে শিশু দুটি বাজারে ছোটাছুটি করলে স্থানীয় জনতা কৌতূহলী হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।

ঘটনার সময় দুই শিশুর চাচী শিরিনা বেগম মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ করতে ওই বাজারে আসেন। তিনি উৎসুক জনতার মাঝে শিশু দুটিকে দেখতে পেয়ে দ্রুত চিনতে পারেন। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতার সহযোগিতায় তিনি শিশুদের নিজ বাড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

বর্তমানে শিশু দুটি তাদের পিতা নুর মোহাম্মদ নাছিরের নিরাপদ হেফাজতে রয়েছেন।

সংবাদে যেমনটি প্রচার হয়েছিল যে মা চিপস কিনে দেওয়ার নাম করে শিশুদের রাস্তার ওপর চিরতরে ফেলে পালিয়ে গেছেন, তদন্তে মূলত পারস্পরিক যোগাযোগহীনতা ও পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চবির শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুর উদ্যোগে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর

চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা পরিবহন সহজলভ্য করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, চাকসুর সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে চাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চাকসুকে কখনো প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রশাসনের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করা, মাদক ও যৌন নিপীড়ন নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মান উন্নয়ন এবং যাতায়াত সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনও চাকসুর উদ্যোগের অংশ।

চাকসুর সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে স্থায়ী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাতায়াত ও আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। ৬০ বছরের জমে থাকা এসব সমস্যা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর নয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এটি তারই একটি বাস্তবায়ন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাস হলে বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে উল্লেখ করে রনি বলেন, ওই প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ছেলেদের হল, পাঁচটি মেয়েদের হল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপাচার্য তাঁদের জানিয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসুকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক ও ইভ টিজিং নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মান উন্নয়ন এবং মেডিকেল সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ সময় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর স্বার্থে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করে চাকসুর পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়।

দেবীদ্বারে দিনমজুর হত্যা মামলায় আরেক দিনমজুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় অপর দিনমজুর আব্দুল মজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বিজ্ঞ পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে এবং নিহত মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের সেকান্দর বাদশার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে কৃষিকাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের চুক্তিতে মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মজিদকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মোস্তফা কামাল। তিনি দেবীদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকার গণি কেরানীর বাড়ির আঃ মালেকের ছেলে।

ঘটনার দিন ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে নবীয়াবাদ বিলের একটি টমেটোখেতে কাজ করতে যান। পরে মোস্তফা কামাল লোকমুখে জানতে পারেন, মোশাররফের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ তাঁর মরদেহ পড়ে আছে। এ সময় আব্দুল মজিদকে সেখানে দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারার্থে পাঠানো হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি নিষ্পত্তির নিমিত্তে কুমিল্লার বিজ্ঞ পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। পরে আদালত আব্দুল মজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার) অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।