All posts by jitu

চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ
চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি।

সভার শুরুতে কার্যনির্বাহী সদস্য মনির হোসেন ও গীতা পাঠা করেন মহিলা সম্পাদিকা সাবিত্রী রাণী ঘোষ। প্রথমেই কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যদেরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরন করে নেন।

সভায় নবগঠিত কমিটির আগামী ৬ মাসের কর্ম পরিকল্পনা, অভিষেক, বার্ষিক বনভোজন, বিভিন্ন উপজেলা সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়, শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সহ-সভাপতি শওকত আলী, মোঃ মহিউদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ডালিম, যুগ্ম সম্পাদক এম.এ. লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. মাসুদ, মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবু, কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিক বিন রহিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক শেখ শরীফ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শ্যামল সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অমরেশ দত্ত জয়, লাইব্রেরী সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শান্ত, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ খান, সমাজ কল্যান সম্পাদক সিগমা আহসান কনক, কার্যকরী নির্বাহী সদস্য ইফতেখারুল আলম মাছুম, শ্যামল চন্দ্র দাস, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আনিছুর রহমান সুজন, এম.এম. কামাল, শাহ আলম খান, মোঃ আলমগীর হোসাইন, মোঃ জাবেদ হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত কার্য নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যদের মাঝে ক্লাবের নতুন বছরের ক্যালেন্ডার সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, কোন চাপ বা কারো ছা পোষা হয়ে সাংবাদিকতা করবে না জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সাংবাদিকরা। মুক্ত স্বাধীন নিরপেক্ষতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে লিখবে এবং এটাই এই সংগঠনের মূল কথা। এর বাইরে সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডে তারা সবসময় জড়াবে। রাষ্ট্র ও সমাজের ইতিবাচক কাজগুলো সবাই করবে। কারো প্রতি কোন বৈরীতা নয়, সম্পর্ক হবে সৌহার্দ্যর। সর্বোপরি সাহসের সাথে সাংবাদিকতা ও সংগঠনের কাজ করতে হবে।

আ’লীগ সভাপতিকে তুলে নিয়ে পেটালেন, এরপর বাড়িতে ঢুকে গুলি-ভাংচুর

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফাকে (৫৮) তুলে নিয়ে মারধর করার ১৮ দিন পর এবার তার বাড়িতে ঢুকে গুলি ছোড়া ও ভাংচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে খিলপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম মোস্তফার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খিলপাড়া বাজারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সুমনের ব্যক্তিগত অফিসে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে তুলে নিয়ে পেটানো হয়।

ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, প্রথম ঘটনার জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সুমনের নির্দেশে তার অনুসারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ৭-৮ দুস্কৃতিকারী তার বাড়িতে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরার লাইন বিচ্ছিন্ন করে সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে। একপর্যায়ে তারা বসতঘরের জানালার গ্লাস ভাংচুর করে ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।

খিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.মীর হোসাইন জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কম্বল বিতরণের জন্য খিলপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কে তথ্য সংগ্রহ করে স্লীপ করতে বলে। তারা দলীয় নেতাকর্মির মাঝে এই সব কম্বল বিতরণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে স্লীপ তৈরী করছিলেন। এই নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সুমন ক্ষুদ্ধ হয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফাকে প্রশ্ন করে তাকে না জানিয়ে কেন কম্বলের স্লীপ তৈরী করা হচ্ছে। কম্বলের স্লীপ নিয়ে বাকবিতন্ডার জের ধরে গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খিলপাড়া বাজার থেকে সুমন তার দুই অনুসারী দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফাকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে যায় তার ব্যক্তিগত অফিসে। সেখানে সুমন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফাকে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে গালমন্দ করে। একপর্যায়ে সুমন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফাকে চড়,থাপ্পড় দিয়ে বুকে লাথি মারে এবং বেধড়ক মারধর করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা। তিনি ১৩ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরলে আগের ঘটনার জের ধরে এবার তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও গুলি চালানো হয়।

খিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.মীর হোসাইন আরও বলেন,আমি স্থানীয় এমপি সহ বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছি। এই ঘটনার উপযুক্ত আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত খিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত এই যুবক বেশ কয়েকজন ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ঘটনার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও কোন নেতা হামলার শিকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে একবার দেখতে পর্যন্ত আসেনি এবং কোন বিচার করেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়াম্যান মো.জাহাঙ্গীর কবিরের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি মুঠোফোনে জানান, খিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাকে বিষয়টি জানিয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন সহ কয়েকজন অন্যায় ভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুমন বর্তমানে কোন দলীয় দায়িত্বে নেই। ১০-১২ বছর আগে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। এমপি সাহেব তাকে গাইড করে।

নোয়াখালী-১ আসনের (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম বলেন, ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল। একটি গ্রুপ কাজ গুলো করাচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বাহির হবে কারা এগুলো করাচ্ছে। কাউকে কালার করার জন্য ইন্টার্নেশনালি করাচ্ছে এগুলো আমরা বুঝি। যারাই করাচ্ছে তারাই কাঁচা কাজ করে ফেলেছে। যে ভিডিও ফুটেজ ধরা পড়েছে ওই ভিডিও ফুটেজে ওদেরকে চেনা যায়। ওরাতো অ্যারেস্ট হয়ে যাবে। অ্যারেস্ট হয়ে গেলে বুঝা যাবে এটা কারা করিয়েছে। আগের ঘটনাকে পাকাপোক্ত করার জন্য এটা করা হইছে। যেহেতু ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে চিহিৃত আসামি যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি।

খিলপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.কামরুজ্জামান বলেন, রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতার মেইন গেইটের তালা ভেঙ্গে ওয়াইফাই লাইন কেটে সিসি টিভির ফুটেজ নিয়ে গেছে এবং উনার ঘরের গ্লাস ভাংচুর করে। সিসি টিভির ফুটেজে কিছু লোক দেখা যায়। আমরা যাচাই বাছাই করে সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানেননা। এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।

এমবিবিএস ডাক্তার ও প্যাথলজিস্ট নেই, জীবানুমুক্ত করা ছাড়া অপারেশন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার,প্যাথলজিস্ট না থাকা এবং অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত করা ছাড়া অপারেশনের অভিযোগে হাসপাতালের ম্যানেজারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অর্থদন্ড অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেগমগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ইয়াসীর আরাফাত উপজেলার জমিদারহাটের মনোয়ারা জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজারকে এই জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জমিদারহাটের মনোয়ারা জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার,প্যাথলজিস্ট না থাকা এবং অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত করা ছাড়া অপারেশ করার অভিযোগে রোববার দুপুরের দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেগমগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ইয়াসীর আরাফাতের নেতৃত্বে উপজেলার জমিদারহাটের মনোয়ারা জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাসপাতালের ম্যানেজার মো.মেহেনাজ (৩২) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থদন্ড অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অংশ নেয় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাইফুল ইসলাম।

বুড়িচংয়ে পল্লী বিদুৎ এর চোরাই মালামাল উদ্ধার, আটক এক

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি জোনের পল্লী বিদুৎ সমিতির -২ এর নিমসার কোরপাই এলাকা থেকে গত শনিবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদুৎ এর চোরাই ৬ শত কেজি তামার তার ও বিভিন্ন মালামাল সহ ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মনির হোসেন কে পুলিশ আটক করে।

এঘটনায় বুড়িচং থানায় গত রোববার দুপুরে একটি মামলা দায়ের করে নামীয় একজন এবং অজ্ঞাত কয়েক জন।

বুড়িচং থানার মামলার সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি জোনের বুড়িচং পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর নিমসার, আবিদপুর,ভারেল্লা, পশ্চিম সিংহ,সোন্দ্রম, কংশনগর, কোরপাই সহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি পল্লী বিদুৎ এর টান্সফরমারের কোর কয়েল এবং তামার ও বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। একদল অজ্ঞাত চোর সম্প্রতি পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ এর তার বিভিন্ন মালামাল চুরি করা অব্যহৃত রেখেছে। পল্লী বিদুৎ সমিতির মৌখিক অভিযোগে বুড়িচং থানা পুলিশ বিষয় টি নিয়ে মাঠে গোপনে কাজ করে। গত ১৩ জানুয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাতে কোরপাই বাজারের মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক সংযোগের ২ টি টান্সফার্মারের তামার তার চুরি করে নিয়ে যায়। পল্লী বিদুৎ এর একটি সূত্র জানায় এসমস্ত মালামালের বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ খবর নেন। শনিবার বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি কে বিষয় টি জানালে ফাঁড়ি পুলিশের এস আই কাজী হাসান উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন এর কোরপাই এলাকার নিমসার ইউটার্ন সংলগ্ন ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মনির হোসেন এর ভাঙ্গারী দোকানে তল্লাশি চালিয়ে পল্লী বিদুৎ এর চোরাই মালামাল উদ্ধার করে এবং দোকান মালিক কে আটক করে। এসময় পল্লী বিদুৎ এর চোরাই ৬ শত কেজি তামার তার ৭ বস্তা উদ্ধার করে।

আটক মনির হোসেন (৩৫)সে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার জয়পুর ফকির বাড়ি গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। ধৃত ভাঙ্গারী মনির হোসেন নিমসার তাহের ভূইয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া।

এঘটনায় কুমিল্লা পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর ময়নামতি জোনের এ জিএম মোহাম্মদ আবু জাফর বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

নোয়াখালী সদরে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে হরিলুট, বঞ্চিত দরিদ্র শ্রমিক

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারের গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাত উল্যাহ সেলিমের ভাষ্যমতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭-৮টি রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ চলছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানালেন ওই ইউনিয়নে ২টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে এসব প্রকল্পের কাজ করার বাধ্যবাধকতার কথা থাকলেও, মেশিন দিয়ে সস্তায় মাটি কেটে সরকারের টাকা আত্মসাৎ করছেন এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা। ওই ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো প্রকল্প কমিটি শ্রমিক দিয়ে কাজ করার মাস্টাররোল অফিসে জমা দিলেও, আসলে কাজ করছে এস্কেভেটর (স্থানীয়ভাবে ভেকু নামে পরিচিত) মেশিন দিয়ে। রাস্তার পাশের মানুষের ফসলি জমি কেটে নেওয়া হচ্ছে রাস্তার মাটি। এতে দরিদ্র শ্রমিকের পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এসব অনিয়মের সবই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চোখের সামনে। কিন্তু, কাউকেই কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এই অনিয়ম ও দুর্নীতি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাত উল্যাহ সেলিম বলেন, আমার ইউনিয়নে ৭-৮টি রাস্তার কাজ চলমান আছে, ৫০ শতাংশ কাজ শেষ। আমাদের এলাকায় শ্রমিকের সংখ্যা খুবই কম। আমাদের এলাকার প্রায় লোকগুলো এ সময়ে ইটভাটায় কাজ করে। শ্রমিক দিয়েও কাজ চলছে। আবার বর্ষা চলে আসছে এই জন্য সময় মত কাজ গুলো শেষ করতে কয়েকটা প্রকল্পে মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু তার ইউনিয়নে নয় সব ইউনিয়নে এই ভাবে কাজ চলছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোবিপ্রবি সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে । এ পরিস্থিতিতে আজ বিভাগটির পূর্বনির্ধারিত ‘ক্লাস টেস্ট’ পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকসংকট দূর করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না। পরীক্ষাগুলোও যথাসময়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। এর মধ্যে আবার নতুন আরেকটি ব্যাচের ভর্তিপ্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন থেকে সমাজকর্ম বিভাগের শ্রেণিকক্ষের সংকট চলছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষকেরাও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেও কোনো ফল পাননি। এ কারণে শিক্ষকদের না জানিয়েই আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিভাগের তিন ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫০। ওই বিভাগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষকে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একটি কক্ষেই তিন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সমস্যা চলছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ হলো, নতুন শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষ বরাদ্দ দিতে হবে, লাইব্রেরিতে বই সংযুক্ত করতে হবে এবং অফিস ফ্যাসিলিটি বাড়াতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে দাবি কার্যকর না হলে ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি ক্লাস পরীক্ষা ও বর্জন করা হবে৷

সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান চয়ন শিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শিক্ষার্থীরা তাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে বিভাগে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকসংকটের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, একটি শ্রেণিকক্ষ দিয়ে তিনটি ব্যাচের পাঠদান খুবই কষ্টকর। এ ছাড়া মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে বর্তমানে তিনটি ব্যাচের ক্লাস ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন। শ্রেণিকক্ষসংকট দূর করার জন্য সমাজকর্ম বিভাগসহ আরও কয়েকটি বিভাগের জন্য ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে (একাডেমিক ভবন-৩) কয়েকটি কক্ষ অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। দ্রুত ওই কক্ষগুলো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

মুরাদনগরে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে ০২(দুই) কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের উত্তর পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন, কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার আড়াইওড়া গ্রামের মৃত জয় মঙ্গল দাসের ছেলে ইন্দ্রজিত চন্দ্র দাস (৩৪)।

জানা যায়, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোঃ হাক্কানীর নেতৃত্বে ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের উত্তর পাড়া মদিনা জামে মসজিদ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর হইতে ইন্দ্রজিত চন্দ্র দাস (৩৪) কে ০২(দুই) কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বরুড়ায় শশুরবাড়িতে গাছের সাথে বেঁধে ২ সন্তানের জননীকে মারধর, উদ্ধার হয়নি এখনো

স্টাফ  রিপোর্টার:

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার খয়রাতপাড়া গ্রামে শশুরবাড়িতে  যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি ও স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা  দেওয়ায়  গাছের সাথে বেঁধে সদ্য দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়া শিরিন আক্তারকে (২৮)  বেল্ট দিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

স্বামী শাহ জালালসহ শশুর বাড়ির লোকজন শিরিন আক্তারকে বাড়িতে রেখেই নির্যাতন করছেন। শিরিন আক্তারের ভাই আবু বকর সিদ্দিক তার বোনকে নিজ বাড়িতে আনার জন্য গেলে শিরিনের স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন তার সাথে খারাপ আচরণ করে মারধরের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ ঘটনায় রোববার (১৫ জানুয়ারি) সকালে  শিরিনের আক্তারের স্বামী শাহ জালাল, শশুর মজনু মিয়া ও শাশুড়ি চন্দবানের বিরুদ্ধে বরুড়া থানায়  একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন  নির্যাতিত শিরিনের আক্তারের মা রাবেয়া বেগম ।

থানায় লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর পূর্বে শাহজালালের সাথে শিরিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পরই যৌতুকের জন্য  শশুর-শাশুড়ির প্ররোচনায় বার বার শিরিন আক্তারকে নির্যাতন করে স্বামী শাহজালাল। একবার শিরিন আক্তারের পিতা নুরুল ইসলামে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে শাহজালাল। পরে থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে অসহায় শিরিন আক্তারের পরিবার মেয়ের সংসারের কথা চিন্তে করে শাহজালালকে ছাড়িয়ে আনে। তাদের সংসারে আসে এক কণ্যা সন্তান। এরপরই শাহজালাল  পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। শিরিন আক্তার স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দিলেই চলে  নির্যাতন। এক পর্যায়ে শিরিন আবার গর্ভবতী হয়। শশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শহরে মা-বাবার কাছে চলে আসেন শিরিন। এদিকে শাহজালাল তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে বসবাস করতে থাকে। পরে স্থানীয় সমঝোতায় শিরিনকে আবার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় শাহজালাল। সম্প্রতি শিরিন দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছে। এরপরেই আবার যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করে শশুর বাড়ির লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি রাত ৭ টা থেকে স্বামী, শশুর-শাশুড়ি তাকে মারধর করা শুরু করে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গাছের সাথে বেঁধে সদ্য দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়া শিরিন আক্তারকে  বেল্ট দিয়ে মারধর করা হয়। আজ রোববার বিকেলেও শিরিনকে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। শিরিনের সাথে তার বাপ-মায়ের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে শশুর বাড়ির লোকজন।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, শিরিনকে রক্ষা করার জন্য যেই আসবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বামী শাহজালাল।

এ বিষয়ে  অভিযোগের  তদন্তকারি কর্মকর্তা বরুড়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফখরুল জানান, এখনো ওই মেয়ের শশুর বাড়িতে যাওয়া হয়নি। অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম সারাদিন। সময় করে তদন্ত করার জন্য যাবো।