All posts by jitu

সশস্ত্র বাহিনী আমাদের দুর্যোগের বন্ধু, তারা সব সময় দেশের কল্যাণে কাজ করে : কাদের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সশস্ত্রবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সশস্ত্র বাহিনী আমাদের দুর্যোগের বন্ধু। তারা সব সময় দেশের কল্যাণে কাজ করে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাসের এমআর চৌধুরী প্রাঙ্গণে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কেক কাটা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিলেটের সমাবেশের সঙ্গে ঢাকার উত্তরার (আওয়ামী লীগের) সমাবেশ মিলিয়ে দেখুন। বুঝবেন কার পায়ের তলায় মাটি নেই। বাকিটা দেশের মানুষ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নেবে।

এ সময় কাদের আরো বলেন, শেখ হাসিনার মতো নেতা না থাকলে এই দেশের উন্নয়ন হয় না। এটা এরই মধ্যে প্রমাণিত সত্য। বাঞ্ছারামপুরের ঘটনাটি তাদের (বিএনপির) সাজানো, বানোয়াট। তারা যা বলছে বাস্তবে তা সত্য নয়।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল মো. মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম খান এমপি, রাজি মোহাম্মদ ফখরুল এমপি, নাসিমুল আলম নজরুল এমপি, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি, নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, এইচএম ইব্রাহিম এমপি, আঞ্জুম সুলতানা এমপি, অ্যারোমা দত্ত এমপি, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি এমপি, ফরিদা আলম সাকী এমপি, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নানসহ কুমিল্লা, ফেনী, চাদঁপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে ৯৪০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

ঢাবির ৫৩ তম সমাবর্তনে স্বর্ণপদক পেলেন কুমিল্লার মাধবী

রাসেল সোহেল:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩-তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের হাত থেকে স্বর্ণপদক পেলেন কুমিল্লার মেয়ে জাফরীন জাবীন মাধবী।

জাফরীন জাবীন মাধবী কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মাশিকারা রামপুর ভূইয়া বাড়ির মো: মোসলেম উদ্দিন ভূইয়া ও নাজমা মোসলেমের সন্তান।

সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন।

সে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন।

কুমিল্লায় স্ত্রীকে নিয়ে বিলাসবহুল ভবনে ছেলে, মুরগির খামারের সঙ্গে বাবা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ছেলে সামছুল হক প্রবাসী ও ব্যবসায়ী। স্ত্রী শাহিদা আক্তারকে নিয়ে নিজ নামে ‘হক মঞ্জিল’। পাঁচতলা ভবনে তিনতলায় বসবাস তাদের। অথচ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে রেখেছেন ভবনের ছাদে মুরগী খামারে সঙ্গে ছোট্ট টিনের ঘরে। সেখানে আছে ভাঙা একটি টিনের ঘর, নিচে চটের বিছানায় আর কিছু পানির বোতল। ময়লা, দুর্গন্ধ, মশার কামড় জুটে এই বৃদ্ধার কপালে। খাবারও খেতে হয় মুরগীর খামারে!

এমনই এক মানবতার জীবন নিয়ে, ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন কুমিল্লা লাকসাম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে কলেজে রোড ও পশ্চিমগাও পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলী (৮০)।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বুকভরা কষ্টগুলো চিৎকার করে বলতে চাইলেও বয়সের ভারে বন্ধ হয়ে গেছে তার আওয়াজ। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছেন তিনি।

এমন কষ্টের দৃশ্য সন্তানদের চোখে না পড়লেও এলাকার মানুষ ঠিকই উপলব্ধি করতে পারেন।

একসময় যে পিতা তাঁর ছেলেকে কোলে-পিঠে নিয়ে বড় করেছিলেন, আজ তিনি নিজেই উপেক্ষিত। সেই সন্তান বড় হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পাকা দালান ঘরে সাজানো বিছানায় ঘুমালেও বৃদ্ধ পিতাকে থাকতে হয় ভবনের ছাদে। একটি মাত্র টিনের ঘরে মুরগী খামারে সঙ্গে। যেখানে নেই কোনো মশারি বা বিছানা।

রোববার ২০ নভেম্বর বিকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

ওইদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা কান্দিরপাড় ইউনিয়ন ছঁনগাও গ্রামের নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও ২ ছেলে- ৫ মেয়ে নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী (৮০)। ২০০৬ সালে তার স্ত্রী মৃত্যুর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ইয়াকুব আলী।

বড় ছেলে প্রবাসী সামছুল হক ২০০৭ সালে লাকসাম পৌরসভার পশ্চিমগাঁও পুরান বাজার এলাকায় ৭ শতক সম্পত্তির মধ্যে ‘হক মঞ্জিল’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন।

ছেলে সামছুল হক ভবনের তিনতলায় স্ত্রী ও সন্তানদেরকে নিয়ে থাকেন। পাঁচ তলা ভবনের ছাদের ওপর একটি টিনের ঘরে রাখছেন তার বৃদ্ধ বাবাকে। ঘরের একপাশে মুরগী খামার অপর পাশে বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে আছেন বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী। চটের বিছানার আশপাশ দুর্গন্ধ ও ব্রয়লার মুরগীর ময়লা।

সংবাদকর্মীকে দেখে ছুটে এলেন বৃদ্ধের ছেলের বৌ শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, শ্বশুর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। শ্বশুরের মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক ওষুধ ও দেখভাল করেন তিনি। কত দিন ধরে ছাদে রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১-২ মাস ধরে বাবাকে রাখা হয়েছে। এর আগে আমাদের রুমে থাকতেন তিনি। তা ছাড়া তাঁকে ঘরের মধ্যে রাখা যায় না, মাথায় সমস্যার কারণে সব কিছু ওলট-পালট করেন।

মোবাইলে কথা হয় বৃদ্ধ বাবার বড় ছেলে সামছুল হকের সঙ্গে, তিনি অনুনয়-বিনয় করে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। আমার বাবা মাথায় সমস্যা; ঠিকমতো কাপড় পরেন না। কোনোভাবেই ডাক্তারের কাছে নেওয়া যায় না!

’পিতাকে এমন অবহেলা-অযত্নে ঘরের বাইরে ফেলে রাখার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে এখন থেকে পিতার প্রতি যত্নবান হবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

লাকসাম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবু সায়েদ বাচ্চু বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধাকে প্রায়ই এলাকায় দেখতাম। গত কয়েক মাস ধরে দেখি না। তার ছেলে সন্তানরা থাকার পরও নিজ বাড়ির ছাদে বসবাস খুবই দুঃখজনক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন বলেন, বৃদ্ধ বাবাকে এখান থেকে তাদের বাসায় নিয়ে আসার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। যদি তারা দায়িত্ব পালন না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র-যুগান্তর

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি: পুলিশ কনস্টেবলের ১৭ বছরের কারাদন্ড

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের ভুয়া সনদ দিয়ে পুলিশে চাকরি নেওয়ার দায়ে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ২ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতের নাম মো.আরিফুল ইসলাম (৩২। সে চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

নোয়াখালী জেলা দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,দুপুরে মামলার শুনানি শেষে বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান অভিযুক্ত আসামিকে ৪০৯,৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড ও চারটি ধারায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। সব সাজা এক সাথে কার্যকর হওয়ায় আসামিকে ৫ বছর সাজা খাটতে হবে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণ দিয়ে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ২০১২ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় নিজের বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে ভুয়া সনদ দেন। এরপর আসামি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নেয় এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। নিয়োগের কিছু দিন পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তদন্তে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর ২০১৩ সালে পুলিশ লাইনের তৎকালীন রিজার্ভ অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে চাটখিল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ মামলাটি তদন্তভার পায় দুদক। দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় তদন্ত শেষে বরখাস্তকৃত পুলিশ কনস্টেবল আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নানা আয়োজনে কুমিল্লায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার:

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে একটি মনোমুগ্ধকর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়।

সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে এ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে নানা আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ৯৪০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আগত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল গণ্যমান্য অতিথিদেরকে অভ্যর্থনা জানান ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুর রহমান, এসইউপি, এডব্লিউসি, পিএসসি।

এরপর প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুর রহমান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত তাঁর স্বাগত ভাষণের শুরুতেই স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং শ্রদ্ধা জানান অগণিত বীর শহিদদের ও সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে কাঙ্খিত স্বাধীনতা। বিশেষ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা অঞ্চলের অসীম সাহসিকতা, সহযোগিতা এবং বীরত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কুমিল্লা অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল বীর শহিদদের প্রতি জানান বিনম্র শ্রদ্ধা।

প্রধান অতিথি তার ভাষণে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় পর্যায়ে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জঙ্গী দমন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন দেশগঠনমুলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। এছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

তিনি আরো বলেন যে, আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিক রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সাংসদ রাজী মো: ফখরুল, সাংসদ ডা. প্রাণ গোপাল, সাংসদ এড. আবুল হাশেম খান, সংরক্ষিত সাংসদ আনজুম সুলতানা সীমা, অ্যারোমা দত্তসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

চাটখিল উপজেলা আ.লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর ও সম্পাদক শাকিল

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলমকে পুনরায় সভাপতি ও নাজমুল হুদা শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গতকাল রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবিরের সভাপতি অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হানিফ বলেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকারদের দোসর ও পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী তাদের কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান মেনে বিএনপি যদি নির্বাচনে এলে স্বাগত, আর না এলে দায়ভার তাদের। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।আওয়ামী লীগ কোন কচুপাতার পানি নয় যে ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন।

সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে চাটখিল উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলমকে পুনরায় সভাপতি ও নাজমুল হুদা শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর কবিরের সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলী তাহের ইভুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ স্বপন, নোয়াখালী ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধামোহমুদুর রহমান বেলায়েত, নোয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ.এ্চ.এম খায়রুল আনম সেলিম,যুগ্ম-আহ্বায়ক সম্পাদক শিহাবুর রহমান শাহীন,শহীদ উল্যাহ খাঁন সোহেল, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

নোয়াখালীতে আ.লীগের পদ ঘোষণার পর সংঘর্ষ,পুলিশসহ আহত ৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির পদ ঘোষণার পর পদ বঞ্চিত নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এক সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে।

রোববার (২০ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, র্দীঘ ১০ বছর পর রোববার সকালে উপজেলার পাঁচগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টার দিকে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। বিকালে নতুন কমিটি ঘোষণার উদ্দেশে উপজেলা পরিষদ ভবনে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরকে নতুন সভাপতি, নাজমুল হুদা শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এ সময় সিলেকশনে নতুন কমিটি ঘোষণা করায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পদপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভোটাভুটির দাবিতে উপজেলা চত্বরে পদপ্রাপ্ত ও প্রত্যাশীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া থেকে সংঘর্ষে রুপ নেয়। সংঘর্ষকারীরা কয়েকটি ককটেরে বিস্ফোরণ ও কাউন্সিল অধিবেশনের হল রুমে ব্যাপক চেয়ার ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে একজন পুলিশ ও ছবি ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন এক সংবাদ কর্মি, ছিনিয়ে নেওয়া হয় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬জন আহত হয়।

এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গিয়াস উদ্দিনের মুঠোফোনে কলা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নি।

উল্লেখ্য, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর কবিরের সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলী তাহের ইভুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ স্বপন, নোয়াখালী ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধামোহমুদুর রহমান বেলায়েত, নোয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ.এ্চ.এম খায়রুল আনম সেলিম,যুগ্ম-আহ্বায়ক সম্পাদক শিহাবুর রহমান শাহীন,শহীদ উল্যাহ খাঁন সোহেল, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

নোয়াখালীতে মাদরাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে এক মাদরাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মোছাম্মৎ জুবাইদা বেগম (১৭) উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের রফিক উদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় সিরাজুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল।

রোববার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে করা হয়। এর আগে, একই দিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে নিজ বাড়ির বসত ঘরে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে জুবাইদা মাদরাসায় যাওয়ার সময় তার বাবার কাছে মাসিক বেতনের বেতন চেয়ে মাদরাসায় যায়। মাদরাসা থেকে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদেনর অজান্তে ঘরের দরজা বন্ধ করে দুপুর সোয়া ২টার দিকে নিজের রুমে বিষ পান করে। এরপর বিষের যন্ত্রণায় সে চিৎকার করতে থাকে। তার চেচামেচিসহ কান্নার শব্দ শুনে তার মা ও বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আমির হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিক ভাকে ধারণা করা হচ্ছে,বাবার ওপর অভিমান করে সে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে।

বান্দরবানে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বান্দরবানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তার স্বার্থে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রোববার বিকালে বান্দরবান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে দুটি উপজেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরও সাত দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সূত্র জানায়, বান্দরবান জেলার রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে প্রায় দুই মাস ধরে। সাঁড়াশি অভিযানের কারণে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পর্যটকদের ভ্রমণে রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অষ্টম দফায় আরও সাত দিন বাড়িয়ে আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর আগে সপ্তম দফায় ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, যৌথ বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তা বিবেচনায় রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলায় ভ্রমণে প্রথম দফায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল গত মাসের ১৮ অক্টোবর। অভিযান অব্যাহত থাকায় চলমান নিষেধাজ্ঞা অষ্টম দফায় আরও সাত দিন বাড়িয়ে আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে রুমা ও রোয়াংছড়ি ব্যতীত অন্যসব উপজেলায় পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন।

এদিকে পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় গোটা বান্দরবান জেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবধরনের ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোর দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোও।

এদিকে নিষেধাজ্ঞায় রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম, শীলবান্ধা ঝর্ণা, শিপ্পি পাহাড়, রুমা উপজেলার রহস্যময় বগা লেক, রাইক্ষ্যংপুকুর লেক, ক্যাওক্রাডং, তাজিংডং, জাদীপাই ঝর্ণা, তিনাপ সাইতার, রিজুক ঝর্ণাসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবে না ভ্রমণকারী পর্যটকেরা।