All posts by jitu

মুরাদনগরে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ৯ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) কর্মসূচির আওতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে দেশের অগ্রগতি, অর্জন, সাফল্য ও লক্ষ্য সমূহের সাথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদক, গুজব, সাম্প্রদায়িকতা, অপপ্রচার, অপরাজনীতি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লার সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী।

সমাবেশে বক্তাগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে গুজব, সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, অপপ্রচারকে প্রতিরোধ করতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন ও বিনা মূল্যে বই বিতরণসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উপযোগী মানুষ হিসেবে সন্তানদের গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। বক্তাগণ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এর প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মানুষকে এই অপারাধ গুলির বিরুদ্ধে জোড়ালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাঙ্গরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোঃ জাকির হোসেন, মুরাদনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান সেলিম ও স্কুল কমিটির সভাপতি আবু বকর সবুজ। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাঙ্গরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল উদ্দিন। মহিলা সমাবেশের পূর্বে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

বি-বাড়িয়ায় নিরাপদ অভিবাসন ও পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ক কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার:

নিরাপদ অভিবাসন তথ্য জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের পূনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ততাকরণ করার জন্য ৯ নভেম্বর ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিগ্রী কলেজের মিলনায়তনে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের আয়োজনে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কলেজের সকল শিক্ষক এবং ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী।

কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য উপস্থান করেন। উপস্থাপনায় নিরাপদ, নিয়মিত, সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ব নিরসন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, অভিবাসী কর্মীর অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ ও সঞ্চয়ের বিষয় তুলে ধরেন। এরমধ্যে পুনর্বাসন ঋণ, বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ, বিশেষ পুনর্বাসন ঋণ, নারী অভিবাসন ঋণ, নারী পুনর্বাসন ঋণ, সাধারণ ঋণ এবং বিভিন্ন সঞ্চয়ী সেবার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি জচখ-এর মাধ্যমে কিভাবে প্রবাসফেরত কর্মীগণ তাদের দক্ষতাকে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া যায়, সে সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন।

কর্মশালায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো,বোয়েসেল, এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিভিন্ন সেবা যেমন প্রবাসীর মেধাবী সন্তাদের শিক্ষাবৃত্তি, মৃত্যের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান, চিকিৎসা ভাতা,বীমা সুবিধা, শ্রম কল্যাণ উইং-এর মাধ্যমে আইনি সুবিধা, প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার, প্রতিবন্ধি ভাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কোটা এবং বায়রার কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি) পরিচালিত অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশ (এমআরসি) এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ ফর রিএন্টিগ্রেশন (চচচওও) আওতায় এটি আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ওয়ালিউল্লাহ মোল্লা বলেন যে, চিনাইরে যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আছে এখানে বিদেশগামীদের জন্য বিভিন্ন ট্রেডে বিনা খরচে বা স্বল্প খরচে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এখানে ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। যদি কোন বিদেশগামী ভাষা শিখে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যায়, তাহলে তার আয় এবং সম্মান দুটোই বাড়বে। তাই তিনি সকলকে প্রশিক্ষণ নিয়ে, ভাষা শিখে বিদেশে যাওয়ার জন্য সকলকে পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় এমআরসি বাংলাদেশের কাউন্সেলর গোলাম মোস্তফা অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি তুলে ধরেন। তিনি এমআরসি বাংলাদেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কাজ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং অভিবাসন বিষয়ক যেকোন প্রয়োজনে এমআরসি বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের জন্য সকলকে আহবান জানান। অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র অভিবাসন সিদ্ধান্তে তথ্য সহায়তা। এছাড়াও তিনি বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের পিপিপি-২ প্রকল্পে মাধ্যমে কিভাবে সহায়তা করা হবে তার বর্ণনা দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারি পরিচালক দেবব্রত ঘোষ অংশগ্রহণকারী সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনসাধারণের ভোগান্তি, প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: ইকবাল হোসেন বলেন এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই জানলাম, তথ্য পেলাম, ছাত্র-ছাত্রীরাও অনেক তথ্য জানতে পারলো। আমাদের ছাত্রদের অধিকাংশ অভিভাবক প্রবাসী তারা এই কর্মশালার তথ্যগুলো তাদের পরিবাবরসহ এলাকাবাসীর কাছে তথ্য পৌঁছে দিবে। যা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করবে বলে আমি মনে করি।

শতভাগ পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছে না কুসিক, জরিমানা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের

 

ইসতিয়াক আহমেদঃ

ব্যাংকের পাশে মোটরসাইকেল রেখে মোটরসাইকেল মালিক ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে। তার কিছুক্ষণ পরই সিটি করপোরেশনের অভিযানে নো পার্কিং-এ মোটরসাইকেল রাখার কারণে ৩০০০ টাকা অর্থদণ্ড দিতে হয়েছে। অথচ কুমিল্লা নগরীর চকবাজারে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের আশে পাশে পার্কিংয়ের কোনও জায়গা নেই। সড়কের পাশে একটু দাঁড়ালেও মামলা। গাড়ি রাখবো কোথায়?’ মফিজুল ইসলাম নামে একজন মোটরসাইকেল চালক এভাবেই তার অভিযোগের কথা বলেন।

সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করে নো পার্কিং-এ মোটরযান রাখার কারণে গত ১০ দিনে ৭০টির উপরে মামলার মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল মালিকদের। জব্দ করা হয়েছে বেশ কিছু সংখ্যক অটোরিকশা।

যানবাহন অনুপাতে নগরীতে পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় বিগত বেশ কিছুদিন সিটি করপোরেশনের অভিযানে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে চালকদের। নতুন আইন অনুযায়ী অবৈধ পার্কিংয়ের জরিমানা বেড়েছে, অথচ নগরীতে বাড়েনি পার্কিংয়ের জায়গা।

কুমিল্লা নগরীজুড়ে বাণিজ্যিক ভবন গুলোতে শতভাগ পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছে না কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। ঠিক তেমনি করে সিটি করপোরেশন সড়কগুলোতে গাড়ি রাখার কোন ব্যবস্থাও করতে পারছে না কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তাই অবৈধ পার্কিং হচ্ছে শহরে। পার্কিং বলতে কিছু যে আছে তা মানুষ জানে না। নগরীর ঝাউতলা, বাদুরতলা, কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, রাজগঞ্জ, ছাতিপট্টি, চকবাজার এলাকাগুলো অনেক ব্যস্ততম এলাকা। যেখানে প্রতিনিয়তই যানবাহন চলাচল করে এবং সর্বদাই জনসমাগম থাকে অথচ এই এলাকাগুলোর মূল সড়কের পাশে যেই সব বাণিজ্যিক ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে রাখা হয়নি কোনো পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে সঠিক স্থানে মোটরযান পার্কিং না করলে কিংবা নো পার্কিং-এ মোটরযান রাখলে জরিমানার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লা পুরো নগরীজুড়ে পার্কিংয়ের জায়গা নেই বললেই চলে। তাই নগরীতে ৮০ শতাংশ গাড়ি যত্রতত্র পার্কিং করতে বাধ্য হয়।

পার্কিং সুব্যবস্থা না থাকায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতায় জরিমানা গুণতে হয় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মালিকদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যানবাহন মালিক ও নগরবিদরা।

পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে কুমিল্লা ট্রাফিক ওসি মোঃ জিয়াউল হক চৌধুরী টিপু বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি যাতে ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু আমরা দেখছি অনেক বাণিজ্যিক ভবনে সেই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। এজন্য মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে গাড়ি পার্কিং করে। যার ফলে প্রতিনিয়তই যানজট তৈরি হচ্ছে।

সুজন এর সভাপতি শাহ মোঃ আলমগীর খান বলেন, পার্কিংয়ের জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার। কিন্তু কুমিল্লা নগরীতে সিটি করপোরেশনের নিয়ম ভঙ্গ করে নির্মিত হচ্ছে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন। যার ফলে বাধ্য হয়ে মালিকদের যানবাহন রাখতে হচ্ছে মূল সড়কের পাশে। নগরীর পূর্বাঞ্চল (মনোহরপুর থেকে চকবাজার এলাকা পর্যন্ত) হচ্ছে ব্যাংকিং ও ব্যবসায়ী এলাকা অথচ এই পুরো এলাকাজুড়ে একটি জায়গায়ও নেই পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। এই দায়ভার অবশ্যই সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে।

সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বানিজ্যিক ভবনগুলোতে নকশা অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থা রাখার কথা। কিন্তু অনেকে অর্থের লোভে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান তৈরি করে রেখেছে, আবার অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং করছে। আমরা এইসব ভবনের মালিকদের নোটিশের মাধ্যমে সময় দিয়েছি। ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে তিনবার আমরা বৈঠক করেছি। নির্দ্দিষ্ট সময়ের পর আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিরাপদ অভিবাসনের ফেরিওয়ালা দেবব্রত ঘোষ

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ব্র্যাক আয়োজিত এক কর্মশালায় কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারি পরিচালক দেবব্রত ঘোষকে নিরাপদ অভিবাসনের ফেরিওয়ালা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে দেবব্রত ঘোষের নানামূখী পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
দেবব্রত ঘোষ ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর কুমিল্লা অফিসের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং গত ৫ বছরে বিভিন্ন সাহসী উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে আজ বিদেশগমনেচ্ছু, বিদেশগামী এবং বিদেশ ফেরত কর্মীসহ জনসাধারণের মাঝে আস্থার ক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে ২০২২ সালের কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মুক্তির উৎসব ও সুবর্নজয়ন্তী মেলায় জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস কুমিল্লা তৃতীয় পুরস্কার লাভ করে। ২০১৮ সালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা এবং ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, কুমিল্লা শ্রেষ্ঠ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া অভিবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের প্রতি অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Refugee and Migratory Movements Research Unit (RMMRU) বা রামরু কর্তৃক ‘সোনার মানুষ সেবা সম্মাননা-২০১৯’ লাভ করেন। জনসাধারণকে সুশৃংখল, স্বচ্ছ এবং সন্তোষজনক সেবা প্রদানের জন্য সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ২০২০-২১ অর্থ বছরে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন এবং জাতীয় শুদ্ধাচার’ পুরস্কারে ভূষিত করে। অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সেবা সম্প্রসারণ,  আন্তর্জাতিক ও বেসরকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিএমপিডি, হেলভেটাস বাংলাদেশ, আইওএম, ব্র্যাক, ওকাপ, ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন দেবব্রত ঘোষকে Letter of Appriciation প্রদান করে।
কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে দেবব্রত ঘোষের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ আজ প্রশংসার দাবীদার। শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ার অন্যতম চ্যালেঞ্জসমূহ যেমন উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, ভিসা ট্রেডিং, অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষের প্রক্রিয়া ও আইন-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা, ইত্যাদি মোকাবিলায় তার গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ হলোঃ
১। অফিস স্থানান্তরঃ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে মনোরম পরিবেশে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে নবনির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিন তলা ভবনে অফিস স্থানান্তর।
২। জনবান্ধব অফিস ব্যবস্থাপনাঃ সেবাদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ; সেবা প্রত্যাশীদের মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি; দালাল ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিরসন; সেবা প্রত্যাশীদের অযথা হয়রানী, ভোগান্তি, অনর্থক অর্থ ব্যয় নিরসন; নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানব পাচার রোধে প্রত্যহ মাইকিং করা; সতর্কতামূলক বাণী ও নির্দেশনামূলক ডিজিটাল ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন জনসাধারণের গোচরীভূত করা; বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীদের কল্যাণ কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কিত পুস্তিকা, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ অব্যাহত; এলইডি স্ক্রীনের মাধ্যমে সার্বক্ষনিক সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার; অফিসের সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষনিক মনিটরিং করার জন্য ৮টি আইপি ক্যামেরাসহ মোট ২৪টি সিসি ক্যামেরা অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেট করা; সেবাদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে এবং সেবার মান সম্পর্কে জনসাধারণের ফিডব্যাক যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্বচ্ছ মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ বক্স স্থাপন করা; Demo Cumilla Bmet ফেইসবুক আইডি ও District Employment and Manpower Office, Comilla ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেওয়া;  অফিসের কার্যক্রম ও সেবার মান সম্পর্কে জনসাধারণের ফিডব্যাক ফেইসবুকের মাধ্যমেও যাচাই করা।
৩। আর্থিক ব্যবস্থাপনাঃ  বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক, স্বছ ও সুষম ব্যবহার।
৪। অফিস ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নঃ ডিজিটাল ফাইলিং, ইন্টারনেট, ই-মেইল ও ফেসবুক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ওয়েব পোর্টাল নিয়মিত আপডেটকরণ; নতুন কম্পিউটার, মনিটর, স্ক্যানার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় ও মেরামত; ফ্যান, ফার্নিচার ক্রয় ও মেরামত; অফিস কক্ষগুলো সুসজ্জিতকরণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ; ডট প্রিন্টারের পরিবর্তে লেজার প্রিন্টার ক্রয় এবং ব্যবহার; অফিস পরিচালনায় গতিশীলতা আনয়নে ল্যাপটপ ক্রয়; ম্যানুয়াল এর পরিবর্তে ডিজিটাল নেমপ্লেট, সাইনবোর্ড, প্লেকার্ড ও ব্যানার স্থাপন; অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও জনসেবায় আত্ননিয়োগে মোটিভেশন প্রদান; উপস্থিত সেবা গ্রহীতাদের তাৎক্ষনিক সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ; সিটিজেন চার্টার, বিভিন্ন তথ্য- উপাত্ত ও ছবিসম্বলিত তথ্যকেন্দ্র  স্থাপন; অফিস ষ্টাফদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ; অফিসিয়াল নথি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি সাধন।
৫। প্রকাশনা ও প্রচারণাঃ অফিস পরিচিতি ও অফিসের কার্যক্রম এবং জনগণের মানসম্মত সেবার ধাপসমূহ প্রচার ও প্রসারের জন্য নিরাপদ অভিবাসন তথ্য সহায়িকা-২০১৭, নিরাপদ অভিবাসন তথ্য সহায়িকা-২০১৮, নিরাপদ অভিবাসন বুকলেট-২০১৯, নিরাপদ অভিবাসন বুকলেট-২০২০ এবং নিরাপদ অভিবাসন পুস্তিকা-২০২১ নামে জনসচেতনতামূলক ৪ টি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, পোষ্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং স্টিকার প্রস্তুত করেন যা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিতরণ করা হয়। উন্নয়ন মেলা, ডিজিটাল ইনোভেশন মেলা, জব ফেয়ারে অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতামূলক উপকরণ বিতরণ  অব্যাহত আছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)’র অনুমোদনে এবং আইসিএমপিডি’র আর্থিক সহায়তায় দেবব্রত ঘোষ অভিবাসীদের তথ্য সহায়তা ও জ্ঞান বিকাশে অভিবাসন বন্ধু Migration Friend  বইটি প্রকাশ করেন। অভিবাসন বন্ধু Migration Friend বইটি অভিবাসীদের জন্য একটি সফল দিকনির্দেশনা। বইটি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), বুদাপেস্ট প্রসেসসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
৬। সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়নঃ স্থানীয় প্রশাসন, টিটিসি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিস, সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন যা অফিসের কার্যক্রমকে প্রসারিত ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
৭। অভিবাসী সততা স্টোর- ২০২২ সালের শুরুতে অভিবাসীদের ভালো অভ্যাস গঠন এবং প্রবাস জীবনের অনুশীলনীয় হিসেবে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে একটি সততা স্টোর স্থাপন করা হয়েছে। সততা স্টোরে বিক্রেতা থাকে না। ক্রেতা নিজেই প্রয়োজনীয় খাবার ক্রয় করে এবং নিজেই  তার দাম পরিশোধ করে। এটি সেবা প্রদানের একটি অন্যান্য দৃষ্টান্ত।
৮। প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ চালু : প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ বা পিডিও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কাজ সফলভাবে চালুকরণ। বিএমইটি ও মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশনায় দেবব্রত ঘোষ ১১ টি  জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের মধ্যে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে প্রথম চালুর ব্যবস্থা করেন এবং সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
কুমিল্লায় তার সময়কালে নভেম্বর ২০১৭ থেকে অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন হয়েছে মোট ৩,৪৫,৭৯৯ জনের (পুরুষ ৩,৩৪,৬৩৫ জন, মহিলা ১১,১৬৪ জন), বিদেশে মৃত প্রবাসী কর্মীর লাশ দাফনের মতামত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে পাঠানো হয়েছে ৮৫১ টি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির নিমিত্ত প্রবাসে মৃত কর্মীর পরিবারের আবেদন বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে ৪,৩৮০ টি, ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদানের নিমিত্ত নথি নিস্পত্তি করা হয়েছে ৪,৩৮০টি, প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সদস্যদের এনওসি প্রদান করা হয়েছে ১৪২৩টি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের পিইসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি ক্যাটাগরিতে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে মোট ২,৭৬৭টি। দেবব্রত ঘোষ জানান,  অস্বচ্ছল প্রবাসী কর্মীর সন্তানকে শিক্ষিত জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে তাদের মেধাবী সন্তানদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডর অর্থায়নে ২০১২ সাল থেকে পিইসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি অথবা সমমান ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। পিইসি বা সমমানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে ৩ বছর, জেএসসি বা সমমানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ২ বছর, এসএসসি বা সমমানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে ২ বছর, এইচএসসি বা সমমানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ৪ বছর ধরে বৃত্তি পাবে।
দেবব্রত ঘোষের কিছু নজরকারা কর্মকান্ডঃ
সরকার বিদেশগামী বাংলাদেশী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর নির্দেশনা মোতাবেক দেশের ৪২টি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, ৯টি টিটিসি এবং বিআইএমটি নারায়ণগঞ্জ-এর মাধম্যে প্রবাসী কর্মীদের ২ জুলাই ২০২১ তারিখ হতে বিএমইটি ডাটাবেজ-এ নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হয়। ফলে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে তাদের উপস্থিত হতে দেখা যায়। কঠোর লকডাউন চলাকালে সরকারের এ মহতী কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে নিবেদিত প্রাণ একটি টিম নিরলস কাজ করেছে। ভীড় এড়াতে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে শুক্র-শনিবারসহ প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মীদের ফরম জমা নেওয়া হয় এবং রাত ৮টা পর্যন্ত ডাটা এন্ট্রির কাজ অব্যাহত রাখে। কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ জানান, ২ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১২,৭৯৭ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয় যা দেশের জেলা অফিসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। নিবন্ধনকৃত কর্মীগণ www.surokkha.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। কুমিল্লা জনশক্তি অফিসে অনায়াসে এবং নির্বিঘ্নে বিদেশগামীদের এ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শৃঙ্খলার সাথে, পরিছন্ন পরিবেশে, স্বচ্ছতার সাথে সেবা প্রদান করা হয়েছে। অফিসের আশপাশে কোন মধ্যসত্ত্বভোগীর উপস্থিতি কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতাবৃন্দ সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুরান্ত থেকে আসা প্রবাসীদের ভিড় থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২০ সালের মার্চ মাসে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর কঠোর লকডাউন চলাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেবব্রত ঘোষ বেড়িয়ে পড়েন জনসচেতনতার কাজে। তার নেতৃত্বে একটি টিম মহামারি কোভিড-১৯-এর  বিস্তার রোধে এবং সরকার ঘোষিত দিক-নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলার কমপক্ষে ১০টি করে বাজারে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার কমপক্ষে ১০টি করে বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী প্রচারণা চালায়। এ সময় কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জনসাধারণকে তাদের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়ে মাইকিং-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রচার করা হয়। ৪ মাস ব্যাপী কার্যক্রমে আইসিএমপিডি পরিচালিত অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র (এমআরসি), কুমিল্লা কর্তৃক সরববাহকৃত কোভিড-১৯-এর উপসর্গ এবং প্রতিকার সম্পর্কিত তথ্যসমৃদ্ধ সচেতনতামূলক ৪৮,৫৭০টি লিফলেট, ৯,৭০০টি হ্যান্ড গ্লাভস ও ২০,৪০০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়। ৪০০ হ্যান্ড সানিটাইজার দিয়ে তাৎক্ষণিক হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কঠোর লকডাউন চলাকালে কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাবৃত্তির চেক তিনি তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হস্তান্তর করেন।
নিরাপদ, নিয়মিত, সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিরসন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, অভিবাসী কর্মীর অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে দেবব্রত ঘোষ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতার গুরুত্ব সম্পর্কে জনমত সৃষ্টির লক্ষে জেলা ও উপজেলায় সেমিনার, সভা এবং কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করে বিদেশগনেচ্ছু, বিদেশগামী এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের মাঝে সঠিক তুলে দেওয়ার লক্ষে ইউনিয়ন পরিষদে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। জনসাধারণের ভোগান্তি, প্রতারণা রোধ, মানব পাচার রোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা ও করনীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাট-বাজারেও তিনি এ ধরনের প্রচারণা অভিযান চালিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, জেনে বুঝে, প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ-সম্মান দুটোই পাওয়া যাবে। মিথ্যা তথ্যের উপর নির্ভর করে বা অন্যের প্রলোভনে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও তিনি নিরাপদ অভিবাসনের বিভিন্ন আইন, বিধি ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেন এবং করোনাকালীন দূর্যোগ মোকাবিলায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রাণালয়ের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও নারী অভিবাসনের ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং সুবিধাসমূহ উল্লেখ করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বোয়েসেল, বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অবস্থিত শ্রম কল্যাণ উইং এবং বায়রা’র কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। শুধুমাত্র ২০২০ সালের আগস্ট মাস থেকে অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ৭০ টি কর্মশালা, ৪৫ টি হাট-বাজারে এবং ২২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা, মহিলাদের অংশগ্রহণে ২০টি উঠান বৈঠক করেন। কুমিল্লা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চলমান প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে আনুমানিক ৩৫,০০০ বিদেশগামীদের মাঝে তিনি নিরাপদ অভিবাসন এবং রেমিটেন্স ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তথ্য প্রচার করেন। এছাড়াও অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য অংশীজনের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, জাতির পিতার জন্ম দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস এবং জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং আড়ম্বরপূর্ণভাবে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে পালন করেন।
 চাকরি নিয়ে বিদেশগমনেচ্ছু, বিদেশগামী এবং বিদেশ ফেরতদের দেবব্রত ঘোষ ১০টি পরামর্শ দিয়েছেনঃ
১। বিদেশ যাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে লাভ-ক্ষতির হিসাব করুন। যেকোন প্রয়োজনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও), কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে যোগোযোগ করুন।
২। প্রশিক্ষণ নিয়ে, দক্ষ হয়ে, নিয়ম মেনে, বৈধ পথে বিদেশ যাবেন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা সম্পর্কে জেনে যাবেন।
৩। সরাসরি সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাবেন।
৪। টাকা-পয়সার সব লেনদেন বৈধ রসিদের মাধ্যমে করবেন।
৫। যাবার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, চুক্তিপত্র, ওয়ার্ক পারমিট ও বিএমইটি’র ছাড়পত্র ভালোভাবে যাচাই করবেন।
৬। চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের আগে চাকরির ধরণ, বেতন-ভাতা, চাকরির মেয়াদকাল ইত্যাদি যাচাই করবেন।
৭। বিদেশ থেকে বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন। ২% ইন্সেন্টিভ পাবেন।
৮। বিদেশ গমনের পূর্বে সকল কাগজপত্রের ০১ সেট ফটোকপি নিজের কাছে এবং ০১ সেট পরিবারের কাছে রেখে যাবেন।
৯। প্রশিক্ষণের জন্য টিটিসি-তে এবং ঋণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।
১০। মনে রাখবেন, ফ্রি ভিসা বলতে কোন ভিসা নেই।
সময়ানুবর্তিতা, অনুকূল পরিস্থিতিতে সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, সহমর্মিতার সাথে সেবা প্রদানের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সারাদেশের মধ্যে একটি মডেল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ । কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস দেশের সকলের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে।

টি২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক:

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছলো পাকিস্তান। বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় পায় বাবর আজমের দল। সিডনিতে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৫২/৪-এ। জবাবে ৫ বল বাকি রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে পাকিস্তান। ম্যাচে জোড়া ফিফটি হাঁকান দুই পাকিস্তানি ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। ৪৩ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন রিজওয়ান। অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেলেন বাবর আজম। বুধবার ৪২ বলে ৫৩ রান করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। আর মোহাম্মদ হারিস করেন ২৫ বলে ৩০ রান। বিশ্বকাপে শুরুর চার ম্যাচেই এক অঙ্কের রানে (০, ৪, ৪, ৬) উইকেট খোয়ান বাবর। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে করেন ২৫ রান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ১৫৩ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। আজ সিডনিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ফিফটিতে ভর করে ৪ উইকেটে ১৫২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফিন অ্যালেনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যায় কিউই ওপেনার। যদিও পরের বলে ফের অ্যালেনকে এলডব্লিউতে ফেরান শাহিন আফ্রিদি। এবার রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয় ৩ বলে ৪ রান করা অ্যালেনের। শুরুর ধাক্কা সামলে ৩৪ রানের জুটি বাঁধেন ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন। ২০ বলে ২১ রান নিয়ে কনওয়ে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর গ্লেন ফিলিপস সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৬ রান করেন মোহাম্মদ নওয়াজের উইকেটে পরিণত হন তিনি। ধাক্কা সামলে ৬৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল। ৪২ বরে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করেন উইলিয়ামসন। ফিফটি হাঁকিয়ে অপরাজিত ছিলেন ড্যারিল মিচেল। ৩৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রান করেন তিনি। ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম। পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। একটি উইকেট পান মোহাম্মদ নওয়াজ।

নিউজিল্যান্ড একাদশ
ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিà