All posts by jitu

কসবার বিলঘর গ্রামে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিলঘর গ্রামে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আমিন নগর ফিসারীজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোঃসফিকুল ইসলাম ভূইয়া রঙ্গু দারোগা।

কর্মসূচিতে প্রায় চার শতাধিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ সামগ্রী দেয়া হয় এবং যাদের চোখের ছানি অপারেশন করা অতীব জরুরী তাদেরকে নামমাত্র মূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ সোলেমান খান, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃআব্দুল হান্নান, কসবা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি খ ম হারুনুর রশীদ ঢালী, দৈনিক প্রথম আলোর কসবা-আখাউড়া-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রতিনিধি মোঃ সোহরাব হোসেন, কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মনির হোসেন, কুটিইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মোঃ জহিরুল ইসলাম, কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার কবির আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল মতিন ভূইয়া, মোঃ আইয়ুব সরকার প্রমুখ।

সালেহ আহম্মদ সোহোলের সঞ্চালনায় ও বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুলইসলামের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম আজম, বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ মুজিবুর রহমান ভূইয়া, রোশন মিয়া, হুমায়ুন কবির, আক্তারহোসেন, প্রবাসী মোঃ দিন ইসলাম, বিজিবি ল্যান্স নায়েক মোঃ মহসিন মিয়া, বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারীশিক্ষক মোঃ সোলেমান সরকার, মাহফুজুর রহমান মোমেন, যশোর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারি ফয়সালআহম্মেদ ভূইয়া, পল্লী চিকিৎসক আলী আকবর, আলমগীর ভূইয়া প্রমুখ।

জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি কুমিল্লার আয়োজনে কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কুমিল্লা টোয়েন্টি ফোর টিভির সাংবাদিক ও সংগঠক এবং  বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোঃ এমদাদুল হক সোহাগ।

ধনী দেশগুলো শুধু কথা বলে, কাজ করে না: জলবায়ু ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী দেশগুলো জোরালো বক্তব্য রাখলেও পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জলবায়ু সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইস্যুতে ধনী দেশগুলো শুধু কথা বলে, কাজ করে না। অথচ তারাই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। তাদেরই এই ইস্যুতে এগিয়ে আসা উচিৎ। কিন্তু আমরা তাদের দিক থেকে সে ধরনের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এটা দুঃখজনক।

ধনী দেশগুলো আরও ধনী হতে চায়, এজন্য তারা অন্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ঘন জনবসতিপূর্ণ ডেল্টা ও নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাস খুবই সামান্য পরিমাণ নিঃসরণ করে বাংলাদেশ।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে টিকে থাকার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে ২০২০ সাল নাগাদ বছরে একশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাওয়া হয়। অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থার মতে, ওই বছর বেসরকারি মাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে ৮৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, তহবিলটি আরও বাড়ানো হোক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি না।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ তারা আমাদের দেশে আছে, আমরা মনে করি, এটা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশি আশ্রয়দাতাদের ধৈর্য ক্ষীণ হয়ে আসছে। কারণ স্থানীয় জনগণকে যথেষ্ট ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমি বলবো না যে তারা ক্ষুব্ধ, তবে তারা অস্বস্তি বোধ করছে। সব বোঝাই আমাদের ওপর এসে পড়ছে। এটাই সমস্যা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের (রোহিঙ্গা) খোলা জায়গা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ তা তাদের স্বদেশেই আছে। তারা সেখানে ফিরে যেতে চায়। এটাই সবার মূল অগ্রাধিকার। তবে কেউ যদি তাদের নিতে চায় (আশ্রয় দিতে চায়), তারা নিতে পারে।

সিনেমা প্রযোজনা শুরু করলেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস

 

বিনোদন ডেস্কঃ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘বিউটি কুইন’ খ্যাত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। বহু হিট ও সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এবার প্রযোজনায় নাম লেখালেন এ অভিনেত্রী। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম অপু-জয় চলচ্চিত্র। সরকারি অনুদানে অপু নির্মাণ করবেন ‘লাল শাড়ি’ সিনেমা। এটি পরিচালনা করবেন বন্ধন বিশ্বাস। ছবির নায়ক সাইমন সাদিক।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত গোল্ডেন টিউলিপ রেস্তোরাঁয় সিনেমাটির শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন সন্ধ্যায় বাবা উপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও মা শেফালী বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন অপু। মোমবাতি জ্বালিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে বাবা-মাকে স্মরণ করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নায়ক সাইমন, অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, সুমিত সেনগুপ্ত, অভিনেত্রী নিপুণ, পরিচালক বন্ধন বিশ্বাস, মুশফিকুর রহমান গুলজার, সোহানুর রহমান সোহান, গাজী মাহাবুব, ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহাসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে অপু বিশ্বাস সবার কাছে দোয়া চেয়ে তার ‘লাল শাড়ি’ সিনেমার পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো একটি উপভোগ্য সিনেমা উপহার দিতে।’

শিগগির সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে বলে জানান এ অভিনেত্রী।

চাঁদপুরে দুর্বৃত্তদের ছু’রিকাঘা’তে মুক্তিযোদ্ধা খু’ন

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খু’ন হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল্লাহ কোম্পানি (৭০)।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের নতুনবাজারস্থ সফিনা বোডিং এর নিজ বাসায় এ হ’ত্যার ঘটনা ঘটে।

তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন। মৃ’ত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

অদিতাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা: শিক্ষক রনির স্বীকারোক্তি

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর লক্ষীনারায়ণপুরে অষ্টম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি। এদিকে স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথ।

অভিযুক্ত আবদুর রহিম রনি (৩০) নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়ণপুর মহল্লার লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসপি নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সে বলেন, রনি নামে এক যুবকের কাছে প্রাইভেট পড়ত নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতা। হঠাৎ করে অদিতা তার কাছে প্রাইভেট পড়তে অনীহা প্রকাশ করে এবং নতুন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে। এতে রনি নাখোশ হয়। এ বিষয়সহ অদিতার ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানার জন্য তাৎক্ষণিক রনিকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তার তুথনি ও ঘাড়ে নখের আঁচড়ের তাজা দাগ দেখতে পায়। নখের আঁচড়ের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আঁচড়ের ব্যাপারে তার থেকে কোন সদুত্তর না পেয়ে তার বিষয়ে আরো সন্দেহ জোরালো হয়। তখন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষে আদালতে সোপর্দ করে ১০দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রনি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এসপি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অদিতার বাসায় যায় সাবেক কোচিং শিক্ষক রনি। বাসায় গিয়ে বন্ধ দরজা নক করলে অদিতা বাসার দরজা খুলে দেয়। তখন সে বাসায় প্রবেশ করে অদিতার সঙ্গে গল্পগুজব করে। গল্পগুজবের একপর্যায়ে রনি অদিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়। এরপর রাগান্বিত হয়ে অদিতা বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি অদিতাতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে রান্না ঘর থেকে ছোরা এনে অদিতার বাম হাতের রগ এবং গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর আসামি রনি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে রুপ দিতে ঘরের আলমিরা ও ওয়ারড্রবের জামা-কাপড়, কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রুমের দরজা লক করে এবং মূল ঘরের দরজা বাহির থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি রনি এসব কথা বলেন।

উলেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাবেক গৃহ শিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে (২০), ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদ (২০) গ্রেফতার করে। গতকাল আদালত রনির ৩ দিনের মঞ্জুর করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কা’টা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃ’ত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কা’টা পড়ে অজ্ঞাত (২০) এক যুবকের মৃ’ত্যু হয়েছে। শনিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার ভাদুঘর রেলগেট এলাকায় এই দু’র্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোন পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ভাদুঘর রেলগেট পার হওয়ার সময় ঢাকামুখী অজ্ঞাত একটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে তার মৃ’ত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ লা’শটি উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল ইসলাম জানান, লা’শটি উদ্ধার করে ম’য়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ম’র্গে পাঠানো হয়েছে। লা’শটির কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। ম’য়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।

কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পৌরসভা আইন, প্রবিধান সম্পর্কে সচেতনতা সভা

 

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন,কাতার থেকেঃ

রাস্তা, ফুটপাত এবং জনসাধারণের জন্য খোলা জায়গায় পরিত্যক্ত যানবাহন পার্কিং নিষিদ্ধ এবং অন্যান্য পৌরসভা আইনের বিষয়ে দোহা পৌরসভার প্রতিনিধিত্বে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI) জনসংযোগ বিভাগের সহযোগিতায় একটি পরিচিতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কাতারের বিভিন্ন প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দোহা পৌরসভার পরিচালক মনসুর আজরান আল-বুয়াইন তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় ব্যাখ্যা করে বলেন যে শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং পাবলিক হাইজিন সম্পর্কিত ২০১৭ সালের আইন নং ১৮ এর বিধান চালু করার বিষয়ে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

দোহা মিউনিসিপালিটির মিউনিসিপাল কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর সালেম আল-শাফি খাদ্যচক্রে সব পর্যায়ে নিরাপত্তার স্তর বাড়ানোর জন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি খাদ্যে বিষক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলি এবং কীভাবে সেগুলি এড়ানো যায় তা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পারিবারিক আবাসিক এলাকাগুলির মধ্যে শ্রমিকদের আবাসন শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। পারিবারিক আবাসিক এলাকার মধ্যে একটি ইউনিটে পাঁচজনের বেশি শ্রমিকের দখল করার অনুমতি নেই বলে জানান।

দোহা মিউনিসিপালিটির পাবলিক কন্ট্রোল বিভাগের প্রধান হামাদ সুলতান আল-শাহওয়ানি বলেন মনোনীত স্থান ব্যতীত আবাসিক এলাকার আশেপাশে এবং অন্য জায়গায় ট্রাক, যানবাহন এবং সরঞ্জাম পার্কিং নিষিদ্ধ। তিনি নির্বিচারে বর্জ্য ডাম্পিং এবং আবাসিক এলাকার আশেপাশের ভবনের ছাদে, সম্মুখভাগ এবং ব্যালকনিতে কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলিয়ে না রাখা পরামর্শ দিয়েছেন এবং এটি জরিমানযোগ্য। তিনি আরও বলেন যারা ভ্রমণে কারণে কাতারের বাহিরে যাবেন তারা যেন তাদের বাড়ির বাইরে একটি উপযুক্ত পার্কিংয়ে গাড়ি পার্ক করেন এবং জরিমানা এড়াতে দূরে থাকাকালীন সময়ে যানবাহনটি পরিষ্কার রাখতে নিকটাত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবকে বলে যাওয়ার উপদেশ দেন।

আল-শাহওয়ানি ব্যাখ্যা করে বলেন যে একটি গাড়ি পরিত্যক্ত ঘোষণার আগে একজন পরিদর্শক গাড়ির অবনতি-শীল অবস্থা, টায়ারের অবস্থা এবং গাড়িতে জমে থাকা ধুলো এসব কারণগুলির মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন। অন্তর্ভুক্তি সভার পাশাপাশি, সচেতনতামূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কমিউনিটির প্রধান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ০২ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যা ৬:০০টায় কাতার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী মিউনিসিপাল মন্ত্রণালয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিয়ে (১২০ জন ধারণক্ষমতা হল) আলাদা একটা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। (পার্কিং এর সুব্যবস্থা আছে)। এই “সচেতনতা সভায়” যোগ দিতে বাংলাদেশীদের আহবান জানানো হয়েছে।

পৌরসভা আইনের বিষয়ে দোহা পৌরসভার প্রতিনিধিত্বে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI) জনসংযোগ বিভাগের সহযোগিতায় একটি পরিচিতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ে চাষ শিখতে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বৈদেশিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য অন্য অঞ্চল থেকে আলাদা। পাহাড়ি মৃত্তিকার উপরিস্তরে কর্দম কণার পরিমাণ তুলনামূলক কম। পানি ধারণক্ষমতাও অনেক কম। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময় ব্যাপক মাত্রায় ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস হয়। ফলে কমে যায় মৃত্তিকার জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি বেড়ে যায় পাহাড়ের ঢালুর মাত্রা। অর্থাৎ, সামান্য ঢালু পাহাড় মাঝারি ঢালু পাহাড়ে, মাঝারি ঢালু পাহাড় অধিক ঢালু পাহাড়ে পরিণত হয়। তাই গবেষণার মাধ্যমে পাহাড়ি মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন বলে মনে করে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। পাহাড়ি এলাকা চাষের উপযোগী করা এবং আধুনিক মৃত্তিকা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা শিখতে আবদার করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণের।

‘পাহাড়ি এলাকায় টেকসই মৃত্তিকা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং মৃত্তিকা গুণাগুণের ভিত্তিতে শস্য উপযোগিতা নিরূপণ’ প্রকল্পের আওতায় করা হয়েছে এমন প্রস্তাব।

প্রকল্পটি জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রকল্পের যাচাই কমিটির সভা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। সভায় প্রকল্পের বৈদেশিক প্রশিক্ষণসহ নানা খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পের আওতায় একটি জিপ গাড়ি কেনা বাবদ ৯০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। অথচ পরিপত্র অনুযায়ী পরিচালকের (গ্রেড-৪ এর কর্মকর্তা) জন্য সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গাড়ি কেনার বিধান রয়েছে।

তবে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বলছে, পরিকল্পনা কমিশন যেভাবে বলবে সেভাবে প্রকল্পের ডিডিপি পুনর্গঠন করা হবে।

বৈদেশিক প্রশিক্ষণে ব্যয় ও ৯০ লাখ টাকার জিপ কেনা প্রসঙ্গে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. কামারুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে। পরিকল্পনা কমিশন কারেকশন দিয়েছে, সেগুলো কারেকশন করবো। প্রকল্পের অনেক ব্যয় যাচাই-বাছাই করা হবে।

বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতে ৬০ লাখ টাকা ব্যয় প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, এখন ডলারের সংকট। তাই এ খাত নাও থাকতে পারে। কারেকশন হবে।

৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে জিপ কেনা প্রসঙ্গে মো. কামারুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এটা হওয়ার সুযোগ নেই। এই ব্যয় কমানো হবে। ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকার জিপ কেনা হবে। প্রকল্পের পেপার খসড়া আকারে আছে এখনো, চূড়ান্ত হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ওই প্রকল্পে মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং প্রচার ও বিজ্ঞাপনের বিস্তারিত বাজেট বিভাজনে বছরভিত্তিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আইটেমভিত্তিক বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন দেখাতে হবে।

শস্য উপযোগিতা নিরূপণ সংক্রান্ত জরিপ কার্যক্রমের আওতায় মানচিত্র ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে লেখক, সহকারী ও সম্পাদকের সম্মানী, প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদনার জন্য প্রতি উপজেলায় ৪০ হাজার টাকা করে সম্মানী ধার্য করা হয়েছে। ৫০টি উপজেলায় মোট ২০ লাখ টাকা চূড়ান্ত শস্য উপযোগিতা মানচিত্র ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এ কার্যক্রমের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।

প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য
পাহাড়ি এলাকায় টেকসই মৃত্তিকা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রয়োগ, মৃত্তিকা গুণাগুণের ভিত্তিতে শস্য উপযোগিতা নিরূপণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ১১টি জেলার ৫০টি উপজেলায় আধুনিক মৃত্তিকা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি প্রয়োগ।

আধুনিক মৃত্তিকা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় মৃত্তিকা অবক্ষয় কমানো যাবে ২ থেকে ৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভূমি ব্যবহার বাড়বে। প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত গবেষণাগার আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষান-কৃষানিসহ মোট ৯৭২ ব্যাচ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ২২ জন জনবল ও ভাতা খাতে ২ কোটি ৯৩ লাখ, দেশীয় প্রশিক্ষণে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৫৪ হাজার, সম্মানী ভাতা বাবদ ২৫ লাখ, পাহাড়ি মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রযুক্তি প্রদর্শনী খাতে ৬ কোটি ৭৩ লাখ, মাঠ দিবস খাতে ২৭ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেমিনার বাবদ ১৩ লাখ, জরিপ খাতে ৩২ লাখ, সেচের জন্য ২০০টি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণে ৩ কোটি ২০ লাখ, মেরামত ও সংরক্ষণ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া গবেষণাগার সরঞ্জামাদি কেনাকাটায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট জানায়, ৫০টি উপজেলার জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময় ব্যাপক মাত্রায় ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস হয়। ফলে মৃত্তিকার জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান কমে যায়। পাশাপাশি বেড়ে যায় পাহাড়ে ঢালুর মাত্রা।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদে ফসলভেদে পাহাড়ি এলাকায় বছরে প্রতি হেক্টরে ৪০ থেকে ৮০ টন মাটি অবক্ষয় হয়। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ করলে বছরে প্রতি হেক্টরে অবক্ষয় হয় মাত্র ৮ থেকে ১০ টন মাটি। তাই মৃত্তিকা অবক্ষয় কমানোর জন্য আধুনিক ভূমি ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ট্রায়াল প্রদর্শনী স্থাপনে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র-জাগো নিউজ