All posts by jitu

তিতাসে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ, দুই বিক্রেতাকে জরিমানা

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লার তিতাসে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান।

বুধবার দুপুরে উপজেলার বাতাকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে ওইসব জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ লাখ টাকা।

এসময় অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি করার অপরাধে মৎস রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী ২ জন বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জব্দ জালগুলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মিজানুর রহমান ও তিতাস থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে বাজারের পাশেই জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকসহ র‌্যাবের হাতে আটক যুবক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকসহ মোঃ রাসেল (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

২ আগস্ট বিকালে উপজেলার জামপুর এলাকা থেকে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩ বোতল বিয়ারসহ তাকে আটক করা হয়।

সে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জামপুর গ্রামের মোঃ হারুন মিয়ার ছেলে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিল ও বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার যমজ শিশু পদ্মা ও সেতুর নাম পরিবর্তন করেছে পরিবার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে অনেকেই একের অধিক ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের নাম রাখেন সেতুর সঙ্গে মিল রেখে।

তেমনি গত ২১ জুন জেলার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া দুই যমজ শিশুর নাম রাখা হয় পদ্মা ও সেতু।

তবে এ যমজের বয়স সপ্তাহ না হতেই তাদের নাম পরিবর্তন করেছে পরিবার। পদ্মা ও সেতুর নাম পাল্টে যথাক্রমে উম্মে হানি আয়েশা ও আরোহী আঁখি রাখা হয়েছে। যমজদের বাবা সোহাগ নাম দুটি রেখেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন যমজ শিশুর দাদা শুকুর আলী।

তিনি বলেন, জন্ম নেওয়ার পর বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান সোহেল দুই শিশুর নাম রাখেন পদ্মা ও সেতু। পরে হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে যাই। জন্মের ছয় দিন পর গত ২৭ জুন ওই দুই শিশুর নাম পরিবর্তন করে উম্মে হানি আয়শা ও আরোহী আঁখি রাখা হয়েছে।

নাম পরিবর্তন করার কারণ জানাতে শিশুদের দাদা শুকুর আলী বলেন, এলাকার মানুষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এলাকা থেকে ইসলামিক নাম রাখার জন্য বলা হয়। পরে তাদের বাবা সোহাগের পছন্দে দুজনের নাম উম্মে হানি আয়শা ও আরোহী আঁখি রাখা হয়।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর নামে নাম রাখায় সে সময় আলোচনা আসে এই দুই যমজ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নবজাতকদের উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

তাদের চিকিৎসা সুবিধাসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছিলেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুল হোসেন সোহেল।

যদিও যমজ দুই শিশুর দাদার অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে তাদের সবসময় খোঁজ-খবর রাখার কথা থাকলেও আসার পর কেউই খোঁজ রাখেননি। কয়েকদিন আগেও ওষুধ বাজার থেকে নিজ টাকায় কিনতে হয়েছে তাদের।

এ বিষয়ে ডা. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, শিশু দুটির নাম তাদের পরিবারের লোকজনের সম্মতিতে পদ্মা ও সেতু রাখা হয়। পরে তারা কেন নাম পরিবর্তন করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই। এছাড়া বিষয়টি তাদের ব্যক্তিগত।

ভাসানচর থেকে পালানো নারী শিশুসহ ৭ রোহিঙ্গা আটক

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা নারী-শিশুসহ সাত রোহিঙ্গাকে আটক করেছেন সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেব প্রিয় দাশ। এর আগে,মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউপির ১নম্বর ওয়ার্ডের এছহাক মুন্সিরহাট থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সংবাদ পেয়ে রাতেই চরজব্বর থানার পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটকৃতরা হলো, ভাসানচর আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৭৪নং ক্লাস্টারের মোহাম্মদ ইসমাইল (১৯) একই ক্লাস্টারের পারভিন আক্তার (২৮) মর্জিনা আক্তার (১৮) আয়াস (১০) মর্জিনা খাতুন (৮) বেছানা পরভেজ (৬) নুর বেগম (৩৯)। তাদের সঙ্গে ৬ থেকে দশ বছর বয়সী তিন শিশু আছে। তাঁরা সবাই হাতিয়ার ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্প বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের এছহাক মুন্সিরহাটে একসঙ্গে সাত রোহিঙ্গা আসেন। এতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন এবং ভাসানচর থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে জানান। পরে বিষয়টি চরজব্বর থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে থানা থেকে পুলিশ যাওয়ার পর আটক রোহিঙ্গাদের হস্তান্তর করা হয়।

ওসি আরও জানায়, ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা নারী-শিশুসহ সাতজন রোহিঙ্গাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। । আটক রোহিঙ্গাদের থানায় রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে শিকলবন্দি জীবন পার করছে সোহেল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পায়ে শিকল পরা অবস্থায় দিন শুরু হয়, বিকাল গড়িয়ে অন্ধকার নামে এ অবস্থাতেই। ফলে পায়ের সঙ্গে শিকল যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে সোহেল আহাম্মদ (৩৫) নামে এক যুবকের।

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ভরাশাল গ্রামের লতু মিয়ার ছেলে সোহেল। জন্মের ২৫ বছর বয়স থেকেই পায়ে শিকল ও হাতে দড়ি বাঁধা হয়ে প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবনযাবন করছেন মানসিক প্রতিবন্ধী ওই যুবক।

সরেজমিন দেখা গেছে, পায়ে লোহার শিকল ও হাতে দড়ি লাগিয়ে ঘরে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে মানসিক প্রতিবন্ধী সোহেল আহাম্মদকে। কখনো সে দাঁড়িয়ে থাকছে, কখনো সে শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছে। আবার কখনো হাসি-কান্নার মধ্য দিয়েই কাটছে তার জীবন। কথা বলতে পারে ঠিকঠাক, কেমন আছেন বলে সে, কখনো কখনো চিৎকার করতে থাকে। সন্তানের এ অবস্থা দেখে চিন্তায় সারাক্ষণ কাঁদেন তার বাবা-মা।

পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মের প্রায় ২০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই তার মধ্যে মানসিক কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। তার অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। সেই সময় তাকে ছেড়ে দিলে ছোটাছুটি করে যাকে সামনে পেত তাকেই মারধর করত। পরে সামর্থ্য মতো কিছু দিন চিকিৎসা চালালেও সুস্থ হয়নি সোহেল তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং অস্বাভাবিক আচার-আচরণ করাসহ পরিবারের লোকজনদেরও কাছে পেলে আঘাত করার চেষ্টা করত।

এ জন্যই পায়ে শিকল ও হাতে দড়ি দিয়ে ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে। এভাবেই চলতে থাকে বছরের পর বছর। মুক্ত থাকলে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটায় এমন আশঙ্কায় বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জানায় তার পরিবার।

সোহেলকে রাতে ঘরের ভেতর গ্রিলের সঙ্গে এবং সকালে বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে সেখানেই খাবার দেওয়া হয়। একদিন খেলে দুদিন চলে যায় তবু খাবার খায় না। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে সোহেলের বন্দিজীবন। প্রস্রাব পায়খানা ঘরের ভেতরে করে টয়লেট আছে সেখানে পায়খানা করে এর পর তার মা অথবা বাবা পরিষ্কার করেন।

সরকারি সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারত বলে জানায় তার পরিবার।

সূত্র-যুগান্তর

বরুড়ায় ভাইয়ের লা’শ ভাসছিল পুকুরে, বোনের লা’শ তোলা হলো জাল দিয়ে

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় মাছের ঘেরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় একজনের মরদেহ ও রাত ১০টার দিকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, আরিফপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (৪) এবং বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কাবিলা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে রোজা (৬)। নিহতরা সম্পর্কে ফুফাতো এবং মামাতো ভাইবোন। রোজা ইসমাইলের মামাতো বোন। সে ইসমাইলদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে শিউলি মেয়ে রোজাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসে। এরপর ইসমাইল ও রোজা খেলাধুলা শেষে আধাঘন্টা পর বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে গোসল করতে যায়। পরে তাদের না দেখে স্বজনরা প্রায় দুই ঘন্টা ধরে খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একটি মাছের ঘেরের পাশে তাদের জামাকাপড় দেখতে পায়। তারা মাছের ঘেরে পড়ে গেছে এমন ধারণা করে স্থানীয়রা পানিতে নেমে যায়। কিছুক্ষণ পর পানিতেই প্রথমে ছেলে শিশু ইসমাইলের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পান। পরে মেয়ে শিশু রোজাকে খুঁজতে জাল মেরে অন্তত আড়াই ঘন্টা পর রোজারমরদেহখুঁজে পাওয়া যায়।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার রাতে জানিয়েছেন, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানতে পেরেছি তারা পানিতে ডুবে মারা গেছে। এরপরেও বিস্তারিত ঘটনা জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে অর্ধউলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করার ঘটনায় গ্রেফতার ২

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক গৃহবধূকে অর্ধনগ্ন করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদে আটক রেখে চাঁদা দাবির ঘটনায় কবিরহাট থানায় মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, আবু বক্কর ছিদ্দিক তানভির (৩৬)। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউপি সদস্য মোস্তাফিজের ভাই এবং হাজী সোলায়মানের ছেলে অপর আসামি ইকবাল হোসেন (২৬) একই গ্রামের তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানের ছেলে ।

মামলার এজহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ২৬ জুলাই রাত ১০টার দিকে তিনি তার পরিবারের সকল সদস্যসহ রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর আসামি আবু বক্করের নেতৃত্বে রাজন (৪০) আলতাফ (৩০),ইকবাল (২৬) রুহুল আমিন (৪৫) ফারুকসহ (৩৬) অন্যান্য আসামিরা ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে। ওই সময় আসামি আলতাফ আমার পরিহিত কাপড় খুলে অর্ধউলঙ্গ করে এবং রাজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। অন্যান্য আসামিরা আমার স্বামী কামালকে বেধড়ক মারধর করে দুটি মোবাইল, নগদ ৮হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এজহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে আরও জানা যায়, সেখানে আমার দ্বিতীয় স্বামীর কাছে দুই লাখ চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে না পারায় তাকে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটক করে রাখে তারা। এ সময় আমি ভয়ে পালিয়ে যাই। তারপর আমার স্বামী কামালের কাছে নগদ টাকা না থাকায় বাছুরসহ একটি গাভী নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে আমার স্বামী বিবাহের কাবিন দেখালে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। যদি কাউকে কিছু জানাই তাহলে আমাকে আমার স্বামী সন্তানসহ সবাইকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,এ ঘটনার আমি কিছু জানিনা। আমার পরিষদে কাউকে আটক করা হয়নি।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে কবিরহাট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এজহার নামীয় আসামি ৭জন এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১০-১২জন।

ওসি আরও জানায়, চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদে গৃহবধূর স্বামীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায় এবং দাবির বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বূধবার সকালে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেবিদ্বারে মসজিদ ভেঙ্গে কবরের উপর পিলার করে জায়গা দখলের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বারের কুড়াখাল পূর্বপাড়া মসজিদের একাংশ ভেঙ্গে কবরস্থানের উপর পিলার করে জোরপূর্বক জায়গা দখলের পায়তারা করছে একই গ্রামের মৃত. আব্দুল মজিদের ছেলে আবু তাহেরসহ তার সাথের লোকজন।

এ ঘটনায় ১ আগষ্ট কুড়াখাল পূর্বপাড়া জামে মসজিদের মোতওয়াল্লি মো: আব্দুর রহমান বাদি হয়ে আবু তাহেরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে মামলা করেন। মামলা নং- ৯১২/২২ । মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুড়াখাল গ্রামের নুরুল আমিন, ফরিদ উদ্দিন, বাবুল খান, আবুল হোসেন খান, আবুল কাশেম, মোসলেহ উদ্দিন,জহির খান ও আব্দুল হালিম।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, কুড়াখাল পূর্বপাড়া জামে মসজিদটি ১৯৫৯ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এখনও প্রতিষ্ঠাতাদের জায়গায় অবস্থিত। গত ২০২০ সালে আবু তাহের খান মসজিদের পশ্চিম পাশের ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে মসজিদে ওয়াকফ করেন। তারপর হতে মসজিদের আশেপাশের কবরস্থান ও অন্য ব্যক্তি বর্গের জায়গাসহ প্রায় ১০ শতাংশ জমি জোর করে দখল করে। বিতর্কিত জায়গায় মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে উক্ত ৮০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ভেঙে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এক ঠিকাদারের নিকট স্থাপনাটি কাউকে না বলে সে বিক্রি করে দেন। উল্লেখ্য যে, আবু তাহের খানের সাথে আব্দুর রাজ্জাক, ফরিদ উদ্দিন মাষ্টার, শরিফ খান, আলম খান, মামুন খান, নুরুল আমিন খান, বাবুল খান, হালিম খান, মোসলে উদ্দিন খান, দুলাল খানসহ আরও ২০/২৫ জন যুক্ত।

আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৩১ জুলাই সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১১ টার মধ্যে আবু তাহের খানসহ আসামিরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্রসহ কুড়াখাল পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ভবন ভাংচুর করে জোরপূর্বক দলের চেষ্টা করে। তারা কবরের উপরেও পিলার করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় প্রথম পক্ষ বাধা দিতে আসলে আবু তাহেরের লোকজন প্রথম পক্ষের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এ সময় প্রথম পক্ষের শোর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

দাম কমলো এলপিজির, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১২১৯

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ৩৫ টাকা কমিয়ে এখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ২১৯ টাকা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর হবে বলে বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে (ভোক্তা পর্যায়ে) মূসক ব্যতীত মূল্য প্রতি কেজি ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা ও এবং মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১০১ টাকা ৬২ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে। সে হিসাবে রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির মূসকসহ মূল্য ১ হাজার ২১৯ টাকা সমন্বয় করা হয়েছে।

এছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৫৬ টাকা ৮৫ পয়সা, যা আগে ছিল ৫৮ টাকা ৪৬ পয়সা।

গত বছরের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

অপরাজিত বাংলাদেশ শীর্ষে থেকেই ফাইনালে

স্পোর্টস ডেস্কঃ

নেপালের সঙ্গে ড্র করার মধ্য দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের লিগ পর্বের সেরা দল হয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার ভারতের ভুবনেশ্বরের কালিংগা স্টেডিয়ামে রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ১-১ ড্র করে লাল-সবুজের দল।

তিন জয় আর এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগের সেরা দল হিসেবে ফাইনালের উঠল বাংলাদেশের যুবারা।

আগের তিন ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১-০, ভারতকে ২-১ ও মালদ্বীপকে ৪-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত-মালদ্বীপ। এই ম্যাচে যারা জিতবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ফাইনালে খেলবে।

নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে অনেক চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে সতীর্থের কাট ব্যাকে নিখুঁত প্লেসিং শটে পিয়াস আহমেদ নোভা লক্ষ্যভেদ করেন। এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

এই গোলে যদিও ছিল প্রতিপক্ষের ভুলের অবদান। নেপালের এক ডিফেন্ডার ভুল পাসে বল তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের একজনের পায়ে। সেই আক্রমণ থেকেই বল জালে পাঠান ভারত ম্যাচে জোড়া গোল করা পিয়াস।

৬৭তম মিনিটে বদলি নিরঞ্জন মাল্লা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে সমতা ফেরান।

শেষ দিকে পিয়াসের ক্রস ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। ৮৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণের সুবর্ণ সুযোগও নষ্ট করেন এই ফরোয়ার্ড। একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে ওঠা পিয়াস গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল তার গায়ে মেরে বসেন।

তবে শেষ পর্যন্ত আফসোসে পুড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। ড্র করে লক্ষ্য পূরণের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের দল।