All posts by jitu

বিরামপুর থেকে কৃষি শ্রমিকের কাজে কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন হতাহত শ্রমিকরা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:
দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে চাল বোঝাই ট্রাকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন ১৩ জন শ্রমিক। ট্রাকটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাত জন মারা যায়।

দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর সোয়া ৩টায় এ দুর্ঘটনা আরো ৬ জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), সালেক (৪৫), সুমন (২১), বিষু (৩৫), আবু হোসেন (৩০) ও আব্দুর রশিদ। নিহতরা সবাই দিনাজপুর জেলার বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী চালের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। ওই ট্রাকে বিরামপুর থেকে কুমিল্লা ও ফেনীর উদ্দেশ্যে ১৩ জন উঠে। তাদের অনেকেই চাউলের বস্তার উপর ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা কুমিল্লায় কৃষি শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত আমির আলী বলেন , আমরা বিরামপুর থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ট্রাকে উঠি। মেঘনা ব্রীজ পার হওয়ার পর ড্রাইভার হেলপারকে চালাতে দেয়। এরপরই গাড়ীটি হেলে-দুলে চলতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা বলেন, ট্রাকের সাথে চাউলের বস্তা বাঁধা রশির(দরি) সাথে ঘুমিয়ে থাকা ট্রাকের যাত্রীরা নিজেদের বেধে রেখেছিল। বেধে রাখার কারণ হলো ব্রেক করলে যেন পড়ে না যায়। রশি বাধা থাকার কারনে তারা বের হতে পারেননি।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো থানায় রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার জানিয়েছেন- কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে।
জাকির হোসেন হাজারী
মোবাঃ-০১৭৪৮০৫৫২১৪
তাং-১৪-৪-২৬ইং

দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান

দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ৬ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি থানার হাসানপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে চাল বোঝাই ট্রাক উল্টে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আজাদের ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) , ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), একই জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন (২১), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০), একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু মিয়া (৩৫) এবং রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ(৫৫)।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ৬ জন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ চালায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতদের মরদেহ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এই বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইকবাল বাহার জানান, ভোররাতে এই দূর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উলটে ৭ জন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি থানার হাসানপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আজাদের ছেলে
মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) , ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), একই জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন (২১), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০), একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু মিয়া (৩৫) এবং রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ(৫৫)।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ৬ জন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ চালায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতদের মরদেহ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এই বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইকবাল বাহার জানান, ভোররাতে এই দূর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুমিল্লার হোমনায় অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

কুমিল্লার হোমনায় অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

 

হোমনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনায় এক্সেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে শ্রেণী পরিবর্তন করার অপরাধে আবু হানিফ (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

কুমিল্লার হোমনায় অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষি জমিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমান আদায় করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ মোফাচ্ছের।

আবু হানিফ উপজেলার হুজুরকান্দি গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ মুফাচ্ছের বলেন, অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় আবু হানিফ নামের এক্সেভেটর মালিককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দাউদকান্দিতে পতিত জমি ও বাড়ির উঠোনে আদা ও সবজি চাষের উপকরণ বিতরণ

দাউদকান্দিতে পতিত জমি ও বাড়ির উঠোনে আদা ও সবজি চাষের উপকরণ বিতরণ

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দিঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পতিত জমি ও বাড়ির আঙ্গিনা বা বিল্ডিংয়ের ছাদ চাষাবাদের আওতায় আনতে বস্তায় আদা ও সবজি চাষের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে সোমবার দুপুর ১টায় কৃষকের মাঝে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়।

দাউদকান্দিতে পতিত জমি ও বাড়ির উঠোনে আদা ও সবজি চাষের উপকরণ বিতরণ

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় কৃষি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার কম্পোনেন্ট (বি স্ট্রং) আওতায় বস্তায় আদা এবং মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে ৬০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রতি জন কৃষককে জৈব সার, পরিমানমত রাসায়নিক সার, আদা চাষের বস্তা, বপনের উন্নত জাতে আদা, মালচিং পেপার, এবং চাষের দিকনির্দেশনা মূলক লিফলেট ও সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে উফশী আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

ইউনিয়নগুলো হলো মোহাম্মদপুর, বিটেশ্বর, মারুকা, মালিগাঁও, জিংলাতলী, পাঁচগাছিয়া, ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ও গোয়ালমারি। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ৩৫০ জন এবং বিটেশ্বর ও মারুকা ইউনিয়নে ২৫০ জন করে কৃষক এ সহায়তা পান। অন্যান্য ইউনিয়নেও নির্ধারিত সংখ্যক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো:আরেফিন হাসান, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ও সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অজিত কুমার চৌধুরী প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় কৃষি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার কম্পোনেন্ট (বি স্ট্রং) আওতায় বস্তায় আদা চাষ এবং মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে ৬০ জন কৃষকের মাঝে উপকরণ বিতরণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষিজ উৎপাদন ঘাটতি মোকাবেলায় বাড়ির আঙিনা অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

আর আদা চাষের বিষয়ে তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনার ছায়াযুক্ত স্থানে কিছু আদার বস্তুা রেখে একদম কম যত্নে একটি ছোট পরিবারের বছরের আদার চাহিদা মেটানো সম্ভব। গত অর্থবছরে দাউদকান্দির বিভিন্ন ইউনিয়নে সাড়ে পাচ হাজার বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। বস্তা প্রতি ফলন এক দেড় কেজি। ফলন ভালো পাওয়া এবার অনেকেই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যৌতুকের জন্য নারী উদ্যোক্তাকে হত্যা, পরিবারসহ স্বামী পলাতক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যৌতুকের জন্য নারী উদ্যোক্তাকে হত্যা, পরিবারসহ স্বামী পলাতক

 

স্টাফ রিপোর্টার :

আলোচিত নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জাহান প্রমিকে (২২) সাত লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে। প্রমির শরীরের নানান স্থানে আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করে পরে আত্নহত্যা করেছে মর্মে প্রচারের চেষ্টা করছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এমনই দাবী করেছেন নিহত সুমাইয়া জাহান প্রমির বড় বোন সাজেদা আক্তার।

প্রমি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ঝাটিয়ারখীল গ্রামের কুয়েত প্রবাসী ওমর ফারুকের ২য় কন্যা। গত বৃহস্পতিবার (৯ই এপ্রিল) রাতে চট্রগ্রাম নগরীর বায়োজিদ থানাধীন শহিদনগরের একটি বাসা থেকে উদ্যোক্ত প্রমির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে চট্রগ্রাম বায়োজিদ থানা পুলিশ খবর পেয়ে প্রমির বড়বোন সাজেদা বেগমকে সাথে নিয়ে লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে গত শনিবার সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের ঝাটিয়ারখিলে প্রমির দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড়বোন সাজেদা বাদী হয়ে চট্রগ্রাম নগরীর বায়োজিদ থানায় প্রমির স্বামী আবু ছৈয়দ মোহাম্মদ আনাস (২৮), তার বন্ধু আব্দুল্লাহ আল রিজভি (২৮) ও আনাসের মাতা মারজান বেগম (৪৭), বোন নাসরিন আক্তার (৩০) কে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সাজেদা বেগমের লিখিত বক্তব্য ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার মেয়ে নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জাহান প্রমি ছিলেন অত্যন্ত পর্দাশীল ও স্বপ্নবাজ নারী। প্রমির সাথে গত ২০২২ সালের শুরুর দিকে অনলাইনে পরিচয় হয় চট্রগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আলুরমতি গণি আহম্মদ চৌধুরীপাড় এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে আবু ছৈয়দ মোহাম্মদ আনাসের সাথে। পরিচয়ের সূত্রে ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। ২০২২ সালের মার্চের শুরুর দিকেই পরিবারের অমতে আনাসের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসে প্রমি।

প্রমির পরিবার জানায়, পরিবার তাদের বিয়ে না মানলেও পরে মেয়ের সুখের কথা ভেবে প্রবাসী বাবা ওমর ফারুক আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র ও সোয়া ২ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার দেন আনাসকে। সংসারের বাসাভাড়াসহ নিয়মিত সকল খরচ প্রমি পরিশোধ করতো। এমনকি আনাসের ব্যবহৃত ইয়ামাহা মোটর সাইকেলও প্রমির অনলাইন ব্যবসার ইনকাম থেকেই কিনে দেওয়া হয়। বিয়ের মাত্র ৫—৬ মাস পর থেকে আনাস প্রমিকে ব্যবসার কথা বলে নানানভাবে টাকার জন্য চাপ দেয়। প্রমি নিজ থেকে ও তার পরিবার থেকে মিলিয়ে ৫ লাখ আনাসকে দেয়। সম্প্রতি আবারও ৭ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আনাস। প্রমি ও তার পরিবার আনাসের চাহিদামতো টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে প্রমির উপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। আনাস ২য় বিয়ের হুমকি দেয় প্রমিকে। এতে মানসিকভাবে আরও ভেঙ্গে পড়ে উদ্যোক্ত প্রমি।

সাজেদা জানান, গত বৃহস্পতিবার প্রমির স্বামী আনাস, বন্ধু রিজভি ও আনাসের মা—বোনের নাসরিনের সহযোগীতায় চট্রগ্রাম শহরের বায়োজিদ বোস্তামি থানাধীন পূর্ব শহিদনগরের বাসায় নানানভাবে শারিরীক নির্যাতন করে প্রমিকে হত্যা করে। পরে হত্যার ঘটনাটি চাপা দিতে প্রমির নিথর দেহটিকে রহস্যময়ভাবে ফ্যানের সাথে কোনভাবে ঝুলিয়ে রাখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িতে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রমির দেহ ঝুলন্ত না থেকে খাটের মধ্যে দুই হাটু গেড়ে পড়ে রয়েছে। আশেপাশে কোন চেয়ার কিংবা, টেবিলও ছিলনা।

সাজেদা বলেন, আমরা খবর পেয়ে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে বোনের লাশ দেখতে পাই। এসময় আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে একপর্যায়ে চট্রগ্রাম শহরের শহিদনগরে বোনের বসবাসকৃত বাসায় যাই। আনাসের বোন এবং পাশের বাসার এক ভদ্রমহিলা জানায়, প্রমির লাশ হাটুগাড়া অবস্থায় ছিল খাটের উপরে। আনাসের মা—বোন লাশটি খাট থেকে নামিয়ে হাসপাতাল নিয়ে যায়। ঐ বাসার সিসিটিভি ফুটেজে বৃহস্পতিবার রাতে আনাসকে ঘড়ি পড়া অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করতে দেখি। কিন্তু ঘটনার পরের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় আনাস ঘড়ি ছাড়াই ঘর থেকে বের হয়। বাসার মধ্যে ঘড়িটি ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পাই।

সাজেদা আক্তার আরও বলেন, প্রমিকে গত কয়েকমাস ধরে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করে আসছে আনাস। এর আগেও একাধিকার আনাসের নির্যাতনে হাসপাতালে ভর্তি হয় প্রমি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাতকদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই এবং অভিযুক্ত ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।

এদিকে জনপ্রিয় উদ্যোক্ত সুমাইয়া জাহান প্রমিকে হত্যা করা হয়েছে দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানানভাবে লেখালেখি করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী উদ্যোক্তারা। ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে তারা দ্রুত ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবী করছেন।

চট্রগ্রাম পূূর্ব শহিদনগরের ইউনুছ মরিয়ম ভিলার মালিক আশিকুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতের সিসিটিভি ফুটেজ বায়োজিদ থানা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আনাস ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যা প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হউক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্রগ্রামের বায়োজিদ থানার এসআই রাজিব জানান, অভিযোগের আলোকে আমরা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত ব্যতিত এটি হত্যা নাকি আত্নহত্যা তা বলা যাবেনা।

চেলে গেলেন সংগীতজগতের অমর কণ্ঠস্বর, কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে

চেলে গেলেন সংগীতজগতের অমর কণ্ঠস্বর, কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে

 

বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় সংগীতজগতের অমর কণ্ঠস্বর, কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে এনডিটিভিসহ ভারতের বেশকিছু গণমাধ্যম।

এর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সূত্রের বরাতে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ফুসফুসের সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

অবশেষে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ও শেবন্তী মঙ্গেশকরের পাঁচ সন্তানের মধ্যে মেজ সন্তান ছিলেন আশা ভোঁসলে। পরিবারটির প্রায় সবাই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লতা, মিনা, আশা, ঊষা ও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর সবাই নিজ নিজ জায়গায় সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন।

মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে গানের জগতে যাত্রা শুরু আশা ভোঁসলের। সেই সময় তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর সংগীত জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেন। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে আশাকে বারবার ‘লতার ছোট বোন’ পরিচয়ে পরিচিত হতে হয়েছে। তবে প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। হয়েছেন নিজেই এক মহাতারকা।

প্রায় আট দশকের কর্মজীবনে বিভিন্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন কিংবদন্তি এ গায়িকা। তার ঝুড়িতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হন তিনি।

বাঙালি কন্যা আশা ভোঁসলে নানা ভাষার গান কণ্ঠে ধারণ করে ভারত উপমহাদেশে সুরের আলো জ্বেলে গেছেন আমৃত্যু। বিশেষ করে তিনি হিন্দি গানের ভুবনে অমর এক নাম। লতা মুঙ্গেশকরের বোন ও আর ডি বর্মণের স্ত্রী পরিচয়কে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছিলেন নিজেই এক মহাতারকা। তার কণ্ঠ চিরকাল কোটি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যাবে।

তার মৃত্যুতে ভারত উপমহাদেশের শোবিজে শোকের ছায়া নেমেছে।

কুমিল্লায় ৫ কিশোরকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে আহত: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

কুমিল্লায় ৫ কিশোরকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে আহত: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড চাঁপাপুর এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ছবি তোলার সময় পাঁচ কিশোরের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নজির মিয়া ও জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহতরা হলেন- বালুতুপা উত্তর পাড়ার মো. সালাহ উদ্দিনের ছেলে মো. রাফি, কামাল মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, মাসুম আহাম্মেদের ছেলে রিহাব আহাম্মদ, নজির মিয়ার ছেলে আশিক এবং বালুতুপা দক্ষিণ পাড়ার আবুল বাশারের ছেলে আলিফ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে চাঁপাপুর এলাকার একটি মসজিদের পাশের বাগানে কয়েকজন কিশোর ঘুরতে ও ছবি তুলতে যায়। এ সময় তাদের মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা নজির মিয়া ও জহিরুল ইসলাম সহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালান।

এ সময় সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কিশোরদের ওপর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মো. রাফির বাম হাত ভেঙে যায়। সে কুমিল্লা জিলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এছাড়া কুমিল্লা হাই স্কুলের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান টুটুলের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। একই ঘটনায় রিহাব আহাম্মদসহ অন্যরাও আহত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় রাফির কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং টুটুলের কাছ থেকে একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে রাফির বাবা মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে, আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

রাফির মা তানজিলাল এনাম বলেন, “নিরীহ ছেলেদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।