All posts by jitu

বুড়িচংয়ে  ৯২ ব্যাচ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শিক্ষক সম্মাননা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে  এস এস সি ৯২ ব্যাচ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রাক্তন ১০ শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

‘‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গনে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’’ এই স্লোগানে কুমিল্লার ভরাসার বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় এস এস সি ১৯৯২ ব্যাচ বন্ধু ফোরামের ঈদ পুনঃমিলনী অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক শিক্ষার্থীরা একে একে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। এছাড়াও নিজেদের স্কুল দিনের স্মৃতিচারণ করেন।

পরে স্কুলের বর্তমান ও সাবেক ১০ জন শিক্ষকদের সম্মাননা দেয়া হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

বন্ধু ফোরামের সভাপতি আবু হানিফের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মোছলে উদ্দিন, ছিদ্দিকুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, হুমায়ূন আহমেদসহ আরো অনেকে।
আরো উপস্থিত ছিলেন বন্ধু ফোরামের সহ-সভাপতি এনামুল হক, আবদুল হান্নান, জাকির হোসেন, আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মোর্শেদ, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা।

এছাড়াও বন্ধু ফোরামের সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধু ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মানিক বলেন দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিলো আমরা বন্ধুরা এক হবো। আনন্দ করবো। সে লক্ষ্যে সবাইকে জানাই। বন্ধুরা রাজি হয়। আমরা অনুষ্ঠানে অনেক আনন্দ করেছি।

কবিতা: চাকরিতে বিদেশ

দেবব্রত ঘোষ:

যদি হয় চাকরি নিয়ে যেতে বিদেশ
পাসপোর্ট কর নিজে, মান সরকারি নির্দেশ
লাভ-ক্ষতির কর হিসাব, নেও সৎ পরামর্শ
সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে যদি হও প্রাপ্ত বয়স্ক।

রেজিষ্ট্রেশন ফিংগার দিয়ে কর শুরুটা ডেমো’তে
কাজ ও ভাষার প্রশিক্ষণ নাও টিটিসি-আইএমটি’তে
দক্ষ হয়ে সরাসরি যাও তবে রিক্রুটিং এজেন্সি’তে
ফাঁদে না পড়িও যেন দালালের ফ্রি ভিসাতে।

সঠিক ভিসা হাতে যদি পড় আর্থিক বিপাকে
আগে-পরে ঋণ পাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে
বিএমইটির স্মার্ট কার্ড নিয়ে এজেন্সি পাঠাবে এয়ারপোর্টে
বৃত্তি, ভাতা ও আর্থিক অনুদান পাবে কল্যাণ বোর্ডে।

থাকাকালীন প্রবাসে যদি আসে আপদ
এম্ব্যাসি পাশে রবে, সহসায় করবে নিরাপদ
সরকারিভাবে একমাত্র বোয়েসল কর্মী পাঠায়
আছে প্রবাসী মন্ত্রণালয় ব্যস্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায়।

ঈদের ছুটিতে পর্যটক নেই রাজেশপুর ইকোপার্কে

 

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:

নাগরিক কোলাহল ও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু প্রশান্তি পেতে খুঁজে বেড়ান দেশ-দেশান্তরে থাকা বিনোদন কেন্দ্র। ঈদের আনন্দ হোক সবার, তারই ধারাবাহিকতায় কেউ সপরিবারে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছেন বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে। কেউ বা ছুটে চলছেন ঘরের বাহিরে দুরে কোথায় প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারিয়ে খুঁজে পাওয়ার জন্য।

ঈদ ছুটিতে কুমিল্লার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় একবারে দর্শনার্থী শূন্য রাজেশপুর ইকোপার্ক।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবস্থিত রাজেশপুর ইকোপার্ক। বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সরকারি ভাবে টিকেট পদ্ধতি চালু করা যায় ২০০৮ সাল থেকে। প্রকৃতি ঘেরা রাজেশপুর ইকোপার্ক সরকারি ভাবে চালু হওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীদের অনেক ভিড় ছিলো। ঈদের ছুটি থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন ছুটি ছাড়া ও সবমসময় দর্শনার্থীর উপস্থিত ছিলো লক্ষ্যনীয়। কিন্তু বিগত দুই বছর দেখা যাচ্ছে তার উল্টোচিত্র।

স্থানীয় কয়েকজন থেকে জানা যায়, ২-৩ বছর আগে এখানে অনেক মানুষ আসতো। এখন আর তেমন আসে না। এ পার্কের চারদিকে বসত-বাড়ি এবং রাস্তা থাকার কারনে নির্দিষ্ট সীমানা নাই। যার কারনে দর্শনার্থী আসলে অনেকসময় বিভিন্নভাবে হয়রানি সহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতো। দর্শনার্থী আসলে নিরাপত্তা হীনতাায় ভুগতো। তাছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার থাকার কারনে মাদকের প্রভাব বিস্তার করে। মূলত এসব সমস্যার কারনে দিন দিন দর্শনার্থী হারিয়ে যাচ্ছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে পার্কে বসা বুট দোকানদার জাহাঙ্গীর জানায়, আমি ৫-৬ বছর যাবৎ এখানে বুট বিক্রি করতে আসতাম। বিগত বছরে দর্শনার্থী বেশি থাকার কারনে আমার বেচাকেনা ভালো ছিল। কিন্তু এ বছর তেমন কোনো দর্শনার্থী নাই। সকল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমি ৩০০ টাকা বিক্রি করেছি।

পার্ক কাউন্টার সংলগ্ন দোকানদার সোলেমান স্টোর জানায়, দর্শনার্থী না আসার কারনে আমাদের বেচাকেনা বেশি ভালো না। অন্যান্য বছর ঈদের দিন থেকে শুরু ৩-৪ দিনে ২ লক্ষ টাকা উপর বিক্রি করতাম। কিন্তু আজকের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। বাহিরের কাস্টমার নাই বললেই চলে। দোকানে বসে কোনো রকম সময় কাটাচ্ছি।

পার্কের সামনে থাকা রিক্সাচালক এয়াকুব মিয়া বলে, আমি সকাল থেকে এখন পর্যন্ত রিক্সা নিয়ে বসে আছি। পকেটে একটি টাকা ও আসে নাই। পার্কের ভিতরে ও তেমন কোনো মানুষ নাই। মানুষ না থাকায় রিক্সায় বসে আলস সময় কাটাইতেছি।

প্রবেশ টিকেট বিক্রি করা হানিফ মিয়া জানায়, গত বছর ঈদের দ্বিতীয় দিনে ১০-১৫ হাজার টাকা টিকেট বিক্রি করেছি। এবছর মানুষ একেবারে নাই বললেই চলে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। সকাল থেকে ১ থেকে ২ হাজার টিকেট বিক্রি করেছি। আবার অনেক আসছে বিভিন্ন ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে প্রবেশ করতেছে। এতে করে টিকেট বিক্রি করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, সরকারি ভাবে পার্কটি চালু হওয়ার পর হাজার হাজার দর্শনার্থীর ঢল ছিল। বর্তমান সময়ে দর্শনার্থীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যাই এটার মূল কারন। পার্কের চারদিকে যেন সীমানার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘুরতে আসা মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। দর্শনার্থী যেনো বিভিন্ন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে আমরা আশাবাদী পূর্বের মতো মানুষ আসতে শুরু করবে।

গ্রামবাসীর দাবি সরকার যেনো পার্কের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ করে। পার্কে থাকা বিভিন্ন ভাস্কর্য গুলো পুনরায় সংরক্ষণ করতে হবে। পার্কের ভিতরের রাস্তা-ঘাট মেরামত করতে হবে। পার্কে শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদন জায়গা তৈরি করা। আমাদের পার্কে কোনো চিড়িয়াখানা নাই। আমরা চাই ভালো মানের একটা চিড়িয়াখানা তৈরি করা । পার্কে থাকা সকল সমস্যার সমাধান করলে আমরা আশাবাদী আমাদের এ পার্ক আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসবে। এলাকাটি জমজমাট হবে। এতে করে পার্কের সামনে থাকা ব্যবসায়ি থেকে শুরু অনেকই লাভবান হবে। আমাদের গ্রামের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।

নেতাকর্মীদের সাথে এমপি বাহার ও কুসিক মেয়র রিফাতের শুভেচ্ছা বিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার:

নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন কুমিল্লা মহানগর আ.লীগ সভাপতি এমপি বাহার ও সাধারণ সম্পাদক কুসিক মেয়র আরফানুল হক রিফাত।

সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফ বাড়ি নিজ কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা আসলে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপজেলার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে । এ সময় সকলের পরিবারের খোঁজ খবর নেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি ও নবনির্বাচিত মেয়র আরফানুল হক রিফাত। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও আপ্যায়নে ছিলো চা, কফি, চটপটি আর মিষ্টি।

এছাড়াও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, আতিকুল্লাহ খোকন, মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, যুগ্ম আহবায়ক কাউন্সিল হাবিবুর আল আমিন সাদি,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টু,মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল আজিজ সিহানুক।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এড. আমিনুল ইসলাম টুটুল, জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সমন্বয়ক কামাল হোসেনসহ মহানগর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ।

লাকসামে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কিশোর নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম মেহেদী হাসান (১৫)। তিনি ফেনীর দেবীপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

সোমবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় লাকসাম রেলওয়ে জংশনের অদূরে চাঁদপুর রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক সুনীল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, আমরা তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিতাসে দুই কৃষকের হাতাহাতিতে একজনের মৃত্যু

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ
কুমিল্লার তিতাসে দুই কৃষকের হাতাহাতিতে হরে কৃষ্ণ (৬০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১১ জুলাই) সকাল ৯ টায় উপজেলার জগতপুর ভাটিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হরে কৃষ্ণ ভাটিপাড়া এলাকার মৃত গোবিন্দর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহত হরে কৃষ্ণ সোমবার সকালে তার বাড়ির সামনে নিজের ফসলি জমি ধান ক্ষেত থেকে ঘাস আনতে যায়, একই সময় ঐ ইউনিয়নের তালুক পাড়ার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মজিবও যায় ঘাস কাটতে এবং তাদের দুইজনের জমি পাশাপাশি। এসময় হরে কৃষ্ণ ঘাস কেটে দুই জমির মাঝ খানের আইল দিয়ে ঘাস আনতে গেলে মজিব তার ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছে দাবী করে হরে কৃষ্ণকে প্রথমে গালাগালি করে পরে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে মজিব এর হাতে থাকা ঘাস কাটার কাচির আচর লাগে হরে কৃষ্ণের বাম হাতের কব্জিতে। পরে হরে কৃষ্ণ এবিষয়টি এলাকার বিচারক ও মজিবের ভাইদের কাছে বিচার নালিশ করে বাড়ি ফেরারর পথে কফিল উদ্দিন মাস্টারের বাড়ির সামনে রাস্তায় এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন স্থানীয়রা হরে কৃষ্ণের মাথায় পানি ঢালে এবং তার ছেলেদের খবর দিলে তারা এসে তারা বাবাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হরে কৃষ্ণকে মৃত ঘোষনা করেন।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থাপিত গুরু বাজারের হাসিলের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।

গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নাম রিফাতুল ইসলাম রিফাত (২৩)। সে সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের নোয়া বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ রিফাতকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সোনাইমুড়ী পৌরসভার হাইস্কুল মাঠে ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি গরু বাজার সরকারি ভাবে ইজারা দেওয়া হয়। ওই গরু বাজারের হাসিল আদায়ের টাকা সরকার দলীয় নেতাকর্মিদের সমন্বয় করে শিডিউল ক্রয়কারীদের মধ্যে বিতরণ করার সিন্ধান্ত নেয় স্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে সোনাইমুড়ী পৌরসভার বানুয়া গ্রামে সরকার দলীয় নেতাকর্মিকে হাসিলের ৪০ পার্সেন্ট,নাওতলা গ্রামের নেতাকর্মিকে ২০ পার্সেন্ট টাকা এবং পৌরসভার ৫-৬নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মিকে হাসিলের ৪০ পার্সেন্টের টাকা ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে আমাকে হাসিল আদায়ের ২০ পার্সেন্ট টাকা ও রাসেলদের লোকজনকে ২০ পার্সেন্টের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার স্থানীয় এমপির অনুসারী নেতারা হাসিল আদায়ের টাকা ভাগ করে রাসেলের কাছে দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে রাসেল টাকা অর্ধাঅর্ধি ভাগ হবে না ঘোষণা দিলে বিরোধ দেখা দেয়।

জুয়েল অভিযোগ করে আরো বলেন, এ নিয়ে শুক্রবার রাতে আমার সাথে রাসেলের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। পরের দিন জানতে পারি যাদের নামে সিডিআর ফরম কেনা হয়েছে তাদের কে ফরম প্রতি ৪০ হাজার টাকা করে দিয়ে দেওয়া হয়। যে সব শিডিউল বিক্রি হয়েছে তার ৫টি রাসেলদের লোকজন ক্রয় করে। তারা স্থানীয় এমপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। শনিবার সন্ধ্যায় তারা আমাকে বাইপাস এলাকার একটি বাড়িতে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে ওই স্থানে তারা আমার ২জন লোককে মারধর করে। এরপর রোববার বিকেলের দিকে রাসেলও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শিপন নামে আমাদের আরেক অনুসারীকে মারধর করে। ওই সময় আমরা প্রতিরোধ করতে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর রোববার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মি রিফাত তার দোকান থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে মদিনা ভবনের সামনে তাকে গতিরোধ করে রাসেল, জয়নালসহ তাদের ১০-১৫জন সাঙ্গপাঙ্গ তার ওপর হামলা চালায়। শেষে রাসেলের নির্দেশে জয়নাল নামে এক যুবক রিফাতের পায়ে গুলি চালায়।

সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.শামল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত রাসেল বছর খানেক আগে জামায়াত শিবির থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে। কিছু দিন আগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলেও জানান তিনি। গরু বাজারের হাসিলের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিফাতকে গুলি করে রাসেল ও তার সহযোগী বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।

নোয়াখালী-১ আসনের (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম জানান, অভিযুক্ত যুবক তার অনুসারী নয়। তাকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রিফাত নামে এক যুবকের পায়ের পাতায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। গুলির আঘাতের চিহৃ কিনা তা ডাক্তারি রিপোর্ট হাতে পেলে বলা যাবে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

দেবিদ্বারে শান্ত হত্যায় নতুন মোড়: ক্যান্সার রোগিকে আসামি, সমঝোতায় ঘাতক এখন স্বাক্ষী

স্টাফ রিপোর্টার:
পবিত্র ঈদ উল আযহার আগের দিন জনসম্মুখে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমেরিকা প্রবাসী আজমুল ফুয়াদ সাজিবের ছুরিকাঘাতে মেহেদী হাসান শান্ত (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়। এই সময় সাজিবের ছুরিকাঘাতে আরো ৪ যুবক আহত হয়। কিন্তু রাতে ঘটনার মোড় নিতে থাকে অন্য দিকে।

জানা যায়, দেবিদ্বারের এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিহত শান্ত’র পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে ঘাতক সাজিবকে মামলায় দেখানো হয় ৫ নম্বর স্বাক্ষী হিসেবে। অপরদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত স্বাক্ষী ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে ২ নম্বর আসামি বানিয়ে মামলা করা হয়। ঘটনার এমনভাবে অন্যদিকে মোড় নেয়াকে চরম লজ্জার ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। মূল ঘাতক সাজিব পুনরায় আমেরিকা চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া করছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।

জনসম্মুখে যে সাজিব একাই ৫ জনকে ছুরিকাঘাত করেছে, সেই সাজিবকে কিভাবে আসামি না করে স্বাক্ষী করা হল। প্রশাসনই বা কেন চুপ করে এমন মিথ্যে মামলা নিল এ নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে দেবিদ্বার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

শনিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪ টায় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের এম, আলী এন্ড এ.বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত মেহেদী হাসান শান্ত ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের সরকার বাড়ির জাকির হোসেনের ছেলে।
আহতরা হলেন নুরপুর গ্রামের মো: আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাসেল মিয়া ও ছিকাব আলম। তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নুরপুর গ্রামের সরকার বাড়ির আমেরিকান প্রবাসী সাজিব ও হবির বাড়ির আল আমিনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাজিব এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এ সময় মেহেদী হাসান শান্তসহ ৫ জন আহত হয়। শান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, ঘাতক সাজিব ও নিহত শান্ত একই বাড়ির ছিল। ঘটনার সময় সাজিবকে থামানোর চেষ্টা করলে সাজিবের ছুরিকাঘাতে শান্ত নিহত হয়। অঢেল সম্পদ ও টাকার মালিক হওয়ায় সাজিবের পক্ষে স্থানীয় একাধিক গ্রুপ অবস্থান নেয়। হত্যাকান্ডের পর সন্ধ্যায় শান্ত’র পিতা ও মামাকে এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত গোপনে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে ( অনেকের মতে কোটি টাকার উপরে) হুমকি দিয়ে রফাদফা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ঘাতককে স্বাক্ষী বানানোর। আর ইউপি নির্বাচনের পূর্ব দ্বন্দ্বের ফলে সাদ্দাম হোসেনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। পরে থানায় গিয়ে মামলা করা হয় ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো: আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাসেল মিয়া ও ছিকাব আলম জানান, সাজিবের হাতে ছুরি ছিল। সে একাই আমাদের সবাইকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করেছে। শান্ত তার ছুরিকাঘাতেই মারা গেছে। ২ নং আসামি সাদ্দাম এ ঘটনায় জড়িত নয়। সবাই দেখছে সাজিব ছুরিকাঘাত করছে। মামলার এক নম্বর আসামি আলামিনের সাথে সাজিবের কথা কাটাকাটি হলে সাজিব সবাইকে ছুরিকাঘাত করে । এখানে আলামিনকেও অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বড় দুই ভাই জহিরুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান জানান, আমার ছোট ভাই সাদ্দাম হোসেন ২ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ১১ বার কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে আবার কেমোথেরাপি দেয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। সে ঘটনার সময় দাড়িয়ে ঘটনাটা দেখছে এবং হত্যার ঘটনার স্বাক্ষী দিতে চেয়েছিল। পুলিশ তাকে স্বাক্ষী হিসেবে ডেকে নিয়ে ২ নম্বর আসামি করে ঈদের দিন জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। এটাই কি বিচার ? সে তো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করতে চেয়েছিল। অথচ তাকেই আসামি করা হল।

জাহিদ হাসান আরো বলেন, বিগত কয়েক মাস আগে আমি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। এর ফলে বিপক্ষ প্রার্থীরা অসন্তোষ হয়েছিল। গতকালের হত্যাকান্ডে তারা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মূল ঘাতককে আসামি না করে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত ভাইকে আসামি করলো। এখানে কোটি টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। তিনি আর কিছু বলতে পারেন নি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু কাউছার অনিক জানান, দিন-দুপুরে সবার সামনে হত্যাকান্ডটি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে। দিনের আলোয় সবার সামনে খুন হল শান্ত। যে ঘাতকের আঘাতে শান্ত খুন হল, অন্যরা আহত হল। সেই ঘাতক সাজিব কিভাবে স্বাক্ষী হয় ? আর একজন ক্যান্সার রোগিকে পূর্ব দ্বন্দ্বের জের ধরে কিভাবে আসামি করা হল ? তাহলে প্রশাসন কি করলো ? ঘাতক কি প্রশাসন থেকেও শক্তিশালী? এমন হাজারো প্রশ্ন এখন দেবিদ্বারবাসির মুখে মুখে।

মূল ঘাতককে আসামি না করে স্বাক্ষী এবং ক্যান্সার রোগি সাদ্দামকে কেন আসামি করে গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, বাদিপক্ষ যদি সাজিবকে আসামি না করে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। তারা ক্যান্সার রোগি সাদ্দামকে আসামি করেছে। আমরা তদন্ত করছি। আর মোটা অংকের টাকা রফাদফার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

নিমসারে সড়ক দুঘর্টনায় পথচারি নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে রাস্তা পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রাহেলা বেগম (৪০) নামের এক পথচারি নিহত হয়েছেন।

নিহত রাহেলা বেগম  নিমসার এলাকার মুহুরী বাড়ির মৃত সেলিমের স্ত্রী ।

রবিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় এ দুঘর্টনা ঘটে।