All posts by jitu

কুসিক নির্বাচন: ইশতেহার ঘোষণা করলেন নিজাম উদ্দিন কায়সার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯ দফা প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন ইশেতহার ঘোষণা করেছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার।

শনিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের  নিজস্ব নির্বাচনী কার্যালয় প্রাঙ্গণে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

নিজাম উদ্দিন কায়সারের ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে- নিরাপদ ও সম্প্রীতির কুমিল্লা গঠন, সুপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা তৈরি, মাদকসহ সামাজিক ব্যাধি ও নৈতিক শক্তির পুনরুদ্ধার, নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ, যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্যকরণ,  সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পর্যটন ও বিনোদন ব্যবস্থার জন্য নগরীর অন্তত পাঁচটি স্থানে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশের লক্ষ্যে নিবিড় বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করে কুমিল্লাকে পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ কুমিল্লায় রূপান্তর করা। একই সঙ্গে নগরের অভ্যন্তরে জমি ফাঁকা থাকলে তাতে কৃষি কাজে উৎসাহ দেওয়া ও আরবান এগ্রিকালচার বা ‘নগর কৃষি’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণের  প্রতিশ্রুতি  রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অধীন পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে।

মেয়র নির্বাচিত হলে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে কায়সার বলেন, কুমিল্লাবাসী আমাকে তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, আমার প্রতিটি ওয়াদা পূরণ করব এবং নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেব।

জনগণের পাশে থেকে নগরীর উন্নয়নে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ – সাক্কু

 

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ( কুসিক) নির্বাচনে দুইবারের সাবেক সদ্য মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু  টেবিল ঘড়ি প্রতিকে ভোট চেয়ে কুসিকের ১৬নং ওয়ার্ডের টিক্কারচর চৌমুহনী ও ১৭নং ওয়ার্ডের পাথরিয়াপাড়া মাজার সড়কে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন ।

এছাড়া গতকাল বিকেলে ১৮ নং ওয়ার্ডের তেলিকোনা চৌমুহনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সাবেক মেয়র সাক্কু বলেন,জনগণের পাশে থেকে নগরীর উন্নয়নে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি জনগণের লোক । তাই জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাই। আমি যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম তখন আপনাদের পাশে ছিলাম, আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

এমপি বাহার কুমিল্লায় আছেন, চ্যালেঞ্জের মুখে ইসি

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্দেশে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার তাঁকে নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার অনুরোধ জানালেও তিনি আজ শনিবার পর্যন্ত এলাকায়ই অবস্থান করছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও তাঁর বিরুদ্ধে আর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আগামীকাল রবিবারের আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। সে রুলের অনুলিপি আমরা এখনো পাইনি। রবিবার সেটা সংগ্রহের চেষ্টা করব এবং তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

অন্যদিকে এমপি বাহারও জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রুল পর্যালোচনা করার পর তিনি নির্বাচনী এলাকা ছাড়বেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ’

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ছয়টি পৌরসভা ও শতাধিক ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসিত হয়। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ছিল ঝিনাইদহ পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল খালেকের প্রার্থিতা বাতিল, বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর আচরণের জন্য ওই নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি বাহাউদ্দিন বাহারকে প্রথমে সতর্ক করে দিয়ে চিঠি ও পরে এলাকা ছাড়তে বলা হয়।

গত ৮ জুন ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রার্থী আবদুল খালেকের প্রার্থিতা বাতিলের প্রজ্ঞাপন এক মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর প্রার্থিতা কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে কমিশন আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দ্রুত আপিল করা হবে।

নির্বাচনী এলাকা ছাড়েননি বাহার:

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় অবস্থিত নিজের বাসভবনের সামনে থাকা ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করেন এমপি বাহার। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেলে নগরীর রামঘাট এলাকায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখান থেকে রাতে নিজ বাসভবনে ফিরে আসেন। আজ শনিবারও তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা প্রসঙ্গে এমপি বাহার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেওয়া একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত কমিশনের প্রতি একটি রুল জারি করেছেন। তবে এখনো উচ্চ আদালতের দেওয়া রুলের কাগজ আমরা হাতে পাইনি। সেটি শনি বা রবিবার হাতে পেলে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে কথা বলব। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ।

 

গত ১০ বছরে সাক্কু এ নগরীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার দিন-রাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রচারে সদ্য সাবেক মেয়র সাক্কুর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগ থাকায় সরকারবিরোধী ভোটের প্রবাহ এবার অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সারের দিকে যাচ্ছে।

বিগত দুটি নির্বাচনে যে ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করে সাক্কু জয়ী হন সেই ভোটব্যাংক এখন কায়সারমুখী হয়ে পড়ছে। কর্মীশূন্য সাক্কু দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পাশ কাটিয়ে জয়ের লক্ষ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন নৌকার প্রার্থী রিফাত। তবে এক ডজন আওয়ামী লীগ নেতাকে তার পাশে দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডের টমছমব্রিজ, দক্ষিণ চর্থা এলাকায় গণসংযোগ এবং বেশ কয়েকটি উঠান-বৈঠক করেন নৌকার প্রার্থী রিফাত। ১৩নং ওয়ার্ডের তালতলা চৌমুহনী এলাকায় গণসংযোগ করেন টেবিল ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী সাক্কু।

১৭নং ওয়ার্ডের তেলিকোনা চৌমুহনী পার্ক, ২৫নং ওয়ার্ডের ডুমুরিয়া, শাসনগাছা ও আলেখারচর ওষুধ মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান-বৈঠক করেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সার।

নগরীর বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে-১০ শ্রেণির ভোটারের ওপর নির্ভর করছে কুসিক নির্বাচনের ফলাফল। বিএনপি-জামায়াতের ভোটার, তরুণ ও নারী ভোটার, সংখ্যালঘু ভোটার, সচেতন নাগরিক ভোটার, সদর দক্ষিণের ৯টি ওয়ার্ডের ভোটার, বিভিন্ন ইসলামী দল এবং কওমি সমর্থিত ভোটার, বস্তি-কলোনির ভোটার, সরকারিবিরোধী ভোটার ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনে জয়-পরাজয় প্রভাব রাখে।

গত দুটি নির্বাচনে ১০ ধরনের ভোটের বেশিরভাগ ভোট পেয়ে সাক্কু অনায়াসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কারণ সাক্কু ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তার পাশে এসব ভোটার নেই।

এছাড়া বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী সব জোটের নেতাকর্মীরা কায়সারের পক্ষে কাজ করছেন। এ কারণে অনেকটাই চাঙা কায়সারের সমর্থকরা। এছাড়া কায়সারের পারিবারিক শিল্পকারখানায় কর্মরত প্রায় ২০ হাজার ভোটারও তার জন্য সহায়ক হবে।

সাক্কু নগরীকে বসবাসের অযোগ্য করেছেন : নগরীর রাজগঞ্জে পথসভায় নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, গত ১০ বছরে সাক্কু এ নগরীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছেন। পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। সাক্কু ব্যাপক দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্য করেছেন, অপরিকল্পিতভাবে শত শত ভবনের অনুমোদন দিয়ে গিঞ্জি নগরীতে পরিণত করেছেন।

এ সময় ওয়ার্ডের উন্নয়ন সমতা বজায় রেখে রিফাত নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ভেদাভেদ ভুলে কাজ করছেন। আশা করি ১৫ জুন নৌকার বিজয় হবে।

সাধারণ ভোটাররা সঙ্গেই আছেন : নগরীর তালতলা চৌমুহনী এলাকায় গণসংযোগকালে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে থাকুক আর না থাকুক নগরীর সাধারণ ভোটাররা আমার সঙ্গেই আছেন। তিনি বলেন, গত দুই মেয়াদে আমি প্রতিশ্রুতি একেবারেই বাস্তবায়ন করতে পারিনি-সেটি ঠিক নয়।

প্রতিশ্রুতির ৭০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছি। এবার নির্বাচিত হলে বাকিটুকু বাস্তবায়ন করব। বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি। কমিশন বাণিজ্য করিনি। কাজ করলে কিছুটা ভুলত্রুটি হতে পারে-কিন্তু চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত নয়, মিলেমিশে নগর পরিচালনা করেছি।

এক মাসের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ পালাবে : নগরীর তেলিকোনা এলাকায় গণসংযোগকালে ঘোড়া প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ পালাবে।

প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে নগরীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করব। তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সাক্কু একে অপরের বিরুদ্ধে নাটক করছেন। আমরা জানতে চাই-লিজের জায়গা, ড্রেন ও রাস্তার ওপর বহুতল ভবন করতে কে কত টাকা নিয়েছেন। লুটের টাকাগুলো কোথায়? এগুলো বের করতে হবে। কায়সার বলেন, ওনারা মিলেমিশে নগরীকে ভাগাড়ে পরিণত করেছেন, মাদকের নগরী বানিয়েছেন, তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ওনাদের শুধু টাকার প্রয়োজন। আসুন আমরা লুটেরা থেকে কুমিল্লাকে মুক্ত করি।

কায়সার আরও বলেন, আমি শপথ করে বলছি-মাদক, দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করেনি। ইনশাআল্লাহ আমি তা রুখবই। পরিবর্তনে আমার প্রতি আস্থা রাখুন। আমি পরিবর্তন আনবই, দানবীয় শাসন অপসারণ করবই ইনশাআল্লাহ।

স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যুবককে তুলে নিয়ে মারধর করেছে ববির দুই শিক্ষার্থী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রিয়াজুল ইসলাম নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে মারধর করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রিয়াজুলকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে ছেড়ে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় আমার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করে কয়েক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আমার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তুলে নিয়ে অনেক মারধর করে। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলীম সালেহী ও মার্কেটিং বিভাগের রাজু মোল্লার ওপর হামলা হয়েছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে অভিযুক্ত যুবককে সেখান থেকে তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যায় তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রাজু মোল্লা বলেন, ‘আমরা জানি না তার স্ত্রীকে কারা উত্ত্যক্ত করেছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিয়াজুল আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে এসে তাকে পুলিশকে সোপর্দ করি।’

আরেক শিক্ষার্থী আলিম সালেহী বলেন, ‘রাজু মোল্লার সঙ্গে ওই যুবকের ঝামেলা দেখে আমি তাদের থামাতে যাই। পরে আমার ওপরও চড়াও হয় সে। এ ঘটনা ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় টার্মিনালের বাস মালিক সমিতির নেতাদের পরামর্শে যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরের ঘটনা। রাতেই আমি বিষয়টি জেনে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। স্থানীয় ওই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জেনেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।’

পিকআপভ্যানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির আঘাতে প্রাণ গেল তাকবিরের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে পিকআপভ্যানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির আঘাতে তাকবির হোসেন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

তাকবির হোসেন একই এলাকার প্রবাসী মহিউদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় আল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে মা সুরাইয়া সুলতানার সঙ্গে তাকবির ও তার বড় ভাই তাইফ হোসেন ভবেরহাটে ফুপুর বাড়ির উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। তারা হেঁটেই রওনা দেন। তারা যখন সদর উপজেলার জকসিন-ভবেরহাট সড়কে পৌঁছান তখন সেখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি বহনকারী একটি পিকআপ ঘুরিয়ে অন্যদিকে নেওয়া হচ্ছিল।

এ সময় খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাকবির গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জাবেদ হোসেন মামুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তবে কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়েছে।

সিরিয়ার বিমানবন্দরে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটি। তবে হামলায় কোনো হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সিরিয়ার প্রতিরক্ষাবাহিনী আকাশেই থাকতেই অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। তারপরও অল্প কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বিমানন্দরে আঘাত হানে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বিমানবন্দরের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়। তবে কতজন আহত হয়েছেন তার সংখ্যা নিশ্চিত করেননি ওই কর্মকর্তা।

দেশের বাইরে থেকে আগত ফ্লাইটগুলোকে আলেপ্পো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সানার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভোররাত চারটা ২০ মিনিটের দিকে ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে আকাশ পথে হামলা চালানো হয়।’

তবে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়ায় অবস্থিত লেবাননের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি অস্ত্রের ডিপোতে আঘাত হানে। একই সঙ্গে দামেস্ক বিমানবন্দরেও আঘাত হানে।

২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ধারণা করা হয় ইসরায়েলের সিরিয়ায় কয়েক শ হামলা চালিয়েছে। যদিও ইসরায়েল কখনোই এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলাও আগের হামলার ধারাবাহিকতা মাত্র এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সতর্ক করে দেওয়া।

ফেনীতে মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধে জড়িত ৮ রোহিঙ্গা আটক

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা আট রোহিঙ্গাকে ফেনী থেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের হোটেল গোল্ড স্টার থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- কক্সবাজারের কতুপালং ক্যাম্পের আবদুর শুক্কুর (৩০), শফি আলম (২৫), আবদুল মান্নান (২০), এনামুল হক (৩০), জামাল উদ্দিন (২২) ও উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প থেকে নুরুল ইসলাম নুরু (২২), মো. ইলিয়াস (৩০), নবী হোসেন (১৮)।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এসব রোহিঙ্গারা। তারা ফেনী শহরে মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধ করে আসছিলেন।

চাঁদপুরে বজ্রপাতে ৩ গরুর মৃত্যু, তাদের সামনে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনিতা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বজ্রপাতে দুটি গাভি ও একটি বাছুরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন পশুগুলোর মালিক অনিতা সরকার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছিকুটিয়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের একমাত্র সম্বল হারিয়ে মরা গরুর সামনে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনিতা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সকালে তার দুটি গাভি ও একটি বাছুরকে ঘাস খাওয়ার জন্য বিলে বেঁধে রাখেন। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে অনিতা অচেতন হয়ে পড়েন। তার তিনটি গরুই মারা যায়। জ্ঞান ফিরে তিনটি গরু মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনিতা। পরিবারের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজান মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় এলাকার একটি কুলখানিতে ছিলাম। বৃষ্টি শেষ হলে বাড়ি চলে আসি। বজ্রপাতে অনিতার গরু মারা যাওয়ার খবরে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি গরুগুলো পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারটি একেবারে অসহায়। এগুলোই তাদের একমাত্র সম্বল ছিল। এছাড়া অনিতা সরকারের স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাদের খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। এখন গরুগুলো মারা যাওয়ায় তারা আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে আমি সাধ্যমতো তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি পৌর মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি।