All posts by jitu

দেশীয় অস্ত্রসহ অপহরণ চক্রের ৬ সদস্য আটক, অপহৃত উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:
“বি অনেষ্ট বাংলাদেশ (বি.এইচ.বি)” অপহরণ চক্রের মূল হোতা জিসান আহম্মেদ(৩২)সহ চক্রের ০৬ সদস্যকে আটক করেছে কুমিল্লা র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় অপহৃত ভিকটিমসহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গত ২ মে দুপুরে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা অফিসে এসে চট্টগ্রামের ভূজপুর উপজেলার নতুন পাড়া গ্রামের ইমাম হোসেনের স্ত্রী মোসাঃ রিনা আক্তার (২৫) জানান, তার স্বামী মোঃ ইমাম হোসেনকে কে বা কাহারা অপহরণ করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করছেন এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ০৩ জুন রাতে ঢাকা জেলার ডিএমপি, ডেমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ চক্রের মূল হোতা জিসানসহ ছয় সদস্য’কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার উল্টর নছরুদ্দি গ্রামের মৃত শাহ আলম এর ছেলে মোঃ জিসান আহমেদ(৩২); খুলনা জেলার চালনা থানার কামার খোলা দাকোপ গ্রামের মোঃ মনিরুল ইসলাম গাজীর ছেলে মোঃ ইসমাইল গাজী(২৫) ; পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার পশ্চিম পশারী বুনিয়া গ্রামের মোঃ জাকির হোসেন এর ছেলে মোঃ জায়েদ আল শাহান(২১); খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার গদাইপুর গ্রামের মোঃ ছবুর গাজীর ছেলে মোঃ এখলাছুর রহমান ফাহিম(১৯); সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার দীঘিরপাড় গ্রামের মোঃ মারাফত আলীর ছেলে মোঃ আবির হোসেন(২১) এবং ঢাকা জেলার ডেমরা থানার ডেমরা গ্রামের হাজী আঃ সালাম এর ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান(৩৪)।

একই তারিখে আটককৃত আসামীদের নিকট জিম্মি থাকা অবস্থায় অপহৃত ভিকটিম মোঃ ইমাম হোসেন(২৭)’কে উদ্বার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের নিকট থেকে নিম্মোক্ত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়ঃ ০৪টি সুইচ গিয়ার চাকু, ০২টি ধারালো চাকু, কচটেপ এবং ০১টি কাঠেরবক্স যার মধ্যে অসংখ্য দাতব্য যন্ত্রপাতি রয়েছে।

ভিকটিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গত ২ জুন রাত ৯ টার সময় চাকুরীর কাজে যোগদানের জন্য কুমিল্লা হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করার জন্য হোটেল নুর জাহানের সামনে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করলে ভিকটিমের একই গ্রামের দূর সম্পর্কের আত্মীয় মোঃ জাফর আহমেদ(২১), পিতা-আলী আহমদ, সাং-কালাপানি স্কুল পাড়া, থানা-মানিকচড়ি, জেলা-খাগড়াচড়ি এর সাথে দেখা হয়। জাফরও ঢাকা যাবে বিধায় ভিকটিম তার সাথে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে নুরজাহান হোটেলের সামনে গাড়ীর জন্য অপেক্ষ করতে থাকে। অপেক্ষার একপর্যায়ে একটি কালো হাইচ গাড়ী হোটেল নুরজাহানের সামনে এসে দাড়ায় এবং হাইচে থাকা একব্যক্তি বলে আমরা ঢাকায় যাচ্ছি কম টাকায় ঢাকা যেতে হলে গাড়িতে আসতে পারেন। তখন ভিকটিমরা ঢাকা যাওয়ার জন্য হাইচে উঠে। গাড়ীতে উঠার একপর্যায়ে কোর্টবাড়ী বিশ^রোড পার হওয়ার পর আসামীরা ভিকটিমদের চাকু দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখিয়ে তাদের হাত পাঁ বেধে ফেলে ভিকটিমদের সাথে থাকা মোবাইল এবং টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাদের পরিবারের কাছে ফোন করে ভিকটিমদের হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লক্ষ টাকা করে মুক্তিপন দাবী করে। পবর্তীতে রাত গভীর হলে আসামীরা ভিকটিদের নিয়ে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে নামলে ভিকটিম মোঃ জাফর(২১) কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামীরা অপর ভিকটিম ইমাম হোসেন’কে নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় এবং অপহরনকারীরা ভিকটিমকে অমানবিক নির্যাতন করে মুক্তিপনের টাকার জন্য ভিকটিমের পরিবারকে চাপ দিতে থাকে।

গ্রেফতারতকৃত আসামীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানাযায়, চক্রের সদস্য  মোঃ জিসান আহমেদ(৩২);  মোঃ ইসমাইল গাজী(২৫) ;  মোঃ জায়েদ আল শাহান(২১);  মোঃ এখলাছুর রহমান ফাহিম(১৯) এবং  মোঃ আবির হোসেন(২১) তারা সকলেই নারায়নগঞ্জ জেলার মদনপুর কেওডালায় অবস্থিত এলিট সিকিউরিটি গার্ড এর অধিনস্থ’ অলিম্পিক কোম্পানীর বিস্কুট শাখায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করে এবং মোঃ হাবিবুর রহমান(৩৪) ড্রাইভার হিসেবে তাদের সহযোগী হয়ে কাজ করে। চাকুরীর সুবাদে চক্রের মূল হোতা জিসানের সাথে বাকি সদস্যদের পরিচয় হয়। তারা ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং মাসে “বি অনেষ্ট বাংলাদেশ (বি.এইচ.বি)” নামক একটি গ্রুপ তৈরী করে। পরবর্তীতে এই  গ্রুপের সদস্যরা অল্প সময়ে কিভাবে অধিক অর্থ উপর্জন করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। তাদের এই চিন্তাধারা থেকেই একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্ত উপনীত হয় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চাকুরীর পাশাপাশী খুব সহজেই অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক টাকা উপার্যন করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপ তৈরী করে। প্রতি সপ্তাহে গ্রুপের দুইজন সদস্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রেকি (পর্যবেক্ষণ) করার কাজে নিয়োজিত থাকে। মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোন কোন জায়গা হতে পথিমধ্যে সাধারণ যাত্রীরা যানবাহনের খোজ করে, সেই জায়গা গুলোকে টার্গেট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে রেকি (পর্যবেক্ষণ)’তে নিয়োজিত সদস্যরা টার্গেট পয়েন্ট সম্পর্কে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রæপে তথ্য উত্থাপন করলে মূলহোতা জিসান এর সম্মতিক্রমে মিশনের তারিখ নির্ধারণ হয়। মিশনের পূর্বে তারা স্ব-শরীরে বৈঠক করে কে কোন জায়গা হতে পূর্ব নির্ধারিত পয়েন্টে মিলিত হবে, কে গাড়ি ভাড়া করবে এবং কার কি কাজ হবে তা বন্টনের মাধ্যমে গত এক বছর যাবৎ তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অসংখ্য চুরি, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মিশন সম্পন্ন করেছে।

গত ০২ জুন নারায়নগঞ্জ জেলা সোনারগাঁও থানার সোনারগাঁও আনন্দ বাজার গ্রামের জনৈক ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে তার পরিবারের নিকট হতে মুক্তিপন আদায় করে । পরবর্তীতে তাদের পূর্ব পরিকল্পিত টার্গেট সনামধন্য হাসপাতালের জনৈক ডাক্তার কে অপহরণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে তারা নতুন টার্গেট খোজার জন্য কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। পরবর্তীতে ভিকটিম মোঃ ইমাম হোসেন এবং মোঃ জাফরকে টার্গেটে পরিনত করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি ও মোবাইল ফোন বিশ্লেষন করে তাদের পরবর্তী টার্গেট পাওয়া গিয়েছে। যেখানে আগামী ০৬ জুন তাদের সুনামধন্য একটি ব্যাংকের রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও থানার বাসাবো শাখা হতে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রুপটি চেক করে দেখা গিয়েছে তারা ব্যাংকের বাসাবো শাখা ইতিমধ্যে রেকি (পর্যবেক্ষণ) সম্পন্ন করেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, চক্রের দুই সদস্য একাউন্ট খোলার নাম করে ব্যাংকে প্রবেশ করবে এবং অধিক টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের পর্যবেক্ষণ করবে। বাকি সদস্যরা কে কোথায় অবস্থান নিবে, টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক থেকে বের হয়ে গেলে কোন রাস্তার কোথায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে তার নিকট রক্ষিত টাকা ছিনতাই করবে, এমনকি ছিনতাইয়ের পরে কোন লোকেশনে গিয়ে তারা গা ডাকা দিবে এ সমস্থ তথ্য তারা গুগল ম্যাপে স্ক্রীনশট দিয়ে রেখেছে। এছাড়াও আসামীরা ক্রমান্বয়ে বড় বড় মিশন পরিকল্পনার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় ৬ জনকে এজাহার নামীয় এবং মোকতাদির(২৫), মাকসুদ(২২), মোঃ ইলিয়াস(২৪)’কে পলাতক আসামী করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুয়াকাটা সৈকতে সাঁতার কাটতে নেমে নিখোঁজ, ৭ দিন পর খোঁজ মিলেছে চেন্নাইয়ে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ফিরোজ শিকদারের (২৭) সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের ৭ দিন পর তিনি তার বড় ভাই মাসুম সিকদারকে ভারতের চেন্নাই প্রদেশ থেকে ফোন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই।

মাসুম সিকদার জানান, গত ২৭ মে দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে নেমে নিখোঁজ হন ফিরোজ সিকদার। তার বরাত দিয়ে মাসুম বলেন, সৈকতে গোসলে নামার পর ঢেউয়ের স্রোতে গভীর সমুদ্রে ভেসে যান ফিরোজ। পরে সমুদ্রে একটি কলাগাছে ২৪ ঘণ্টা ভাসার পর ভারতের জেলেরা তাকে উদ্ধার করে চেন্নাই প্রদেশে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি ভারতের প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক জানান, বিষয়টি ফিরোজের ভাই নিশ্চিত করেছেন। আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

নাঙ্গলকোটে ভারতীয় মদসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভারতীয় মদসহ রবিউল ইসলাম রবু  নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের গান্ধাছি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া রবিউল ইসলাম রবু (৪০) ওই গ্রামের মৃত আবু হানিফের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গান্ধাছি গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় দুই কেজি গাঁজা, ২৪ বোতল বিয়ার, ১৭ বোতল ফেনসিডিল ও ১১ বোতল ভারতীয় মদ জব্দসহ রবিউলকে আটক করা হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, রবিউলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বেগমগঞ্জে পুকুর থেকে কুমিল্লার স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা শুভ সাহা (‌১৩) নামে এক কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের মান্দার বাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে এ কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ গ্রামের মৃত দিলীপ সাহার ছেলে এবং ওই গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত শুভ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌরসভা এলাকা থেকে মামা বিশ্বজিৎ এর সঙ্গে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দার বাড়িতে মামার সঙ্গে বেড়াতে আসে। একই দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে নানার বাড়ি থেকে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বের হয় সে। তার পর থেকে নিখোঁজ ছিল সে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরো জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিকেলের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

ডেকে নিয়ে প্রেমিককে হাতুড়িপেটা, প্রেমিকাসহ কারাগারে ৪

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মো.সুমন (২২) নামের এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় কথিত প্রেমিকাসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুন) বিকেল গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সোনাইমুড়ী-চাটখিল হাইওয়ে সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, গত ১ মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌরসভার খোনার বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে আকলিমা আক্তার রুমি (২৩) সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. সুমনের (২২)। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের দুজনের একাধিকবার মোবাইলে কথা হয়। শুক্রবার বিকেলে রুমি সুমনকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সোনাইমুড়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে আসতে বলে। সুমন বিকেল ৫টার দিকে তার বন্ধু চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার শাহ জাহানের ছেলে মো. ইয়াছিনকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় যায়। সেখানে গেলে বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে শান্ত (২০), একই গ্রামের এসহাক মিয়ার ছেলে রায়হান (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২০) ও প্রেমিকা আকলিমা আক্তার রুমিসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা সুমনকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। ওই সময় সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার দুই পায়ে মারাত্বক জখম করে। এক পর্যায়ে একটি ধারালো ছোরা দিয়ে সুমনকে জবাই করতে চাইলে তার শৌরচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ৩ সন্ত্রাসী ও প্রতারক প্রেমিকা রুমিকে আটক করে। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শান্ত, রায়হান, মেহেদী ও প্রতারক প্রেমিকা আকলিমা আক্তার রুমিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করে ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই নুর হোসেন বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে চান্দিনা পৌর ও যুবলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার চান্দিনাতেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চান্দিনা পৌর ও উপজেলা যুবলীগ।

শনিবার (৪ জুন) সকালে চান্দিনা পৌর ও যুবলীগের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।

এসময় বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জহির মুন্সি, পৌর যুবলীগের সভাপতি জাকির সরকার, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মাহামুদ,
মাধাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তারেক, মহিচাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল, নবাবপুর যুবলীগের সভাপতি কাশেম, কেরনখাল ইউনিয়ন সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, বরকুইট ইউনিয়নের মাছুদুর রহমান, মাইজখার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেন্টু, সুহিলপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ইয়াসিন আহমেদ, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সজিব, তানভীর এবং পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল।

তিতাসে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা, ভোগান্তিতে দুই গ্রামের মানুষ

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লা তিতাস উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীনারায়ণ কান্দি গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই রাস্তা দিয়ে এলাকার কৃষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত ওই রাস্তাটি পাকা না করা হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

জানা গেছে, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি পাকা রাস্তা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীনারায়ণ কান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অবহেলিত এই কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও নেই পাকাকরণের উদ্যোগ। সামান্য বৃষ্টির পানিতে মাটি গলে কাঁদায় পরিণত হয়। পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই রাস্তাটি কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। ফলে এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত, অসুস্থ রোগীকে হসপিটাল ও বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়ায় করতে বেকায়দায় পড়তে হয়। এতে তাদের ভোগান্তি ও ব্যয় দুটিই বাড়ে।

এছাড়া এ রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

উত্তর শ্রীনারায়ণ কান্দি গ্রামের রুস্তম মোল্লা বলেন, দীর্ঘসময় পার হলেও গ্রামীণ এই রাস্তাটি পাকাকরণের কোন উদ্যোগ নেই। এতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। যদি রাস্তাটি দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হয় তাহলে আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি পাকাকরণ করার দাবি জানাই।

রিক্সাচালক সুমনসহ কয়েকজন জানান, গাজীপুর ও বাতাকান্দি বাজার থেকে কাটরাশইন বাজার থেকে উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীনারায়ণ কান্দি গ্রামে যেতে হলে অনেক কষ্ট করে গাড়ি নিয়ে যেতে হয়। যাত্রী নিয়ে যাওয়া তো দুরের কথা। বর্তমানে রাস্তার যে বেহাল দশা দ্রুত পাকাকরণ করা না হলে গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরবে। দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করার জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

এবিষয়ে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পাভেল মাহমুদ বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা আমি এবার প্রথম ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি এবং বাজেট করে অনুমোদন এর জন্য সব কাগজপত্র উপজেলায় জমা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আগামী ১ বছর মধ্যে দ্রুতই এই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে। এছাড়াও আমি নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ শ্রীনারায়ণ কান্দি ব্রিজ হতে কুয়েতী জামে মসজিদ পর্ষন্ত ২০০ মিটার সিসি ঢালাই কাজ ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ ধরব।

বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আতিকুর রহমান খান পিন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লা নগরীতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি এবং হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে যুবলীগ।

শনিবার (৪ জুন) সকালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নেতা মোঃ আতিকুর রহমান খান পিন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

এসময় বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সারওয়ার হোসেন বাবুর নেতৃত্বে কুমিল্লায় যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লার তিতাসে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি এবং হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সারওয়ার হোসেন বাবুর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (৪ জুন) সকাল ১১ টায় কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সারওয়ার হোসেন বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেইট সংলগ্ন যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয় হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গৌরিপুর টু হোমনা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয় এসে শেষ।

এসময় বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোকবুল মাহমুদ প্রধান, নাজমুল হাসান কিরন প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কামাল পারভেজ, নজরুল ইসলাম, সোহেল রানা, ইকবাল হোসেন বাবুলসহ যুবলীগের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতাকর্মী।