All posts by jitu

বুড়িচংয়ে পুলিশের চেকপোস্ট অভিযানে ৯ মাদকসেবী গ্রেফতার 

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পুলিশের পরিচালিত অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ৯ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন ২২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বুড়িচং থানাধীন ২নং বাকশিমুল ইউনিয়নের পাল্টি রাজাপুর এলাকায় (বাচ্চু মিয়ার বাড়ির সামনে) কুমিল্লা-টু-বাগড়া পাকা সড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার(২৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. নিপু (৩০), পিতা: মো. কবির, সাং: ভাটপাড়া, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রুবেল মিয়া (৩০), পিতা: কবির আহম্মেদ, সাং: পয়াত (উত্তরপাড়া), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং; মো. সাব্বির খন্দকার (৩০), পিতা: হারুন অর রশিদ, সাং: ঢলিপাড়া, ১৯নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. জাহিদ (৩০), পিতা: মৃত রফিকুল ইসলাম, সাং: নুরপুর, ১৮নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রাসেল (৩৩), পিতা: মৃত শফিকুল ইসলাম, সাং: মুরাদপুর, ১৪নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রিপন (৩০), পিতা: হাজী আ. রশিদ, সাং: দক্ষিণ হরিপুর (করিমের বাড়ি), থানা: বুড়িচং; মো. শুভ ইসলাম (৩২), পিতা: মো. কামাল হোসেন, সাং: দৌলতপুর (কামালের বাড়ি), ৪নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. ইমরান হোসেন (১৬), পিতা: আনোয়ার হোসেন, সাং: শিকাপুর (মনির মেম্বারের বাড়ি), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং; ইয়াছিন আরাফাত (২১), পিতা: আব্দুল জলিল, সাং: খাড়াতাইয়া (পশ্চিমপাড়া, হাজী বাড়ি), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং।

আটককৃতদের বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখিত মতামত প্রদান করেন।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে আটককৃতদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নগরীর কাশারীপট্টিতে বাড়িতে ঢুকে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, কিশোর গ্যাং লিডার সায়েম আটক

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাশারীপট্টি এলাকায় বাড়িতে ঢুকে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাং ‘বজ্রপুর সায়েম গ্রুপ’-এর নেতা সায়েমকে আটক করে র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা সায়েমকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

আহত শিক্ষার্থী বিজয় কাশারীপট্টি এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত সায়েম একই ওয়ার্ডের বজ্রপুর এলাকার কাইয়ুম মিয়ার ছেলে এবং একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে রাহুল, হৃদয়, পিয়াস, কালাসহ প্রায় ২০ জনের একটি দল দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে এ হামলায় অংশ নেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়েম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কয়েক মাস আগে একই গ্রুপের হামলায় কাশারীপট্টি এলাকার পরিবহন নেতা হাজী মাশুক গুরুতর আহত হন।

এছাড়া গত এক বছরে একাধিকবার মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এ গ্যাংটি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যুর ঘটনায় ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শেফালী আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

সোমবার(২৩ মার্চ) লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু’র অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী শেফালী আক্তার নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রী ছিলেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ উপলক্ষে দেশে এসে চুয়াডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে যান। পরে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

একই ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৮ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ট্রেন প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন— চাঁদপুরের চাপাতলির তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫), লক্ষ্মীপুরের সাঈদা (৯), যশোরের পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)।

চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় হৃদয় নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার প্রদান করেছে জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামে এ হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার কাজী মো. শাহিন, জাহাঙ্গীর আলম, ফখরুল আলম টিপু, ইমাম হোসেন, জসিম উদ্দিন, নাহিদ, শুভ, রাফিসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের অবহেলিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”

ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক উপকরণ প্রদান তাদের চলাফেরা সহজ করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কিংবদন্তিদের বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’

স্টাফ রিপোর্টার।।

আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) তৃতীয় সংস্করণে অংশ নিতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’ দল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নতুন মৌসুমে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

ডব্লিউসিএলের তৃতীয় সংস্করণে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ায় এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সাতটি দেশের দল। এর আগে থেকেই এই টুর্নামেন্টে খেলছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ২০২৬ মৌসুমকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

অবসরপ্রাপ্ত তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। টুর্নামেন্টটিতে খেলেছেন যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মঈন আলি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলসহ ক্রিকেটের অনেক কিংবদন্তি।

ডব্লিউসিএলকে আয়োজকেরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম আসরে ৩২ কোটি ৫০ লাখের বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেন। দ্বিতীয় আসরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৩১ লাখে, যা লিগটির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দ্রুত বিস্তারের প্রমাণ।

ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হর্ষিত তোমর বলেন, গত দুই বছরে সমর্থকদের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের পক্ষে জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই উদ্যোগকে দেশের ভক্তদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে ক্রিকেটের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এই অংশগ্রহণ।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলের অংশীদার ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ডব্লিউসিএলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, কারণ এই প্রতিযোগিতাকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করব।‘

বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে ডব্লিউসিএলের তৃতীয় আসর আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংস্করণ হতে পারে।

সবশেষ ২০২৫ ডব্লিউসিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নস দল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হওয়া ফাইনালে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বাধীন দলটি।

“লাশ দেখতে দেখতে বৃদ্ধ হয়ে গেছি”—রেলমন্ত্রীকে ফোনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এমপি মনিরুল

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

গতকাল রোববার (২২ মার্চ) সকালে সিঙ্গাপুর থেকে ফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমপি মনিরুল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এখানে এমন দুর্ঘটনা ঘটে আসছে। কিন্তু এর কোনো কার্যকর সমাধান বা বিচার হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে রেলক্রসিং উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের দেওয়া অর্থের কথাও উল্লেখ করেন।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এমপি মনিরুল বলেন,“এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি… ভাই রবিউল। আমি জীবনে শান্তি পাব না। আমি কাউকে বাঁচাতে পারিনি। আপনি একটু এসে দেখে যান।”

জবাবে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি রওনা দিচ্ছি। যা করার প্রয়োজন, তা আমি করব।”

উল্লেখ্য, রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন পদুয়ার বাজার এলাকায় ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।

ঢাকায় ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার।।

ঢাকাস্থ ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের উদ্যোগে এক আনন্দঘন ও অনাড়ম্বর পরিবেশে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেল ৪টায় রাজধানীর লাটিয়া বাজারস্থ রয়েল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-আরাফাহ ব্যাংকের এভিপি মো. উবায়দুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান সিদ্দিকী ডালিম।

অনুষ্ঠানে ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভারেল্লা, শোভারামপুর, এতদারপুর, শিবপুর, সোন্দ্রম, মজলিশপুর, গোবিন্দপুর, ইসলামপুর ও ছিকুটিয়া এলাকার ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে উপস্থিত সকলের মধ্যে পরিচিতি পর্ব এবং ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আগামী এক বছরের জন্য সংগঠনকে আরও গতিশীল ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে একটি নতুন কমিটি গঠন এবং বেশ কিছু উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দাদিয়াপাড়ায় মানব কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চাঁদপুর শাহরাস্তি থানার দাদিয়াপাড়া গ্রামের দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২২ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন বাদ আসর আমতলী বাজার সংলগ্ন সংস্থার কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংস্থার উপদেষ্টা এমরান হোসেনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে মিলনমেলায় পরিণত হয় দাদিয়াপাড়া এলাকায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন সজিব, সহ সভাপতি আবু ইউসুফ সুমন, কার্যকরী সদস্য রুবেল, হাবিবুর রহমান বাবু, মাইনুদ্দিন, রুবেল গোলাম এবং নোমান পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি মো: হোসেন, মো:নেয়ামত, বর্তমান মেম্বার জামাল খান ও সাবেক মেম্বার বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

উপদেষ্টা এমরান হোসেন বলেন, সামাজিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা এবং এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা আর্তমানবতার সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সংস্থার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রউফ।

বরুড়ায় বিনামূল্যে ঔষধ ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা পেলেন ৬শতাধিক মানুষ

হাসিবুল ইসলাম সজিব।।

ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ, ঈদের খুশিকে সাধারণ মানুষের সাথে ভাগাভাগি করতে বরুরা আমড়াতলী সি আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০০২ উদ্যোগে বিনামূল্যে ঔষধ ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা পেলেন ৬শতাধিক মানুষ।

২২ (মার্চ) রবিবার (ঈদের পরের দিন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১ টা পযর্ন্ত এই চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করা হয়।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান, আমরা গ্রামের সাধারণ মানুষ। শরীর খারাপ হলে টাকার অভাবে প্রাইভেট হসপিটালে ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। তবে প্রতি ঈদের পরের দিন আমড়াতলী স্কুল মাঠে ডাক্তার দেখাতে পারি বিনামূল্যে এবং তারা আমাদেরকে ঔষধ ও দেয়। আল্লাহ পোলাপান গুলোর ভালো করুন যাদের সহয়তা আমরা বিনামূল্যে ঔষধ এবং চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকি।

আয়োজক ডা. মোঃ জুয়েল রানা জানান,
গত ১০ বছর ধরে দুই ঈদের পরে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকি। আমাদের এসএসসি ব্যাচ ২০০২ এর উদ্যোগে আয়োজন করা হলেও আমাদের সহযোগিতা করে সাবেক শিক্ষার্থীরা।

ডা মো মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, গ্রামের সাধারণ মানুষ গুলো সচেতন হওয়া জরুরি। কেননা আমি দেখেছি তাদের অনেকের জটিল সমস্যা হয়ে আছে তবে তারা গ্রামের ফার্মেসী থেকে ঔষধ খেয়ে সেই সমস্যা টাকে আর খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা প্রতি বছর দুই ঈদের পরের দিন এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি।

উল্লেখ, আমড়াতলী সি আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০০২ গত ১০ বছর ধরে ঈদের পরের দিন এলাকার সাধারণ উদ্যোগে বিনামূল্যে ঔষধ এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

বরুড়ায় গ্রামবাংলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের বর্ষপূর্তি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলা

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের শোলাপুকুরিয়া গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে সামাজিক সংগঠন গ্রামবাংলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তী পুনর্মিলনী ও ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সকালে সংগঠনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর শুরু হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। আধুনিকতার পরিবর্তে গ্রামীণ কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়ায় আয়োজনটি দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৫৫ ঊর্ধ্ব মুরুব্বিদের জন্য ‘পাতিল ভাঙা’ এবং বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীদের জন্য ‘পুকুরে হাঁস ধরা’। তরুণদের জন্য ছিল ‘১০ বার ঘুরে ফুটবল কিক করে গোল দেওয়া’ খেলা, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি করে। এছাড়া নারীদের জন্য ‘বালিশ বদল’ এবং শিশুদের জন্য ‘যেমন খুশি তেমন সাজ’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যেখানে খুদে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ফুটে ওঠে।

বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা। এ সময় এলাকার ৭০ ঊর্ধ্ব প্রবীণদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী ও অষ্টম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান