All posts by jitu

সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় ৩৬ কোটি টাকা

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

‌‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ নামে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মেয়াদ এপ্রিল থেকে ধরা হলেও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে আগামী অর্থবছর থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। প্রকল্পের আওতায় ‘ক্যামেরা ফাঁদ’ পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজও হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মহসিন এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

তারা জানান, সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু। আইইউসিএন বাঘকে সারা বিশ্বে অতি সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৩টি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ টিকে আছে। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ১১৪টি, ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, অভয়ারণ্যে বাঘ কতটা নিরাপদে চলাফেরা করছে, এটা জানা খুবই জরুরি। যদি জায়গাটা নিরাপদ থাকে, আর বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ পায়, তাহলে অবশ্যই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভব।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, যথাযথভাবে বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) সংরক্ষণ করতে পারলে প্রাকৃতিকভাবেই বাঘের সংখ্যা বাড়বে। করোনার কারণে গেলো দুই বছর বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। বেড়েছে মানুষের সচেতনতাও, যা বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, টিকে থাকার মতো খাবার, পরিবেশের নিশ্চয়তা না দেওয়া গেলে সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে। মানুষ আগের থেকে সচেতন হয়েছে, আগে যা বুঝতো না সেগুলো এখন বোঝে।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি। ১৯৮৫ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ৪৫০। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএওর বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৪ সালের বাঘের সংখ্যা ৩৬৯টি। ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪৪০।

ক্যামেরায় ছবি তোলার মাধ্যমে ২০১৩ সাল ও ২০১৮ সালে বাঘ শুমারি হয়। ইনফ্লারেড নামক ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘ শুমারি হয়। সুন্দরবনে ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতিতে সবশেষ বাঘ জরিপ হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবার শনাক্ত হয় ১১৪টি বাঘ, তার মধ্যে পূর্ণবয়স্ক ৬৩টি, ১৮টি ১২ থেকে ১৪ মাস বয়সী এবং ৩৩টি ছিল শাবক।

ওয়ার্ল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান রনথম্বোর ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড নেচার ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, সুন্দরবনে বাংলাদেশ অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হার অব্যাহত থাকলে ২০৭০ সাল নাগাদ এখানে বাঘের সংখ্যা ৯৬ শতাংশ কমে যাবে।

সুন্দরবন বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১-২০২১ সাল পর্যন্ত সিডর, বার্ধক্যজনিত, গণপিটুনি ও শিকারীর হাতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে ৩০টি বাঘ মারা পড়ে।

– বাংলা ট্রিবিউন।

তিতাসে ৭ বছর পর হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস:
কুমিল্লা তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার ৭ বছর পর অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে তিতাস থানা পুলিশ।

শনিবার(২ এপ্রিল) দুপুরে তিতাস থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মধুসূদন সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিতাস উপজেলার কালাচানকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত জামান প্রকাশে অহিদ (৪২) উপজেলার ৫নং কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচানকান্দি গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে।

তিতাস থানা সূত্রে জানা যায়, আসামি জামান প্রকাশে অহিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ৩০২/৩৪ ধারায় তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। আসামি জামান প্রকাশে অহিদ গ্রেফতার এড়ানোর ভয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিতাস উপজেলার কালাচানকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাহার শশুর বাড়ি মৃত হাজী বজলু মিয়ার ঘর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি ওয়ারেন্ট ভূক্ত। আসামিকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করে শনিবার কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 কুমিল্লা পদুয়ার বাজারে বাস চাপায় শিশু নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন মিস্ত্রি পুকুরপাড় এলাকায় বাস চাপায় মুনতাহা (৬) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে।

শনিবার সকালে  কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সড়ক দুঘর্টনা ঘটে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায় নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ফেসবুকে নিজের অবস্থান জানালেন এমপি

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ২৬ মার্চ মোহাম্মদ আবু সাঈদকে আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ। এদিন থেকেই অছাত্র-বয়স্কদের দিয়ে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে চলে বিতর্কের ঝড়।

এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ফেসবুক স্ট্যাটাস। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল নবগঠিত নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এবাদুল করিম বুলবুল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন- ‘প্রসঙ্গঃ নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের নবঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি ও আমার বক্তব্য

ছাত্রলীগের নবঘোষিত কমিটির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই- মো. এবাদুল করিম বুলবুল, এমপি।

সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অতি সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক ঘোষিত নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। শুধু তাই নয়, আমি বারংবার বলেছি, ছাত্রলীগের কমিটি হতে হবে গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। অথচ আমি দেখলাম নবীনগর উপজেলায় যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে অছাত্র, বিবাহিত ও তুলনামূলক বিচারে বয়স্ক ও বেশ কয়েকজন বির্তকিতদেরকে এ কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে। যা চরম দুঃখজনক ও লজ্জাজনকও বটে।

আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনোমতেই চরম বির্তকিতদের নিয়ে ঘোষিত এ কমিটিকে মেনে নিতে পারি না। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে প্রভাবিত অছাত্র, বিবাহিত ও বির্তকিত এ কমিটিকে স্বীকৃতি দিতে পারি না।

সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, নবঘোষিত নবীনগরের ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই ও থাকবে না। সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রইলো। ইনশাআল্লাহ নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি হবে গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন প্রত্যাশা রইলো।

শুভেচ্ছান্তে- মো. এবাদুল করিম বুলবুল এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর, সংসদীয় আসন।’

স্ট্যাটাসের বিষয়ে এমপি মো. এবাদুল করিম বুলবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি কে বা কারা করেছে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অথচ কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফেসবুকসহ নানানভাবে এই কমিটি দেওয়ার জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। বিষয়টি ক্লিয়ার করার জন্য আমার এই স্ট্যাটাস।

কমিটির বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল জাগো নিউজ নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়নি। শুধু সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তারা দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত। আহ্বায়ক কমিটিকে বেঁধে দেওয়া ৯০ দিনের মধ্যেই নবীনগর উপজেলায় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বার্জার ইয়াং পেইন্টার্স আর্ট কম্পিটিশন, পুরস্কৃত হলেন ২৬তম আয়োজনের বিজয়ীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাণিজ্যিক স্বার্থের উর্দ্ধে থেকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পেইন্টস সলিউশন ব্র্যান্ড বার্জার প্রতিনিয়ত দেশের জনগণকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে, এবং এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আয়োজন করেছে “২৬তম বার্জার ইয়াং পেইন্টার্স আর্ট কম্পিটিশন” (বিওয়াইপিএসি)। আগামীর সম্ভাবনাময় চিত্রশিল্পীদের প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বার্জার নিয়মিত এই প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে থাকে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকার গুলশান ক্লাবে একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ছয়জন তরুণ এবং প্রতিভাবান শিল্পীকে তাদের অনন্য চিত্রকর্মের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

প্রতিযোগী সুবর্ণ চক্রবর্তী তন্ময়ের “ক্লোজ আপ” শীর্ষক ছবিটি এবারের আয়োজনে বিজয়ী ঘোষিত হয়, যার মাধ্যমে তিনি ১ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার জিতে নেন। রানার-আপ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং এবং দ্বিতীয় রানার-আপ মোঃ মেজানুর রহমান যথাক্রমে ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার জয় করেন। অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন- মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, আসিফ আল নূর রাতুল এবং মোঃ আরিফুল ইসলাম। বিজয়ীদের সকলকে পুরস্কারের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

এবারের আয়োজনে সম্মানিত জুরি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক নিসার হোসেন, মাকসুদা ইকবাল নিপা, কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান, ফারহানা ফেরদৌসী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও কামাল উদ্দিন। ৩৭৩ জন অংশগ্রহণকারীর জমা দেওয়া মোট ৪১১টি চিত্রকর্ম থেকে জুরি প্যানেল এবারের সেরা পেইন্টিংগুলো নির্বাচন করেন। এ প্রসঙ্গে জুরি কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর নিসার হোসেন বলেন, “এমন চমৎকার সব পেইন্টিং থেকে সেরা পাঁচটি বা ছয়টি নির্বাচন করা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু এর ফলে এটিও প্রমাণিত হয় যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আমরা কিছু চমৎকার শিল্পীকে পেতে যাচ্ছি, তাই আমাদের অবশ্যই তাদের স্বপ্নকে লালন করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিভার চর্চা বজায় রাখতে সাহায্য করতে হবে”।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বলেন, “১৯৯৬ সাল থেকে বার্জার ইয়াং পেইন্টার্স আর্ট কম্পিটিশনের মাধ্যমে আমরা দেশের পরবর্তী প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস চালু রেখেছি। এবং এই প্রতিভাবান শিল্পীদেরকে তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত ও সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমি ২৬তম আয়োজনের সকল বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানাই। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া বা না হওয়া বড় কথা নয় – আপনারা আপনাদের আঁকাআঁকির চর্চা চালিয়ে যান এবং রং-তুলির আঁচড়ে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলুন”।

বার্জার ইয়াং পেইন্টার্স আর্ট কম্পিটিশনে ছবি জমা দানের সময়সীমা ছিল জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, ২০২১ পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীরা তেল রঙ, অ্যাক্রিলিক, জলের রঙ, স্কেচ, লাইন ড্রয়িং, প্রিন্ট মেকিং এবং মিক্সড মিডিয়া থেকে তাদের পছন্দসই মাধ্যমটি ব্যবহার করে ছবি আঁকেন ও প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেন।

আজ থেকে রোজা রাখছেন চাঁদপুরের ৪০ গ্রামের মানুষ

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ
চাঁদপুরের প্রায় ৪০ টি গ্রামে আজ শনিবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু। হিজরি চন্দ্র মাস হিসেব করে এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ এবং শনিবার ভোরে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার প্রায় চল্লিশ গ্রামের মানুষ পবিত্র রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা শনিবার রোজা পালন করেন।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় প্রথম রমজান পালন ও দুটি ঈদ উদযাপন প্রচলন করেন। তারপর থেকে অনুসারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে হাজীগঞ্জ ছাড়াও পাশের ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উত্তর উপজেলার ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মুসলমান এভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করে আসছে।

অবশেষে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে দেশটিতে। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে একক অর্ধ রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা শ্রীলঙ্কাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। শুক্রবার রাতে সরকারি এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিজ্ঞপ্তিতে রাজাপাকসা বলেছেন, জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সরবরাহ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, খাদ্য, তেল ও বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষের বাসভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভে অংশ নেয় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। এরপর সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল সকালে কারফিউ তুলে নেওয়া হলেও পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য সরকারকে দায়ী করে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ বেধে যায়। শেষ পর্যন্ত টিয়ার শেল আর জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এরপর রাতেই কলম্বো উত্তর, দক্ষিণ, কলম্বো সেন্ট্রাল, নুগেগোদা, মাউন্ট লাভিনিয়া এবং কেলানিয়া এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। পুলিশের মুখপাত্র নিহাল থালডুয়া বলেন, বিক্ষোভের সময় সেনাবাহিনীর একটি বাস, জিপ, থ্রি-হুইলার, দুটি ট্রাফিক মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভে পুলিশ, স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) সদস্য এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রেসিডেন্সিয়াল মিডিয়া বিভাগ (পিএমডি) দাবি করেছে, বিক্ষোভের নেপথ্যে একটি চরমপন্থি গোষ্ঠী।

২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির কাছে আমদানিকৃত জ্বালানির দাম পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা নেই। জ্বালানি সংকটে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধারের পানি বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে যাওয়ায় সেখানেও উৎপাদন সংকট দেখা দিয়েছে; ফলে দেশেজুড়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এ বছর কলম্বোকে প্রায় ৬৯০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে, অথচ ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ছিল ২৩০ কোটি ডলারের মতো। ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই দেশটির মানুষকে এখন প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে, কারণ জ্বালানি তেল আমদানির মতো যথেষ্ট বিদেশি মুদ্রা দেশটির সরকারের হাতে নেই। দেউলিয়া হতে বসা শ্রীলঙ্কা সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, এ বিষয়ে তারা শিগগিরই কলম্বোর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, মার্চে মূল্যস্ফীতি হয়েছে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৮.৭ শতাংশ। দেশটিতে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩০.২ শতাংশে পৌঁছেছে।

খবর অনুযায়ী, ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত মাসে শ্রীলঙ্কা তাদের একমাত্র তেল শোধনাগারটি বন্ধ করে দেয়। ডিজেল সংকট যত বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিংও তত বাড়ছে। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় দেশটির প্রধান স্টক মার্কেটে লেনদেনের সময় কমিয়ে এনেও কাজ হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বাঁচাতে সড়কবাতিও নিভিয়ে রাখা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। সামনের দিনগুলোতে এটি ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ঠেকেছে যে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় পর্যন্ত মেটাতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশছোঁয়া। কাগজের অভাবে দেশটির স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ কাগজ আমদানি করার মতো বৈদেশিক মুদ্রা তাদের কাছে নেই। জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য হাজার হাজার মানুষ লাইনে ভিড় করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। এখানেও একই কারণ, জ্বালানি তেল আমদানি করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা নেই শ্রীলঙ্কার কাছে। ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ আড়াইশ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারের চা ইরানে রপ্তানি করবে দেশটি। এভাবে ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করা হবে।

গত ১৫ বছর ধরে শ্রীলঙ্কায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ তেমন হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগের পরিবর্তে বিভিন্ন সরকার ঋণ করার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। গত এক দশকে চীনের কাছ থেকে শ্রীলঙ্কা ঋণ নিয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার। এ ঋণ দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করেছে। শ্রীলঙ্কার মোট ঋণের ৪৭ শতাংশ বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন বন্ড ইস্যু করে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের অর্থ অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না।

দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেকটি বড় জায়গা-বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের পাঠানো ডলার। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ২০১৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষে দেশে অর্গানিক কৃষি চালু করেন। সে জন্য কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় সার আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কৃষিক্ষেত্রে। এতে চালের উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একসময় চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ শ্রীলঙ্কা বাধ্য হয় ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের চাল আমদানি করতে। এ অবস্থায় চালের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অদক্ষতাই পুরো পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী। ফলে টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটি। দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশটির নাগরিকরা।

আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিচ্ছেন ইমরান খান !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব তুলেছে বিরোধীরা। কাল রোববার অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। ভোটাভুটির আগে ইমরান খান গত শুক্রবার বলেন, তাঁকে তিনটি উপায়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলেছে ‘এস্টাবলিশমেন্ট’। এগুলো হলো—অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়া, পদত্যাগ করা অথবা আগাম নির্বাচন দেওয়া।পাকিস্তানের ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ মূলত দেশটির ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁকে ছেড়ে যেসব আইনপ্রণেতা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, বিরোধীরা তাঁদের দিয়ে সরকার চালাতে পারবে না বলে দাবি করেছেন তিনি। ইমরান খান বলেন, তিনি পদত্যাগ বা নতুন সরকার গঠনের বদলে আগাম নির্বাচনের পক্ষে। আগাম নির্বাচন হলেই সবচেয়ে ভালো হবে বলে মনে করছেন তিনি।

ইমরান খান বলেন, ‘আমরা বলেছি, নির্বাচন হলো সবচেয়ে ভালো বিকল্প। আমি পদত্যাগ করার কথা ভাবতেও পারি না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে বিশ্বাস করি।’ দলত্যাগীদের নিয়ে সরকার চালানো যায় না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আগাম নির্বাচনের আয়োজন করি, তাহলে সেটাই পাকিস্তানের জন্য ভালো হবে।’

অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ইমরান বলেন, কাল যখন জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক হবে, তখন তিনি আরেকটি চমক নিয়ে আসবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন অধিনায়ক কখনো তার কৌশল কাউকে জানায় না। কিন্তু আমি আবার বলছি, এই অনাস্থা প্রস্তাব বড় একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।’

‘আমার জীবন হুমকির মুখে’:

ইমরান খান বলেন, তাঁর জীবন এখন হুমকির মুখে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার পতনের ষড়যন্ত্র যাঁরা করছেন, তাঁরা এটা ভেবে ভয়ে আছেন, তিনি যদি ক্ষমতাচ্যুত হন তারপরও দেশের মানুষ তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। ইমরান বলেন, ‘আমি এ কারণে প্রকাশ্যে এটা বলছি, আমার জীবন এখন হুমকির মুখে আছে।’

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান বলেন, ‘যাঁরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে নিজেদের ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাঁরা এটা জানে যে আমি চুপ করে বসে থাকব না। তাঁরা কী ভাবছেন? তাঁরা দুই থেকে আড়াই হাজার রুপি খরচ করে আমার সরকার পতনের চেষ্টা করবেন আর আমি চুপ করে বসে থাকব? এ কারণে আমি প্রকাশ্যে এসব কথা বলছি।’

গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন ইমরান। এর প্রমাণ হিসেবে একটি হুমকিমূলক চিঠি পাওয়ার দাবি করেন তিনি। ওই ভাষণে চিঠির বিষয়ে বলতে গিয়ে ইমরান খান ‘মুখ ফসকে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাম বলে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা তিনি শুধরে নেন। পরে বলেন, একটি বিদেশি রাষ্ট্র হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, যা পাকিস্তানবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র ইমরান খানের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রকাশ্যে সরকার পতনের চিঠির কথা বলার পর ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। ইমরান খান তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগে ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা চলছে। ইমরান খান হত্যার হুমকিতে আছেন বলে তাঁদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে জানিয়ে ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘এ খবর পেয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

এ সপ্তাহের শুরুতে ইমরান খানের দল পিটিআইর নেতা ফয়সাল ভাওদাও একই অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ‘দেশ বিক্রি করতে’ অস্বীকার করায় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে ভাওদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একজন সাহসী ব্যক্তি। তিনি পাকিস্তানের বিষয়ে আপস করবেন না। তিনি কারও কাছে জাতির মাথা নত হতে দেবেন না। ইমরান আগেও জীবননাশের হুমকি পান বলে জানান তিনি।
‘কখনো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যাব না’:

ইমরান খান সাংবাদিকদের আরও বলেন, তিনি কখনো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যাবেন না। কোনো অবস্থাতেই সামরিক বাহিনীকে বিতর্কিত হতে দিতে চান না জানিয়ে বলেন, ‘আমি কখনো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলব না।’ পাকিস্তানের অস্তিত্বের জন্য শক্তিশালী সেনাবাহিনী প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ইমরান বলেন, যদি শক্তিশালী সেনাবাহিনী না থাকত তাহলে দেশ এত দিনে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর কারণে আমরা নিরাপদে আছি।’ অতীতে রাষ্ট্à