All posts by jitu

নাঙ্গলকোটে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর অর্ধগলিত অবস্থায় মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাসহ নিখোঁজের পাঁচ দিন পর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (২৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ী উত্তরপাড়ার ইউসুফের একটি পরিত্যক্ত বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্বজনরা জানান, পাঁচ দিন আগে হেসাখাল ইউনিয়নের ওমরগঞ্জ বাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে মেহেদীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।

বুধবার দুপুরে আটিয়াবাড়ী উত্তরপাড়ার ইউসুফের পরিত্যক্ত বাগানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি মেহেদী হাসানের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, বাগানের একটি স্থানে পড়ে থাকা মরদেহটির গলায় বেল্ট বাঁধা ছিল এবং শরীরের একাংশ পোড়া অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

কুমিল্লা মেডিকেলের সামনের সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই, দুর্ভোগে রোগী-স্বজন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কুমিল্লাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজারো মানুষ চলাচল করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে খানাখন্দে ভরা এক দুর্ভোগের সড়কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে ধীরগতিতে ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, একজন অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা থাকলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক সময় ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়। ভাঙাচোরা ও গর্তযুক্ত সড়কে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সময় রোগীর কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের এমন দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও তাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।

আমেনা নামের এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,হাসপাতালে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার জন্য আনা হয়। অথচ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে আসতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৃষ্টির সময় সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতলপানি জমে থাকায় তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে।

এলাকাবাসী ও হাসপাতালে আসা রোগী-স্বজনদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্পোকার্নিভাল ২.০-এর ফাইনালে ইলেকট্রোসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন লস অ্যাস্ট্রোস ২৩

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় জমজমাট আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্পোকার্নিভাল ২.০ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে ইলেকট্রোসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লস অ্যাস্ট্রোস ২৩।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কুমিল্লার কে আলী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ।

খেলার নির্ধারিত সময়ে দুই দলই দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। প্রথমার্ধে উভয় দল ৩টি করে গোল করায় ম্যাচটি সমতায় শেষ হয়। পরে ম্যাচের ফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকারে ইলেকট্রোস ১টি গোল করতে সক্ষম হলেও লস অ্যাস্ট্রোস ২৩-এর খেলোয়াড়রা ৩টি গোল করে। ফলে ৩-১ গোলের ব্যবধানে ইলেকট্রোসকে হারিয়ে স্পোকার্নিভাল ২.০-এর শিরোপা জয় করে লস অ্যাস্ট্রোস ২৩।

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন এবং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য তৈরি হয়। নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

খেলা শেষে রানার্সআপ ইলেকট্রোস ও বিজয়ী দল লস অ্যাস্ট্রোস ২৩-এর খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

এ খেলায় মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলেন দৈনিক আজকের কুমিল্লা, চ্যানেল বাংলাদেশ টিভি ও ডেইলি বাংলাদেশ মিরর

চার মাসে বিপিসির লোকসান প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত চার মাসে জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে সংস্থাটির যে বিপুল লোকসান হয়েছে, তা পূরণে সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। মার্চ থেকে জুন—এই চার মাসের লোকসানের হিসাব ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ অর্থ চেয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, বিপণন ও বিতরণের প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, জাহাজভাড়া, বীমা ও অন্যান্য আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে দেশের বাজারে বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যই মূলত প্রতিষ্ঠানটির লাভ-লোকসান নির্ধারণ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও কম থাকায় বিপিসি উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও যুদ্ধঝুঁকির বীমা ব্যয়ও বেড়ে যায়। অন্যদিকে দেশের বাজারে একই হারে দাম সমন্বয় না করায় আমদানি ব্যয়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রি করতে হয়েছে বিপিসিকে।

বিপিসির হিসাবে, যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল ডিজেল আমদানির গড় দাম ছিল প্রায় ৮৬ মার্কিন ডলার। জুনে তা বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে অকটেনের দামও ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলার থেকে বেড়ে ১০৪ ডলারে ওঠে। জুনের শেষদিকে বাজার কিছুটা স্বস্তি দিলেও জুলাইয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব বিপিসির ব্যয়ে সরাসরি পড়ে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল পরিবহনের ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া, বীমা ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি আমদানির কারণে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে ব্যাপকভাবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী দামের সময় বিপিসি সরকারের কাছে ভর্তুকির দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠিতে সংস্থাটি জানিয়েছিল, দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা আমদানিতে খরচ হচ্ছে ২০৩ টাকা ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে লোকসান দাঁড়ায় ১০৩ টাকা ৮৪ পয়সা।

অকটেনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি করা হলেও আমদানিতে ব্যয় হয় ১৫১ টাকা ৬১ পয়সা। ফলে প্রতি লিটারে লোকসান হয় ৩১ টাকা ৬১ পয়সা। ওই সময় দাম সমন্বয় না করা হলে বিপিসির সম্ভাব্য লোকসান ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল সংস্থাটি। পরে ১৯ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়।

তবে দাম বাড়ানোর পরও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বিপিসির লোকসান থামেনি। এ অবস্থায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের লোকসানের হিসাব করে নতুন করে ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৮ জুলাইয়ের চিঠি অনুযায়ী, মার্চে বিপিসির লোকসান হয়েছে ২ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। এপ্রিলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। মে মাসে লোকসান হয় ২ হাজার ৬২১ কোটি এবং জুনে ৫ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। চার মাসে মোট লোকসানের পরিমাণ ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও দেশের বাজারে সেই অনুপাতে মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। সরবরাহ নিশ্চিত রাখা এবং ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ না দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। তাই মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল কেনার বিপরীতে বিপিসিকে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিপুল লোকসানের মুখে পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপিসির আর্থিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি তেল বিক্রি করে সংস্থাটি ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ২৭৩ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬২ লাখ ১৫ হাজার ৯২৯ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫ লাখ ১০ হাজার ৯৪৪ টন অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৯৮৫ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে খরচ হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। ফার্নেস অয়েল ও মেরিন ফুয়েল আমদানিতে খরচ হয়েছে আরও ৩ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা।

২০১০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ২০২২ সালে ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে একবারে প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়। তখন বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর কথা বলা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিপিসির অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছেন, ভর্তুকির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো তার জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

বিপিসির সাম্প্রতিক মুনাফা নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ শুরু হওয়ার পর যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিপিসি সরকারকে ট্যাক্স ও ভ্যাট বাবদ প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের একটি তহবিলেও প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বিপিসির মুনাফার একটি বড় অংশ ভবিষ্যৎ প্রকল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুধু বিপিসির হিসাবেই চাপ তৈরি করেনি, বরং সরকারের রাজস্ব, ভর্তুকি এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

চান্দিনায় স্বামীর জানাজার পাঁচ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনায় স্বামীর জানাজার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে পরিবারের সদস্যদের সামনে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সালেহা বেগম (৫৬)। যে উঠানে স্বামীর জানাজার প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে যোগ হলো স্ত্রীর লাশও। একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হলো এই দম্পতিকে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দম্পতি হলেন- রাণীচড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার (৬১) ও তার স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৬)। এই দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন আব্দুস সাত্তার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে তার লাশ বাড়িতে আনা হয়। স্বজন ও এলাকাবাসী বাদ জোহর জানাজার সময় নির্ধারণ করে কবর খোঁড়াসহ দাফনের সব আয়োজন সম্পন্ন করে।

জোহরের নামাজের পর জানাজার আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি, ঠিক তখনই ঘটে এই ঘটনা। ঘরের ভেতর স্বামীর শোক সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সালেহা বেগম। একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের সন্তানরা।

একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় মাঠে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি বিনিয়োগে জোর সরকারের

বিশেষ প্রতিনিধি:

জ্বালানি তেল আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সংকটকালীন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) সেমিনারটির আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে চায়। প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিও জ্বালানি তেল বিপণন করছে। বাংলাদেশেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য তেল ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। মানুষকে আশ্বস্ত করার পরও অনেক পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে তেলের কালোবাজারি এবং অনলাইনে তেল বিক্রির ঘটনাও সামনে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি তেল ব্যবসায় বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইন বা নীতিমালা করা হবে, যা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়; বরং সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রেও এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সবাই ব্যবসার সুযোগ পায়।

জ্বালানি খাত নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে, তবে তা যেন দেশের স্বার্থের পরিপন্থী না হয় এবং সংকটকে আরও জটিল করে না তোলে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে আগ্রাসী পরিকল্পনা নিয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সুবিধা, পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক ও অপেক্স মডেলে রুফটপ সোলার স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি বিনিয়োগের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আরও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে পেট্রোনাসের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করে দেশে ফিরেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পেট্রোনাসের সহযোগিতায় ভোলার গ্যাস নিয়ে কার্যকর কিছু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও নগদ অর্থপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। সরকারের কারণে কোনো ব্যবসায়ীর নাম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তালিকায় উঠুক—এটি তিনি চান না।

এলএনজি সরবরাহে সাম্প্রতিক সমস্যার কারণে সারা দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার ওপর এর প্রভাব যাতে কম পড়ে, সরকার সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বর্তমান শিল্প সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিডিং রাউন্ড শুরু হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে অফশোর অনুসন্ধানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

শিল্পে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, প্রস্তাবটি কার্যকর এবং শিল্পের জন্য উপকারী হলে অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করা হবে না। সরকারের কাছে শিল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই অগ্রাধিকার।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই এড়ানো যেত। দেশে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।

এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ থাকলেই দ্রুত এলএনজি আমদানি বাড়ানো যায় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দরকার। একটি নতুন এফএসআরইউ চালু করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগতে পারে। তবে সরকার দুই বছরের কম সময়ে এটি কার্যকর করার চেষ্টা করছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ নিয়েও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং টার্মিনালের জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

এলপিজি খাতে সরকারের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সরকার বাল্ক এলপিজি আমদানি করে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল ব্যবহার করে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে চায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ রুফটপ সোলার এবং অবশিষ্ট অংশ ল্যান্ডবেজড প্রকল্প থেকে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু হয়েছে, যা নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অনশোর বিডিং রাউন্ড নিয়েও কাজ চলছে।

সেমিনারে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং একতরফা সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং সব ধরনের জ্বালানি উৎসকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক গড় ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে এফএসআরইউ ও এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। কারণ দেশের জ্বালানি সংকটের সঙ্গে ডলার সংকটও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্যানেল আলোচনায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান নেই। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা প্রয়োজন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে মৌলিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে বর্তমান সরকারকেও ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দাউদকান্দিতে গাঁজাসহ মাইক্রোবাস চালক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ৩৫ কেজি গাঁজা ও একটি টয়োটা হাইস মাইক্রোবাসসহ মো. ইব্রাহিম (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজার প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে ঢাকামুখী লেনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইব্রাহিম কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্যামবকসী এলাকার তাইজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, তাঁর চালিত মাইক্রোবাসের চালকের আসনের পেছনের সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় তৈরি বক্সে ১৪টি প্যাকেটে গাঁজা রাখা ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে আড়াই কেজি করে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৮১৮১ নম্বরের টয়োটা হাইস মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার পুলিশ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা বহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বুধবার দুপুরে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসআই অধীর চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।