একটি বিশেষ মুহূর্তে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যেহেতু এখন রাজনৈতিক সরকার নেই সেহেতু পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুতই হবে। এমন মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা মডেল মসজিদে আয়োজিত বন্যা দুর্গতদের জন্যে অবস্থিত সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্পে বন্যা দূর্গতদের মাঝে জরুরী চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান কর্মসূচীর পরিদর্শন করেন।
এসময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ আল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান আহমেদ, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা বেগমসহ সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বন্যার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ক্ষতির পরিমাণ দেখে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। এবার রাজনৈতিক আবহ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের প্রাপ্য পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুরে বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়ায়। গ্রাম পর্যায়ে এই রোগগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ অনেকসময় পাওয়া যায় না। এই পরিস্থিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ওষুধ প্রয়োজন।
গত ৫ই আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দুইপায়ে গুলিবৃদ্ধ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ফালগুনকরা গ্রামের মোঃ রিয়াদ হোসেনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে গণধিকার পরিষদ।
শনিবার বিকেলে গণঅধিকার পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পক্ষ থেকে রিয়াদের চিকিৎসা সহায়তায় নগদ অর্থ প্রধান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণঅধিকার পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক এন এ এইচ রাসেল বাঙালি, যুগ্ম সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সভাপতি এম এইচ তামজিদ, সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক বিষয়য়ক সম্পাদক নোমান রাজ, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ কবির খান, শুভপুর ইউঃ গনঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রিপন, যুব নেতা ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা মহিন উদ্দিন প্রমুখ।
মানুষ মানুষের জন্য এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাফরগঞ্জ গঙ্গামন্ডল রাজ ইনস্টিটিউটের এসএসসি ২০০১ ব্যাচের বন্ধুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্যা কবলিত এলাকা ব্রাহ্মণপাড়ার নাইগর, নোয়াপাড়া, সদরপাড়, টাটেরা গ্রামে উপহার সামগ্রী হিসেবে প্রায় ৪৫০ প্যাকেট বিরিয়ানি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, বাচ্চাদের খাবার বিতরণ করা হয়।
১২জন বন্ধুর সমন্বয়ে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই সময় তারা সাহেবাবাদ থেকে ট্রলারযোগে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে গ্রামের প্রতিটি পরিবারের হাতে হাতে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়।
এই ব্যাচের দেশ ও দেশের বাহিরের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত প্রতিটি বন্ধুর আন্তরিকতায়,সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্যা কবলিত পরিবারগুলোর নিদারুণ কষ্ট আর বিপর্যয় বিবেচনায় রেখে এই মানবিক কাজের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং উদ্যোগটি সুন্দরভাবে সফল করার জন্য সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
মানবিক এই আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শারীরিক, মানুষিক ও আর্থিক ভাবে সহযোগিতার জন্য আয়োজক বন্ধুরা সকলের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। আয়োজক বন্ধুদের মধ্যে আবু তাহের, ডা: কামরুল, মোজাম্মেল মাস্টার, সেলিম, সুমন, মিজান, বেলায়েত, জহিরুল, কামাল, পারভেজ, আজাদ, মোসলেম, কাজী সাইফুল ও ডাঃ মিজান উপস্থিত থেকে আজকের কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করেন।
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে দেবপুর ফাউন্ডেশন।
দেবপুর ফাউন্ডেশন ১০ সদস্যের একটি টিম গঠন করে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রতিদিন মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে দেবপুর ফাউন্ডেশন।
প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, তৈল, লবণ, বিশুদ্ধ পানির বোতল ও ঔষধসহ শুকনো খাবার উপহার স্বরুপ দেওয়া হয়। এ ছাড়াও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। দেবপুর ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান মনোহরগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণ।
দেবপুর ফাউন্ডেশন এর সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সাইমন বলেন, মান্ষু মানুষের জন্য, এমন দূর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে অসহায় মানুষের পাশে থাকাটা প্রতিটি বিত্তশালী মানুষের নৈতিক দ্বায়িত্ব, তিনি দেশের প্রতিটি সামাজিক সংগঠন, অর্থশালী মান্ষুদেরকে দূর্যোগ মোকাবেলা করার অনুরোধ জানান।
তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সহযোগিতায় সব সময় দেবপুর ফাউন্ডেশন থাকবে। যে কোন জায়গায় দূর্যোগ মোকাবেলায় দেবপুর ফাউন্ডেশন তাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
আ’লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আর রিয়াদের উদ্যােগে কুমিল্লার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার আট শতাধিক পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
আবদুল্লাহ আর রিয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের ছাত্রদলের সভাপতি৷
গেলো ক’দিন রিয়াদ নিউজ উদ্যােগে কুমিল্লা ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার মালা ইউনিয়ন,মশলাপুর, জগতপুর, উত্তর নাগাইশ, ঢেউশ, চৌব্বাশ ও আসাদনগর এলাকায় ত্রান বিতরণ করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে গুম করায় এ্যামিনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়। দলের জন্য ত্যাগী এই ছাত্রদল নেতা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে আমি আমার নিজ জন্মভূমি কুমিল্লায় বন্যাকবলিত ৮ শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করি। খাবারের পাশাপাশি , কাপড় ও ঔষধ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
রিয়াদ আরো বলেন, আগামীদিনের রাজনীতি হবে জনগণের রাজনীতি, জনগণের কল্যাণের রাজনীতি, ছাত্র ও জনতার মেলবন্ধনের রাজনীতি।
ভারতের উজান থেকে আসা পানির স্রোতে গোমতী নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গ্রামগুলোতে ধীরে ধীরে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে অন্তত ৪০টি পরিবারের বসত ভিটা গোমতী নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে আছে আরও অর্ধশত পরিবার। ভাঙন ঠেকানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের গোমতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তীরবর্তী বসতীরা বাঁশ, গাছের ডালা ফেলে কিছুটা রক্ষা হলেও এবার গত কয়েকদিনের বন্যার পানির স্রোতে গ্রামের অন্তত ৪০টি ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়ে অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ আবার আস্ত টিনের ঘরই সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যত্র।
আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়া বিল্লাল মিয়ার ভিটিপাকা ঘরটি কোন রকমে খুলে রক্ষা করলেও ভিটি এবং জমি রক্ষা করতে পারেননি। একই গ্রামের আব্দুস সালাম, আবুল হাসেম, বাদশা মিয়া, সাগর, মান্নান ও মনোয়ারার পরিবারের।
দিনমজুর আবুল হাসেম বলেন, আমার ঘর বাড়ী সব নদী নিয়ে গেছে। এখন মসজিদে কোন রকমে থাকি। ছেলে মেয়েরা অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। বাপ দাদা ভিটে মাটির কোন চিহ্নই এখন নেই, সবই গিলে খাইছে গোমতী।
একই গ্রামের মিজান মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, আমাদের তিনটি ঘর কোন রকমে খুলে অন্য জায়গায় নিয়ে রাখছি। কিন্তু ভিটেবাড়িটি রক্ষা করতে পারিনি। পাশের টিনসেট বিল্ডিংয়ে থাকতাম, এখন বিল্ডিং থেকে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি, আর বিল্ডিংয়ের আসবাবপত্র, টিনের চালসহ সকল মালামাল খুলে অন্যের বাড়ীতে রাখছি।
আবুল কাসেমের বিল্ডিংয়ের সামনের বসতঘর গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীর ভাঙ্গনে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন বালুর বস্তা ফেলে বিল্ডিং রক্ষার চেষ্টা করছি। পশ্চিম নারান্দিয়ার মসজিদ রক্ষার চেষ্টায় গ্রামবাসী মিলে টাকা তুলে বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন।
সবই গিলে খাইছে গোমতী
ক্ষতিগ্রস্ত নারান্দিয়া গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, দিন দিন বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক ঘর বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এখন মানবেতর অবস্থায় আছেন। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারগুলো।
নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকা বলেন, নারান্দিয়া গ্রামের গোমতী নদীর দুই পাড়ের প্রায় ৫০টি পরিবারের বাড়ী নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবার নিঃস্ব হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে উপজেলায় জমা দিয়েছি।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন বলেন, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। আর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান আজকের কুমিল্লাকে বলেন, ভাঙ্গনরোধে এবং নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাধগুলো পুনঃনির্মানের জন্য প্রকল্পের পূর্বশর্ত হিসেবে সমীক্ষা প্রকল্পের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাশ হলে সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গনরোধে কাজ সম্পাদন করা হবে।
তিতাসে ত্রাণ সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ধর্ষণে অংশগ্রহণকারী ৬ জন বখাটেকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের পর উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাসকান্দি বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
তিতাস থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী নারী ত্রাণ পাওয়ার আশায় দাসকান্দি বাজারে আসেন। সিএনজি চালক বাবু তাকে ত্রাণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দাসকান্দি বাজারের আলীনুর আলীর দোকানে বসিয়ে রাখে। সন্ধ্যা হলে অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এক ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের কাছে তথ্য পৌঁছে। শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত ৬ জনকে দাসকান্দি বাজারে ডাকা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে স্থানীয়রা তাদের বাজারে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ওসি আরও বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভিকটিমকে মেডিকেল চেকআপের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।