All posts by jitu

কুমিল্লায় বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় শোক পালনের নামে নৈরাজ্য করতে দেয়া হবে না। সে জন্য কুমিল্লা নগরীর টাউনহলসহ ২৭ ওয়ার্ডে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গেলো ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছাড়া কোথাও নেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা নগরীর রামঘাট এলাকায় মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। এছাড়াও নগরীর নজরুল এভিনিউস্থ মর্ডাণ স্কুলের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়।

নগরীর কান্দিরপাড়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা বক্তব্য রাখছেন। নেতাকর্মীরা দিনভর আজ অবস্থান করবে।

এদিকে ১৫ আগষ্টের ছুটি বাদ করার সরকারি প্রজ্ঞাপণ জারি হওয়ায় কুমিল্লা নগরীসহ জেলার সবকটি সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। সকাল থেকে জেলা প্রশাসক, আদালতপাড়ায় ব্যস্ততা ছিলো চোখে পড়ার মত।

হেলিকপ্টার থেকে গুলিতে শিশুদের নিহতের ঘটনায় হাইকোর্টের রুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে হেলিকপ্টার থেকে গুলিতে শিশুদের নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং নিহত শিশুদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ রুলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খোন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হেলিকপ্টারের গুলিতে নিহত প্রত্যেক শিশুর পরিবার ১ কোটি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। রিটে হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হয়।

তোপের মুখে ভিডিও সরিয়ে নিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ডেস্ক রিপোর্ট:

পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার নারী চিকিৎসককে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।

নিজের বানানো ভিডিওতে ধর্ষিতা তরুণীর নাম ফাঁস করে দেন তিনি। এরপরই তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এই ইউটিউবারকে। তোপের মুখে বাধ্য হয়ে ভিডিওটি ডিলিট করে দেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে নিভয়া-২ কাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ধ্রুব। কিন্ত কিছুক্ষণ পরই সেটাও ডিলিট করে দেন তিনি।

নেটিজেনদের মন্তব্য, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়ে সেই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন এই ইউটিউবার। আবার কারো দাবি, ধর্ষিতার নাম ফাঁস করে দেওয়ায় তোপের মুখে ভিডিও সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ধ্রুবকে কটাক্ষ করে একজন লিখেছেন, ‘এর আগে মোদী সরকার নিয়ে নানা বিরোধিতা মূলক পোস্ট করলেও মমতার সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর সাহস নেই। তাও নাকি লোকজন একে বিপ্লবী বলে!’

যদিও এই বিষয়ে সাফাই দিয়ে ধ্রুব জানিয়েছেন, নিহতের নাম তার পোস্টে নেওয়ায় অনেকে সেটার বিরোধিতা করেছেন বলে সেই পোস্ট সরিয়ে দিয়েছেন।

একজনের মন্তব্যের উত্তরে এই ইউটিউবার বলেন, ‘অনেকে আমার ভুল ধরিয়ে দিয়ে নিহত নারীকে নির্ভয়া ২ বলায় ইনসেনসিটিভ বলছেন। তাই ভাবলাম তারা হয়তো ঠিক। সে কারণেই ডিলিট করে দিলাম।’

ধ্রুব এদিন তার মূল পোস্টের ক্যাপশনেও ধর্ষিতার নাম ফাঁস করে দিয়েছিলেন।

গত ১৪ আগস্ট এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকের এই ধর্ষণ হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসকরা কোন পরিস্থিতিতে কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা কী আর কতটা সেটা এখান থেকেই বোঝা গেল। পশ্চিমবঙ্গের আইনের অবস্থাও বা কী সেটাও স্পষ্ট। আশা করব সিবিআই সঠিক তদন্ত করবে এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করবে।

তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে নেটিজেনরা ধ্রুবর সমালোচনায় মেতে ওঠেন। অনেকেই বলেন, এভাবে নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে এনে ধ্রুব আইনভঙ্গ করেছেন। এরপরই চাপে পড়ে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন।

কুবির কর্মচারী জসিমের বিরুদ্ধে আন্দোনলরত শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ

 

কুবি প্রতিনিধি:

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদের সভাপতি ও প্রকৌশল শাখার প্ল্যাম্বার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করার জন্য রেড সেল গঠন করেছিল কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ। গত ৪ আগষ্ট শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল করলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ তাদের উপর ওপেন ফায়ার ও লাঠিচার্জ করে। ওই মিছিলে দেশীয় অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের মারধর এবং ৩ আগষ্ট বিজয়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মিটিং করে শিক্ষার্থীদের দমন করার পরিকল্পনা করেন।

মিটিংয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে বিএনপি, জামাত-শিবির দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। তারা ছাত্র নয় অছাত্র কর্তৃক রাস্তা প্রতিবন্ধকতা, জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এই কাজ করার সাহস পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকার কারণে । প্রতি সেকশনে যদি ১২০০ স্টুডেন্ট ভর্তি হয়। প্রতি বছরে যদি আমরা ১০০ ছাত্রলীগ সৃষ্টি করতে পারি, ১০০ ছাত্রলীগ পাঁচ বছরে ৫০০ ছাত্রলীগ নেতা সেখানে সৃষ্টি হয়ে যায়। আর ৫০০ ছাত্রলীগের দু’জন করে কর্মী হলে হাজার-পনেরশ নেতা আমাদের ক্যাম্পাসে থাকত। এই পনেরশ নেতা যদি বাঁধা দিত শিক্ষার্থীরা বিশ্বরোডে আসতে পারত না। ছাত্রলীগ যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্কট সেখানে সারা দেশেই সঙ্কট।

সে সময় তাকে জাময়াত শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়; সারা বাংলা খবর দে, রাজাকারদের কবর দে; এই ধরনের স্লোগান দিতে ও দেখা যায়।

এ বিষয়ে জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমার নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি কখনো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলাম না। ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন এগুলো ফেইক ভিডিও। আমার নামে কিছু করিয়েন না।

এছাড়াও তার নামে কোন নিউজ না করার জন্য কুমিল্লা জেলা পেশাজীবি সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদকের কাছে কল দেন আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের গুন্ডারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন এবং জসিম নিজেও শিক্ষার্থীদের মারধর করছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন এর ৪৩ এর ৪ ধারায় উল্লেখ আছে ‘কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন না৷’ তিনি সংবিধান পরিপন্থী করে স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থী পাবেল রানা বলেন, যে শিক্ষক কর্মকর্তা বা কর্মচারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনে বাঁধা দিয়েছে তাদেরকে আমরা ক্যাম্পাসে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

চাঁদপুরে আত্মগোপনে আ.লীগ সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা : ব্যাহত নাগরিক সেবা

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের পরপরই স্থানীয় সরকারের অধীনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত অধিকাংশ মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে দেখা মিলছে না সাধারণ নাগরিকদের। ফলে প্রতিনিয়ত চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের।

তবে গত ৫ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান গণপিটুতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগপন্থি চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর পৌর মেয়র, কাউন্সিলর এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেখা মিলছে না সবকটি জায়গাতেই। অনেকস্থানে মেম্বারদেরও দেখা মিলছে না। এরমধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা।

অপরদিকে আত্মগোপনে থাকা জনপ্রতিনিধিদের স্বজনরা দাবি করে বলেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পরপরই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা টার্গেট করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের সম্পদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তাই নিরাপত্তাহীনতার কারণেই অনেকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছেন না। যেকারণে তারা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিক্ষোভদের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই সবকিছু ঠিক না থাকায় সেবা কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান আসলে সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা আত্মগোপনে থাকায় জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, নাগরিক সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সেবা পেতে ভূক্তভোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তাদের কার্যালয়ে যোগদানের জন্য ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকন বলেন, সরকার প্রধানের পদত্যাগের পরপরই ৫ আগস্ট আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আত্মগোপনে আছেন। পরিষদে আসেন না। পরিষদের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে পরিষদের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। খুব সহসাই এ পরিষদের সেবা কার্যক্রম চালু হবে।

জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে আছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটওয়ারী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সুমন ও পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল। এছাড়াও ইউনিয়নের মধ্যে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিন খান শামীম, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, কল্যাণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটওয়ারী, শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী, মৈশাদি ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, তরপুরচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী, বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বেলায়েত হোসেন বিল্লাল, বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্যা পাটওয়ারী, ইব্রাহীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম খান, চান্দ্রা ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী, হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তার রাঢ়ি ও রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সেবা প্রত্যাশীরা যাতে কোন দুর্ভোগে না পড়েন সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেসব জনপ্রতিনিধি উপস্থিত নেই তাদের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চৌদ্দগ্রামে গ্রাফিতিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন

 

স্টাফ রিপোর্টার :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে চলেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জনসচেতনতা মূলক প্রচারণ চালাচ্ছেন তারা।

মঙ্গল ও বুধবার (১৩ ও ১৪ আগস্ট) দুইদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, ভূমি অফিস, বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ এরিয়া জুড়ে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি সংগঠন এসব গ্রাফিতি আঁকছেন ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচি পালন করছেন।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ইমাম হোসেন,মোঃ আনাস,জাহিদ হাসান পাপ্পু, রাকিব,রাশেদুল,সাকিব,মারুম,মিল্টন,ইমন,মাইনউদ্দিন,সিফাত,লিলি কর, দীপা মজুমদার,তৃশা পাল,স্বর্ণা দত্ত,সাবরিনা সাদিয়া,কানিজ ফাতেমা সহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

স্বেচ্ছাসেবীরা রংতুলিতে দেয়ালে দেয়ালে সাম্প্রতিক আন্দোলনের নানা স্লোগান ফুটিয়ে তুলেছেন। আঁকা হচ্ছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে উপজীব্য করে নানা চিত্রকর্ম।

দেয়ালে দেয়ালে লিখা হচ্ছে ‘ধর্ম যার যার দেশ সবার’ ধর্মীয় সম্প্রীতির এই বার্তা, ধর্মীয় প্রতীক চাঁদ তারা ও ক্রস, বাংলাদেশের মানচিত্র এমন নানা লেখায় রঙিন হয়ে উঠেছে দেয়াল। গ্রাফিতি আঁকায় অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন বলেন, শুধু বাক স্বাধীনতা নয়, দেশ সংস্কারের জন্যও কাজ করব আমরা। স্বেচ্ছাসেবী মিজান ভূঁইয়া বলেন, সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ছাত্রসমাজ।

১০ দিনের রিমান্ডে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে (২৪) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিউমার্কেট থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পাপোশের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান।

গত ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পাপোশের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম (৪৫) একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয়।

এ মামলার অভিযোগে আয়শা বেগম বলেন, আমার ছেলে শাহজাহান আলী নিউমার্কেট থানার মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের গলির মুখে পাপোশের দোকানে কাজ করতো। প্রতিদিনের মতো ১৬ জুলাই সকাল ৯টার দিকে দোকানে কাজ করার জন্য যায়।

ওইদিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি ছেলের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে জানায়, শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি। আমি সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পপুলার হাসপাতালে যাই এবং জানতে পারি, আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই এবং মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করি।

তখন বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারি, গত ১৬ জুলাই আমার ছেলে অজ্ঞাতপরিচয় কোটাবিরোধীদের কর্তৃক গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে নিউমার্কেট থানাধীন মিরপুর রোডের টিটি কলেজের বিপরীত পাশে কাদের আর্কেড মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে ছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা আমার ছেলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে; ফলে আমার ছেলে রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। উপস্থিত পথচারীরা তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ছেলের অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

মামলার বাদী আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছেলেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোটা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জবি শিক্ষার্থী মারা গেছেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদ মারা গেছেন।

বুধবার বিকাল সোয়া দুইটায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরী। সাজিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কোষাধ্যক্ষ বলেন, সাজিদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। ছেলেটা আর আমাদের মাঝে নেই। ওর বাবা-মা এই শোক কিভাবে সামলাবে! তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

এদিকে সাজিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই দায়ী সবার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফ্যাসিজমের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, টু জিরো টু ফোর, ফ্যাসিজম নো মোর, বিচার বিচার বিচার চাই, খুনি হাসিনার বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিন আলম সান বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না। সাজিদের মৃত্যুতে জড়িত সবার বিচার চাই আমরা। সাজিদের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা জবিয়ানরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এর আগে গত ৪ আগস্ট সাজিদ রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

গণহত্যার অপরাধে শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত বাগেরহাটের আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবিরের পক্ষে অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম বুধবার (১৪ আগস্ট) এ অভিযোগ দায়ের করেন।

একই অপরাধে ব্যক্তির পাশাপাশি দল এবং সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে লিখিত অভিযোগে।

ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থা অভিযোগটি তদন্ত করবে এবং সত্যতা পেলে মামলা করার সুপারিশ করবে। এরপর এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

এছাড়া রয়েছেন— পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ।

এসব আসামির পাশাপাশি নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।