All posts by jitu

রাজাকারের সন্তান বলে স্লোগান দিতে লজ্জা করে না: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কোটাবিরোধী আন্দোলনে হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রোববার রাতে। এদিন বিকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকার ইস্যু নিয়ে। সরকারপ্রধানের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের রাজাকার ঘোষণা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’, ‘কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার’, ‘রাজাকার আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’-সহ বিভিন্ন স্লোগান।

বিভিন্ন ক্যাম্পাসের এ উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে এবার বিক্ষোভকারীদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিক্ষোভের স্লোগানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড আইডি থেকে রোববার রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ শে মার্চ ছাত্র শিক্ষকদেরকে গণহত্যা করেছে রাজাকাররা, সেই রাজাকারের পক্ষে রাজাকারের সন্তান বলে স্লোগান দিতে লজ্জা করে না?’

এরপরে রাত ১২টা ৫৪ মিনিটে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে লিখেন, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি। তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা।’

পরবর্তীতে রাত ১টা ১৫ মিনিটে তিনি আরও একটি ছবিসহ পোস্ট শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার। তোরা যারা রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।’

এদিকে ঘটনার সূত্রপাত রোববার বিকালে গণভবনে চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে। যদিও কয়েক দিন ধরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথ উত্তাল করে রেখেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? তাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এটা আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। তাদের অপরাধটা কী? নিজের জীবন বাজি রেখে, নিজের পরিবার সব ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, দিন-রাত খেয়ে না খেয়ে, কাদামাটি পেরিয়ে, ঝড়বৃষ্টি সব মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয় এনে দিয়েছে বলেই তো আজ সবাই উচ্চপদে আসীন। আজ গলা বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে। তা না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে থাকতে হতো।’

কী ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান, এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই দেশে রাজাকারের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, সরকারবিরোধী নয়।

সোমবার (১৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ‘রাজাকার’ সংক্রান্ত যে স্লোগান ব্যবহার করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল (রোববার) রাতে যে ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এটা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই দেশে রাজাকারের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, সরকারবিরোধী নয়। একই সঙ্গে সেখানে সরকারবিরোধী এবং প্রধানমন্ত্রী বিরোধীও স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, কোটা আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা ঢুকেছে এবং তাদের তৈরি কিছু মানুষ সেখানে নেতৃত্বে দিচ্ছে। সেটি তারা কালকে স্পষ্ট করেছে। কালকে কী ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এতে প্রমাণিত হয়— এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন নয়; এটিকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, কিছু নেতৃত্ব এবং বাহির থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে। সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, আদালতে কোনো বিচারাধীন বিষয় সরকার সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আদালতে এটি নিষ্পত্তি হওয়ার পর সরকারকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে, এটি স্পষ্ট। এরপরও এ ধরনের স্লোগান দেওয়া এবং আন্দোলন করা…।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে রাজনীতি ঢুকে গেছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, এটির মধ্যে রাজনীতি ঢুকেছে। আমরা দেশকে কখনও অস্থিতিশীল করতে দেব না। আমাদের সরকার অনেক শক্তিশালী সরকার। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগ নিয়ে খেলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেব না।

চৌদ্দগ্রামে ভেন্টিলেটর ভেঙে পুলিশ হেফাজত থেকে পালাল কিশোর

ডেস্ক রিপোর্ট:

চট্টগ্রামের একটি আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরে কিশোর সংশোধনাগারে ফেরার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রা বিরতির সময় টয়লেটের ভেন্টিলেটর ভেঙে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়েছে জাহিদ হাসান নামে এক কিশোর অপরাধী।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ডলি রিসোর্ট নামের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

কিশোর জাহিদ হাসান দাউদকান্দি উপজেলার দত্তবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ত্রিনাথ সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জাহিদ হাসান চট্টগ্রাম ডবলমুড়িং থানার একটি চুরির মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। আদালতের নির্দেশে তাকে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে হেফাজতে রাখা হয়। রোববার চট্টগ্রামের আদালতে তার মামলার হাজির হওয়ার তারিখ ছিল।

হাজিরা শেষে তাকে নিয়ে গাজীপুরের মেট্রোপলিটন পুলিশের হাবিলদার কামরুল ও কনস্টেবল নজরুল একটি বাসে করে পুনরায় গাজীপুর নিয়ে যাচ্ছিল। বিকেল ৫টায় মহাসড়কের ডলি রিসোর্টে যাত্রাবিরতি করে বাসটি।

এ সময় কিশোর জাহিদ হাসান টয়লেটে প্রবেশ করে। দীর্ঘক্ষণ বের না হওয়ায় পুলিশ দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।

কৌশলে সে টয়লেটের ভেন্টিলেটর খুলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কিশোর জাহিদ হাসানকে হেফাজতকারী গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্য মো. কামরুল বলেন, চট্টগ্রামের আদালত থেকে হাজিরা শেষে গাজীপুরে কিশোর সংশোধনাগারে নেওয়ার পথে বাসটি হোটেল ডলিতে যাত্রাবিরতি করে।

তিনি বলেন, এ সময় কিশোর জাহিদ হাসান টয়লেটে যাওয়ার কথা বললে আমরা তাকে অনুমতি দেই। কিন্তু সে কৌশলে বাথরুমের ভেতরে জানালা সদৃশ্য ভেন্টিলেটর খুলে পালিয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের একাধিক টিম কিশোর জাহিদ হাসানকে আটক করতে কাজ শুরু করেছে। এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি।

সেই ৪০০ কোটি টাকার সাবেক পিয়নের ব্যাংক হিসাব জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে টানা দুই মেয়াদের পাশাপাশি গত মেয়াদেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চাকির হারান তিনি। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দুর্নীতির বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়ার পরই আলোচনায় আসে কে এই ৪০০ কোটি টাকার পিয়ন। বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে তাদের হিসাব খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব থাকলে সেসব হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ২৩ (১) (গ) ধারার আওতায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

গতকাল (রোববার) চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে নিজের বাসার সাবেক এক কর্মীর অর্থসম্পদের বিষয়টি সামনে আনেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে, এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। বাস্তব কথা, কী করে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের নাহারখিল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এর আগে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। বলা হয়, তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্পর্ক নেই।

সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, কুমিল্লায় কর্মকর্তার ৫ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় সরকারি একটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের এক সমন্বয়কারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আত্মসাৎ করা ৩০ লাখ ৬০ হাজার ৮৫১ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

রোববার (১৪ জুলাই) কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বেগম সামছুন্নাহার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তি আদালতে না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত)। তিনি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লক্ষণ খোলাম গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

মামলার বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়ক ছিলেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ৩২ লাখ ১৬ হাজার আটশ টাকার প্রতারণা ও আত্মসাৎ করেন বলে অডিটে ওঠে আসে। এবিষয়ে মেঘনা উপজেলা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাঠ সহকারী মোখলেসুর রহমান দুর্নীতি দমন আইনে বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের বর্তমান উপ-পরিচালক মোহা. নুরুল হুদা তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই মামলার রায় ঘোষণা হয় রোববার।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুমিল্লা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, শুনানি শেষে আদালত সাইফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ ৬০ হাজার ৮৫১ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন আদালত।

বিদায়ী ম্যাচে কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় ডি মারিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেশ আগেভাগেই এবারের কোপা আমেরিকা শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছিলেন আনহেল ডি মারিয়া। ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনও অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে নেয়। দেয় বিদায়ী উপহার, বিশেষ জার্সি। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রায় প্রতিটি ফাইনালের মতো নেমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন ‘মিস্টার ফিদেও’। কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পর ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কারও ডি মারিয়াই পেলেন।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার ফাইনাল যে উত্তাপ ছড়াবে সেটি আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। সেই উত্তাপ-রোমাঞ্চ থেকে উত্তেজনায় পরিণত হয় কলম্বিয়ার উগ্র সমর্থকদের আচরণে। বিনা টিকিটে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে তুলকালাম বাধিয়ে ভেঙে দেয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এরপর দুই দলের সমর্থকদের ছুটোছুটি, উগ্রপন্থীদের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের চড়াও হওয়া মিলিয়ে ম্যাচ শুরু হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর। এরপর দু’দলের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৯০ মিনিটেও থাকে গোলশূন্য।

সেই ডেডলক ভেঙেছে ম্যাচের ১১২তম মিনিটে। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা লাউতারো মার্টিনেজ নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। সেই লাউতারোই ফাইনালে এনে দিলেন লিড। দুর্দান্ত এক শটে ভাঙলেন ডেডলক। মাঝমাঠ থেকে তাকে থ্রু বল পাঠিয়েছিলেন জিওভানি লো সেলসো। বদলি নামা এই মিডফিল্ডারের পাস খুঁজে নেয় মার্টিনেজকে। সেখান থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে বল জালে পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। আর তাতেই দীর্ঘ গোলের অপেক্ষার অবসান ঘটে আর্জেন্টিনার, আর তিক্ত হারের পথে এগোতে থাকে কলম্বিয়া। একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে কোপায় আর্জেন্টিনার রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৬তম শিরোপা জয়ের অভিনন্দনের পর বড় স্ক্রিনে নাম ওঠে ডি মারিয়ার। কারণ তাকেই যে ম্যান অব দ্য ফাইনাল ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও কোপা আমেরিকার ফাইনালে তিনি কোনো গোল পাননি, তবে ক্রমাগত আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে সামনে থেকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই মঞ্চ তৈরি হয় আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৬৬ মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়ায়। ফুটবলবিধাতা হয়তো এভাবেই ডি মারিয়ার বিদায়ের স্ক্রিপটা লিখেছিলেন।

বাঁ-পায়ের এই জাদুকরের পা থেকে কোনো অ্যাসিস্টও আসেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের পর থেকে ক্রমাগত কলম্বিয়ার রক্ষণে তিনি হানা দিয়ে এক প্রান্ত ব্যস্ত রেখেছিলেন। যা হরহামেশা আর্জেন্টিনাকে লিড নেওয়ার মতো সুযোগ এনে দিচ্ছিল। সে কারণেই কিংবা বিদায়ী ম্যাচ, সাম্প্রতিক সময়ের কোনো ম্যাচে সবচেয়ে লম্বা সময় মাঠে থাকলেন ডি মারিয়া। এরপর কান্নাভেজা চোখের এই তারকাকে স্কালোনি যখন তাকে তুলে নিয়েছেন, ততক্ষণে প্রায় জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে আলবিসেলেস্তেদের।

ডি মারিয়া বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনার হয়ে ষষ্ঠ কোনো মেজর টাইটেল জিতেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জিতেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে।

কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোপার শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২১ সালের আসরে ব্রাজিলকে ১ গোলে হারিয়ে ১৫তম কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার কলম্বিয়াকেও ম্যাচের একমাত্র গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখলো আর্জেন্টিনা।

কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ফাইনালে খেলার মূল সময়ে অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া। অতিরিক্ত সময়েরও ২২ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। ততক্ষণে সবাই টাইব্রেকারের প্রহর গুনছিল। অবশেষে ১১২ মিনিটের গোলের মুখ দেখলো চলতি কেপার ফাইনাল। আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। এতে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার।

আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলার মূল সময় শেষেও পরিসংখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান কোপা চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ ও লক্ষ্যে শট নেওয়ায় এগিয়ে কলম্বিয়া।

এদিন টিকিট ছাড়াই দর্শকদের মাঠে ঢুকে পড়ার কারণে সময় মতো খেলা শুরু করতে পারেনি আয়োজকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তারা। অবশেষে সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচটি শুরু হয় ৭টা ২৫ মিনিটে।

শুরুতেই আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম মিনিটে গঞ্জেলো মনটিয়েলের ক্রস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের হেড গোলবারের বাঁপাশ মিস করে বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৫ মিনিটে লুইস দিয়াজ ও ১৩ মিনিট কার্লোস কুয়েস্টা কলম্বিয়ার হয়ে দুটি আক্রমণ করে।

২০ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বাঁপায়ের শট নেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির শট সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস।

৩২ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ করে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা সেটি ব্লক করে দিলেও কর্নার পেয়ে যায় কলম্বিয়া। তবে কর্নার কিক থেকে বল তালুবন্দি করে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এর ৩ মিনিট পর ফের আক্রমণে আসে আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ভেতরে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ড্রিবলিং করে বল নিয়ে আগানোর চেষ্টা করছিলেন মেসি। শেষ পর্যন্ত আর লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় মাঠের বাইরে। চোটও পেতে হয় মেসিকে। তবে মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি।

৪০ মিনিটে রড্রিগেজের ক্রস থেকে হেড নেন কলম্বিয়ার জন অ্যারিয়াস। তবে ডানপাশ দিয়ে বল চলে যায়। ৪২ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে কিক নেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনার নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোর হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। অবশেষে গোল না করেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেই আক্রমণ কলম্বিয়ার। ৪৭ মিনিটে সান্তিয়াগো অ্যারিয়াসের ডান পায়ের দ্রুতগতির শট গোলবারের ডানপাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে যায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অ্যাসিস্ট থেকে ডি মারিয়ার করা বাঁপায়ের শট সেভ দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক।

৫৪ মিনিটে গোল করার আরেকটি সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ডেভিনসন সানচেজের হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। কর্নার কিক থেকে হেড করে তাকে অ্যাসিস্ট করেছিলেন জন কর্ডোবা।

৬৪ মিনিটের ঘটনা হয়তো আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য দুঃসহ স্মৃতি হয়ে থাকবে। আক্রমণভাগে যখন দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা তখনই ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে। নিজেই দৌড়াতে গিয়ে ইনজুরি হয়েছেন। তারকা এই ফুটবলারের চোট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রায় বেরিয়ে আসছিল।

মেসিকে অবশ্য কেউ ফাউল করেনি। এরপর আর তাকে মাঠেই রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বদলি হিসেবে নিকোলাস গঞ্জালেজকে মাঠে নামান তিনি।

কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হলে কত পাবে আর্জেন্টিনা?

ডেস্ক রিপোর্ট:

আর একটা ম্যাচ। জিতলেই প্রথম লাতিন দল হিসেবে ইতিহাস গড়বে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারাতে পারলেই লাতিন আমেরিকার প্রথম দল হিসেবে কোপা-বিশ্বকাপ-কোপা জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। শুধু রেকর্ডই নয়, ফাইনাল জিতলে মোটা অঙ্কের অর্থও পকেটে ঢুকবে আলবিসেলেস্তেদের।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৬ দলের কোপা আমেরিকার প্রাইজমানি এবার বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কোপার প্রাইজমানি ধরা হয়েছে ৭২ মিলিয়ন ডলার, যা কিনা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪৬ কোটি টাকা।

এর মধ্যে অবধারিতভাবে চ্যাম্পিয়ন দলের পকেটেই ঢুকবে সবচেয়ে বেশি অর্থ। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৮৮ কোটি টাকা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানির চেয়ে যা প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে রানার্সআপ দল পাবে ৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭০ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেওয়া উরুগুয়ে পাবে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। চতুর্থ হওয়া কানাডার পকেটে ঢুকবে ৪৭ কোটি টাকা।

এছাড়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সব দল ২৩ কোটি টাকা করে পাবে। টুর্নামেন্টে হোটেল ও পরিবহন খরচের পুরোটাই প্রদান করেছে লাতিন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনমেবল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬ টায় শুরু হবে কোপা আমেরিকার ফাইনাল। ম্যাচে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়া।

অনন্ত-রাধিকার বিয়েতে দুই কোটি রুপি মূল্যের সোনার ঘড়ি পেলেন বরযাত্রীরা

বিনোদন ডেস্ক:

গত ১২ জুলাই মুম্বাই শহরে অনন্ত-রাধিকার বিয়েতে দেশের তারকারা ছাড়াও বিদেশ থেকে সব নামীদামী তারকারাও এসেছিলেন। এতো পুরোন খবর। নতুনও চমকপ্রদ খবর হলো, অনন্ত তার বিয়েতে আগত কাছের বন্ধুদের জন্য এক বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেন। যার দাম প্রায় ২ কোটি টাকা।

অনন্ত আম্বানির বরযাত্রী হিসেবে প্রথম থেকে শেষ অবধি নেচেছেন শাহরুখ খান, রণবীর সিংহ, হার্দিক পাণ্ড্য, শিখর পাহাড়িয়ার মতো তারকারা। সেই খুশিতেই বন্ধুদের ২ কোটি টাকা মূল্যের হাতঘড়ি উপহার দিয়েছেন মুকেশ-পুত্র অনন্ত।

তার তরফ থেকে ‘রয়্যাল ওক