All posts by jitu

রাশিয়া-চীন-ভারতসহ উন্নত দেশ থেকে সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নকল্পে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও ভারতসহ সমরাস্ত্র শিল্পে উন্নত বিভিন্ন দেশ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় কার্যক্রম চলমান, যা ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান তিনি। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাহিনীগুলোর গঠন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমানে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান। ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে সরকার রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ভারতসহ সমরাস্ত্র শিল্পে উন্নত বিভিন্ন দেশ হতে সমরাস্ত্র ক্রয় কার্যক্রম চলমান, যা ভবিষ্যতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর জন্য যেসব উন্নত সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে, কাসা ইউটিলিটি বিমান, ডলফিন ইউরোকপ্টার, ডায়মন্ড প্রশিক্ষণ বিমান, এমবিটি-২০০০ ট্যাংক, ভিটি-ফাইভ লাইট ট্যাংক, আর্মার্ড রিকভারি ভেহিক্যাল, সেলফ প্রপেল্ড (এসপি) কামান, অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, মাইন-রেজিস্ট্যান্ট অ্যাম্বুশ প্রোটেক্টেড ভেহিক্যাল, আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল, সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম, আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, রাডার কন্ট্রোল এয়ার ডিফেন্স গান সিস্টেম, নাইট ভিশন মনোকুলার, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জামাদি উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা এবং সম্পদ রক্ষার বিষয়ে সরকারের প্রথম মেয়াদ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক সাবমেরিন, ক্যাসল ক্লাস জাহাজ, ফ্রিগেড, করভেট, সমুদ্র জরিপ জাহাজ, লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট, মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ার ক্রাফট এবং মেরিটাইম হেলিকপ্টারসহ অত্যাধুনিক নৌযুদ্ধ সরঞ্জাম বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে।

একই সঙ্গে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য ডাইভিং বোট, ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি, রিমোট কন্ট্রোল গান, আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম ইত্যাদিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি, নেটওয়ার্ক হাব স্টেশন, টেকটিকেল ফায়ারিং রেঞ্জ, লং রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স ও সার্ভিলেন্স রাডার, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আইএফএফ সেন্টার গঠনের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন যুগোপযোগী কার্যক্রম অব্যাহত আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য এমআই জি-২৯, ইয়াক-১৩০ এবং এফ-৭ বিজি-১ যুদ্ধ বিমান, সি-১৩০ জে এবং কে-৮ বিমান, এমআই১৭১ হেলিকপ্টারসহ অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা হয়েছে। এ সকল আধুনিকায়নের ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক ও চৌকস বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের কথা মতোই চলে ক্রিকেট, ওদের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে?

ডেস্ক রিপোর্ট:

ক্রিকেটে একক আধিপত্য বিস্তার করছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারতের কথা মতোই চলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসসি)।

ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস কারো নেই। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করে না।

ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য নিয়ে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ক্রিস গেইল।

তিনি বলেছেন, ‘কেউ ভারতের উপর কথা বলতে পারে না। ক্রিকেটটা ভারতই চালায়। কে বলবে ভারতের বিরুদ্ধে কথা? ভারতকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা কার আছে? কারোই নেই।’

ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার আরও বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সময় অন্যকোনো খেলা হয় না। আইপিএলের সময়ও একই হওয়া উচিত। আইপিএলে যদি বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের খেলাতে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সেসময় থাকলে হবে না। এত বড় একটা প্রতিযোগিতার মাঝখান থেকে ক্রিকেটারদের চলে যাওয়া ঠিক নয়। এর ফলে একটি দল বাড়তি সুবিধা পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইপিএল যখন চলে তখন দেখা যায় দেশের হয়ে খেলার জন্য ক্রিকেটাররা চলে যাচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আইপিএল হলে শুধু সেটাই হওয়া উচিত। সেই সময় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হওয়া ঠিক না। এর ফলে ভারতেরই লাভ হচ্ছে। ওদের ক্রিকেটাররা পুরো আইপিএল খেলতে পারছে। ওরাই সুবিধা পাচ্ছে। এমন হওয়া ঠিক না।’

সূত্র: যুগান্তর

অতিরিক্ত গরমে গলে গেছে আব্রাহাম লিঙ্কনের ভাস্কর্য

ডেস্ক রিপোর্ট:

অতিরিক্ত গরমে গলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের একটি মোমের ভাস্কর্য। ওয়াশিংটন ডিসিতে তৈরি করা হয়েছিল ৬ ফুট লম্বা এ ভাস্কর্যটি। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে তীব্র তাপপ্রবাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তাপমাত্রা বেড়ে একদিন ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এতে করে ক্যাম্প বার্কারে অবস্থিত মোমের ভাস্কর্যটি গলে যায়। আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় ক্যাম্প বার্কারে একটি শরণার্থী ক্যাম্প খোলা হয়েছিল। যেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া আফ্রিকান আমেরিকানদের।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথমে ভাস্কর্যটির মাথাটি তাপের কাছে হার স্বীকার করে। এরপর গলে যায় এটির পা। তবে ইতিমধ্যে এটি ঠিক করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

যেখানে ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়েছিল সেখানে এখন একটি রেপ্লিকা ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে।

ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিল্পী স্যান্ডি উইলিয়ামস। তিনি মোমের বেশ কয়েকটি (সিরিজ) ভাস্কর্য বানিয়েছিলেন। এই সিরিজের অংশ হিসেবে বানানো হয়েছিল আব্রাহাম লিঙ্কনের ভাস্কর্যও। এরপর এটি স্থাপন করা হয় ক্যাম্প বার্কারে। বর্তমানে সেখানে একটি স্কুল রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

হোমনায় সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার হোমনায় সাপের কামড়ে তানজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের নিজ বাড়িতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তানজিনাকে সাপে কাটে। দুপুরের দিকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

তিনি হোমনা উপজেলার গোয়ারি ভাঙ্গা এলাকার আলী আহমেদের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে তাদের নিজ বাড়িতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তানজিনাকে সাপে কাটে। তবে সাপটিক কোন প্রজাতির তা জানাতে পারেনি কেউ। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাপে কাটা তানজিনাকে এন্টিভেনম দেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তার পরিবার সেটি না মেনে তাকে জোরপূর্বক এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো কাজ না হওয়ায় আবার হাসপাতালে ফেরার পথে তার মৃত্যু হয়।

তানজিনার স্বামী আলী আহমেদ জানান, সকাল আনুমানিক ৭ টায় নিজ বাড়ির বিছানাতেই শুয়েছিল তানজিনা। এই সময় তার বাম পায়ে আঙ্গুলে সাপের ছোবল টের পায়। উঠে খাটের নিচে তাকাতেই কালো রঙের একটি সাপকে চলে যেতে দেখে। পরে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সকাল আটটায় নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঔষধ দেওয়ার পর সেখান থেকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে ‘পানপড়া’ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেলে সেখান থেকে তানজিনাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফেরার পথে তানজিনার শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি ঘটলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

আলি আহমেদ জানান, কি সাপে কেটেছে বলতে পারছিনা। তবে সাপটি কালো রঙের ছিল। স্থানীয়রা এধরনের সাপকে কালি ফানক নামে ডাকে।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, সাপে কাটা রোগী তানজিনা আসার পর তাকে অ্যান্টি ভেনম এর ডোজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকাকালীন সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে এক কবিরাজের কাছে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে শুনেছি তাকে মৃত অবস্থায় আবার হাসপাতালে আনা হয়েছে।

সাপটি কি ধরনের সেটি তিনি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি। তবে তিনি জানান, তানজিনাকে কেটেছে তা বিষধর ছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম জানান, তানজিনাকে যখন নিয়ে আসে তখন তার শরীরে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গও দেখা গেছে। তার চোখের পাতা বারবার পড়ে আসছিল এবং গলা শুকিয়ে আসছিল। চিকিৎসকরা তাকে এন্টিভেনম দেয়ার মাঝামাঝি সময়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে যায়। পরে আবার হাসপাতালে আনলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

জানা গেছে, কুমিল্লা অঞ্চলে কাল কেউটে বা কাল নাগিন সাপকে কালী ফানক হিসেবে চেনা হয়।

কুমিল্লায় সমাজকর্মী হত্যা মামলায় ৬ জনের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্ট:

২০১১ সালে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ার ছোট ধুশিয়া এলাকায় সমাজকর্মী নুরুল হক হত্যা মামলায় ৬ জনকে মৃত্যদন্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা চর্তুথ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো: মাসুম (পলাতক) তাজুল ইসলাম (পলাতক) মোহাম্মদ মোস্তফা (পলাতক), আব্দুল কাইয়ুম (উপস্থিত) আব্দুল কাইয়ুম (পলাতক), তবদল হোসেন (উপস্থিত)

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ নানু মিয়া (উপস্থিত), মোঃ আব্দুল মতিন (উপস্থিত), মাইদুল ইসলাম (পলাতক)
বাবুল মিয়া (উপস্থিত) শফিকুল ইসলাম (উপস্থিত), মোসলেম মিয়া (উপস্থিত), শফিকুল ইসলাম (উপস্থিত), মো: হেলাল (উপস্থিত), মো: বেলাল (পলাতক), আব্দুল আওয়াল (উপস্থিত)

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সমাজকর্মী নুরুল হক এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকতেন এবং সমাজের সালিশ করতেন। মামলার প্রধান আসামী মাসুমের সাথে স্থানীয় ফরিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। প্রধান আসামী মাসুম দীর্ঘদিন ধরে ফরিদ মিয়ার ১২ শতক জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করে আসছিলেন। পরে নূরুল হক সালিশের মাধ্যমে ফরিদ মিয়ার ১২ শতক জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য মাসুমকে বিপক্ষে রায় দেয়। এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয় মাসুম।

২০১১ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় কুমিল্লা থেকে বাড়িতে ফেরার পথে সবুজপাড়া শিলদাই রাস্তায় পৌছালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে রিক্সাযোগে আসামীরা ঘটনাস্থলে এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নুরুল হকের উপর অর্তকিত হামলা করে। মামলার প্রধান আসামী মাসুম ভল্লম দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য নুরুল হকের বুকে ৪ বার মারাত্মকভাবে জখম করে। আসামী তাজুল ইসলাম, মোস্তাফা, সুমন মাস্টারসহ অন্যান্য আসামীরা মিলে নুরুল হকের শরিরের বিভিন্ন অংশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় নুরুল হক। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই ঘটনায় নিহত নুরুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৭ই ফেব্রুয়ারী ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামায় আরো ১০/১৫ জন আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নুরুল হক হত্যা মামলার এজাহারে মোট ২২ জন আসামি ছিল। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। রায় প্রদানের সময় আদালতের এজলাসে ১১ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন, অপর ৭ আসামি পলাতক রয়েছে। মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে ২ আসামি মৃত্যুবরণ করেন এবং ২ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন বিচারক। এ মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে সমবায়ী নিয়ে যৌথ সভা ও ই-প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির ম্যানেজারদের সমন্বয়ে সমবায়ীদের নিয়ে মাসিক যৌথ সভা ও ই-প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে সমিতির ম্যানেজারদের মাঝে পারিতোষিক ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিসোর্সপারসন হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি) ৩য় পর্যায় (১ম সংশোধিত) বার্ড (পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ) এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি-উপসচিব) ড. গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় অফিসার ভূঁইয়া শাহীনুর রহমান এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা সমবায় কার্যালয় এর পরিদর্শক এবিএম আবুল কালাম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেন, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির ম্যানেজার মো: মমিনুল ইসলাম মজুমদার, মো: আব্দুল মমিন, তফুরা বেগম প্রমুখ। এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির ম্যানেজার সহ সমবায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীতে ঋণের চাপে চিরকুট লিখে আ.লীগ সভাপতির আত্মহত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সেনবাগে গলায় ফাঁস দিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুর সোয়া ‌১২টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এর আগে, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দীঘির পাড় এলাকার মজুমদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত কামাল উদ্দিন মজুমদার (৬৫) উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দীঘির পাড় এলাকার মজুমদার বাড়ির মৃত ছলিম উদ্দিন মজুমদারের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন।

কেশারপাড় ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলেক হোসেন বলেন, ঋণের চাপে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। চিরকুটে তিনি ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে গেছেন।

কেশারপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.বেলাল ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মূলত তার পিছনে তার পরিবারে হাল ধরার মত আর কেউ ছিলনা। তার আয়-রোজগারে সংসার চলত। ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেন।

সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, কামাল মজুমদার পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের সামনে কাঁঠাল গাছের সাথে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার স্বজনদের কাছে ছয় পৃষ্টার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঋণের চাপ ও অভাব অনটনকে দায়ী করা হয়েছে। তবে চিরকুট নিহত কৃষকের হাতের লেখা কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। আজকে তার এক লক্ষ টাকার ওপরে ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

এসআই জাকির হোসেন আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে সড়কে চাঁদাবাজি: নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা নেওয়ার সময় ৩৪ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। এ এসময় চাঁদা আদায়ের নগদ ৯৮হাজার ৫১৫ টাকা, ৩৪টি মোবাইল, লাঠিসোঁটা এবং বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের রশিদ জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ। এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে জেলার সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় এসব অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা চাঁদাবাজির সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তারা নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাইজদী বাজার, দত্তেরহাট, সোনাপুরের এবং বেগমগঞ্জের চৌমুহনী, চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি,সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি করে। তারা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিন রাস্তার উপর অবস্থান নেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ও আভ্যন্তরীণ পণ্যবাহী যানবাহন ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে প্রবেশের সময় তারা লেজার লাইট, লাঠি ও বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারদের থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা চাঁদা আদায়ের রশিদও প্রদান করে থাকত। ড্রাইভাররা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের গাড়ি ভাংচুর, ড্রাইভার-হেলপারকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, চক্রটি জেলার বিভিন্ন এলাকার মহসড়ক থেকে প্রতি রাতে পণ্যবাহী গাড়ি,সিএনজি, অটোরিকশা চালকদের থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানা ও সুধারাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লায় শিক্ষার্থী কাশপিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাশপিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার প্রধান তিন আসামি এখনো ধরাছোয়াঁর বাইরে। তবে মামলার ৪ নম্বর আসামি মো: রাহিম(২২) গ্রেফতার হয়েছে।

কাশপিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে মামলা হলেও এই মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিনিয়ত রহস্য বাড়ছে। নিহতের পরিবারের অনেকেই বলছেন এটা পরিকল্পিত হত্যা, আত্মহত্যা নয়। বাড়িতে একা পেয়ে কাশপিয়াকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। আর ঘাতকরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় এ রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে। আসামিদের প্রায় এলাকায় দেখা গেলেও রাজনৈতিক কারণে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত বারিহা সিদ্দিকা কাশপিয়া (১২) কুমিল্লা সদরের আমতলী পশ্চিমপাড়া এলাকার সৈয়দ আলী বাড়ির বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। ১৯ জুন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে নির্জন বাড়িতে কাশপিয়ার ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মা ছায়েমা আক্তার শান্তা । মামলার প্রধান চার আসামি হলেন সদরের আমতলী এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে সজিব হোসেন (২৪),শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান রাব্বি (২২),ময়নাল হোসেনের ছেলে রকিব হোসেন (২২) এবং আবুল কাশেমের ছেলে মো: রাহিম(২২)।

থানায় দায়ের করা মামলায় নিহতের মা শান্তা জানায়, আমার বড় মেয়ে বারিহা সিদ্দিকা কাশপিয়া গত ৮/৯ মাস ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবেশী মোবারক হোসেনের ছেলে সজীব হোসেনের সাথে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সজীব আমার মেয়ের আপত্তিকর কিছু ছবি স্ক্রিণশট নিয়ে রেখে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। আমি এ বিষয়ে জানতে পেরে ছেলের মারে কাছে বিচার দেই এবং ছেলেকে আমার মেয়ের সাথে কথা বলতে বারণ করি। পরে সজীব আমার ভাসুরের ছেলে রাসেলের কাছে এসব আপত্তিকর ছবি পাঠায় । রাসেল এসব দেথে সজীবকে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে। পরে সামাজিকভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা সামাজিক সিদ্ধান্ত না মেনে গত ১৯ জুন বিকেল ৪ টায় সজীব, রাব্বি, রকিব ও রাহিমের নেতৃত্বে আরো ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে আমার মেয়ে ও ভাসুরের ছেলেকে খোঁজ করতে। তারা বাড়িতে এসে আমার মেয়ের নামে অশ্লীল কথাবার্তা বলে যায়। আশেপাশের সবার সামনে আমার মেয়েকে অপমান করে । পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় আমার মেয়ে কক্ষে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাই। এর আগে ২ জুন কাশপিয়ার মা শান্তা নিরাপত্তা চেয়ে এই আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করেছিলেন।

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ও ন