All posts by jitu

ঈদের ছুটিতে বাসা-বাড়ি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হওয়ার সঙ্গে আপনার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। ঈদের ছুটিতে বাসা থেকে দূরে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করলে বাসার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে যেতে হবে। এ সময় লোকজনহীন বাসাটিতে চুরির ভয় বেড়ে যায়। আপনি দূরে থাকলেও আপনার বাসাটি যাতে নিরাপদ থাকে সেজন্য ঈদযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে আপনার কিছু করণীয় রয়েছে।

ঈদে বাড়ি যাওয়ার বাসা নিরাপত্তার জন্য যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি-

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা

দূরে থেকেও বাসার সবকিছুর দেখভাল নিজে করার জন্য বাসায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে পারেন। আর তা যদি সম্ভব না হয়, ঈদের ছুটিতেও যারা বাসায়ই থাকছেন, এমন প্রতিবেশীকে বলে যেতে পারেন; তিনি যেন আপনার বাসার দিকে একটু খেয়াল রাখেন। সেক্ষেত্রে প্রতিবেশী বিশ্বস্ত না হলে তারও দরকার নেই। বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে জেনে নিন ঈদে বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে কে থাকছেন? তার যোগাযোগ নম্বর আপনার কাছে রাখুন। এমনকি বাড়িওয়ালাকেও বলে যান।

মূল্যবান সামগ্রী

মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাংকের ভল্টে রেখে যেতে পারেন। বাসায় আলমারিতে রাখলে, আলমারি যে ঘরে থাকে সেই ঘরের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করে যাবেন। আলমারিতে অবশ্যই তালা মারবেন এবং চাবি নিজের সঙ্গে নিয়ে যাবেন। মূল্যবান জিনিসগুলো জ্যাকেট বা অন্য কোনো কাপড়ে মুড়িয়ে তারপর আলমারিতে রাখুন। যেন এক দেখাতেই সেগুলো না পাওয়া যায়।

বাসার প্রতিটি দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন

আমাদের বিছানাপত্র সাধারণত জানালার পাশে থাকে। জানালা খোলা থাকলে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে বিছানার তোশক নষ্ট করে দিতে পারে। তাছাড়া জানালা খোলা থাকলে এর গ্রিল সহজে কেটে ঘরের ভেতর চোর ঢুকতে পারে। এক কথায় ঘরের প্রতিটি দরজা আলাদা আলাদাভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। এতে বাসায় অনাকাঙিক্ষত কেউ প্রবেশ করলেও সে যাতে এক রুম থেকে আরেকটি রুমে সহজে প্রবেশ করতে না পারে, এজন্য হলেও প্রতিটি দরজা-জানালা বন্ধ করে যেতে হবে।

পোষ্য

বাসায় পোষ্য প্রাণী, অ্যাকুরিয়ামে মাছ থাকলে বিশ্বস্ত বন্ধু বা প্রতিবেশীর কাছে প্রয়োজনীয় খাবার-দাবারসহ রেখে যেতে পারেন। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়েও অনেকে পোষ্য প্রাণী দেখভাল করে তাদের কাছে রেখে যেতে পারেন। পোষা বিড়াল থাকলে নিজেদের সঙ্গে নিয়েও যেতে পারেন।

গাছ

বাসায় গাছ থাকলে বাড়িওয়ালাকে বলে গাছগুলো ছাদে অথবা দারোয়ান বা গার্ডের দায়িত্বে রেখে যেতে পারেন। এক কথায় বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে যিনি থাকবেন তার কাছে রেখে যান।

আরও যেসব কাজ করতে পারেন-

১. বাসা থেকে বের হওয়ার আগে গ্যাসের চুলা ভালোভাবে বন্ধ করুন। মিটার সংযুক্ত থাকলে সুইচটি অফ করে যান।

২. বারান্দায় কোনো পোশাক রেখে যাবেন না।

৩. ফ্যান, বাল্ব এগুলোর সুইচ অবশ্যই বন্ধ করবেন।

৪. বাসার আর্থিং ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কিনা, নিশ্চিত করে যেতে হবে।

৫. পানির কলও বন্ধ রেখে যাবেন।

৬. ওয়াশরুমে বা কোথাও খোলা জায়গায় পনি জমিয়ে রেখে যাবেন না।

৭. কমোডের ঢাকনা বন্ধ রেখে যাবেন।

৮. ঘরের মেঝে ভালো করে পরিষ্কার করে রেখে যাবেন।

৯. ঘরে কোথাও ভেজা কাপড় জমিয়ে রেখে যাবেন না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আবারও ডিপফেক ভিডিওর শিকার আলিয়া ভাট!

ডেস্ক রিপোর্ট:

বলিউড তারকা আলিয়া ভাট আবারও ডিপফেক ভিডিওর খপ্পরে পড়েছেন। গত মাসেই তার মুখের ছবি অভিনেত্রী ওয়ামিকা গাব্বির শরীরে বসিয়ে এআই ভিডিও সোশ‌্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছিল।

এবার আলিয়ার মুখ কালো কামিজ পরা এক তরুণীর শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চিকেনকারি কাজ করা সালোয়ার-কামিজ পরে ঝোলা দুল পরছেন।

জামার হাতায় চিকেনের নকশাকে ক‌্যামেরায় দেখাচ্ছেন। এর আগে একাধিক বলিউড নায়িকার ভিডিও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অশ্লীল পোশাক বা অঙ্গভঙ্গি করা অন‌্য কারো শরীরে বসিয়ে সোশ‌্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে।

এ নিয়ে বিতর্কও ছড়িয়েছে। অমিতাভ বচ্চন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বেগ প্রকাশ করে সরব হয়েছেন এআইয়ের সাহায্যে তৈরি এই ডিপফেক ভিডিও নিয়ে। এবারও আলিয়ার ডিপফেক ভিডিওটি ভাইরাল হতে নেটিজেনদের অনেকেই এআই কতটা বিপজ্জনক তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, সমীক্ষা অভতর নামে এক ইনস্টাগ্রাম ব‌্যবহারকারীর পক্ষ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রোফাইলে লেখা, এখানে সমস্ত ভিডিও এআইয়ের সাহায্যে শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি। এরই মধ্য ভিডিওটি ১৭ মিলিয়ন দর্শক দেখে ফেলেছে।

মেসি-মার্টিনেজের গোলের ধারায় বড় জয় আর্জেন্টিনার

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ম্যাচে পুরোটা সময় খেলেননি। তাতেই লিওনেল মেসির ফিটনেস নিয়ে কথা হয়েছিল ইকুয়েডরের বিপক্ষে ডেডলক ভাঙতে পারেননি দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় খেলেও। কিন্তু কোপা আমেরিকার ঠিক আগে ঠিকই নিজের চেনা ছন্দে ফিরে এলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। জোড়া গোলের সঙ্গে করেছেন অ্যাসিস্টও।

প্রতিপক্ষ অনেকটা পিছিয়ে থাকা দল গুয়াতেমালা। তাতে কি। একাদশে ফেরার দিনে মেসি কেমন করেন, সেটাই ছিল প্রশ্ন। গনজালো মন্তিয়েল , নাহুয়েল মলিনা আর এনজো ফার্নান্দেজের মত তারকাদের ফেরার মঞ্চ ছিল এই ম্যাচটিই। এমনকি জাতীয় দলে গোলখরায় থাকা লাউতারো মার্টিনেজের জন্যও এই ম্যাচও ছিল বিশেষ কিছু। মেসি মার্টিনেজের জোড়া গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা জয় পায় ৫-১ গোলে।

মেসির প্রথম একাদশে ফেরার ম্যাচে শুরু থেকেই পজেশন ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। গুয়াতেমালা আঁচ করেছিল এমন কিছু। শুরু থেকেই তাই তাদের মনোযোগ ছিল রক্ষণের দিকে। চকিত কাউন্টার অ্যাটাকে চমকে দেবে আর্জেন্টিনাকে। এটাই ছিল লক্ষ্য। তাতে ফল চলে আসে ম্যাচের ৪ মিনিটে।

গুয়াতেমালার প্রথম চেষ্টা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়ান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। তবে গুয়াতেমালার জমাট রক্ষণ আর্জেন্টিনাকে তেমন কোনো সুবিধা করতে দেয়নি। পাশাপাশি প্রতি-আক্রমণও কিছুটা ভয়ও ধরিয়ে দিয়েছিল।

১২ মিনিটের গোলটায় অবশ্য গুয়াতেমালা নিজেদেরই দায় দিবে। রক্ষণের ভুলে বক্সের ভেতর মেসির পায়ে বল তুলে দেন দলটির গোলরক্ষক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান তিনি।

কাউন্টার অ্যাটাকে পিছিয়ে ছিল না যদিও শেষ পর্যন্ত পাওয়া হয়নি গোল। ৩৫ মিনিটের পর নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে গুয়াতেমালাকে ক্রমাগত কোণঠাসা করে দেয় লাতিন পরাশক্তিরা। যার ফলও আসে ৩৯ মিনিটে।

বক্সের ভেতর ভ্যালেন্টিন কার্বোনি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে পেনাল্টি শটটি নিজে না নিয়ে লাওতারো মার্তিনেজকে সুযোগ করে দেন মেসি। লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ালেও গোলের দেখা পেতে খানিকটা অপেক্ষাই করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত মেসি আর মার্টিনেজের সুবাদে আরেক গোল পায় আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মেসির কাছ থেকে পাওয়া বলে সহজ ফিনিশ করেন মার্টিনেজ।

৭৭ মিনিটে দেখা গেল মেসি এবং ডি মারিয়ার যুগলবন্দী। দারুণ এক ওয়ান টু ওয়ানে আনহেল দি মারিয়ার কাছ থেকে বল পান মেসি। চিরচেনা চিপে শটে বল জালে জড়ান এলএমটেন। ৪-১ গোলের জয়ও নিশ্চিত হয় সেই সুবাদে।

সদর দক্ষিণে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানের পেছনে লিচুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ জুন) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সোয়াগাজি এলাকার চট্টগ্রাম লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, লিচুবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরও জানায়, নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি এখনো। পুলিশ নিহতদের পরিচয় পেতে কাজ করছে।

খালেদা জিয়া কৃষকের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছিল : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে শুধু জনগণের ভোট চুরি না, কৃষকের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (শনিবার) সকালে গণভবনে কৃষক লীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ২০২৪ কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে কৃষির ওপর। আমাদের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর পরই তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কৃষিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি এই ঘুনেধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার পদক্ষেপ নেন এবং বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে আত্মমর্যাদাশীল করে গড়ে তোলার বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। আমাদের দুর্ভাগ্য সেই সময় জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা শুধু মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তা নয়, এ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাটাকেই নষ্ট করেছিল। আজ ভোটের অধিকারের কথা বলে… আমার খুব হাসি পায় যখন দেখি বিএনপি ভোটের কথা উচ্চারণ করে, নির্বাচনের কথা বলে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ভোটের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তার সেই হ্যাঁ/ না ভোট দিয়ে যাত্রা শুরু। অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল গঠন করে তাকে জিতিয়ে আনার জন্য ভোট চুরির একটা প্রক্রিয়া এ দেশে শুরু করেছিল। জিয়াউর রহমানের পরে তারই পদ অনুসরণ করেই ক্ষমতা আসে এরশাদ। এ দেশের কৃষক শ্রমিকরা সব সময় অবহেলিতই থেকে যায়।

ভোট চুরি করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে একটা প্রহসনের নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে। মাত্র ২২ পার্সেন্ট ভোট পড়েছিল সেখানে। অধিকাংশ সরাসরি নির্বাচনে, কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। জনগণের ভোট চুরি করলে কেউ কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ এই ব্যপারে খুব সচেতন।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

ডেস্ক রিপোর্ট:

গতকাল শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। আজ শনিবার আরাফাতের ময়দানে উপস্থিতির মাধ্যমে হজের চূড়ান্ত পর্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজিরা মিনা থেকে আরাফায় উপস্থিত হচ্ছেন। হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির) ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছে আরাফাতের ময়দান। খবর এপি, সৌদি গেজেট।

বিশ্ব মুসলিমের এই সম্মেলনে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ লাখ মুসলিম হজ পালন করছেন। এর মধ্যে দিয়েই শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলামের প্রধান পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মক্কার হারাম শরিফ কিংবা, বাসা-বাড়ি, হোটেল থেকে ইহরাম বাঁধা (সেলাইবিহীন সাদা কাপড়) লাখ লাখ হজযাত্রী যাত্রা শুরু করে শুক্রবার জোহরের আগে তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় পৌঁছান।

মিনায় ৮ জিলহজ জোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব এবং সেখানে অবস্থান করা সুন্নত।

সৌদি গেজেট জানিয়েছে, শনিবার ফজরের পর মুসলমানরা তালবিয়া (লাব্বাইক) পড়তে পড়তে মিনা থেকে আরাফাতের দিকে রওনা হন।
জোহরের আগেই আরাফাতের ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। সেখানে সমবেত হয়ে প্রার্থনা ও খুৎবা শোনাকেই হজ ধরা হয়।

সৌদি আরবে গত শুক্রবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ১৫ জুন আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরদিন কুরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদ্যাপন হবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ হজ করতে সৌদি আরব গেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে এবার ২০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম আশা করা হচ্ছে।

আরাফাতের ময়দানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে হজযাত্রীরা মুজদালিফায় যাবেন; সেখানে এক আজানে আলাদা ইকামতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

মুজদালিফায় সারা রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্য উঠার কিছু আগে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন হাজিরা।

এর আগে তারা শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

১০ জিলহজ অর্থাৎ রোববার সকালে মিনায় এসে বড় জামরাতে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়। কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানগুলোতে দেওয়া দিক-নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে শুনে তা সম্পন্ন করতে হবে জোহরের মধ্যে।

বড় জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করে মিনায় কুরবানির পশু জবাই করতে হয়।

কুরবানির পর পরই মাথা মুণ্ডন সেরে ফেলতে হয়। এর মাধ্যমে ইহরামের কাপড় পরিবর্তনসহ সব সাধারণ কাজ করা গেলেও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।

হজের সর্বশেষ রোকন কাবাঘর তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ, যা ১১ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগেই সম্পন্ন করতে হবে। সূর্য ডোবার আগে সেটি করতে না পারলে দম বা কুরবানি কাফ্ফারা আদায় করতে হবে।

১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে প্রতিদিন। তবে যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফ করেন, তবে তাকে তাওয়াফের পর আবার মিনায় চলে আসতে হবে এবং রাতে মিনায় অবস্থান করতে হবে।

১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় রাত্রিযাপন করতে হয়। কেউ মিনা ত্যাগ করতে চাইলে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগেই চলে যেতে হবে।

এ সময়ের মধ্যে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে ১৩ জিলহজ মিনায় অবস্থান করতে হবে। সেদিন সাতটি করে আরও ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে।

দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে তাওয়াফ করতে হয়, যাকে বিদায়ী তাওয়াফ বলে। তবে জিলহজ মাসের ১২ তারিখের পর যে কোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ী তাওয়াফে হিসেবে আদায় হয়ে যায়।

মনোহরগঞ্জে বাবাকে গুলি চালায় ডাকাতরা, হৃদরোগে ছেলের মৃত্যু

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া গ্রামে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় আবদুল মালেক (৭০) নামে এক বৃদ্ধের পেটে গুলি চালায় ডাকাতরা। এ ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। হাসপাতালের পথে যাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধের ছেলে ওমর ফারুক (৪০)। পথে রিকশা উল্টে যায় তার। এ সময় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির। তিনি বলেন, ঘটনাটি মনোহরগঞ্জ এবং চাটখিল থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় উভয় থানার পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গুলি ও ডাকাতির ঘটনার সময় চারজন ডাকাত উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আবদুল মালেকের ভাতিজা মো. শাহাদাত হোসেন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মালেকের নিজ বাড়ির সামনে চায়ের দোকান। বৃহস্পতিবার তিনি দোকান খুলে বসেন। একটু পরে তার স্ত্রী শহিদা বেগম আসেন চা খেতে। এরই মধ্যে দুটি মোটর সাইকেলযোগে চারজন ডাকাত ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। ডাকাতরা পিস্তল বের করে তার স্ত্রী শহিদা বেগমের গলায় থাকা সোনার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। মালেক তাদেরকে বাধা দিলে গুলি করে পালিয়ে যায়। আবদুল মালেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নাথেরপেটুয়া থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওমর ফারুকের মা শহিদা বেগম বলেন, আমার ছেলেটিও মারা গেল। তার রেখে যাওয়া ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে? আর আমিও কি নিয়ে বাঁচব?

চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি র‍্যাবের

ডেস্ক রিপোর্ট:

চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উল্লেখ করে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেছেন, চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন তিনি।। চামড়া ব্যবসা নিয়ে কোনো সিন্ডিকেটকে র‍্যাব বরদাস্ত করবে না।

শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কমান্ডার আরাফাত বলেন, ‘চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আমরা সতর্ক করতে চাই। চামড়া ব্যবসায় নিয়ে কোনো সিন্ডিকেটকে আমরা বরদাস্ত করবো না। চামড়ার ব্যবসা নিয়ে যাতে কোনো এলাকার মধ্যে কোনো গোলমালের সৃষ্টি না হয়। সে ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলবে।’

তিনি বলেন, ‘র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক হাটে উপস্থিত আছেন। কোনো পশু অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত কিংবা গরু মোটা-তাজা ওষুধ প্রয়োগ করে বিক্রি যাবে না। এছাড়াও এ ধরনের কার্যক্রম দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয় সে ব্যাপারে র‍্যাবের সতর্ক আছে।’

তিনি বলেন,‘ গাবতলী পশুর হাটসহ প্রতিটি হাটে আমার ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় র‍্যাবের সদস্য কাজ করছে। র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়াও কোনো ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি বা সমস্যায় পড়লে আমাদের কন্ট্রোলরুমে অথবা র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা আপনাদের সব ধর সহায়তা করবো।রাজধানীর প্রতিটা মহল্লা ও রাস্তাঘাটে আমাদের টহল টিম এবং স্ট্রাইকিং টিম আছে। কোরবানির পশু নিয়ে অথবা পশু কিনতে হাটে যাওয়ার সময় রাস্তায় যাতে কোনো ধরণের সমস্যা পড়তে না হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক আছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গরুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ওপরে বা হাটের সীমানার বাইরে গরু নিয়ে বসেছে কি না সেটি নিয়ে ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলবো। যাতে ব্যাপারীরা কোনো অসুবিধায় না পড়েন।

অনেক হাট আবাসিক এলাকার মধ্যে। এ বিষয় জানতে চাইলে কমান্ডার আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করবো। আমি জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান করবো তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই বিষয়টি দেখবেন।

এক হাটের পশু অন্য হাটে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, কেউ যদি এরকম কার্যক্রম করে থাকে, যা আইন বিরোধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে কেউ এক হাটের পশু অন্য হাটে নিতে পারবে না। এ ব্যাপারে গরু বিক্রেতারা অভিযোগ জানালে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপে নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রামে গাঁজা-ইয়াবা উদ্ধার, কথিত সাংবাদিকসহ আটক ১৩

 

চৌদ্দগ্রাম  প্রতিনিধি:

চৌদ্দগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা ও ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার সকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-০২ এর পরিচালক ফিরোজ প্রধান।

আটককৃতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মৃত এরশাদ উল্লাহর ছেলে কথিত সাংবাদিক মো: সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ জয়, একই ইউনিয়নের কিং ছুপুয়া গ্রামের শরীফুর রহমান, ছুপুয়া এলাকার ভাড়াটিয়া শহিদুল ইসলাম, নাছির উদ্দিন মানিক, আবুল হাশেম, আখের মিয়া প্রকাশ রাকিব, মুজাহিদুল ইসলাম, জগমোহনপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন, নাদির হোসেন, মো: মারুফ, একই এলাকার ভাড়াটিয়া শাহাদাত হোসেন ফরহাদ, বাবুচি বাজারের ভাড়াটিয়া জজ মিয়া ও মিরশান্নী বাজার এলাকার ভাড়াটিয়া মো: মাসুদ। তাদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছুপুয়া এলাকায় ইসলামিয়া হোটেলে (ট্রাক হোটেল) মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে এমন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১১ সিপিসি-০২ এর একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোরে ওই হোটেলে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল থেকে পালানোর সময় ১৩ জনকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের দেহ তল্লাশী করে ৯৫টি গাঁজার পুড়িয়াসহ মোট ২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা ও ৩৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে র‌্যাব।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সকলেই মাদক ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে কুমি