All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে সেমিনার

ফখরুদ্দীন ইমন:

বিদেশ প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণে ‘রেইজ প্রকল্পের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ মে) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও ওয়েলফেয়ার সেন্টার কুমিল্লা এর যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) রেইজ সৌরেন্দ্র নাথ সাহা।

চৌদ্দগ্রম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ এর সভাপতিত্বে ও ওয়েলফেয়ার সেন্টার কুমিল্লা এর সহকারী পরিচালক মো: আলী হোসেন এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়ের আহমেদ, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ হাসান , যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সুজন কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন জামাল, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: আবদুল জলিল রিপন, সহ-সভাপতি আবু বকর সুজন, ওয়েলফেয়ার সেন্টার কুমিল্লা এর কাউন্সিলর জাফর উল্লাহ, রিপন ঘোষ, জহির আহমেদ সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, বিদেশ ফেরত অভিবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কায় কাঁদলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মঙ্গলবার ২১ মে নোয়াখালীর চাটখিল, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চাটখিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের হুমকি, স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অতি-উৎসাহী আচরণ ও জনগণের মাঝে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরী হওয়ায় চাটখিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাঁদলেন আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেড.এম আজাদ খান।

সোমবার (২০ মে) বিকালে চাটখিল পৌরসভার নিজ বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এ প্রার্থী।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেড.এম আজাদ খান বলেন, তিনি নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করার পর থেকে তার নির্বাচনী কর্মিদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি এমনকি প্রাণ নাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রিটার্নি কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিয় কর্মকর্তা ও থানা পুলিশে অভিযোগ করেও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। দোয়াত কলম প্রতিকের প্রার্থী (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান) জাহাঙ্গীর কবিরের পক্ষে থানার ওসি সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। যা তার কর্মকান্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে। ওসি তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। যাহা সুষ্ঠ-নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশে বাধাঁ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করেন তিনি।

আনারস প্রতীকের এই প্রার্থী আরো বলেন, ভোটের আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি, এই সময়ে দোয়াত কলমের প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির ও তার লোকজন আমার আনারস প্রতীকের এজেন্ট ও দায়িত্বশীলদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বারণ করছে এবং হামলা- মামলার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া, ভোটারদের মাঝে প্রকাশ্যে কালো টাকা বিতরণ করে প্রভাবিত করছে।

ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান জেডএম আজাদ খান।

সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আজাদ খানের কর্মী-সমর্থকসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্টনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জেলার চাটখিল, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

নোয়াখালীতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের হত্যার হুমকি, কেন্দ্রে যেতে নিষেধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের এজেন্টদের ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে না যেতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু জাফর টিপু ও বর্তমান চেয়ারম্যান হেলিকপ্টার প্রতীকের প্রার্থী জাফর আহাম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (২০ মে) আনারস প্রতীকের একাধিক এজেন্ট গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেনবাগের ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের একজন এজেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেনবাগ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু জাফর টিপু ও বর্তমান চেয়ারম্যান হেলিকপ্টার প্রতীকের প্রার্থী জাফর আহাম্মদ চৌধুরী তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করছেন। তারা আমাদের কর্মীদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে আমার বাড়িতে প্রার্থী আবু জাফর টিপু ভোট চাইতে এসে আমার স্ত্রীকে সরাসরি হুমকি দিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও আনারস প্রতীকের হয়ে কাজ করায় কেশারপাড়ের এক বাজারে আমাকে একা পেয়ে আমার গায়ে হাত তুলেছেন প্রার্থী জাফর আহাম্মদ চৌধুরীর লোকজন। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ এজেন্ট আরও বলেন, ‘আমি পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলার রক্ষা দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতনদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আবু জাফর টিপু ও জাফর আহাম্মদ চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনীকে দমন করেন। এরা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দিতে চায় না।’

এদিকে ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের বয়োবৃদ্ধ এক এজেন্ট জানান, আনারস প্রতীকের হয়ে এজেন্ট হলে তাকে গুম করে ফেলা হবে বলে আবু জাফর টিপুর লোকজন হুমকি দিয়েছেন। তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ওই এজেন্টের ছেলে শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা আনারস প্রতীকের জন্য কাজ করায় আমাদের পরিবারকে বারবার হুমকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। বিশেষ করে আবু জাফর টিপুর লোকজন সরাসরি গুম করার হুমকি দিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি।’

একই অভিযোগ করেন ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের আরেক মহিলা এজেন্ট। তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে না গেলে আমাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন হেলিকপ্টার প্রতীকের প্রার্থী জাফর আহাম্মদ চৌধুরীর লোকজন। রোববার রাতে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করে রাতে বাড়ি ফিরে আসার সময় আমাকে বাজারের রাস্তায় আটকে এভাবে হুমকি দেয় জাফর চৌধুরীর সমর্থকরা। আমি নিরাপত্তা চেয়ে সাইফুল আলম দিপুসহ প্রশাসনের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

অভিযোগের সত্যতা জানতে কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু জাফর টিপু ও হেলিকপ্টার প্রতীকের প্রার্থী জাফর আহাম্মদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সকল অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপপ্রচার বলে জানান। তবে তাদের লোকজন এমন কিছু করে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও তারা গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল আলম দিপু বলেন, ‘নির্বাচনে হার-জিত থাকতেই পারে। তবে রাজনীতির নামে এমন নোংরামি করা উচিত নয়।

প্রতিপক্ষের লোকজন পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করছেন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করে অন্তত ১০ জনকে আহত করা হয়েছে। আমার এলাকার কর্মীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যেন না যায়, সেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।’

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাইফুল আলম দিপু বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২১ মে সেনবাগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চাই। তাই ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করছি। নির্বাচনী প্রচার শুরু থেকে প্রতিদিনই আমাদের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সাধারণ লোকজনের বিপুল উপস্থিতি দেখে তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন গত সংসদ নির্বাচনের সেই ষড়যন্ত্রকারীরা এক হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আগামী ২১ মে ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।’

নকল ডায়াবেটিস টেস্টিং স্ট্রিপস ৭ দিনের মধ্যে ধ্বংসের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফার্মা সলিউশন নামে বাজারে থাকা নকল ডায়েবেটিস টেস্টিং স্ট্রিপস সাত দিনের মধ্যে ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২০ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরের ঝামেলা এড়াতে বাসাবাড়িতে সরঞ্জাম রেখে অনেকেই ডায়াবেটিস মাপার কাজটি সারেন। এ জন্য একটি টেস্টিং স্ট্রিপ ব্যবহার করা হয়। এই স্ট্রিপ অবৈধভাবে এনে বিদেশের নামি প্রতিষ্ঠানের মোড়কে দেশের বাজারে ছাড়ছে একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই মোড়ক প্রিন্ট করা হয় রাজধানীতেই। শুধু মোড়ক নয়, ভেতরের স্ট্রিপগুলোও দেশে তৈরি হচ্ছে কি না সেটিও কেউ জানে না। এমন ভয়াবহ প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে ফার্মা সলিউশন নামে একটি দেশীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে।

ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্রের নাম গ্লুকোমিটার। এই যন্ত্রের সাহায্যে ঘরে বসেই রক্তের সুগার (অর্থাৎ, ডায়াবেটিসের মাত্রা) কত পয়েন্ট তা মাপা যায়। এক্ষেত্রে ল্যানসেট নামে একটি সূক্ষ্ম সুঁইয়ের সাহায্যে আঙুলের ডগায় খোঁচা দেওয়া হয়। রক্ত বেরিয়ে এলে টেস্টিং স্ট্রিপে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে সেটি মেশিনে ঢুকিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়।

চিত্রনায়িকা নিপুণের পেছনে বড় শক্তি আছে : ডিপজল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচণে সাধারণ সম্পাদকে পদে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তাদের দু’জনের জয়-পরাজয়ের মাঝে ভোটের ব্যবধান ছিল ১৬।

নির্বাচনের পরপরই ডিপজলকে ফুলের মালা গলায় পড়িয়ে বরণ করে নেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ। তবে মাস ঘুরতেই সুর পাল্টে গেল অভিনেত্রীর। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে আদালতে রিট দায়ের করেছেন এই তারকা।

নিপুণের সেই রিটের প্রেক্ষিতে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদটিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে আপাতত ডিপজল এ পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সোমবার (২০ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা তদন্তের জন্য সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের আদেশের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তিনি মনে করেন, চিত্রনায়িকা নিপুণের পেছনে বড় শক্তি আছে। যে কারণে বারবার এমনটা করতে পারছেন তিনি।

ডিপজল বলেন, ‘আমি বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হাইকোর্ট যেহেতু রায় দিয়েছেন এখানে কিছু বলার নাই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দুই এক দিনের মধ্যে আমারা চেম্বার জজ আদালতে যাব।’

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ফুলের মালা দিয়ে নতুন কমিটিকে বরণ করে নেওয়ার একমাস পর আবার কমিটি বাতিল চাওয়ার পেছনে বড় শক্তি আছে বলে মনে করেন ডিপজল। তার কথায়, ‘এটার পেছনে অবশ্যই বড় শক্তি আছে। যেহেতু দেশের বাইরে থেকে সে (নিপুণ) এসব করছে সেহেতু বুঝতে হবে তার পেছনের হাত লম্বা।’

এদিকে নিপুণের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন সিনিয়র শিল্পীরাও। এমনটাই জানালেন ডিপজল। তিনি বলেন, ‘সোহেল রানা ভাইসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিল্পীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারও বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত। এই দুই বছরে যে নোংরামি হয়েছে এর আগে এমন নজির নেই। বাংলাদেশের ফিল্মের মানুষ এমনটা করতে পারেন না। আমার মনে হয়, যারা হিন্দি ছবি বাংলাদেশে আনার জন্য পায়তারা করছে এটা তারই একটা অংশ হতে পারে।’

এর আগে ২০২২-২৪ সালের নির্বাচনেও সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে মামলা চলে উচ্চ আদালতে। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে দায়িত্ব পালন করেন নিপুণ।

তখন প্রাথমিক ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে টাকা দিয়ে ভোট কেনাসহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগে আপিল বোর্ড জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে এবং নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করেন।

ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জায়েদ খান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিপুণ সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাজার মনিটরিংয়ে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি খুব কঠোরভাবে মনিটরিং করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সোমবার (২০ মে) বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানান।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী আজকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বলেছেন, বাজার মনিটরিং যেন জোরালোভাবে হয় এবং ভালোভাবে নজর দিতে বলেছেন। বাজারে পণ্য সাপ্লাই যেন ঠিক থাকে।

‘কিছু কিছু পণ্যের সরবরাহ ঠিক আছে, সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখেছেন। সেজন্য কঠোরভাবে যেন বাজার মনিটরিং শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

ডলারের দাম ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তার একটা প্রভাব বাজারে এরইমধ্যে পড়েছে। সেক্ষেত্রে ডলারের দাম বাড়িয়ে বাজার মনিটরিংয়ে নজর দেওয়ার বিষয়টি কতটা যুক্তিসংগত- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এই প্রশ্নটা বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে করুন। আমি আপনাদের কমিউনিকেট করছি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাটা। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে একটু কাজ করতে দেন। তারপর ওনাকে এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করুন। তাহলে হয়ত কিছু জানতে পারবেন।

ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে ইসি উদ্বিগ্ন নয়: ইসি আলমগীর

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো বিধি-নিষেধ বা নিয়ম নেই যে, কতো শতাংশ ভোট পড়লে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এগুলো নিয়ে ইসি ভাবে না। যে কোনো শতাংশ ভোট পড়লেই খুশি। ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে ইসি উদ্বিগ্ন নয়।

সোমবার (২০ মে) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া প্রসঙ্গে ইসি আলমগীর বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে ইচ্ছুক। তারা কেন্দ্রে আসবেন। ধান কাটার মৌসুম, বৈরি আবহাওয়া, বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসছে না, এসব কারণে ভোটার উপস্থিতি কম।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা-অনাস্থার বিষয় নয়, পছন্দের প্রার্থী না পাওয়ায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভোটের উপস্থিতি কম। তবে কত শতাংশ ভোটার উপস্থিত হলে সন্তোষজনক হবে এ বিষয়ে দায়বদ্ধতা নেই।

দ্বিতীয় ধাপের ভোট, ভোটার অংশগ্রহণ কম, চ্যালেঞ্জ মনে করেন কি না- এ বিষয়ে ইসি আলমগীর বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে হতে পারে এজন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনেও তাই করেছি। আগামীকালের নির্বাচনও তেমন হবে। কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখা। নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। সারাবিশ্বে ভোটারদের ভোটের প্রতি আগ্রহ কমছে। বিভিন্ন কারণে ভোটাররা অংশ নিতে চান না। ভালো প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ না নিলেও অনেক সময় ভোটাররা ভোট দিতে যান না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভোট বর্জনের জন্য লিফলেট বিতরণ করছে, এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো সহিংসতা করলে সেক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন। কমিশনের প্রতি আস্থা নাই এটা ঠিক নয়, কমিশন সবসময় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। কারো প্রতি কমিশনের আলাদা কোনো পক্ষপাতিত্ব নাই।

কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জামিনে মুক্তি পেলেন

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ। হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি এ মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (২০ মে) মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইলিয়াস।

এর আগে গেল বছরের বছরের ৯ আগস্ট অস্ত্র আইনের মামলায় ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত হন তিনি। পরে একই বছরের ২৩ আগস্ট কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে হাইকোর্টের আদেশে প্রায় ৯ মাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, প্রায় ৮ মাসেরও বেশি সময় কারাবাস করেছি। আইনের যত ভোগান্তি আছে আমাকে সেগুলো পোহাতে হয়েছে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন নেতার কারণে আমাকে মিথ্যা মামলায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালে কোটবাড়ির সালমানপুরে দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি রিভলভার এবং একটি মোটরসাইকেলসহ ইলিয়াসকে আটক করে র‍্যাব-১১। এ ঘটনায় র‍্যাব বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে।

ইলিয়াস হোসেন সবুজ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৭ সালের ২৮ মে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পান।

প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে কুবি শিক্ষকের পাশে এবার সহকর্মীরা

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। পরে বাংলা বিভাগের সহকর্মী এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকরা একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান করেন।

রবিবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে একক অবস্থান করেন তিনি। পরে তাঁর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পাশে দাঁড়ান বাংলা বিভাগের শিক্ষকরা। এরপর শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহেরসহ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ অবস্থান করেন৷

গত ২৮ শে এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে সাবেক শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসময় উপাচার্য কনুই দিয়ে ধাক্কা মারেন এক শিক্ষককে। এবং প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোকাদ্দেস উল ইসলামকে গালে ঘুষি মারেন।

এ ঘটনায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে। এছাড়াও প্রক্টরের অপসারণ চেয়ে প্রশাসন বরাবর লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছিলো মোকাদ্দেস উল ইসলাম। তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। বিচার না পেয়ে প্রক্টরের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি।

প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থানের বিষয়ে ড. মোকাদ্দেস উল ইসলাম বলেন, যারা আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, তারাই আমাদের রক্ষার বদলে ভক্ষক হয়ে উঠেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তাঁরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। যেখানে শিক্ষকরা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। সেখানে আমিও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। এর আগে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তিনি আরও বলেন, তিনি এর আগেও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সবার আগে তাঁর অপসারণ করা উচিত এবং তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত।