All posts by jitu

চান্দিনায় উপজেলা শ্রমিক লীগের মতবিনিময় সভা

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা শ্রমিক লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকালে উপজেলা শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে ওই মতবিনিময় সভা হয়। এসময় আসন্ন চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আল আমিন সরকার কে সমর্থন জানিয়ে তার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ও পৌর শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ।

সভায় উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী- কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আল আমিন সরকার।

এসময় উপজেলা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক কবি জালাল সৈয়দের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম আজাদ ইমরান, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী নাছির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম খান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন, শ্রমিক লীগের জোয়াগ ইউনিয়ন শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল, কেরণখাল ইউপি শাখার সভাপতি আবদুস ছালাম, পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শিকদার, সহ-সভাপতি মো. ফেরদৌস, মো. বিল্লাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মাধাইয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. হানিফ, বরকইট ইউনিয়ন সভাপতি মাসুদুর রহমান, বরকরই ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, মহিচাইল ইউনিয়ন সভাপতি রুবেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমিন, নবাবপুর ইউনিয়ন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।

চাঁদপুরে ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ৫ যুবক আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরে সড়কে সাধারণ মানুষকে অবরুদ্ধ করে চাঁদাবাজির সময় ডিবি পুলিশের পরিচয় দেওয়া পাঁচ যুবককে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ মে) দিনগত রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মধুরোড রেল স্টেশনের পাশে চাঁদাবাজিকালে তাদেরকে আটক করেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে এসব তথ্য জানান চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে পাঁচ যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে ঘটনাস্থলে আটক করে রেখেছিলেন।

আটকরা হলেন জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গোবিন্দিয়ার ইলিয়াস কাজীর ছেলে নাজির হোসেন (৩৬), শাহরাস্তির উয়ারুকের ফকির বাড়ীর তাজুল ইসলামের ছেলে মহিবুল ইসলাম (৩০), মতলব দক্ষিণের গোবিন্দিয়া পিংড়ার মিলন খানের ছেলে দিদার খান (৪২), একই উপজেলার ভাঙ্গারপাড় এলাকার সোহরাব উদ্দিনের ছেলে শরিফুল্লা প্রধানিয়া (৪০) এবং সদরের মান্দারি এলাকার মৃত ওসমান গনির ছেলে খোকন সর্দার (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও এই পাঁচ যুবক অটোরিকশা নিয়ে এসে গোয়েন্দা পুলিশের নাম ব্যবহার করে সবাইকে বোকা বানিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করতেন। এছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজিও করেছেন।

বুধবার কয়েক জায়গায় এরা লোকজনকে হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর মধুরোড রেল ষ্টেশন এলাকায় কয়েকজনকে তল্লাশিকালে অনেকের সন্দেহ হয়। পরে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

মধুরোড স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী অলী আহমদ বেপারী বলেন, রেলস্টেশনের ক্যান্টিনের পাশে পাকা রাস্তার ওপর (চাঁদপুর-থ-১১৪২২৫) সিএনজি চালিতে অটোরিকশা নিয়ে ওৎ পেতে ছিলেন পাঁচ যুবক। তাদের গায়ে প্রেস অ্যাণ্ড এন্টি-করাপশন লেখা কটি গায়ে দিয়ে এখানে এসে অবস্থান নেন। তাদের আচার আচরণে সন্দেহ হলে অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, আটক পাঁচজনের প্রেস এণ্ড এন্টি-করাপশন লেখা কটি গায়ে দিয়ে সাধারণ লোকজনকে অবরুদ্ধ করছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছে তারা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়েছে। পরে লোকজন তাদেরকে আটক করে আমাদেরকে জানায়। বর্তমানে অটোরিকশাসহ তারা থানা হেফাজতে আছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুতি চলছে।

চৌদ্দগ্রামে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজা সহ মো: ইকবাল হোসেন (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

সে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ সিদলাই ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া গ্রামের আনছার মৌলভীর বাড়ীর মৃত আবুল বাশারের ছেলে। বর্তমানে ইকবাল হোসেন উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচি গ্রামে হক মিয়ার ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতো।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ০৬:১৫ ঘটিকায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মো: জসিম উদ্দিন দেওয়ানের নেতৃত্বে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মো: সোলেমান ভূঁইয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ পুলিশের একটি টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বপাশে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জনৈক রফিক মিস্ত্রির বাড়ী সংলগ্ন কাঠ বাগানের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো ৫০ কেজি গাঁজা সহ ইকবাল হোসেনকে আটক করে। পরে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা (মামলা নং-১৫/১৬.০৫.২০২৪ খ্রিস্টাব্দ) দায়ের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে থানা পুলিশের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজের “ট্রাক সেল” কার্যক্রম এর শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস এর ব্যবস্থাপনায় “বসুন্ধরার পণ্য ভোক্তার জন্য” এই স্লোগানে ৬৪ টি জেলার ১০০ টি স্পটে ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেড কোয়ার্টার্স-২ এ ‘ট্রাক সেল’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। লাইভ ভিডিও কনফারেনসিং এর মাধ্যমে ৬৪ টি জেলার ১০০ টি স্পটকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত রেখে ট্রাক সেল কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা, চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, এম. এম. জসীম উদ্দীন, সিওও, ব্র্যান্ড এন্ড মার্কেটিং, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আব্দুস শুক্কুর, সিওও, সাপ্লাই চেইন ডিভিশনস, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, বেলাল হোসেন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার, বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস, বসুন্ধরা গ্রুপ, রেদোয়ানুর রহমান, হেড অফ সেলস, বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস এবং বসুন্ধরা এলপিজি, বসুন্ধরা গ্রুপ, সহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, ডেপুটি ডিরেক্টর আতিয়া সুলতানা, ডেপুটি ডিরেক্টর আফরোজা রহমান, সহকারী পরিচালক মো: আব্দুল জব্বার মন্ডল, সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ আলম এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর, অপূর্ব অধিকারী, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান, এছাড়াও কারওয়ান বাজার থেকে যুক্ত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর বিকাশ চন্দ্র সাহা এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মাসুম আরেফিন।

সাফিয়াত সোবহান বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যানে কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গেলো বছর থেকে শুরু করা আমাদের এই কার্যক্রম আরও ব্যাপকতার সাথে এই পবিত্র রমজান মাসেও আমরা পরিচালনা করেছিলাম। আমরাই প্রথম সারা দেশ জুড়ে ৬৪-টি জেলায় সাশ্রয়ী মূল্যে “ট্রাক সেল” কার্যক্রম চালু করলাম।”

উদ্বোধন শেষে রেদোয়ানুর রহমান (হেড অফ সেলস, বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস এবং বসুন্ধরা এলপিজি) বলেন, “প্রতি বছর দুই ঈদের আগে থেকেই বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করে, এতে করে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পেতে বেশ কষ্ট হয়। বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস গত বছর থেকেই সীমিত আকারে ‘ট্রাক সেল’ কার্যক্রম শুরু করে। ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এই বছর ব্যাপক আকারে সব কয়টি জেলায় মোট ১০০ টি স্থানে* আমরা “সাশ্রয়ী মূল্যে বসুন্ধরার পণ্য, ভোক্তার জন্য” স্লোগানে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে প্রতিবছর আমরা সারা দেশেই এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।”

বসুন্ধরা হেডকোয়ার্টারে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

এ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর তিনি কয়েকটি জেলায় ডিজিটালি যুক্ত হয়ে সরাসরি কথা বলেন তদসংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের সাথে এবং জেনে নেন কোথায় কোথায় এই কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে সেই বিষয়ে অবগত হন। বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বসুন্ধরার এই উদ্যোগের ফলে আশা করছি আমাদের পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বসুন্ধরার এ কার্যক্রমের ফলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বসুন্ধরার তেল, ময়দা, সেমাই, হলুদ, মরিচসহ মোট ১০১টি ভোগ্য পণ্যের এই ট্রাক সেল কার্যক্রম চলবে।

একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ একটি ক্যাটাগরি থেকে একটি পণ্যই কিনতে পারবেন। ক্রেতা যদি তেল কিনতে চায়, তাহলে উনি তেলের যেকোনো একটি বোতল (১ অথবা ২ অথবা ৫ লিটার) ক্রয় করতে পারবেন। আটা, মশলা, চা, চিনিগুঁড়া চাল সহ সকল পণ্যেই এই নিয়মে ক্রয় করতে হবে। যাতে করে এই কার্যক্রমের আওতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোক্তা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।

দেবীদ্বারে আনোয়ারাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আকামা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ারা বেগমকে মারপিটসহ বালিশ দ্বারা চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে আল-আমিন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সৌদি আরবে আকামা না পেয়ে আসামিরা পরষ্পর যোগসাজশে ২০১০ সালের ৩ মার্চ দিবাগত মধ্য রাতে আনোয়ারা বেগম (০০) কে মারপিটসহ বালিশ দ্বারা চাপাদিয়া শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন।

এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার ভিংলা বাড়ীর মৃত হাবিবুর রহমান এর কন্যা মোছাঃ উম্মে সালমা খাতুন (২২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পরদিন দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আনোয়ার উল্লাহ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি আল-আমিনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

তৎপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে একই উপজেলার ভিংলা বাড়ী’র
সুলতান আহমেদ এর ছেলে আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৪), ডাঃ আঃ সামাদ এর ছেলে আসামি মোস্তাফিজুর রহমান (২৬), মৃত সুজাত আলীর ছেলে আসামি সুলতান আহমেদ (৬০) ও সাজু মিয়ার ছেলে আসামি আল-আমিন (২০) এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৯৪/১০৯/৩৪ ধারার বিধানমতে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করিলে মামলাটি বিচারে আসিলে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে রাষ্ট্রপক্ষে জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামি আল-আমিন এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে পলাতক আসামি আল-আমিন এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড; সেইসাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং আসামি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।

উল্লেখ যে, মামলা চলাকালীন সময়ে আসামি মোঃ নজরুল ইসলাম ও সুলতান আহমেদ মৃত্যু বরণ করায় তাদেরকে মামলার দায় হইতে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

এ রায়ে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে বিজ্ঞ আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগকারীনি মোছাঃ উম্মে সালমা খাতুন হাউমাউ করে চিৎকার করে বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে আপীল করবো।

বরুড়ায় বই ও কসমেটিক বিক্রেতাকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, স্বামী’র কারাদণ্ড

তাপস চন্দ্র সরকার:

কুমিল্লা বরুড়ায় বই ও কসমেটিক বিক্রেতা মোঃ আক্তারুজ্জামানকে লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড এবং স্বামীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মোসাঃ হাফেজা বেগম তাসমিহা (২৮) হলেন কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমান এর মেয়ে ও দণ্ড প্রাপ্ত আসামি শাহীন ভূঁইয়ার স্ত্রী এবং ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মোঃ শাহীন ভূঁইয়া (৩৫) হলেন একই গ্রামের মোঃ মৃত রুহুল আমিনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানাযায়- পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রাত ৯টা হতে ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় যেকোনো সময় আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরের পানিতে ফেলিয়া গুম করিয়া রাখেন।

এ ব্যাপারে ১১ অক্টোবর নিহতের বড়ভাই কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবুল হাসেম এর ছেলে মোঃ আবুল কাশেম (৪৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ মোজ্জামেল হক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মোসাঃ হাফেজা বেগম তাসমিহা ও আসামি শাহীন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে তাহারা স্বীকারোক্তিমূলক প্রদান করেন।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তপূর্বক আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল অভিযোগপত্র এবং ২০২১ সালের ২৩ জুন সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করিলে ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল আসামি মোসাঃ হাফেজা বেগম তাসমিহা, মোঃ শাহীন মিয়া ও মোঃ মিজানুর রহমান এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনক্রমে রাষ্ট্র পক্ষে ১৩জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামিদ্বয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামি মোসাঃ হাফেজা বেগম তাসমিহাকে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং আসামি মোঃ শাহীন ভূঁইয়াকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এছাড়াও মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আসামি মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মোঃ নূরুল ইসলাম এবং আসামি এডভোকেট মোঃ ফারুক আহমেদ।

ডোনাল্ড লুর বক্তব্যের পর ফখরুলের কথার দাম নেই: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আগের অবস্থানে আছে- মির্জা ফখরুলের এমন দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল কী করে জানলেন যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থানে রয়েছে? মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর বক্তব্য পরিষ্কার। তিনি যে কথা বলেছেন, এরপর ফখরুলের যে বক্তব্য- এ বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই। ডোনাল্ড লুর বক্তব্যের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বুঝতে পারা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে সুষম খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রহমতে আলম ইসলাম মিশন এতিমখানায় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক উপকমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ৪৩ বছরের সবচেয়ে সাহসী নেতা ও সৎ রাজনীতিকের নাম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। গত ১৫ বছরে উন্নয়ন অর্জন ও আধুনিকতায় বাংলাদেশ বদলে গেছে। ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশের কোনো মিল নেই।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আসলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন। স্বাধীনতার আদর্শের প্রত্যাবর্তন। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয় বাংলার প্রবর্তন। তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই গণতন্ত্র শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু হয়েছে। পাহাড় সমতল সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। যারা এসব অস্বীকার করে তারা দিনের আলোতে অন্ধকার দেখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি এসেছিলেন বলেই আজ ঢাকায় তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের মেট্রোরেল তৈরি হয়েছে। তার কারণেই নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করা সম্ভব হয়েছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল হয়েছে যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম। বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন শেখ হাসিনাই করেছেন। এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ভাগ্য আর পকেটের উন্নয়ন করেছে। শেখ হাসিনার সততা আজ সারাবিশ্বে প্রশংসনীয়।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এতিমখানার শিক্ষার্থীসহ ঢাকা মহানগরের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আইফার্মার ও ইউসিবি’র প্রকল্প: অগ্রিম ঋণ পরিশোধ করলেন ভুট্টা ও মরিচ চাষিরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভুট্টা ও মরিচ চাষিদের জন্য ব্যাংক অর্থায়ন ও ঋণ পরিশোধের প্রকল্প গত বছর নভেম্বর থেকে সফলভাবে পরিচালনা করছে আইফার্মার ও ইউনাইডেট কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে গত ১৩ মে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে অগ্রিম ঋণ পরিশোধ করতে ৭০ জনেরও বেশি কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রকল্পের অধীনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মানসম্মত কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন কৃষকরা; পাশাপাশি, প্রকল্পের মাধ্যমে ভুট্টা ও মরিচ চাষের ক্ষেত্রে ইউসিবি পিএলসি থেকে আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করেছেন তারা। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি শেষ হবে আগামী জুলাইয়ে।

এখন কৃষকরা তাদের ভুট্টা ও মরিচের আবাদ ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সভায় কৃষকরা তাদের সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত কাজীপুরের স্থানীয় কৃষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আইফার্মার ও ইউসিবির এই প্রকল্প আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। আগে মরিচ চাষ করার সময় আর্থিক সংকটের কারণে নানা ধরনের সমস্যা হতো। কিন্তু এই ঋণ নেয়ার পর আমি ঠিকভাবে জমিচাষ করতে পারছি, ফসল ফলাতে পারছি। এখান থেকে শুধু সুবিধাই পাচ্ছি না, একইসাথে ঋণ অগ্রিম পরিশোধ করতেও সক্ষম হয়েছি। এছাড়াও আই ফার্মার থেকে আমি কৃষি সম্পর্কিত নানান কৃষি পরামর্শ পেয়েছি, যা চাষাবাদের ক্ষেত্রে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে।”

এ বিষয়ে আইফার্মারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অপারেটিং অফিসার জামিল এম আকবর বলেন, “কৃষকরা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, আর তাদের কাজকে স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক করতে আর্থিক সেবা সহজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কৃষকদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, আর আমরা আগামীতে এ ধরনের আরও উদ্যোগ নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমাদের গতবারের ভুট্টা প্রকল্পটি সফল হয়েছে, এবার তাই আমরা মরিচ ও ভুট্টা নিয়ে কাজ করছি। ইউসিবির সাথে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগটি কৃষকদের জীবন ও কাজের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা কৃষকদের সহায়তায় আমাদের অংশীদার হওয়ায় ইউসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি’র স্থানীয় ব্রাঞ্চ অফিসার আরিফাত সিরাজী ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নূপুর কর্মকার সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা। এছাড়াও, আইফার্মারের পক্ষ থেকে সভায় উপস্থিত ছিলেন ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিসের এক্সিকিউটিভ কাজী ফাহিম ফারহান সাজিদ, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার মো. তানজিল উল মউসুফ, রিজিওনাল কোঅর্ডিনেটর আনোয়ার হোসেন, এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. রেজাউল করিম এবং এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।