All posts by jitu

ডিজেলে দাম কমল ২ টাকা ২৫ পয়সা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। আগামীকাল সোমবার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

আজ রবিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা ২৫ পয়সা কমিয়ে লিটারপ্রতি দাম ১০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে পেট্রোল ও অকটেনের দাম।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ প্রাইসিং ফর্মুলা বা গাইডলাইনের আলোকে ডিজেল ও কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার। তখন প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৭৫ পয়সা কমিয়ে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ৪ টাকা কমিয়ে ১২৬ টাকা ও ৩ টাকা কমিয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বেনজীরের স্ত্রী ও কণ্যাদের নামে প্রায় হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক প্রধান ছিলেন। প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন অবসরে রয়েছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড় একটি পত্রিকার অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে। এ সংবাদে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেখে নেয়া যাক- বেনজীরের অবৈধ সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামের নিভৃত এই পল্লীর মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে সাভানা
ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে এক রাত থাকতে গেলে গুনতে হয় অন্তত ১৫ হাজার টাকা। রিসোর্টের ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হাতে গড়া আভিজাত্যের অপরূপ মিশেল। বিশাল আকৃতির ১৫টি পুকুরের চারপাশে গার্ড ওয়াল, দৃষ্টিনন্দন ঘাট, পানির কৃত্রিম ঝরনা ও আলোর ঝলকানি। পার ঘেঁষে রয়েছে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স কটেজ। বিদেশি শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় এসব স্থাপত্য নকশা। কটেজের ভেতর থেকে পুকুর পর্যন্ত এমন পথ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে মাটিতে পা ফেলার প্রয়োজন নেই; সরাসরি কটেজ থেকে কাচে ঘেরা আবরণ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় শান-বাঁধানো ঘাটে। সাভানা ইকো রিসোর্টের পরিধি এতটাই বড় যে সাহাপুর গ্রামের নাম লিখে গুগলে সার্চ দিলে এই রিসোর্টটিই আগে ভেসে ওঠে পর্দায়।

প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই ইকো রিসোর্টের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে কৃত্রিম পাহাড়। সাগরের কৃত্রিম ঢেউ খেলানো সুইমিং পুলও রয়েছে এখানে। আছে হাজারের বেশি ভিয়েতনামি নারকেলগাছসহ বিভিন্ন ফলফলাদির গাছ। রয়েছে উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিশাল আকৃতির কনসার্ট হল।

দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একক পরিবারের জন্য বানানো এসব কটেজের পেছনে ব্যয় হয়েছে অর্ধকোটি টাকারও বেশি। যুগলদের কাছে কটেজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রিসোর্টের ভেতরে এখন আরো ৫০টি কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এত সব আয়োজন যেখানে, সেই রিসোর্টের নিরাপত্তায় পাশেই বসানো হয়েছে ‘বিশেষ’ পুলিশ ফাঁড়ি। যাতায়াতের জন্য সরকারি খরচে বানানো হয়েছে সাত কিলোমিটারের বেশি পাকা সড়ক।

দেশে এ রকম নজিরবিহীন আভিজাত্যে ঘেরা পর্যটন স্পটটির মালিকপক্ষ কারা জানেন? অবিশাস্য হলেও সত্য যে রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের পরিবার।

সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বেনজীরের বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর এবং পরিচালক ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর।

শুধু এই এক ইকো রিসোর্টই নয়, পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের নামে অন্তত ছয়টি কম্পানির খোঁজ পাওয়া গেছে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে। এর পাঁচটিই নিজ জেলা গোপালগঞ্জে। জেলা সদরের সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে রয়েছে বেনজীর আহমেদের অঢেল সম্পদ। দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার কাছেই দামি এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার। পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরো ১০ বিঘা জমি।

এই বিপুল সম্পদের মালিক পরিবারের কর্তা পুলিশের সাবেক আইজি ও র‌্যাবের সাবেক ডিজি বেনজীর আহমেদ সরকারি বেতন-ভাতা থেকে কত টাকা উপার্জন করেছেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, ৩৪ বছর সাত মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদ বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় করেছেন এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে পদবি অনুযায়ী পেয়েছেন আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। বাংলাদেশ পুলিশের ৩০-তম মহাপরিদর্শক ছিলেন তিনি। ২০১১, ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)। অবসরে যাওয়ার আগে ২০২১ সালে ভূষিত হন শুদ্ধাচার পুরস্কারেও। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ার পর বেরিয়ে আসে সাবেক এই পুলিশকর্তার থলের বিড়াল।

সম্পদের মালিকানায় স্ত্রী ও দুই মেয়ে:

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সুকৌশলী বেনজীর আহমেদ নিজের নামে কোনো সম্পদ করেননি, করেছেন তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে। গোপালগঞ্জে সাভানা ফার্ম প্রডাক্টস, সাভানা অ্যাগ্রো লিমিটেড, সাভানা ন্যাচারাল পার্ক, সাভানা ইকো রিসোর্ট, সাভানা কান্ট্রি ক্লাব বানিয়েছেন বেনজীর আহমেদ। বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড নামের একটি কম্পানিতে বড় মেয়ে ফারহিনের নামে এক লাখ, আর ছোট মেয়ে তাহসিনের জন্য কেনা হয়েছে আরো এক লাখ শেয়ার। এম/এস একটি শিশির বিন্দু (রেজি. পি-৪৩০৩৬) নামের ফার্মের ৫ শতাংশের মালিকানায় নাম রয়েছে বড় মেয়ের। আরো ৫ শতাংশের মালিকানা রয়েছে ছোট মেয়ের। একই প্রতিষ্ঠানে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জার রয়েছে ১৫ শতাংশ অংশীদারি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৫ শতাংশের মালিকানা রয়েছে বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও মেয়েদের।

যৌথ মূলধনী ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে একটি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাবেক পুলিশ ও র‌্যাব কর্তা বেনজীর আহমেদ তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে গোপালগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছেন সাভানা অ্যাগ্রো। ২০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনধারী সাভানা অ্যাগ্রো লিমিটেডের পরিচালক তিনজন। ১০টি শেয়ারধারী স্ত্রী জীশান মীর্জা চেয়ারম্যান, সমপরিমাণ শেয়ারের অধিকারী ২৯ বছর বয়সী বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর এমডি। আর মাত্র ২৪ বছর বয়সী ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর আছেন পরিচালক হিসেবে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে যায় কালের কণ্ঠ। সেখানে দেখা গেছে, ২০ কোটি নয়, সাভানা অ্যাগ্রোর রয়েছে কয়েক শ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা।

বেনজীর আহমেদের পরিবারের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হলো সাভানা ন্যাচারাল পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কম্পানির (আরজেএসসি) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই কম্পানির অনুমোদিত মূলধন পাঁচ কোটি টাকা। সাভানা অ্যাগ্রোর মতো এই কম্পানির মালিকানায়ও আছেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে। যথারীতি এখানেও স্ত্রী চেয়ারম্যান এবং মেয়েদের একজন এমডি, অন্যজন পরিচালক। প্রত্যেকের হাতে রয়েছে এক লাখ করে মোট তিন লাখ শেয়ার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই পার্কের আয়তন প্রায় ৬০০ বিঘা। পার্কটি বড় করতে পাশে আরো ৮০০ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। এখন ভরাট করা হচ্ছে।

যৌথ মূলধনী কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে পাওয়া নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাভানা অ্যাগ্রোর নিবন্ধনে ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে ২২৮/৩, শেখপাড়া রোড, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকানাটি বেনজীরের শ্বশুরবাড়ি। বেনজীরের শ্বশুরের নাম মীর্জা মনসুর উল হক ও শাশুড়ির নাম লুৎফুন নেসা মনসুর।

নথির তথ্য মতে, বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জার জন্ম ১৯৭৩ সালের ১০ জুলাই। বড় মেয়ের জন্ম ১৯৯৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। ছোট মেয়ে জন্মেছেন ২০০০ সালের ১২ এপ্রিল। দুই মেয়ে মাত্র ২৯ ও ২৪ বছর বয়সেই কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন প্রভাবশালী পুলিশকর্তা বাবার অবৈধ আয়ের ওপর ভর করে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্ত্রী জীশান মীর্জারও তেমন কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিপুল বিনিয়োগে গড়ে তোলা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তিনি। জীশান মীর্জার পৈতৃক সূত্রে এত পরিমাণ সম্পদ পাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিয়ে হলেও ছোট মেয়ের এখনো বিয়েই হয়নি। বড় মেয়ের বিয়ের প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই বেনজীর কম্পানিগুলোর জন্য জমি কেনা শুরু করেন এবং মেয়েকে কম্পানির এমডি বানান।

বেনজীরের রিসোর্ট:

গোপালগঞ্জ এর বৈরাগীটোল এলাকায় সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কটিকে স্থানীয়রা ‘বেনজীরের চক’ নামে চেনে। পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র‌্যাবের ডিজি থাকাকালে এলাকাটিতে স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা জমি কেনেন তিনি। এসব জমির বিঘাপ্রতি ক্রয়মূল্য ছিল তিন থেকে আট লাখ টাকা।

এলাকাবাসী জানায়, বেনজীর জমিগুলো কেনার পর অন্ততপক্ষে ১৫ ফুট ভরাট করে রিসোর্ট বানিয়েছেন। কারণ এগুলো ছিল বদ্ধ জলাশয়। নিচু হওয়ায় বেনজীরের রিসোর্টটি আগে ছিল মাছের অভয়ারণ্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাভানা রিসোর্টে ১৫টি কটেজ বানানো শেষ করে পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কাপলদের কাছে শুধু দিন হিসাবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা, রাত হিসাবে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত একই দামে, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। রিসোর্টে চাকরিরত দায়িত্বশীলরা জানান, যেকোনো বয়সী ছেলেমেয়ে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এসব কটেজে থাকতে পারে। চাইলে রাত যাপন করতে পারে। বেনজীর বিলাসবহুল এই রিসোর্ট চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডসহ পশ্চিমা বিশ্বের আদলে।

রিসোর্টটির আলোকসজ্জা করতে কোনো মিটার ছাড়াই কিলোমিটারের পর কিলোমিটার বিদ্যুতের সরকারি তার সরবরাহ করা হয়েছে কোনো খুঁটি ছাড়াই। মাটির ওপর দিয়ে নেওয়া এসব বৈদ্যুতিক তার যে কারো জন্যই প্রাণনাশের হুমকিস্বরূপ। সাগরের কৃত্রিম ঢেউ খেলানো সুইমিং পুলও রয়েছে এখানে। আছে হাজারের বেশি ভিয়েতনামি নারকেলগাছসহ বিভিন্ন ফলফলাদির গাছ।

শুধু তাই নয়, রিসোর্টটির নিরাপত্তায় পাশেই বসানো হয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নতি না হলেও এই রিসোর্টে প্রবেশ স্বাচ্ছন্দ্য করতে সাত কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে সরকারি খরচে। রিসোর্টের ভেতরেও সর্বত্র করা হয়েছে ঢালাইয়ের রাস্তা। রিসোর্টের সব রাস্তার হিসাব করলে দেখা যায়, প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক পিচ ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বেনজীরের নিজ প্রতিষ্ঠানের এসব রাস্তাও করা হয়েছে সরকারি খরচে।

জানতে চাইলে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ এটিকে সাজাচ্ছেন দেশের সবচেয়ে বড় ইকোপার্ক ও বিলাসবহুল রিসোর্টের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে। এ জন্য যা যা দরকার, তা-ই করা হচ্ছে।’

বেনজীরের কেনা জমির কয়েকজন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্রমাগত চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেন বেনজীর। ভয়ভীতিতে কাজ না হলে ভেকু দিয়ে জমির মাটি নিয়ে যেতেন। গভীর গর্ত করে শেষ পর্যন্ত জমি বিক্রি করতে বাধ্য করতেন। পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন পদে থাকায় তাঁর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি জমির মালিকরা।

ঢাকা ও পূর্বাচলে বিপুল টাকার সম্পদ:

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে সুবিশাল অভিজাত একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বেনজীর আহমেদের। গুলশান ১ নম্বরের ১৩০ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়িটির নাম ‘র‌্যাংকন আইকন টাওয়ার লেক ভিউ’। ভবনের ১২ ও ১৩তম তলায় আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তাঁর। সূত্র জানায়, আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের এই অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। ভবনটি নির্মাণ করে র‌্যাংকন ডেভেলপমেন্টস। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯.৭৫ কাঠা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন দুই হাজার ১৫০ বর্গফুট। এখানে রয়েছে ১৩টি ফ্লোর এবং দুটি বেইসমেন্ট। সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে গেলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. সবুজ জানান, ১২ ও ১৩ তম তলায় রয়েছে বেনজীরের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট।

এ ছাড়া রাজধানীর মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সংলগ্ন ইস্টার্ন প্রপ্রার্টিজের একটি বহুতল ভবনে চার হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনেছেন বেনজীর আহমেদ।

পূর্বাচলে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করেছেন বেনজীর আহমেদ। আনন্দ হাউজিং সোসাইটির দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় পোড়া মোড়ের পাশের এলাকায় অন্তত ৪০ কাঠা জমির ওপর গড়েছেন বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। জমি ও বাড়ির মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা বলে ধারণা স্থানীয়দের।

ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই এলাকা ডোবা ও বিল হিসেবে আমরা দেখেছি। কিছুদিন আগেও এসব এলাকায় আমরা মাছ ধরেছি। পুলিশের কর্মকর্তারা আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরপরই বেনজীর আহমেদ এই জায়গায় মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।’

দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায় অটো চালান মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, সোসাইটির ভেতরে সবচেয়ে দামি বাড়ি এটি। আনন্দ হাউজিং এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে বেনজীরের ডুপ্লেক্স বাড়িটি দেখার জন্য মাঝেমধ্যে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর পূর্বাচলের ফারুক মার্কেটের পেছনের দিকে ১৭ নম্বর সেক্টরের ৩০১ নম্বর রোডের জি ব্লকে ১০ নম্বর প্লটের মালিক পুলিশের সাবেক এই আইজি। স্থানীয়রা বলছেন, ১০ কাঠা পরিমাণের এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। বেনজীর আহমেদ পুলিশের আইজি থাকাকালে এই প্লট কেনেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পুলিশের এই সাবেক আইজি তাঁর ১০ কাঠার প্লটটি বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু ক্রেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকার মোহাম্মদ নাঈম, আব্দুল কাদের ও মোহাম্মদ মোহসিন নামের তিন ব্যক্তি পুলিশের সাবেক এই আইজির ১০ কাঠার প্লটটির বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নাওড়ায় বেনজীর আহমেদের রয়েছে দুই বিঘা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

বেনজীরের মেয়ের বিশ্রামের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট:
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেয়ে ক্লাসের ফাঁকে একটু সময় কাটাবেন, এ জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। সি ব্লকের ৪০৭ নম্বর প্লটে সাত কাঠা জমির ওপর নির্মিত আটতলা ভবনের পঞ্চম তলায় তাঁর কেনা ফ্ল্যাটের আয়তন সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ক্লাসের বিরতির সময় তিনি যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্রাম নিতে পারেন, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেই এই ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল। তাঁর এই ফ্ল্যাট নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে।

সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে কথা হয় ভবনের নিরাপত্তাকর্মী তমিজ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। তমিজ জানান, প্রস্তুত হওয়ার তিন বছর পর্যন্ত বেনজীর আহমেদের মেয়ে ফ্ল্যাটটি ব্যবহার করতেন। মাঝেমধ্যে বেনজীর তাঁর স্ত্রীসহ ফ্ল্যাটটিতে আসতেন। বছরখানেক আগে খোকন নামের গোপালগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দেন বেনজীর।

ভবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বেনজীর আহমেদ ফ্ল্যাটটি ডেকোরেশনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কয়েকটি দরজারই মূল্য ছিল ৫০ লাখ টাকার বেশি। ভেতরের আসবাবও ছিল চোখ-ধাঁধানো। এ নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দাদের মনেও কৌতূহলের অন্ত নেই।

দুই মেয়ের নামে পাঁচতারা হোটেলের মালিকানা:
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব প্রক্রিয়া (আইপিও) শেষে সম্প্রতি পুঁজিবাজারের ভ্রমণ ও আবাসন খাতে তালিকাভুক্ত হয় বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। এই বেস্ট হোল্ডিংসের অন্যতম প্রকল্প হলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে খ্যাত পাঁচতারা হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’।

তালিকাভুক্তির আগ থেকেই কম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন ও প্রসপেক্টাসে তথ্যের ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও একজনের ক্ষমতায় শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কম্পানিটি। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে এই কম্পানির বড় অঙ্কের শেয়ার ছিল বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের হাতে। তাই মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়েই পুঁজিবাজারে আসে কম্পানিটি।

পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে অনুসন্ধানে  বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের দেওয়া প্রসপেক্টাস অনুসন্ধানে বের হয়েছে চমকপ্রদ তথ্য। জানা যায়, কম্পানিটির দুই লাখ শেয়ারের মালিক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুই মেয়ে। দুই মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে রয়েছে সমানসংখ্যক শেয়ার। ৫৫ টাকা অধিমূল্যে ৬৫ টাকা প্রতিটি শেয়ারের দর হিসাবে এই কম্পানিতে সাবেক আইজিপির দুই মেয়ের বিনিয়োগ রয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালে বেস্ট হোল্ডিংসের দুই লাখ শেয়ার দুই মেয়ের জন্য কেনেন বেনজীর আহমেদ। ওই সময় র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বেস্ট হোল্ডিংসের শেয়ার কিনতে ফারহিন ব্যবহার করেছেন সার্কিট হাউসের ঠিকানা। বেস্ট হোল্ডিংসের প্রসপেক্টাসের ১৮৯ নম্বর পৃষ্ঠায় এই ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানার স্থলে লেখা হয়েছে : হাউস-১০, সার্কিট হাউস, শান্তিনগর, রমনা, ঢাকা। ঠিকানার পাশাপাশি উভয়ের বিও অ্যাকাউন্ট নম্বরও জানা গেছে।

বিও অ্যাকাউন্ট হচ্ছে বেনিফিশিয়ারি ওনার অ্যাকাউন্ট। এর মাধ্যমে ইস্যুয়ার কম্পানি তার শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বা কম্পানির মালিকানা হস্তান্তর করে। বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের দেওয়া বিও অ্যাকাউন্ট নম্বর ১২০৬৩৫০০৭৫৬৮৫১৩২ এবং তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিও অ্যাকাউন্ট নম্বর ১২০৬৩৫০০৭৫৬৮৫২৫৮।

বেনজীরের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। কেউ যদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন, দুদক তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

বেনজীর আহমেদ পুলিশের একজন প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, এ ক্ষেত্রে দুদক কতটুকু কী করতে পারবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আইনে প্রভাবশালী নিয়ে কিছু বলা নেই। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীরও দুর্নীতির বিচার হয়েছে। সুতরাং যে কারো দুর্নীতির বিষয়ে দুদক চাইলে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে পারে।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, “বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই অনুসন্ধান করা হবে। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, কারো বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে পর্যাপ্ত ‘সাপোর্টিং পেপারস’ আমাদের কাছে থাকতে হয়।”

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও সঠিক তথ্য পেলে দুদক বেনজীর কেন, যে কারো বিরুদ্ধেই অনুসন্ধান করবে। আর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরও যদি অনুসন্ধান না করা হয়, তাহলে দুদকের বিরুদ্ধেই তো রিপোর্ট হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সূত্র: কালের কন্ঠ।

ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোর সুপারিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি একদিন (৯ এপ্রিল) বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

রোববার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আগামী ৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ছুটি রাখার সুপারিশ করেছে।

কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ছুটির ব্যাপারে কালকে একটা সুপারিশ যাবে সরকারের কাছে, একদিন বাড়ানো যায় কিনা। যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে।

তিনি বলেন, ৯ এপ্রিল ছুটির আওতায় আনা যায় কিনা, সেটার একটা সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদে যাবে। আগামীকাল মন্ত্রিসভার মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে এই কমিটির একটা সুপারিশ যাচ্ছে।

ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৯ তারিখ অফিস খোলা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এজন্য আমরা (৯ এপ্রিল বন্ধ রেখে) আগের শনিবার অফিস করতে পারি কিনা সেই বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সুপারিশ করেছি, যদি ১১ এপ্রিল ঈদ হয়, যাওয়ার জন্য একদিন মাত্র সময় পাবে। সে সেজন্য যানজটটা বাড়তে পারে, এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। সেজন্য ৯ এপ্রিল ছুটি বিবেচনা করা যায় কিনা এই সুপারিশ আমরা দেব।

দেড় বছর বয়সেই ২৫০ কোটি টাকার মালিক স্টার কিড রাহা!

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২২ সালের এপ্রিলে গাঁটছড়া বাঁধার পর নভেম্বরে কন্যাসন্তানের মা-বাবা হয়েছেন আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুর। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে তাদের মেয়ে রাহা। সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে মেয়ের সঙ্গেই সময় কাটে রণবীর-আলিয়ার। আর দেড় বছরের সেই ছোট্ট রাহাই নাকি বিটাউনের সবচেয়ে ধনী ‘স্টার কিড’।

সম্পত্তির খতিয়ানে আরিয়ান-সুহানা, অ্যাব্রামকেও প্রায় ছাড়িয়ে গেছে রণবীর-আলিয়ার মেয়ে। এমন খুদে বয়সেই ২৫০ কোটি টাকার মালকিন সে!

বিষয়টি একটু খোলাসা করা যাক। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এবং নীতু কাপুরকে মাঝেমধ্যেই বান্দ্রায় দেখা যায়। কৃষ্ণারাজ বাংলোর কাজ কতদূর এগিয়েছে, সেটি দেখাশোনা করতে যান পালা করে। বুধবারও গিয়েছিলেন। কাজ প্রায় শেষের দিকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, সেই বিলাসবহুল বাংলোই মেয়ে রাহার নামে রেজিস্ট্রি করবেন রণবীর-আলিয়া। দুই তারকাই তাদের পারিশ্রমিক ঢেলেছেন এই বাংলোয়। বর্তমানে যার বাজারদর ২৫০ কোটি টাকা। শাহরুখ খানের মান্নত এবং অমিতাভ বচ্চনের জলসার থেকেও নাকি কৃষ্ণারাজ বাংলো বেশি দামি। দাদির নামে বাংলোই রাহাকে উপহার দিচ্ছেন রণবীর-আলিয়া।

এই বিলাসবহুল বাংলো ছাড়াও রণবীর-আলিয়ার ৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে বান্দ্রায়। যা কিনা ৬০ কোটি টাকা মূল্যের। তবে কৃষ্ণারাজ বাংলোর অর্ধেকটা নাকি নীতু কাপুরের নামেও থাকবে। কারণ সেই সম্পত্তির অর্ধেক মালকিন হিসেবে ঋষি কাপুর তার নামই লিখে গিয়েছিলেন। যদিও অর্থনৈতিকভাবে নীতু বরাবরই স্বাধীন। সম্প্রতি ১৫ কোটি টাকার এক ফ্ল্যাট কিনেছেন বান্দ্রায়।

এই বাংলো তৈরি হয়ে গেলে নাকি একছাদের তলাতেই থাকবেন ‘কাপুর খানদান’।

বুয়েটকে অপরাজনীতির কারখানায় পরিণত করা হচ্ছে কি না দেখা হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটের ঘটনায় তদন্ত চলছে। আমরা খতিয়ে দেখছি। সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে একটি অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হবে, সেটা যাতে না হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি। এরকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।

রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে চট্টগ্রাম বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বুয়েটে সেদিন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। আর আমি রাজনীতি করি বলে বুয়েটে যেতে পারবো না, এটা কোন ধরনের আইন? কোন ধরনের নিয়ম?

মতবিনিময় সভায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

বলেন, নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে প্রশাসন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আমরা এমপি-মন্ত্রীরা যদি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকি তাহলে বিনা প্রতীকে নির্বাচন করার যে উদ্দেশ্য নেত্রী করেছেন, তা স্বার্থক হবে। কেউ ক্ষমতার দাপট ও ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। যার নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে, করবেন। সে স্বাধীনতা আছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা নির্বাচিত করবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, যদি কোনো অনিয়ম মনে করে তারা ব্যবস্থা নেবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা নির্বাচন। কাজেই আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ভালোভাবেই চলছে সবকিছু। এরমধ্যে দায়িত্বশীলদের এমন কিছু কথাবার্তা দলকে সংকটে ফেলে। ফ্রি স্টাইলে যা কিছু বলবেন, এটাতো আওয়ামী লীগ নয়। দলের গঠনতন্ত্র নিয়মকানুন আছে। এগুলোর অ্যাকশন আমরা নেবো। এরই মধ্যে কিছু অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা বিভিন্নজন… কেউ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলেন। আবার কেউ ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা বলেন। সেই পাকিস্তানি আমল থেকে যে ভাষায় আইয়ুব খান কথা বলেছে, আজ সে ভাষায় কথা বলছে বিএনপি। তাদের সব ইস্যুই মার খেয়েছে ভোটে পরাজিত হয়ে। এখন তাদের ইস্যু ভারত বিরোধিতা। অ্যান্টি ইন্ডিয়া ফোবিয়া তৈরি করার ইস্যু খুঁজে নিয়েছে।

রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায় তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। আর তারা এখন রিজার্ভ নিয়ে কটাক্ষ করে। যখন রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, ঈদ উপলক্ষে সে রিজার্ভ আরও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তারা না জেনে শুনেই মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছে।

বাজারদর নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, কিছু পণ্যের দাম কমেছে। বাজার ওঠানামা করবেই। বিশ্ব সংকট এর জন্য দায়ী, আর শাস্তি পাচ্ছি আমরা। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই এ সংকট অতিক্রম করার সাহস আমরা পাচ্ছি। ইনশাল্লাহ, এ সংকট কেটে যাবে।

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্মেলন করে সেখানে কমিটি গঠন করা হবে। ঢাকা থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে কেন কমিটি গঠন করতে হবে?

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, ডাক্তার দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ চট্টগ্রাম বিভাগের আওয়ামী লীগের নেতারা।

১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৭৭ মিটার রাস্তা নির্মাণে লাগামহীন অনিয়ম

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় একটি নতুন রাস্তা পাকাকরণ কাজে সিডিউল বহির্ভূত ভাবে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই প্যাকেজে ১৬৫ মিটার সড়ক সংস্কারকাজেও অনিয়ম হয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পে দাগনভূঞার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের ছমিভূঞা হাট থেকে চৌধুরী হাট সড়কের ১৫৭৭ মিটার পাকাকরণ কাজের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৫ মিটার সড়ক সংস্কার। কাজটির কার্যাদেশ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টার প্রাইজ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টার প্রাইজের কর্ণধার আবুল কালাম বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও মাঠ পর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার স্বপন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ রাস্তা নির্মাণে একেবারে নিম্নমানের ইট, ইটের খোয়া ও ভিটি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে প্রায় ২০০ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণেও একেবারে নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে নির্মাণাধীন রাস্তাটি দেখতে গেলে কোনো প্রকৌশলী এসেছেন ভেবে অভিযোগ দিতে আসেন স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করে বলেন, পুরো রাস্তায় একেবারে নিন্মমানের ইটের খোয়া ও ইটের এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসী ঠিকাদারকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ ধরা আছে বলে ঠিকাদার স্থানীয়দের জানায়।

ঠিকাদার স্বপন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,তিনি সিডিউল মোতাবেক কাজ করছেন।

নিন্মমানের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ বলেন, সড়কে নিন্মমানের খোয়া দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে সড়ক থেকে নিন্মমানের খোয়া গুলো অপসারণ করে নেওয়া হয়।

তবে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য সত্য নয়। সড়কে এখনো নিন্মমানের খোয়া ও ইট রয়েছে। এলাকাবাসী পাল্টা অভিযোগ করেন দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ উপজেলায় এলজিইডির কাজে উন্নয়নের নামে হরিলুট চলছে। যার প্রমাণ মিলবে গত এক বছরে বাস্তবায়নকৃত কাজ গুলো খতিয়ে দেখলে।

বিএনপি নেতা সোহেল কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর নিউমার্কেট ও পল্টন থানার মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩১ মার্চ) সকালে ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাবিব-উন নবী খান সোহেল তিনটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম ও মো. আক্তারুজ্জামানের আদালত তিন মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পল্টন থানার পৃথক দুই মামলায় দুই বছর করে চার বছরের কারাদণ্ড ও নিউমার্কেট থানার এক মামলায় দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। আজ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন সোহেল। আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৭ সালে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় একটি ও ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি মামলা করা হয়। ২০২৩ সালে এই দুই মামলায় তাকে চার বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। ২০১৫ সালে নিউমার্কেট থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলায় গত বছর তাকে দেড় বছরের সাজা দেওয়া হয়।

আজ রাতেই আসবে ভারতের পেঁয়াজ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারত থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আজ রাতেই ট্রেন বাংলাদেশে আসবে। প্রথম চালানে এক হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

রোববার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে।

গত বছরের আগস্টে ভারতের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে সরকার ৪০ শতাংশ শুল্কারোপ করে। এরপর গত অক্টোবরে পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয় টনপ্রতি ৮০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে এসব পদক্ষেপ খুব বেশি কার্যকর না হওয়ায় গত ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয়। ভারতের এ নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশের বাজারে হু হু করে বাড়ে পেঁয়াজের দাম। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মুড়ি কাটা পেঁয়াজের দাম ওঠে ১৪০ টাকা পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, বাংলাদেশকে ভারত ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ দেবে। অবশ্য ভারতের পেঁয়াজ না এলেও বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। তাতেই ধারাবাহিকভাবে কমছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজের কেজি ১৩০-১৪০ টাকা ছিল এখন সেই পেঁয়াজের কেজি ৫৫-৬০ টাকা।

দিল্লির মাঠে সন্ধ্যায় নামছে চেন্নাই, একাদশে থাকবেন মুস্তাফিজ?

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা দুই জয়ে উড়ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। ঘরের মাঠে জয়ের ছন্দ ধরে রাখার পর এবার অবশ্য প্রতিপক্ষের মাঠে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। আজ (রোববার) বিশাখাপত্তমে স্বাগতিক দিল্লি ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবে ধোনি-মুস্তাফিজরা। চলতি আসরে দুই ম্যাচ খেলে ফেললেও এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি রিশভ পন্তের দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।

চেন্নাইয়ের জার্সিতে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেন ফিজ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে নতুন বলে রীতিমতো দুর্বোধ্য হয়ে ওঠেন এই পেসার। নিজের করা প্রথম দুই ওভারেই শিকার করেন ৪ উইকেট। সবমিলিয়ে ৪ ওভারে ২৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন এই বাঁ-হাতি পেসার।

পরের ম্যাচেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৩০ রান। তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। সবমিলিয়ে আসরে ২ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে এখন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বাংলাদেশি এই পেসার।

কিন্তু এরপরেও চেন্নাইয়ের একাদশে মুস্তাফিজ থাকবেন কি না, এই নিয়ে প্রশ্ন আছে বিস্তর। কারণটা মাথিশা পাথিরানা। গত আইপিএলে পাথিরানা ছিলেন অসাধারণ। শিরোপার প্রশ্নে লঙ্কান এই পেসার ছিলেন ধোনির দলের বড় অস্ত্র। অবশ্য সর্বশেষ ম্যাচে দুই পেসারকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তবে এবার মাঠটা চেন্নাইয়ের বাইরে বলেই আবারও মুস্তাফিজের একাদশে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দিল্লির বিশাখাপত্তমে এখনও পর্যন্ত চলতি আইপিএলের কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি। বিশাখাপত্তমের পিচে প্রচুর রান হতে পারে এবং এখানে ভক্তরা চার-ছক্কার বৃষ্টি দেখতে পারেন। তবে পরবর্তীতে বোলাররা এই পিচ থেকে সেভাবে সাহায্য নাও পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের উইকেট ছিল মুস্তাফিজের কাটারের জন্য আদর্শ জায়গা। অবশ্য চেন্নাইয়ের বোলিং পরামর্শক এরিক সিমন্স জানিয়েছেন, দিল্লির উইকেটে ঘাস আছে। পেসারদের জন্য শুরুতে থাকবে সুইংও। ভাইজাগে সন্ধ্যার পর দেখা যেতে পারে শিশিরও।

এ ছাড়া দিল্লির বেশ কয়েকজন মূল ব্যাটারই বাঁহাতি—যেমন ডেভিড ওয়ার্নার, পন্ত, অভিষেক পোরেল, অক্ষর প্যাটেল। তাই চেন্নাই একাদশে মঈন আলীর মতো কোনো অফ স্পিনারকে প্রয়োজনীয় মনে করতে পারে। তবে দিন শেষে সমীকরণের মারপ্যাঁচ এড়িয়ে চেন্নাই ম্যানেজমেন্ট ফর্মের দিকেই যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে একাদশে মুস্তাফিজের নামটাই সবার আগে থাকার কথা!

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ প্রিভিউতে বলেছেন, চেন্নাইয়ের একাদশে তিনি পরিবর্তন দেখছেন না। চেন্নাই আগের দুই ম্যাচের কৌশলেই খেলবে। আকাশের ‘প্লেয়ার টু ওয়াচ’–এর তালিকাতেও আছেন মুস্তাফিজ।

চেন্নাই সুপার কিংসের সম্ভাব্য একাদশ

রুতুরাজ গায়কোয়াড় (অধিনায়ক), রচিন রবীন্দ্র, আজিঙ্কা রাহানে, ড্যারিল মিচেল, শিবাম দুবে, রবীন্দ্র জাদেজা, সামির রিজভী, এমএস ধোনি (উইকেটরক্ষক), দীপক চাহার, তুষার দেশপান্ডে, মুস্তাফিজুর রহমান/মাথিশা পাথিরানা।

সিসিইউতে খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ রাখা হয়েছে।

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

রোববার (৩১ মার্চ) সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না বলে গভীর রাতে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতে হয়েছে। এখন সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ম্যাডামের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ফলাফল দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন। দোয়া করেন ম্যাডামের জন্য। এর বেশি কিছু বলার নেই।’

হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শনিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।