All posts by jitu

শ্রমিকদের আরও উপযুক্ত করে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

যতবার সরকারে এসেছি ততবার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করেছি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯৬ সালে বিরোধী দলে থাকাকালে আমি শ্রমিকদের দেখেছি তাদের মজুরি ছিল মাত্র ৮০০ টাকা। তখন সরকারে এসে আমরা মজুরি বাড়িয়েছিলাম। শ্রমিকদের আরও উপযুক্ত করে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শ্রমিক-মালিক সবাইকে সুসম্পর্ক রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানাই। দেশটা আমাদের। এখানে উভয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে আমরা দেখবো। এজন্য কারো দুয়ারে যাওয়ার দরকার নেই। আমাদের মাটি ও মানুষের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য আমরা জানি। সমস্যার সমাধানও আমরা করতে পারবো।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবস উপলক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মজুরি কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মে দিবসের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু।

এদেশে মানুষের মধ্যে যে বৈষম্য সে বৈষম্য তিনি দূর করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা সব সময় সেই পদক্ষেপ নিই। জাতির পিতা যখন দেশটাকে গড়ে তুলেছেন, তখন যে সব মালিক বাংলাদেশে ছিল শিল্প কলকারখানা মালিক তারা হবেন। আর যেগুলো মালিকানাবিহীন সেগুলো সরকার চালাবে। সে ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন, সরকারি খাতকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার পর মে দিবসকে প্রথমে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতিও দিয়েছিলেন। মা যেমন একটা রুগ্ন সন্তানকে বুকে নিয়ে লালন-পালন করে গড়ে তোলেন, ঠিক সেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার পর শূন্য হাতে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব হাতে নিয়ে সব কলকারখানা জাতীয়করণ করেন। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেন। তাদের কর্মসংস্থান যাতে ঠিক থাকে সে পদক্ষেপটাই তিনি হাতে নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মাত্র নয় মাসে তিনি আমাদের একটি সংবিধান দেন। সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কী? সেটা কিন্তু স্পষ্ট বলা আছে। সেখানে যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকবে, সমবায় হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকবে। অর্থনীতিকে বহুমুখী করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, মানুষের জীবনমান উন্নত করার এটাই ছিল জাতির পিতা লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করেছেন।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. মাহবুব হোসেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহীম, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি আরদাশীর কবির, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান।

সদর দক্ষিণে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ঘাতক গ্রেফতার

শাহ ইমরান:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে গত ২৯ এপ্রিল ৯ বছরের শিশু তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এর আগে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণসহ হত্যার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে গত ৩০ এপ্রিল রাতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক ও হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘাতক মফু কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির পিতা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী এবং তার মা একজন গৃহিনী। নিহত সোনালী উপজেলার শিশু শিক্ষা বিদ্যা নিকেতন কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল। সকাল ৭টায় সে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়, বেলা ১১ টার দিকেও ভিকটিম বাড়ী না ফিরলে ভিকটিমের মা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কালক্ষেপন না করে তিনি তার মেয়ের স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। স্কুলে পৌছানোর পর স্কুল শিক্ষিকার শরনাপন্ন হয়ে মেয়ের বিষয়ে কোন হদিস না পেয়ে ভিকটিমের মা স্কুল থেকে ফেরার পথে ভিকটিমের বেশ কয়েকজন সহপাঠির কাছে জানতে পারেন যে, ভিকটিম স্কুল শেষে বাড়ি চলে গিয়েছে। অতঃপর ভিকটিমের মা বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্থানীয় লোকজন ও আশেপাশের প্রতিবেশীদের সহায়তায় সম্ভাব্য সকল স্থানে তার মেয়ের সন্ধান করেন। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মা তার প্রবাসী স্বামীর সাথে আলোচনা করে আশেপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী দায়ের করার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় ভিকটিমের লাশের বিষয়ে অবহিত করলে ভিকটিমের মা ও সাথে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান এবং ভিকটিমের মরদেহ দেখতে পান। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি ভিকটিমের মাসহ অন্যান্য লোকজনদেরকে জানায় যে, সে আসামী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে ঘটনার দিন বেলা সোয়া ১১ টার সময় ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসতে দেখেছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশীর মেয়ে এবং পূর্ব পরিচিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী মফিজুল তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক পৌণে ১১ টায় ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় ভিকটিমের আসার অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে। পথিমধ্যে ভিকটিম স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌছালে গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমকে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামী মফিজুল ভিকটিমের মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ভিকটিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অতঃপর আসামী মফিজুল ভিকটিমের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে ভিকটিমের কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ও অন্যান্য লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে।

নারায়নগঞ্জ র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে ৯২ তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আবাসিক হল সমূহও বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি কমিটি গঠন করা হবে। একটা শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে এবং অন্যটি ২৮ এপ্রিল যে ঘটনা ঘটেছে সে ঘটনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

আবাসিক হল কেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সিন্ডিকেট সদস্য জানান, উপাচার্য দাবি করেছেন আবাসিক হলগুলোতে প্রচুর অস্ত্র ডুকতেছে। শিক্ষার্থীদেরকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এতে এখানে অন্যরকম ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

দেশ টিভির সাংবাদিককে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসরকারি টেলিভিশন দেশ টিভির প্রতিবেদক শাহাদাত হোসেন নিশাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী ও সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া এই নোটিশটি পাঠান। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন জানান এই আইনজীবী।

নোটিশে বলা হয়, তার ১নং মক্কেল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৮-২০১৯ কার্যকরী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। এছাড়া সামাজিকভাবে সম্মানিত মহিলা। ২নং নোটিশদাতা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং সমাজসেবী বটে।

দেশ টিভিতে প্রচারিত জমি দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে দাবি করা হয় নোটিশে।

আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেলরা ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক হয়েছেন। তাদের কোনো বক্তব্য না নিয়ে প্রতিবেদন করা হয়েছে। প্রতিবেদনকে মানহানিকর, একপেশে এবং সম্প্রচার নীতিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়।

এবিষয়ে দেশ টিভির প্রতিবেদক জানান, সংবাদটির বিষয়ে আমার কাছে যথাযত প্রমাণ রয়েছে। এছাড়াও আমি কাউন্সিলর চামেলীর মন্তব্য নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এখানে দখলের বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রমাণিত হওয়ায় তারা আমাকে দমানোর জন্য এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্য এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। লিগ্যাল নোটিশটি এখনো আমি আমার হাতে এখনো পাইনি। পেলে অবশ্যই জবাব দিবো।

তবে কি প্রক্টরের হাতে অনিরাপদ সহকর্মীরা?

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা কাজী ওমর সিদ্দিকীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। এছাড়াও উপাচার্য কর্তৃক কনুইয়ের আঘাতের শিকার হয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদ রায়হান।

রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১ টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনকে তার কার্যালয়ে প্রবেশকালে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগেও খেলার মাঠে প্রক্টরের হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টরের ইন্ধনেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর বারবার হামলে পড়ছেন সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা৷ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমিতি কর্তৃক প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পরেও পদে বহাল রয়েছেন তিনি। ফলে প্রক্টরের হাতে নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, প্রক্টর এতদিন সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে শিক্ষকদের উপর হামলা করিয়েছেন। কিন্তু আজকে তিনি সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে নিজেই নগ্নভাবে শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস-উল-ইসলামকে আক্রমণ করেছেন। আমরা জানি এর আগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালেও এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন। তার অধীনেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। তিনি একজন ভূমিদস্যু। তিনি সন্ত্রাসী পালন করেন। শিক্ষক সমিতি এই প্রক্টরকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। আজকে শিক্ষকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা করে সেটারই প্রমাণই তিনি দিয়েছেন। উপাচার্য এবং প্রক্টর আজকে সন্ত্রাসী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমরা মনে করি উপাচার্য এবং প্রক্টর দুইজন সন্ত্রাসী সহদর।

অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, শুধু আজকের ঘটনাই না এর পূর্বেও বিভিন্ন সময় বর্তমান প্রক্টরের মাধ্যমে অনেকেই শারীরিকভাবে নির্যাতন হয়েছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীকে চড় মারা। তখন ছাত্র -ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাননীয় উপাচার্য কোন ব্যবস্হা গ্রহণ করেননি। প্রকৃতপক্ষে প্রক্টর উপাচার্যের প্রশ্রয়ে দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে গেছেন। যার ফলেশ্রুতিতে আজকে শিক্ষকদের উপর এমন হামলা করলেন। উপাচার্যের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রক্টরের অতীতের অন্যায়গুলো বিচারের আওতায় না আনার কারণে আজকে ঘটনা ঘটেছে। আমি শিক্ষক এবং সাবেক প্রক্টেরিয়াল বডির সদস্য হয়ে বলতে চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রক্টেরকে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হোক। যাতে ভবিষ্যতে ছাত্র, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কারো উপর সরাসরি কোন হামলা না করে।

হামলার বিষয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, যে প্রক্টর নিরাপত্তার প্রধান ওনিই হামলা করেছে। সহকর্মীদের উপর হাত তুলেছে। আসলে এবিষয় নিয়ে আমি বাকরুদ্ধ। নিরাপত্তার প্রধানই উপাচার্যের নির্দেশনায় হামলা করেছে এখানে আমরা কার কাছে বিচার দিব? এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই।

এবিষয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি৷ এবং কার্যালয়ে গিয়েও পাওয়া যায়নি৷

ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে কুবি উপাচার্যের বলয়

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে নিয়ে নিজের বলয় তৈরি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গণমাধ্যমে। তাদের কেউ ধর্ষণ মামলা, কেউ শিক্ষার্থী মারধরের মামলা এবং আবার কেউ কেউ হত্যা মামলার আসামিও। খেটেছেন জেল, বেধড়ক পিটিয়েছেন শিক্ষার্থীদেরও। সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদেরও পিটিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যসহ ২০ নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করছে। এদিকে উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদের এমন মারধরে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

এসব বহিরাগত ও হত্যা মামলার আসামিরা উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকার জন্য সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। যখনই উপাচার্যের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি প্রকাশ পায় তখনই তারা উপাচার্যকে রক্ষার্থে ফেসবুক প্রচারণা চালায় এবং কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে। শিক্ষকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলার জেরে শিক্ষকরা দুইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন যোগদানের পরপরই অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন তাদের কয়েকজন। উপাচার্য ও প্রক্টরের ইন্ধনে ঐ অস্ত্র মহড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি, মারধর করে আসছেন তারা। পরে শিক্ষকদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা শুরু করেন। তবে এসব অঘটন ঘটলেও কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। উল্টো উপাচার্যকে তাদের সাথে বিভিন্ন উৎসব পালন ও মিটিং করে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনার আগে উপাচার্যের বাংলোতে বসে মিটিং করেন তারা।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারী শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ উপাচার্যের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে কার্যালয়ের বাহিরে অবস্থানরত এসব বহিরাগত, হত্যা মামলার আসামি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও দোলোয়ারের হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষকদের উপর হামলা করা হয় এবং হুমকি প্রদান করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ৭ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি৷ প্রাথমিকভাবে দাবি আদায়ে রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি প্রেরন, পরবর্তীতে তিন দফায় ক্লাস বর্জনের কর্মসূচিও দেয়া হয়। কিন্তু শেষে দাবি আদায় না হওয়ায় কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা দেন তারা৷ পরবর্তীতে রবিবার (২৮ এপ্রিল) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের প্রটোকলে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে এলে কয়েকজন শিক্ষক বাঁধা দিলে শিক্ষকদের উপর হামলা করে সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা৷

এসময় উপাচার্যের কার্যালয়ে সিড়ি দিয়ে উঠার সময় নৃবিজ্ঞান ১৪ ব্যাচের রাকেশ দাস ও বাংলা ১৩ ব্যাচের রাকিব হোসাইন শিক্ষকদেরকে শিবির ট্যাগ দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর; শিবিরের চামড়া তুলে নিব আমরা’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এই শিক্ষকদের অধিকাংশই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য।

এরপর উপাচার্য কার্যালয় থেকে এসেই আবারো লোকপ্রশাসন ৪র্থ ব্যাচের রেজা-ই-এলাহি, মার্কেটিং ৯ম ব্যাচের রকিবুল হাসান রকি, লোকপ্রশাসন ৫ম ব্যাচের অনুপম দাস বাঁধন, মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, নৃবিজ্ঞান ১০ ব্যাচের আমিনুর রহমান বিশ্বাস, অর্থনীতি বিভাগের ৮ম ব্যাচের মাসুদ আলম, আরিফুল ইসলাম বাপ্পী, ফয়সাল হোসেন, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ৯ম ব্যাচের ইকবাল হোসাইন খান, মেহেদী হৃদয়, একই বিভাগের ১০ ব্যাচের পার্থ সরকার, বাংলা ৯ম ব্যাচের ইমরান হোসাইন, প্রত্নতত্ত্ব ১১ ব্যাচের মুশফিকুর রহমান খান তানিম, লোকপ্রশাসন ১১ ব্যাচের এম নুর উদ্দিন হোসাইন, ও ফার্মেসি ১০ম ব্যাচের ইমাম হোসেন, রসায়ন ১৩ ব্যাচের সাব্বির। বাংলা ১৩ তম ব্যাচের রাকিব হোসাইন, লোকপ্রশাসন ১৩ তম ব্যাচের দ্বীপ চৌধুরী, ইকোনমিকস ১৪ ব্যাচের মাসুম, নৃবিজ্ঞান ১৪ ব্যাচের রাকেশ দাস, লোকপ্রশাসন ১৪ ব্যাচের আরমান হোসেন একই বিভাগের ইমরুল কায়েস আবিরসহ আরো ১০/১৫ জন শিক্ষকদের উপর হামলা করে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ দুপুরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জামিয়া মোহাম্মদিয়া ও শিশু সদন কমপ্লেক্সের সামনে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ এবং বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম রোহানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, উপাচার্য তার অপকর্ম ঢাকার জন্য সাবেক শিক্ষার্থী ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে চাকরির প্রলোভনে নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এই সন্ত্রাসী বাহিনী শিক্ষকদের উপর হামলা করে। কেউ একাডেমিক, প্রশাসনিক কাজে গেলে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্ভব হয় না৷ এছাড়া আমরা যতবারই দাবি নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করতে গেছি ততবারই এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কার্যক্রম লক্ষ্য করেছি। ঐদিনের হামলার পরও উপাচার্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি যার প্রেক্ষিতে তারা আবারো শিক্ষকদের ওপর হামলা করে।

প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, এবিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।

হামলার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড.এএফএম আবদুল মঈন বলেন, এগুলো মিথ্যা। আর কারা হামলা করেছে আমি তাদের চিনি না।

দেশের কারাগারেও মাদকের আখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের প্রধান ফটকে তল্লাশি করা হয় ওই কারাগারেরই প্রধান কারারক্ষী সাইফুল ইসলামকে। একাধিক সংস্থার সদস্যের উপস্থিতিতে তল্লাশির সময় সাইফুলের কাছে ৩০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে কারা প্রশাসন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে একই কারাগারে সোহেল রানা নামের আরেক কারারক্ষীর হেফাজত থেকে চারটি গাঁজার প্যাকেট জব্দ করে কারা প্রশাসন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারই হেফাজত থেকে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তাকেও কারা কর্তৃপক্ষ পুলিশে সোপর্দ করে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে কাশিমপুর কারাগার-২-এর এক রক্ষীকে ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর-১ কারাগারে ঠাঁই হয়েছিল অমিয় হাজরা (ছদ্মনাম) নামের এক হাজতির। টানা এক মাস ১০ দিন কারাভোগের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে জামিনে বের হয়ে আসেন তিনি। তিনি জানান, কী লাগবে আপনার? সবকিছুই পাওয়া যায় কারাগারে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা তো ওপেন সিক্রেট। কাশিমপুরের বেশির ভাগ কারারক্ষী মাদক ব্যবসায় জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে এমন বন্দিদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, কালেভদ্রে অভিযান হয়। তাও আবার লোকদেখানো। এদিকে রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা এবং ভাটারা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ওরফে ভাস্তে রাসেল কারাগারে থেকেও সক্রিয় ছিলেন মাদক ব্যবসায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতার হওয়া ভাস্তে রাসেলের কাছে নিয়মিত মাদক সরবরাহ করতেন তারই সহযোগীরা। ব্যবহার করা হতো কারারক্ষীদের। কারারক্ষীও মাদক বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করেন বিশ্বস্ত কয়েদিদের। একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে তার যোগাযোগের বিষয়টি নজরদারি করে অবাক করা তথ্য পান। রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছিল গোয়েন্দাদের। গতকালই এ বিষয়ে এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ভাস্তে রাসেলের মাধ্যমে কারা অভ্যন্তরের অনেক তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

জানা গেছে, দেশের ৬৮টি কারাগারে ৪২ হাজার ৮৬৬ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৮২ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ হলো মাদক মামলার আসামি। যাদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। গত দুই দিন আগে শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান একজন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, কারাগারে ৪০০ আসামির মধ্যে ৩০০ জনই মাদক মামলার।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক দেশের বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি। সব অপরাধেরই হাতেখড়ি মাদক। সংশোধনের জন্য কারাগারে যাওয়ার পরও মাদকের সংস্পর্শে অব্যাহত থাকার কারণে বিষয়টি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। অনেকে কারাগারে যাওয়ার আগে মাদকসেবী না থাকলেও জামিনে বের হওয়ার পর মাদকাসক্ত হয়ে বের হচ্ছেন এমন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কারাগারের ব্যবস্থা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। সংশোধনের জন্য যাওয়ার পরও অনেকে অপরাধের হাতেখড়ি নিয়ে বের হওয়াটা খুবই আতঙ্কের।

তবে কারা সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বলেন, আমরা মাঝে-মধ্যেই সারপ্রাইজ ভিজিট করে থাকি বিভিন্ন কারাগারে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। মাদকের সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকেন এবং এর প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারা সদর দফতর থেকে ৪২টি কারাগারকে সিসিটিভির মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। বাকি কারাগারগুলোও শিগগিরই সদর দফতরের মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে চরখাম্বা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যশোর জেলার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রহরী আশরাফুল মুরাদ রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার জ্যাকেটের পকেটে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পায় পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের নাজির শঙ্করপুর এলাকা থেকে তোরাব আলী নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।

পুলিশ বলছে, মুরাদ নিয়মিত কারাগারের মাদকসেবী বন্দিদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করতেন। তোরাব নিজেও একসময় কারারক্ষী ছিলেন।

কারা সূত্র বলছে, শুধু গত বছরেই মাদক পাচারের জন্য কমপক্ষে ২৫ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবুও কারাগারের অভ্যন্তরে মাদক ব্যবসা নিরবচ্ছিন্ন ছিল।

কাশিমপুর-২ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিনে বের হওয়া এক বন্দি এ প্রতিবেদককে বলেছেন, কারারক্ষীদের সঙ্গে কয়েদি, ফয়েজ, নূর হোসেন, হাজতি মনির, রোকন এবং ফয়সাল মাদক বাণিজ্য করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তারা নিয়মিত তাদের বাড়িতে টাকা পাঠান। এ ছাড়া ওই কারাগারে ১ নম্বর বিল্ডিংয়ের কয়েদিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাণিজ্য হয়ে থাকে। ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের একাধিক ওয়ার্ডে মাদকের ওপেন স্পট চলছে প্রশাসনের সহায়তায়।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘদিন ছিলেন এক বন্দি। নাম ফয়েজ আহমেদ (ছদ্মনাম)। সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে তিনি বলছিলেন, ওই কারাগারের কয়েদি রাজধানীর শাহজাহানপুরের রিপন, সাহেদ, মোহাম্মদপুরের রিপন, কয়েদি রতন এবং কয়েদি পিচ্চি লিটন কারা প্রশাসনের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। এ ছাড়া গাজী বিল্ডিংয়ের একাধিক রুমে মাদকের ওপেন স্পট পরিচালনা হচ্ছে। তিনি একজন বন্দির উদাহরণ দেন, যিনি মার্চের শুরুতে মাদক সেবন করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং পদ্মা ভবনের লেভেল-৪ এর ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কারাগারের রক্ষীদের ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছেড়ে দিতে হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, কারাবন্দিদের একটি অংশ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং কারাগারের অভ্যন্তরেও মাদক সেবন চলে। যদিও কারাগারের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, জেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তা করে এবং ব্যবস্থাও নেয়।

জানা গেছে, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৩ কাশিমপুর কারাগার-২-এর রক্ষী আজিজার রহমানকে বন্দিদের মাদক সরবরাহের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কয়েকজন রক্ষী শহিদুল ইসলাম নামে এক বন্দিকে তার কাছে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আজিজারের কাছ থেকে শহিদুল মাদক নিয়ে এসেছিলেন। আরও অনুসন্ধানে আজিজারের বাড়িতে ৬০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে।