All posts by jitu

বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নোয়াখালীতে মা ও দুই ছেলেকে পাশাপাশি দাফন

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের মা ও দুই শিশু সন্তানসহ নোয়াখালীর পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতরা হলেন- পৌর এলাকার মোস্তফা কন্টাক্টর বাড়ির আশিক আহমেদের স্ত্রী নাজিয়া আক্তার (৩১), দুই শিশু সন্তান আরাহান (৮) ও আদিয়ান (৬)। সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের তারেক আহমেদের স্ত্রী মেহরান কবির দৌলা (২৮) এবং সেনবাগ উপজেলার মইশাই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মোহাম্মদ আসিফ (২৪)।

শুক্রবার (১ মার্চ) জুমার নামাজের পর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড মাইজদীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যকে।

আশিকের স্বজন মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে ব্যবসার সুবাদে ঢাকা থাকেন আশিক আহমেদ। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বেইলি রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে আশিকের দুই বন্ধু ঢাকায় আসেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর জন্য বৃহস্পতিবার রাতে দুই সন্তানসহ মোট ছয়জন বেইলি রোডের একটি রেস্টুরেন্টে যান নাজিয়া। তাদের সঙ্গে আশিকের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগুন লাগার আগ পর্যন্ত সেখানে যাননি আশিক। পরে ফিনল্যান্ড থেকে আমাদের এক আত্মীয় বিষয়টি জানালে আমরা আশিক ও নাজিয়ার মোবাইলে অনেক বার কল দিলেও তারা কেউ রিসিভ করেনি। পরে নিশ্চিত হই আগুনে নাজিয়া ও তার দুই সন্তান দগ্ধ হয়ে মারা গেছে।

নিহত মেহরান কবির দৌলার স্বজন মো. শামীম বলেন, মেহরান কবির দৌলা আইএফআইসি ব্যাংকের আইটি বিভাগে চাকরি করতেন। তার স্বামী তারেক ঢাকায় ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ছোট বোন মাহি ও তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বেইলি রোডের একটি রেস্টুরেন্টে যান দৌলা। অগ্নিকাণ্ডের পর ছোট বোনের বান্ধবী ভবনের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বের হতে পারলেও আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান দৌলা ও মাহি। দৌলার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

অপরদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে চাকরি করতেন নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা আসিফ। ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সময় দগ্ধ হয়ে মারা যায় তিনি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। নোয়াখালীর পাঁচ বাসিন্দা মারা গেছেন। মাইজদীর একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে ভিড় জামান স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

কুসিকের মেয়র প্রার্থী সাক্কুর উঠান বৈঠকে কাউন্সিলর সাইফুলের নেতৃত্বে হামলা-ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উপ নির্বাচনে টেবিল ঘড়ি প্রতিকের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর উঠান বৈঠকে হামলা-ভাংচুর করেন কুসিকের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল ও ওয়ার্ড আ:লীগের সভাপতি আজমির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরের।

শহ‌রের কাটাবিল প্রাইমারি স্কুলের সাম‌নে গদারমার কলোনিতে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উপ-নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ৬টায় কাটাবিল স্কুলের সামনে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো এর মধ্যেই ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুলের নেতৃত্বে মহিলা নেত্রী পারভীন আক্তার হামলা চালায় এরপরপর ওয়ার্ড আ:লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

সাবেক মেয়র সাক্কুর দাবি, ওয়ার্ড আ:লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা উঠান বৈঠক শুরুর আগেই আমার স্টেজ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে।যাতে করে এখানে আমি উঠান বৈঠক প্রোগ্রাম করতে না পারি।তারা টেবিল ঘড়ি প্রতিকের প্রচার না চালাতেও হুমকি দিয়ে যায়।

মেয়র প্রার্থী সাক্কু আরো বলেন, ‘মেয়র হিসেবে আমার বিজয় সু‌নি‌শ্চিত জে‌নেই বাস প্রতিকের প্রার্থী ডা.তাহসিন বাহার সূচনার কর্মীরা বেসামাল হ‌য়ে আ:লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগ লে‌লি‌য়ে দি‌য়ে‌ আমার উঠান বৈঠ‌ক পণ্ড ক‌রি‌য়ে‌ছে। আগামী ৯ মার্চ তারিখের ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে কুমিল্লাবাসী।’

বাস-ঘড়ির অভিভাবক একজন, বললেন কায়সার

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন উপনির্বাচনের ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেছেন, বাস ও ঘড়ি প্রতিকের অভিভাবক একজন (এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার)। আগে মামা-ভাগিনা মিলে নিতেন ৬০/৪০। এবার নেমেছে ঘরের মানুষ। এবার অভিভাবকের লক্ষ্য ১০০ তে ১০০। কুমিল্লার মানুষ এখন বুঝে গো বুঝে। তারা আর ভুল করবে না। তাই দলে দলে ঘোড়ার বহরে ভিঁড়ছেন সাধারণ মানুষ। এসময় তিনি তার পাশে দাঁড়ানো এক নেতাকে দেখিয়ে বলেন, কাল সকালেও ঘড়ির মিছিলে ছিল। আজ ঘোড়ায় এসেছে। তার মতো কয়েকশো নেতাকর্মী চলে এসেছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) প্রচারণায় বেরিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই প্রার্থী।

এ সময় তিনি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর চৌমুহনী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর্থা, নবাববাড়ি চৌমুহনী এলাকায় গণসংযোগ করেন।

এ সময় এই প্রার্থী আরও বলেন, বিএনপিসহ সাধারণ মানুষ মুখিয়ে আছে ভোট দিতে। নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। শুধু নির্বাচনি কেন্দ্রের এরিয়ার দায়িত্ব নিলে হবে না। ভোটার যেন ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারে সেই বিষয়টিও আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আমি নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু বিশ্বাস করার সময় আসেনি। নির্বাচন শেষে বলতে পারবো।

বিকেলে এই প্রার্থী বিকেল ৪টায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড গন্ধমতী ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ১২ নম্বর ওয়ার্ড তেল্লাপুকুর পাড়ে উঠান বৈঠক করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। এদের ঐতিহ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার কোনো নজির নেই। জোর করে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতাসহ সকল প্রতিষ্ঠান দখল করতে চায় তারা। ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও তাদের গণতন্ত্র বিনাশী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল।

শুক্রবার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের শেষ দিনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ওপর আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ব্যাপক মারধরের ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে এই বিবৃতি দেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও সাধারণ আইনজীবী ভোটারদের ওপর হামলায় আবারও আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি হলো। নিজেদের পরাজয় আঁচ করতে পেরেই এই হামলা করেছে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। আদালত প্রাঙ্গণে এ সহিংসতায় প্রমাণ হয়-আওয়ামী লীগ আর কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাঁটবে না। নির্বাচনের নামে এরা নিজেদের অনুকূলে শুধুই একতরফা ফল ঘোষণা করবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষকে এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে। নইলে এদেশের মানুষ আর কখনোই মৌলিক মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পাবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় আইনজীবীদের কর্তৃক এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

কুমিল্লায় মাদকাসক্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তুলে দিলেন বাবা

স্টাফ রিপোর্টার:

মাদকাসক্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তুলে দিলেন বাবা। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত শিপন মিয়া (২০) উপজেলার সদর এলাকার পূর্বপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।

এ সময় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন করছে। নেশার টাকার জন্য মা-বাবাকে চাপ প্রয়োগ করত। এ নিয়ে প্রায়ই ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন তিনি। নেশার টাকার জোগান দিতে সে প্রায়ই ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করত। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সন্তানকে তুলে দিয়েছেন বাবা নুরুল ইসলাম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলামবলেন, উপজেলার সদর এলাকায় বাবা-মায়ের তথ্য অনুসারে আমরা অভিযান চালাই। এ সময় ইয়াবা ও গাঁজাসহ শিপন মিয়া নামে এক মাদকাসক্ত যুবকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার আপন দুইবোনসহ ৩ জন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও, বাবা আমাকে বাঁচাও’- বেইলি রোডে লাগা আগুনে এভাবেই চিৎকার করতে করতে মারা যান রিয়া। মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করতেন তিনি। আজ শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেলে মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা দেন রিয়া ও আরিশার বাবা কোরবান আলী।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী কোরবান আলীর তিন মেয়ে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। বড় মেয়ে রিয়া মালয়েশিয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

আজ বিকেলে রিয়ার মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগে ছোট বোন আরিশা ও সিটি কলেজে পড়ুয়া খালাত বোন লিমুকে নিয়ে কাচ্চি খেতে যান বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে।

খাওয়ার আগে হঠাৎ আচমকা আগুনের কুণ্ডলী দেখে বাবাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও। আমাকে এখান থেকে বাঁচাও।’

কোরবান আলী বলেন, মেয়ের ফোন পেয়ে আমি পাগল হয়ে যাই। আমার দুই রত্নের খোঁজে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের মর্গে গিয়ে দেখি আমার দুই মেয়েসহ আমার পরিবারের তিন মেয়ের নিথর দেহ।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব। আমার মেয়ের কেঁদে কেঁদে বলা কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত কোজি কটেজ নামের বহুতল এই ভবনে আগুন লাগে। এতে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেইলি রোডের ভবনটিতে কোনো ফায়ার এক্সিট ছিল না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেইলি রোডে আগুন লাগা বহুতল ভবনটির নির্মাণ ত্রুটির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেখানে কোনো ফায়ার এক্সিট ছিল না। তিনি বলেন, ৪৬ জন মানুষ মারা গেছেন, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?

শুক্রবার (১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিমা দিবস-২০২৪ উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেইলি রোডে যে আগুনটা লাগলে, সেখানে একটা বহুতল ভবন, সেখানে কোনো ফায়ার এক্সিট নেই।

নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সবসময় আমাদের যারা আর্কিটেক্ট তাদের অনুরোধ করি, আপনারা অন্তত যখন ঘরবাড়ি তৈরি করেন, একটু খোলা বারান্দা, ফায়ার এক্সিট বা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু যারা (ভবন) তৈরি করতে চায়, আর্কিটেক্টরাও ওরকম ডিজাইন ঠিকমতো করবে না। আবার মালিকরাও এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে চায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, ৪৬ জন মানুষ মারা গেছেন, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? অথচ ফায়ার এক্সটিংগুইশার লাগানো, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে বারবার আমরা নির্দেশ দিচ্ছি। সেটা কিন্তু মানে না। আর আমি জানি এখানে নিশ্চয়ই ইন্স্যুরেন্স নেই, কাজেই তারা কিছু পাবেও না। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতাটা খুব বেশি প্রয়োজন।

এসময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার বিষয় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বিভিন্ন ধরনের যে বিমা চালু করা হয়েছে আমি মনে করি এটা মানুষকে আরও নিরাপত্তা দেবে। অনেক সময় বিমা নিয়ে অনেকে নানা ধরনের ব্যবসা করে। হয়ত কোথাও একটু আগুন লেগেছে। ক্ষতির পরিমাণ যতটা না তারচেয়ে বেশি দাবি করে বসে থাকে। এই দাবি শুধু করে না, যারা যায় পরীক্ষা করতে তাদেরও ম্যানেজ করে ফেলে।

‘ফলে বিরাট অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যায়। এরকম দু’একটা কেস আমি নিজে ধরে ফেলেছি। তখন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে আমি বলেছি তদন্ত করে দেখব কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে আসল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ভয়াবহ চিত্র হলো একটা গার্মেন্ট কারখানায় আগুন লেগেছে। প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন গার্মেন্টে আগুন লাগত আপনারা জানেন। আমি বললাম বিষয়টা কি, এত ঘনঘন আগুন লাগার কারণ কি। এজন্য আমি বললাম এখন দেবেন না (বিমা দাবি), আমি একটু তদন্ত করি। আমরা তদন্ত শুরু করলাম। তদন্ত করতে গিয়ে কি বেরিয়ে এলো জানেন, দেখা গেল ওই গার্মেন্টের এক কর্মীকে দিয়ে, তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং একটা জায়গায় যেখানে কিছু্ ছিল না, যেখানে বসে নাস্তা-পানি খেতো সেখানে কিছু জিনিস ছিল। সেই জায়গাটায় আগুন দিয়ে পরে ৪০ কোটি টাকা দাবি করল।

তিনি বলেন, এখন তো আমাদের ফরেনসিক বিভাগের তদন্তের একটা সুযোগ আছে, আপনারা জানেন। কি কি জিনিস পুড়েছে এটার তদন্ত করতে হবে, এটা আমি বললাম। সব পরীক্ষা করা হলো। দেখা গেল কিছু আবর্জনা রেখে ওই ফ্লোরটায় আগুন দেওয়া হলো। তারপর ৪০ কোটি টাকা দাবি করা হলো। ৪০ কোটি টাকার সম্পদ তো এখানে পুড়েনি, তাহলে কেন এত টাকা দাবি করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপর দেখা গেল, এই আগুন লাগার ব্যাপারটা, এখানে খুব ঘনঘন আগুন লাগত। আপনারা হয়তোবা আন্দাজ করতে পারছেন। তারপর এ অবস্থাটা, সেখানে নিজেই আগুন লাগানো হতো পরে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হতো। আমি কথাটা এ কারণে বলছি, আপনারা এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দেবেন এবং এ ধরনের ঘটনা যেন কেউ ঘটাতে না পারে। যদিও এখন আমরা অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা করেছি কিন্তু মানুষ এত সচেতন না।

বিমার টাকা মানুষ যেন সহজে পায় সেই তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিমার দাবিগুলো যেন মানুষ সহজে পায়, দুই নম্বরি যারা করে তাদের কথা বলছি না। প্রকৃতপক্ষে যারা পায় তারা যেন সহজে পায়। দুই নম্বরি যারা করে তারা ম্যানেজ করে সহজে পায়, সেটা যেন না পায়। আর যারা প্রকৃত, যারা ম্যানেজ করতে পারে না, তারা যেন দ্রুত সময়ে পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেই দিকে দৃষ্টি দেবেন।

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন যে ৭ জন

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ মেয়াদে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে ফোন পেয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন এমন কয়েকজন এমপিও রয়েছেন এই তালিকায়। তাদের কাউকে কাউকে মন্ত্রী না প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন সেটিও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকার গঠনের এক মাস ২০ দিন পর বাড়ানো হচ্ছে মন্ত্রিসভার কলেবর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গবভনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যাদের ফোন করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ফোন পেয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীও। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পেয়েছি।

মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা। তিনি প্রথমবারের মত সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনিও ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শপথে অংশ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ থেকে ফোন পেয়েছি।

টানা তিনবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খানও ফোন পেয়েছেন। তার বাবা আতাউর রহমান খান কায়সার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

ক্ষমতাসীন দলের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি মন্ত্রী না প্রতিমন্ত্রী তা তারা পরিষ্কার করেনি।

এছাড়া নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকারও আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন। দেশের অন্য সব আসনের সঙ্গে নওগাঁ-২ আসনেও গত ৭ জানুয়ারি ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হকের মৃত্যুতে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে নতুন তফসিলে ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে হওয়া ভোটে জিতে আসেন শহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আমাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা হয়েছে।

রাজশাহী-৫ আসনের আবদুল ওয়াদুদ মন্ত্রীসভায় যুক্ত হচ্ছেন। আর ঢাকার সংসদ সদস্য নাহিদ ইজহার খান স্থান পেতে যাচ্ছেন দ্বাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায়।

গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে তার নতুন সরকার গঠন করেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ১১ জন। মন্ত্রিসভায় কোনো উপমন্ত্রী নেই।

বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের শপথের পর মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এতে নারী আসনের এমপিদের কয়েকজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বলে সূত্রের বরাতে প্রকাশ করা হয়।

ইতিপূর্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

মেয়ে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুলিশ কর্মকর্তা বাবা

ডেস্ক রিপোর্ট:

অসুস্থতাজনিত কারণে ৬ বছর আগে মারা যান স্ত্রী। দুই কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে আর বিয়ে করেননি পুলিশ কর্মকর্তা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অধ্যয়নরত বড় মেয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুনে পুড়ে মারা যওয়ায় শোকে স্তব্ধ পুলিশ কর্মকর্তা বাবা।

শুক্রবার দুপুর ১২টা। ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার একতলা বাড়ি স্বর্ণলতার সামনে ফ্রিজিং ভ্যানে রাখা একটি লাশ। বাড়ি ভর্তি স্বজন এবং এলাকাবাসীর ভিড়। চেয়ারে বসে আছেন কন্যা হারানোর শোকে নির্বাক বাবা পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাসিরুল ইসলাম।

গতকাল রাজধানীর বেইলি রোডের যে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে একজন নাসিরুল ইসলামের বড় মেয়ে লামিসা ইসলাম (২৩)। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন লামিসা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যান লামিসার মরদেহ নিয়ে ফরিদপুর শহরে তাদের বাড়িতে আসে। সেখানে আগে থেকেই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লায় বাড়ির সামনের রাস্তায় স্বজন ও সহকর্মীদের নিয়ে চুপচাপ বসেছিলেন লামিসার বাবা নাসিরুল ইসলাম। কন্যা হারানোর শোকে নির্বাক তিনি। বাদ জুমা ফরিদপুর চকবাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে আলিপুর কবরস্থানে লামিসা ইসলামকে দাফন করা হয়।

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করছে সিআইডি

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিআইডির একটি টিম সকাল থেকে ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। সিআইডির পাশাপাশি পিবিআইয়ের দলকেও দেখা যায় আলামত সংগ্রহ করতে।

আরও দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে র‍্যাব ও পুলিশ। বেইলি রোডের যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।