All posts by jitu

পুতিনকে তিনটি বিষয়ে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে: নাভালনির স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউলিয়া নাভালনায়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংসদে এক বক্তব্যে বলেছেন, তাদের অবশ্যই রাশিয়ার ‘অপরাধী চক্রের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে আর্থিক তদন্ত হবে মূল বিষয়।

রাশিয়ার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পুতিন বিরোধী নেতা ৪৭ বছর বয়সী অ্যালেক্সি নাভালনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মারা যান। তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে আটক ছিলেন তিনি।

বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে বক্তব্যে ইউলিয়া নাভালনায়া বলেন, ‘লাখ লাখ রুশ নাগরিক’ পুতিনের বিরুদ্ধে এবং তাদের নিপীড়িত হওয়া উচিত নয়।

পুতিন বিরোধী অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া, ইউক্রেন ও তার স্বামীর সঙ্গে পুতিন যা করেছেন তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। পুতিন আমার দেশের সঙ্গে যা করেছেন তার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী, শান্তিপূর্ণ দেশের (ইউক্রেন) সঙ্গে পুতিন যা করেছেন, তার জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। আর আলেক্সির সঙ্গে যা করেছেন তার জন্যও জবাবদিহি করতে হবে।

নাভালনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী কখনোই দেখতে পারবে না ভবিষ্যতের সুন্দর রাশিয়া কেমন হবে। কিন্তু আমরা তা দেখব। আর আমি তার স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। অশুভ শক্তির পতন হবে এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ আসবে।

বক্তব্য শেষ করার সাথে সাথে ইউরোপীয় সংসদের সদস্যরা তাকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

আবারও গ্রেপ্তার নির্যাতন শুরু করেছে সরকার: রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:

অজানা আতঙ্কে আবারও ‘গ্রেপ্তার নির্যাতন’ শুরু করেছে সরকার বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী দখলদার সরকার একটি ডামি নির্বাচন করার জন্য বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের আটক করে রেখেছে। আন্দোলনের ভয়ে তারা এ কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তারা আবার নতুন করে গ্রেপ্তার শুরু করেছে, নির্যাতন শুরু করেছে।’

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশসহ কারামুক্ত নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন রিজভী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নেতাকর্মীদের কারা সেলে ২৪ ঘণ্টা বন্দী করে, লকআপে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। জেলের মধ্যে তারা নির্যাতন করেছে এই কারণে যে, যারা বাইরে আছে তারা যেন ভয় পায়। কিন্তু এক ভাই নির্যাতনের শিকার হলে অন্য ভাইয়ের ভেতরে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এটা সরকার বুঝতে পারেনি।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, কৃষক দল নেতা পলাশ, ছাত্রদল নেতা রানা এবং আরও বেশ কয়েকজন মুক্ত হলেও তারা আরও বড় বন্দিশালায় আবদ্ধ হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তাদেরকে আবার গ্রেপ্তার করতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, পল্টন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক মাসুদ রানা, যুগ্ম-সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

ক্যাটরিনা স্ত্রী হিসেবে কত নম্বর পেলেন ভিকির কাছে

বিনোদন ডেস্ক:

২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েন ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। তবে বিয়ের আগে থেকেই আড়ালে-আবডালে দুই বছর প্রেম করেছেন এই বলিউড যুগল।

নিজেদের সম্পর্ককে ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরেই রেখেছিলেন এই পাওয়ার কাপল। বিয়ের আগে কখনো নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে জনসমক্ষে মুখ খোলেননি ভিকি বা ক্যাটরিনা কেউ-ই। স্বামী হিসাবে ভিকির প্রশংসা করছেন ক্যাটরিনা। কিন্তু স্ত্রী হিসাবে ক্যাটরিনাকে কত নম্বর দেবেন ভিকি?

ভিকি বলেন, ‘বিয়ের পর জীবন সত্যিই বদলে যায়। বিয়ের আগে জীবনের সঙ্গে পরের জীবনের কোনো মিল থাকে না। বিয়ের পর ‘আমি’টা ‘আমরা’ হয়ে যায়। প্রতিটা সিদ্ধান্ত যৌথভাবে নেওয়া জরুরি। আমি সবচেয়ে বেশি পরিণত হয়েছি বিগত আড়াই বছরে। আমার ক্ষেত্রে এই বদলটা অত্যন্ত নেতিবাচক।’

কথায় আছে, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। ভিকির সংসার কি ক্যাটরিনার গুণেই সমৃদ্ধ? ভিকির জবাব, ‘ক্যাটরিনা আমার চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। দুজনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সেটা থাকবেই। কিন্তু খাবার অর্ডার করা কিংবা বেড়াতে যাওয়ার জায়গা ঠিক করার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় আলোচনা করেই করি।’

শুটিং নেই। ব্যস্ততা কম। দুজনেই বাড়িতে থাকছেন। এমন দিনে একে-অপরের সঙ্গে সময় কাটানো সবচেয়ে পছন্দের ভিকির। ভিকি বলেন, ‘ক্যাটরিনা স্ত্রী হিসাবে সেরা। ওর সঙ্গে থাকলে কোনো চিন্তা থাকে না। মনে হয় যেন ভেসে যাচ্ছি।’

মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি পুলিশের মহাপরিদর্শকের

ডেস্ক রিপোর্ট:

পুলিশ সদস্যদের মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

তিনি বলেছেন, আমাদের কোনো সদস্য যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু মামলা দেওয়া হয়। আর পুলিশ সদস্যদের শুধু মাদক খাওয়ার প্রমাণ থাকলেই চাকরিও যাবে মামলাও হবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্র্যাউন্ডে ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজি’জ ব্যাজ) ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ইউনিটদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

আইজিপি বলেন, নিয়োগের সময় আমরা প্রতিটি সদস্যকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকি। যারা মাদকাসক্ত তাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, মাদকাসক্ত হলে কেউ চাকরি পাবেনা।

পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক ও দুর্নীতি সমাজের নীরব ঘাতক। মাদক বিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ জয়ী হবে। জঙ্গী-সন্ত্রাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে, যেভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণেও সফল হতে হবে। সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। জঙ্গি-মাদক ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের শূণ্য সহিষ্ণুতা নীতি রয়েছে। যে কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ে আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।

স্মার্ট বাংলাদেশের উপযুক্ত পুলিশ গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাত করতে চাই। যাতে সবাই নির্ভয়ে থানায় আসতে পারেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। বেশিরভাগ থানাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পুলিশের প্রত্যেকটি সদস্য সেবা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের জীবন দিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেটি প্রমাণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা সর্বক্ষেত্রে প্রশংশিত হচ্ছে। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ স্মার্ট পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছি। ঘরে বসে আবেদন করতে পারছে, কোথায় পরীক্ষা সেটা জানতে পারছে, ফলাফলও ঘরে বসে পেয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে কোনো দালাল বা ফরিয়া এরমধ্যে নেই। ইতোমধ্যে দেশবাসী এর সুফল ভোগ করছে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ তথা প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের প্রযুক্তিনির্ভর, গণমুখী, সেবামুখী, জনবান্ধব তথা নারী ও শিশুবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

নদীর বুকজুড়ে ধান চাষ অস্তিত্ব সংকটে তিতাস নদী, রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে

কুমিল্লা সংবাদদাতা:

এক সময়ের খরতারস্রতে তিতাস এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের কালজয়ী সেই উপন্যাস ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকবর্ণনার “তিতাস একটি নদীর নাম”। সেখানে বর্নণা করেছেন তিতাসের কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ আর প্রাণভরা উচ্ছাস। এসব কথা কেবলই
এখন সেই উপন্যাসে পাওয়া যায়। বাস্তব চিত্র এখন ভিন্ন। এই তিতাস এখন শুধুই ইতিহাস, শুধুই স্মৃতি।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রতা তিতাস নদী এবং এর শাখাগুলো এখন মুরাদনগরবাসীর দুঃখ। ইতিমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নদীটি।

বর্তমানে পানি শুকিয়ে নদীটি রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে। সেচের অভাবে হুমকিতে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো আবাদ। অপরদিকে মাছ ধরতে না পারায় বেকার হয়ে পড়েছে ৩টি উপজেলার কয়েক হাজার জেলে পরিবার।স্থানীয় ভূমি দস্যূরা ভূমিহীন সেজে নামে-বেনামে দখল করে বিস্তীর্ণ নদীর
বুকজুড়ে চলাচ্ছে বোরো ধানের চাষ। তাই, ধান চাষের অন্যতম আধারে পরিণত হয়েছে মুরাদনগর উপজেলা অঞ্চলে শুকিয়ে যাওয়া তিতাস নদী। এক সময়ের স্ধেসতস্বিনী তিতাস নদী নাব্যতা সংকটের কারণে নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। কালের বিবর্তনে দখল-দূষণ ও প্রতিবছর পলি জমে ক্রমেই
ভরাট হয়ে তিতাস এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিতাস নদীর মুরাদনগর-হোমনা সংযোগ সেতুর নিচের উত্তরাংশ থেকে শুরু করে দক্ষিণাংশের তিতাস উপজেলার দাসকান্দি বাজারের গোমতীর মুখ পর্যন্ত প্রায় ১২ কিঃ মিঃ শুকিয়ে গেছে। তার মধ্যে নদীকে দ্বিখন্ডিত করে বিভিন্ন অংশে দখল হয়ে গেছে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ। নদীতে পানি না থাকার ফলে যেমন বেকার হয়ে পড়েছে জেলেরা, তেমনি সেচের পানির অভাবে বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা। নদীর উপরের ভাগে ধানের বীজতলা ও নদীর তলায় ধান রোপণ

করার দৃশ্য চোখে পড়ে। মনে হয় নদীর কোনও অস্তিত্ব নেই। এর ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। তিতাস নদীতে মাছ ধরার জেলেরা জানান, এক সময় লঞ্চের শব্দ আর বড় বড় পাল তোলা
ণৌকার মাঝি-মাল্লাদের কন্ঠধ্বনিতে থাকত তিতাস পারের মানুষেরা। এখন ধারণ করছে এর ভিন্ন রূপ। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী থেকে মুরাদনগর, হোমনা, নবীনগর, বাঞ্চারামপুর উপজেলার লোকজন লঞ্চদিয়ে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করতো। তখন লঞ্চই ছিলো একমাত্র যাতায়াতের উপায়। লঞ্চ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে এলাকার মানুষ। তিতাস নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার
কারণে তাও আস্তে আস্তে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে এলাকার জেলে সপ্রদায়, বাঁচার তাগিদে অনেকে চলে গেছে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায়।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, কৃষি কাজে সেচ, গোসলসহ গৃহস্থলি কাজের জন্য পানির চরম সংকটে পড়েছেন নদী পাড়ে বসবাসকারীরা। এছাড়া পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীতে মাছ ধরারও সুযোগ নেই জেলেদের। এতে নদী পাড়ের গ্রামের জেলেরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এলাকার জনগণের দাবি জরুরি
ভিত্তিতে এই নদী খনন করা হোক। মুরাদনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা.) মোসাম্মৎ নাজমা আক্তার বলেন, ‘নদী, খাল-বিলে এখন তেমন পানি নেই। মাছও ধরা পড়ছে না। জেলেরা এখন অন্য পেশায় চলে
যাচ্ছে। কেউ কেউ পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এতে করে উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ আহরণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জেলেদের জীবন যাত্রার মান ব্যাহত হচ্ছে। নদীটি সংস্কার করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

এটি খনন করা হলে কয়েক হাজার জেলে পরিবার এর সুফল ভোগ করতে পারবে। উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খাঁন পাপ্পু জানায়, সারা বছরে এ উপজেলায় তিন প্রকারের ধান চাষ হয়। এর মধ্যে বোরো ১৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, আউশ সাত হাজার ৫০০, রোপা আমন পাঁচ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে। সর্বমোট ৩১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমি চাষ করেন কৃষক। এর মধ্যে সেচ ব্যবস্থা অভাবে উপজেলার সদর, রামচন্দ্রপুর উত্তর
ও শ্রীকাইল ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। অথচ এক সময় তিতাস নদীর পানি ঐ এলাকার কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতো। এ বিষয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান
মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নদীটির খনন কাজ কতটা জরুরি। এ বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য একটি টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। রিপোর্টটি হাতে পেলেই নদী খননের পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে জানানো যাবে।

রমজানে বড় ইফতার পার্টি না করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন রমজানে সরকারিভাবে বড় ধরনের ইফতার পার্টি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

তিনি জানান, বেসরকারিভাবেও বড় ইফতার পার্টি না করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অর্থ অপচয় রোধে এই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়াও রমজান মাসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মাহবুব হোসেন।

উল্লেখ্য, রমজান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর রোজা শুরু হতে পারে ১২ বা ১৩ মার্চ।

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন(৫২) নামে এক পথচারি নিহত হয়েছেন।

তিনি উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

বুধবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার সাইদুল হক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়াবাজার ফুটওভার ব্রিজ থেকে নেমে সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী গাড়ি আনোয়ার হোসেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনা¯’লে তাঁর মৃত্যু হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা সেকেন্ড অফিসার সাইদুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার শেষে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে’।

ভাসানচরে বিস্ফোরণ : আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে-৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় সোহেল নামে সাড়ে ৫ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হলো।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন, নোয়য়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মারা যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু সোহেলের শ্বাসনালি ও শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ শিশুসহ ৯ জন রোহিঙ্গা দগ্ধ হয়। প্রথমে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাসেল নামে আড়াই বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবাশ্বেরা (৪) ও রবি আলম (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

রমজান মাসে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

এবারের রমজান মাসে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য রমজান মাসের অফিসের এ সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

উল্লেখ্য, রমজান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর রোজা শুরু হতে পারে ১২ বা ১৩ মার্চ।

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লোহিত সাগরে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত হুথিদেরও

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লোহিত সাগরে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সোমবার এ ইস্যুতে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুলসালাম।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবদুলসালাম বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমরা লোহিত সাগরে অপারেশন শুরু করেছিলাম। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী যতদিন অভিযান চলাবে, ততদিন লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে আমাদের অপারেশনও অব্যাহত থাকবে।’

‘তবে সম্প্রতি যে প্রস্তাবটি এসেছে, তার ভিত্তিতে যদি সত্যিই গাজায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে আমরও লোহিত সাগরে আমাদের অপারেশন স্থগিতের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।’

হুথি মূলত ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের বাব আল মান্দাব এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে গোষ্ঠীটি। প্রথম পর্যায়ে কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জাহাজগুলোতেই আক্রমণ চালানো হচ্ছিল।

কিন্তু ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ বাহিনী হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের পাশাপাশি এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতেও হামলা চালানো শুরু করে হুথিরা।

গত তিন মাসে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে হুথিদের হামলার শিকার হয়েছে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ও ট্যাংকার জাহাজ। এসব জাহাজের কয়েকটি সাগরে ডুবেও গেছে।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। মঙ্গলবার যখন রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন মোহাম্মদ আবদুলসালাম, সেই একই দিন হামাসের অপর মিত্র লেবাননভিত্তিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধ বিরতি হলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা বন্ধ করবেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সেই অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০ হাজার। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় বাড়িঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। এই তিন দেশের ব্যাপক প্রচেষ্টায় গত ২৫ নভেম্বর প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়েছিল গাজায়। সেই বিরতির সময় নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দেড়শ জনকে ছেড়ে দিয়েছিল দেশটির সরকার।

সম্প্রতি আবার গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। তার জেরেই প্যারিসে বৈঠক হয়েছে গত সপ্তাহে। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ইসরায়েল, কাতার, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং সেখানে গাজায় দ্বিতীয় দফায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন করেছেন তারা।

ইতোমধ্যে হামাসের কাছে খসড়াটি পাঠানো হয়েছে। গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, খসড়াটি পর্যারোচনা করছেন তারা।

সূত্র : রয়টার্স