All posts by jitu

কুবির ১১ শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্দোলনে আছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। এরই মাঝে ১১ শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। তবে উপাচার্যের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য কয়েকজন শিক্ষক এই আন্দোলন করছেন।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ২০ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলের হাউস টিউটর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন চার শিক্ষক। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিনিধির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন নৃ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আইনুল হক। এর আগে, ৬ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে কয়েক ধাপে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি নেন দুই সহকারী প্রক্টরসহ ছয় জন।

উপাচার্যের অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনও করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। একটি অংশ বর্তমানে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে আছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জানান, শিক্ষকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের দমন-পীড়ন, নির্যাতনসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হত।

নৃ বিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান আইনুল হক বলেন, ‘আমরা একাধিকবার আমাদের নানা প্রয়োজন, দাবি-দাওয়া উপাচার্য মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করলেও সেগুলো নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি। কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আজকে শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জনের মতো এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।’

তবে প্রশাসন ও শিক্ষকদের অপর একটি পক্ষ বলছে, নিয়ম মতোই বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন উপাচার্য। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপাচার্য বলেন, সকল নিয়োগ আইন মেনেই হচ্ছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান জানান, উপাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য ভাইস চ্যান্সেলর স্কলারশিপ থেকে শুরু করে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘নিয়ম মানতে গিয়ে বা ভালো কাজ করতে যেয়ে কার কোনটা ক্ষতি হচ্ছে, কে কোন সুবিধা পেল না সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। কারণ এখানে আমি কাজ করতে এসেছি, পপুলার ভাইস চ্যান্সেলর হতে নয়।’

শিক্ষক রাজনীতির কারণে যেন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় ম্যাচে এসে মুস্তাফিজদের প্রথম হার

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঘরের বাইরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। তাতেই মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ পেল মুস্তাফিজুর রহমানের চেন্নাই সুপার কিংস। আগের দুই ম্যাচে দাপুটে বোলিং করেছিলেন চেন্নাইয়ের বোলাররা। তবে মৌসুমের তৃতীয় ম্যাচে এসে ইউনিট হিসেবেই ব্যর্থ হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। খরুচে ছিলেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজ নিজেও। ৪ ওভারেই দিয়েছেন ৪৭ রান।

দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এমন বাজে বোলিংয়ের খেসারত দিতে হলো ২০ রানের হারের মাধ্যমে। তবে হারা ম্যাচেও বড় প্রাপ্তির নাম মহেন্দ্র সিং ধোনি। ৪২ বছর বয়েসী এই ভারতীয় উইকেটরক্ষক এরইমাঝে চলে গিয়েছেন কিংবদন্তির কাতারে। ফিটনেসজনিত কারণে খেলছেন ৮ নম্বর পজিশনে। তাতেই ১৬ বলে করলেন ৩৭ রান।

ম্যাচ হারলেও ধোনির এই ঝড়ো গতির ইনিংস মান বাঁচিয়েছে চেন্নাইয়ের। একইসঙ্গে নেট রানরেটেও সাহায্য করেছেন স্বল্প ব্যবধানের এই হার। যদিও হারের পর আইপিএলের চলতি আসরের শীর্ষস্থান ঠিকই হাতছাড়া হয়েছে ৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের। ৩ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে এখন তারা আছে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে।

কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এক নম্বর পজিশন এনে দিয়েছে চেন্নাইয়ের হার। ২ ম্যাচে ২ জয় তাদের। একই অবস্থা রাজস্থান রয়্যালসেরও। তবে নিট রান রেটে চেন্নাইয়ের পেছনে তারা। গুজরাট টাইটান্স আছে এরপরেই। ৩ ম্যাচে তারাও পেয়েছে দুই জয়।

সেরা চারের ঠিক বাইরে ২ পয়েন্ট পেয়েছে আরও ৫ দল। তাদের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে রানরেট। পাঁচ থেকে নয় পর্যন্ত স্থান দখলে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, লখনৌ সুপার জায়ান্টস, দিল্লি ক্যাপিটালস, পাঞ্জাব কিংস এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাদের সকলেই পেয়েছে একটি করে জয়। এদের মধ্যে কেবল লখনৌ খেলেছে ২ টি ম্যাচ। বাকি সবার ৩টি করে ম্যাচ শেষ।

আর সবার নিচে আছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ২ ম্যাচ শেষে জয়শূন্য তারা।

শরীরে গাঁজা বহনকরে পাচারের চেষ্টাকালে চাঁদপুরে ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

সিলেট থেকে শরীরে গাঁজা বহনকরে পাচারের চেষ্টাকালে আবদুর রহিম (৪০) ও মো. তাহের মিয়া (৩৮) নামের দুই মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।

রবিবার (৩১ মার্চ) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মহামায়া ব্রীজের উপর থেকে তাদেরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ মুহসীন আলম।

গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম হবিগঞ্জ জেলার চুনঘাট এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে ও তাহের মিয়া একই জেলার সানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মহামায়া ব্রীজের উপর মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ওহিদসহ পুলিশ সদস্যরা।

সিলেট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রিবাহী বাস থেকে ওই স্থানে নামেন মাদক বিক্রেতা রহিম ও তাহের মিয়া। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় উভয়ের পেটের ওপর কস্টিব দিয়ে লাগানো ১ কেজি করে মোট দুই কেজি গাঁজা জব্দ করা। পরে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। উদ্ধাকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ মুহসীন আলম বলেন, মামলা দায়েরের পর আজ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস ফোরাম এর ইফতার অনুষ্ঠিত

আইজেএফ রিপোর্ট:

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নানামুখী চাপ ও ঝুকি রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের মালিকপক্ষের স্বার্থ, করপোরেট সংস্কৃতি ও সাংবাদিকদের ব্যক্তিস্বার্থ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা। তবে এমন চাপ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য বড় সুযোগ।

শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ফার্সে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস ফোরাম (আইজেএফ) আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তাগণ এ কথা বলেন।

বক্তাগণ বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার সাহস দিন দিন কমে যাচ্ছে, এ বিষয়ে আরো আন্তরিক ও মনোযোগী হওয়া দরকার। পাশাপশি প্রচুর গবেষণা ও বিষয়ভিত্তি পড়াশোনা করা দরকার।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে বাইরের চাপ যেমন আছে, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবাদিকদের লোভ-লালসারও দায় আছে বলে মনে করেন। বক্তাগণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহনেরও পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আখতার বিপিএম (বার)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল।

বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করেন ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও আইজেএফ-এর প্রধান উপদেষ্টা কুদ্দুস আফ্রাদ, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ ও আইজেএফ উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান কামাল, দৈনিক আজকের সংবাদ সম্পাদক এসএম আবু সাঈদ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখের বাংলাদেশের আলো সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান খান বাবু ও আইজেএফ সাধারণ সম্পাদক কে.এম আব্দুল মজিদ।
রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আইজেএফ সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কচি।

কুমিল্লার কাঁচা বাজারের কিছু দূরত্বে দাম বাড়ে কয়েকগুন

শাহ ইমরান:

ঢাকা-চট্রগ্রামের মাঝামাঝি কুমিল্লার নিমসার কাঁচা বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচা সবজি বাজার। ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ বাজার কাঁচা বাজারের মালামাল কেনা বেচা হয়। রাত থেকে সকাল ভোর পর্যন্ত চলে এ বাজারের কেনা বেচা।

রবিবার (৩১ মার্চ) সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বাজারের বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা কেজি ধরে, গাজর ১০ টাকা, দেড়স ৩০ টাকা, শসা ২০ টাকা, পেপে ১৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা কেজি, টমেটো ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি ধরে।

এ বাজার থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দুরে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজারে ধনিয়াপাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, পেপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি, কইডা ৬০ টাকা কেজি, গাজর ৪০ টাকা কেজি এভাবে প্রতিটি সবজির দাম রাখা হচ্ছে কয়েকগুন বেশি।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার কৃষক মনির হোসেন, রহমত আলী, মজিদ মিয়া সকালে নিমসার বাজারে ধনিয়াপাতা বিক্রি করে গেছেন ১০ টাকা কেজি ধরে, কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন ২০ টাকা কেজি ধরে। নিমসার বাজারের আড়তদার মোঃ সালমান মিয়া, শামীম মিয়া, মোহাম্মদ আলীসহ অনেককে এগুলো পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন ধনিয়াপাতা ১৫ টাকা ও কাঁচা মরিচ ২০ টাকা ধরে।

নিমসার বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা, নজরুল এভিনিউ, রানির বাজার ও নিউমার্কেটে খুচরা সবজি বিক্রেতা নূর হোসেন ১৫ টাকা কেজির ধনিয়া পাতা বিক্রি করছেন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ধরে।কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি ধরে।

কুমিল্লার বুড়িচং এর সৈয়দপুর এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার জমিতে বড় সাইজের বাঁধাকপি ব্যাপারীরা দাম দিচ্ছেন ৬ থেকে ৭ টাকা। অথচ কয়েক হাত বদল হয়ে বাজারে এ কপি বিক্রি করা ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমরা ব্যাপারীর কাছে পুরো জমির সব কপি একবারে বিক্রি করে দেই। মাঝে মধ্যে কিছু লাভ হলেও অনেক সময় আমাদের পুঁজি উঠানো যায়না।

কথা হয় নিমসার বাজারের জাবালে নূর বানিজ্যালয়ে আসা ব্যাপারী মোঃ আবুল হাসেম মিয়ার সাথে। তিনি এ বাজারে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন প্রথমে মিষ্টি কুমড়ার জমির বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। এখন কিনতে পারছেন ২০ হাজার টাকায়। প্রথমে কৃষক কিছুটা লাভ পেলেও এখন তাদের লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে। সময়মত অনেক সবজি বিক্রি করতে না পারলে কৃষকদের সবজি ন্ষট হয়ে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাজারের চাহিদার উপর আমাদেরও লাভ-লোকসান আছে।

এ বিষয়ে কথা হয় নিমসার বাজারের জাবালে নূর বানিজ্যালয়ের মোঃ সুমন মিয়া, নোয়াখালি মাইজদী বানিজ্যালয়ের আব্দুর রহমান, লিটন বানিজ্যালয়ের মোঃ শাহালম মিয়া, আনন্দ বানিজ্যালয়ের নজরুল ইসলামসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ী আড়ত এ সবজি নিয়ে আসে। বাজারে যখন যে দাম থাকে আমরা সে দামে বিক্রি করে দেই। আমরা শুধু নিদিষ্ট একটা কমিশন রাখি।

নগরীর রাজগঞ্জ চকবাজার, রানীর বাজারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিটি বাজারেই সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সবজি বাজারে আসার আগে সিন্ডিকেট তার দামি নির্ধারন করে দেয়। কেউই নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি করতে পারবেনা। খুচরা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, জেলার ১৭টি উপজেলায় আমি একজন মাত্র কর্মকর্তা বাজার তদারকি করছি। আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রমজান মাসেই আমরা নিমসার কাঁচাবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় ১৪টি অভিযান পরিচালনা করেছি। এসময় ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচার যাচাই বাচাই করে অযাচিত ও অতিরিক্ত দাম রাখার দায়ে জরিমানাসহ সর্তক করেছি। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২০ বছরের অধিক বয়সী পুরাতন বাস প্রত্যাহার করতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বায়ুদূষণ রোধে ঢাকা শহরে চলাচলকারী ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত ২০ বছরের অধিক বয়সী বাস প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা শহরে চলাচলকারী উক্ত বয়সী বাসের তালিকা দেবে। পরিবহণ মালিক সমিতি ২০ এপ্রিলের মধ্যে ওই পুরাতন বাস প্রত্যাহারের পরিকল্পনা প্রদান করবে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।

রোববার (৩১ মার্চ) বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনের কালো ধোঁয়া এবং উন্মুক্ত স্থানে নির্মাণ সামগ্রী না রাখা এবং বায়োমাস বর্জ্য পোড়ানো বন্ধের বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দূষণ নিয়ন্ত্রণের বাজেট বরাদ্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন সমন্বয় করে রাস্তার খননকার্য সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশনকে সালফার সহ ডিজেল আমদানি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্মুক্তভাবে যাতে বর্জ্য পোড়ানো না হয় সিটি কর্পোরেশন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ বিভাগ নির্মাণকালে নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। পুরাতন যানবাহন পুরোপুরি নিয়ম মেনে স্ক্র‍্যাপ করতে হবে। রাজউকের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করতে হবে।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নবিরুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পদূনি) তপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি আজমল উদ্দিন আহমদ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুরো দেশটাই এখন জুলুমের নগরীতে পরিণত হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

সারাদেশটাই এখন জুলুমের নগরী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘আজ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালত কতৃর্ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের জামিন নামঞ্জুর এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে’ এ বিবৃতি দেন ফখরুল।

তিনি বলেন, সারাদেশটাই এখন জুলুমের নগরী। হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। আইনের শাসন ও সুশাসন দেশ থেকে চিরতরে বিদায় করে জনগণকে অত্যাচার আর উৎপীড়নের মধ্যে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে না পারে। এক সর্বগ্রাসী অরাজকতা দেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। দেশে এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও নব্য বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠিত করতেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী অতি মাত্রায় বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে উঠেছে। মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে। কারাগারে বন্দি করা হচ্ছে নির্বিচারে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে স্বাধীন দেশটাকে আওয়ামী লীগের জমিদারী বানানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে বিরোধী নেতাকর্মীদের জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

ডিজেলে দাম কমল ২ টাকা ২৫ পয়সা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন ফর্মুলা অনুযায়ী নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। আগামীকাল সোমবার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

আজ রবিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা ২৫ পয়সা কমিয়ে লিটারপ্রতি দাম ১০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে পেট্রোল ও অকটেনের দাম।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ প্রাইসিং ফর্মুলা বা গাইডলাইনের আলোকে ডিজেল ও কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার। তখন প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৭৫ পয়সা কমিয়ে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ৪ টাকা কমিয়ে ১২৬ টাকা ও ৩ টাকা কমিয়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বেনজীরের স্ত্রী ও কণ্যাদের নামে প্রায় হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক প্রধান ছিলেন। প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন অবসরে রয়েছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড় একটি পত্রিকার অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে। এ সংবাদে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেখে নেয়া যাক- বেনজীরের অবৈধ সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামের নিভৃত এই পল্লীর মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে সাভানা
ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে এক রাত থাকতে গেলে গুনতে হয় অন্তত ১৫ হাজার টাকা। রিসোর্টের ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হাতে গড়া আভিজাত্যের অপরূপ মিশেল। বিশাল আকৃতির ১৫টি পুকুরের চারপাশে গার্ড ওয়াল, দৃষ্টিনন্দন ঘাট, পানির কৃত্রিম ঝরনা ও আলোর ঝলকানি। পার ঘেঁষে রয়েছে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স কটেজ। বিদেশি শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় এসব স্থাপত্য নকশা। কটেজের ভেতর থেকে পুকুর পর্যন্ত এমন পথ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে মাটিতে পা ফেলার প্রয়োজন নেই; সরাসরি কটেজ থেকে কাচে ঘেরা আবরণ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় শান-বাঁধানো ঘাটে। সাভানা ইকো রিসোর্টের পরিধি এতটাই বড় যে সাহাপুর গ্রামের নাম লিখে গুগলে সার্চ দিলে এই রিসোর্টটিই আগে ভেসে ওঠে পর্দায়।

প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই ইকো রিসোর্টের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে কৃত্রিম পাহাড়। সাগরের কৃত্রিম ঢেউ খেলানো সুইমিং পুলও রয়েছে এখানে। আছে হাজারের বেশি ভিয়েতনামি নারকেলগাছসহ বিভিন্ন ফলফলাদির গাছ। রয়েছে উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিশাল আকৃতির কনসার্ট হল।

দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একক পরিবারের জন্য বানানো এসব কটেজের পেছনে ব্যয় হয়েছে অর্ধকোটি টাকারও বেশি। যুগলদের কাছে কটেজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রিসোর্টের ভেতরে এখন আরো ৫০টি কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এত সব আয়োজন যেখানে, সেই রিসোর্টের নিরাপত্তায় পাশেই বসানো হয়েছে ‘বিশেষ’ পুলিশ ফাঁড়ি। যাতায়াতের জন্য সরকারি খরচে বানানো হয়েছে সাত কিলোমিটারের বেশি পাকা সড়ক।

দেশে এ রকম নজিরবিহীন আভিজাত্যে ঘেরা পর্যটন স্পটটির মালিকপক্ষ কারা জানেন? অবিশাস্য হলেও সত্য যে রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের পরিবার।

সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বেনজীরের বড় মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর এবং পরিচালক ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর।

শুধু এই এক ইকো রিসোর্টই নয়, পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। দেশের বিভিন্ন এলà¦