All posts by jitu

আজ সাংবাদিক নওশাদ কবীরের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

আজ ৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তরের সাবেক কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি, শিশু সংগঠক,শিল্পী প্রয়াত নওশাদ কবীরের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে নিজ গ্রাম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়াপাড়া গ্রামে কবর জিয়ারত, ময়নামতি আবিদিয়া,হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মিলাদসহ এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সংগ্রহে কুমিল্লার দাউদকান্দি যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পালকি সিনেমা হলের সামনে বিপরীত মুখী যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় তিনি সাথে থাকা যুগান্তর স্বজন সমাবেশ সদস্য মোঃ ফারুকসহ মর্মান্তিকভাবে প্রান হারান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।

মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ আরেক আসামি গ্রেপ্তার, প্রধান আসামির রিমান্ড শুনানী আজ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আরেক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো.হারুন (৪২) চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত বশির আহম্মদের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতের দিকে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের একটি টিম ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে । হারুন এ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নং আসামি। ঘটনার পর সে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। এমনকি যশোর সীমান্ত দিয়ে একবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পর থেকে পুলিশ তার গতিবিধি নজরে রাখে। এনিয়ে এ মামলার তিন আসামি সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অপরদিকে, এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে গতকাল (বুধবার) আদালতে উপস্থাপন করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এ বিষয়ে আজ শুনানী শেষে আদেশের দেওয়ার হবে। মামলার অপর আসমি মেহরাজ উদ্দিন (৪৮) অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এ সময় আসামি মেহরাজ জানিয়েছেন, এ মামলার অপর দুই আসামি আবুল খায়ের মুন্সী ও মো: হারুনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে সে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামীর অনুপস্থিতে চুরি করার উদ্দেশ্যে তার বসতঘরে সিঁদ কেটে প্রবেশ করে। এরপর সে ঘরের দরজা খুলে দিলে মুন্সি মেম্বার ও হারুন ভেতরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে মুন্সি মেম্বার ও হারুন দুজন মিলে পালাক্রমে ওই নারীকে গণধর্ষণ করে। এ সময় মেহরাজ পাশের কক্ষে থাকা ওই নারীর ১২ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে। পরে স্বর্নালংকার ও টাকা নিয়ে তিনজন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চরওয়াপদা ইউনিয়নে চরকাজী মোখলেছ গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে সিঁদ কেটে এক গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘর থেকে দুটি নাকফুল, কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আবুল খায়ের মুন্সী ও মো.হারুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ, পরস্পর সহযোগীতায় গণধর্ষণ, ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শণের অপরাধে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহর থেকে আবুল খায়ের মন্সীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গতকল মঙ্গলবার রাতে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেরাজ একই এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে।

পাঁচথুবী উত্তর রাচিয়াতে ভরাট হচ্ছে ১০০ বছরের পুরনো পুকুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবীর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়াডের উওর রাচিয়া মুহরী বাড়ি সামনে পৈত্রিক বৃটিশ আমলের সি, এস, খতিয়ানের মালিকানা সম্পত্তির পুকুরে মাটি ভরাটসহ দীর্ঘদিন ধরে জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় পাঁচথুবী ইউনিয়নের উত্তর রাচিয়া মুহরী বাড়ির এলাকার মৃত সিরু মিয়ার ছেলে ভুক্তভোগী মোতাহের হোসেন গং (৬৬) কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, ওই এলাকার প্রতিবেশী মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মমিন মিয়া (৪৫) এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন যাবৎ মোতাহের হোসেনের সাথে জায়গা- সম্পত্তির বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। এমতাবস্থায় মমিন মিয়া প্রতিবেশী মোতাহের হোসেনের সি, এস,ও আর,এস,খতিয়ানের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তির একটি পুকুর বৃটিশ আমল থেকে তাদের পূর্ব পুরুষের দখলে ছিল এবং বর্তমানে ও দখলে আছে। কিন্তু মমিন মিয়া তার দলবল নিয়ে জোরপূর্বক ওই পুকুরটি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করছে। এ দখল চেষ্টার বিষয়ে কুমিল্লা আদালতে মমিন মিয়ার গংদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা নং- ২৯০/২৩ইং দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোতাহের হোসেন বলেন, আমার পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সি,এস খতিয়ান এবং আর এস খতিয়ান মালিকানাধীন সম্পত্তির পুকুরটি আশপাশে বিভিন্ন ফলমূলের গাছ আছে। মমিন মিয়ার নেতৃত্বে কিছু লোকদের নিয়ে পুকুরের পাশে ফল ফলাদি গাছ নষ্ট করে বিভিন্ন গাছ কেটে নেয়,এবং ফলমূল জোর করে নিয়ে যায়, বাঁধা দিতে গেলে মারার জন্য দৌড়ে আসে,এই ভয় মোতাহের হোসেন গং লোকজন বাড়ি রাতে এবং দিনে আতংক জীবন চলাচল করে। এখন তারা বেড়া দিয়ে পুকুরে মাটি ফেলে ভরাট করার সময় বাঁধা দিলে তারা দা,কুড়াল, ছেনি এবং দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়া আক্রমণ করে। আমি প্রশাসনের কাছে এদের বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মমিন মিয়াকে না পাওয়াই ওনার ভাই খোরশেদ আলম বলেন, এই পুকুর আমাদের। আদালতে মামলা হওয়ার পর তারা আবার মামলা উঠিয়ে ফেলে। আমি কয়েকদিন বাড়িতেও যাইনি।

এ বিষয়ে ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, নতুন করে যাতে কোন সংঘাত না হয় তার জন্য আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো।

দাউদকান্দিতে নির্মাণের পর থেকেই বন্ধ পাবলিক টয়লেট, চরম ভোগান্তিতে পথচারীরা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে নির্মানের পর থেকে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে দুই পবলিক টয়লেট। বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল স্থানে স্থাপিত পাবলিক টয়লেট তালাবদ্ধ থাকায় লোকজনকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার ব্যস্ততম জনবহুল গৌরীপুর ও রায়পুর বাসস্ট্যান্ডে মোট ২৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত দুইটি পাবলিক টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় তা কোন কাজেই আসছে না।

পথচারীদের স্যানিটেশনের সুবিধার্থে টয়লেট দুইটি নির্মাণ করা হয়। যদি তালাবদ্ধই রাখা হয় তাহলে সরকারি টাকা ব্যয়ে পাবলিক টয়লেট দুটি নির্মাণ করা হয়েছে কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ও রায়পুর বাসস্ট্যান্ড জনসাধারণ ও পথচারীদের স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্প(৩য় পর্যায়) ২০১৮-১৮ অর্থবছরে ১২লাখ টাকা ব্যয়ে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫লাখ টাকা ব্যয়ে রায় বাসস্ট্যান্ডে পাবলিক টয়লেট নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

দাউদকান্দি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তারেক রহমান জানান, নির্মাণকাজ যথাসময়ে সমাপ্তির পর উপজেলা পরিষদকে হস্তান্তর করা হয়েছে । এরপর ইজারাও দেয়া হয়েছিল। এখন কি কারনে বন্ধ বলতে পারবোনা।
গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডের স্থানীয় দোকানদার(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডটি আশপাশের ৪-৫টি উপজেলার জংশন।

এখানে প্রতিদিন হাজার লোকের চলাচল। পাবলিক টয়লেটটি বন্ধ থাকায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যাত্রী পথচারীদের।

স্থানীয় ও পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি টাকা ব্যায়ে টয়লেট দুইটি নির্মাণ করে তা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে মানুষের কোন কাজেই আসছে না। দ্রুত তালা খুলে পথচারীদের জন্য টয়লেট দুইটি উম্মুক্ত করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন ।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরফাতুল আলম জানান, পাবলিক টয়লেট তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। কি বন্ধ রয়েছে খোজঁ নিয়ে আমরা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো।

জাবি কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ধর্ষণের দায় এড়াতে পারে না : র‍্যাব

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। কারণ সেখানে বিভিন্ন সময় মাদক, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বহিরাগতদের প্রবেশের দায় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন বাহিনীটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, আমরা আগামী প্রজন্মকে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার স্বপ্ন দেখি। এমনকি যারা মাদক কারবার, চোরাচালানসহ অবৈধ ব্যবসা করেন সেই সব ব্যক্তিরাও খারাপ হলেও অভিভাবক হিসেবে নিজের সন্তানকেও বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করান। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করুক এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক।

কমান্ডার মঈন বলেন, সম্প্রতি গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী বিষয়টি খুবই অ্যালার্মিং। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এখনই আরও কঠোর হতে হবে। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, ক্যাম্পাসে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজ হয়। এসব ঘটনা প্রতিরোধে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে। তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সহযোগিতা চান, আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব। আমরা মনে করি, দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ, জাতির আগামীদিনের ভবিষ্যতকে এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারি না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, শিক্ষার্থীদের অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে আগেই সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। আমরা সবাইকে খারাপ বলব না। কারণ যারা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারাই তো আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। তাই আমি মনে করি, শুধু এখন না সবসময় তাদের নজরদারিতে রাখা উচিত। কারণ শিক্ষার্থীদের বয়স অনেক কম।

নারী ধর্ষণের প্রধান মামুনের মতো লোকজন শিক্ষার্থীদের নষ্ট করছে। মামুনের মতো লোকেরাই নিজেদের স্বার্থে, নিজেরাই অপকর্ম করার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যারা আছে তাদের এমন করে বিপথে নেওয়ার দায়দায়িত্ব আমাদের সবল স্টেক হোল্ডারদের নিতে হবে। অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে এর দায় নিতে হবে, বলেন তিনি।

কক্সবাজারে বাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও ওষুধবাহী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া জানান, সকালে চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের আরএফএল ফ্যাক্টরির সামনে চট্টগ্রামগামী ঈগল পরিবহণ সার্ভিসের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা স্কয়ার কোম্পানির ওষুধবাহী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই গাড়ির দুই চালক ও বাসের এক নারী যাত্রী মারা যান। এ সময় আহত হয়েছেন ১১ জন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যে বিরল রেকর্ডগুলো ভাঙা প্রায় অসম্ভব

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইতিহাসের সেরা গোলস্কোরার নিজ সময়ের তো বটেই, তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরাদেরও একজন। কদিন আগে ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে নিজের গোলকরার ক্ষমতাকে প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন রোনালদো। লম্বা এই ক্যারিয়ারে এমন কিছু বিরল কীর্তি রয়েছে যা কারো পক্ষে ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব।

এখন পর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় মৌসুমে ৫০এর বেশি গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের ক্যারিয়ারে ২০১০-২০১৬ সালের তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুবাদে চারবার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জিতেছেন এই পর্তুগিজ তারকা। যা তালিকায় থাকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রেস্টিজিয়াস আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বাধিক ১৪০টি গোল করেছেন রোনালদো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির দেওয়া ১২৯ গোলের থেকে যা ১২ গোল বেশী। সর্বাধিক ৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার কৃতিত্বও আছে তার। যদিও এই রেকর্ডে ভাগীদার আছেন তার অনেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ।

বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা এই সুপারস্টাকে ডাকা হয় মি: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হিসেবে। ক্লাব এবং ব্যক্তিগত দুই পর্যায়েই অসামান্য কৃতিত্ব গড়েছেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে মাত্র দুজন খেলোয়াড় গ্রুপপর্বের সব ম্যাচেই গোল করেছিলেন। তার একজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই কৃতিত্ব গড়েন তিনি। ২০২১-২২ মৌসুমে তাতে ভাগ বসান বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সেবাস্টিয়ান হালার।

এ তো গেল ক্লাব, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশী ম্যাচ খেলেছেন সিআরসেভেন। পর্তুগালের এই তারকা ফরোয়ার্ড আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত খেলেছেন ২০৫টি ম্যাচ যা কুয়েতি কিংবদন্তি বাদের আল-মুতাওয়ার থেকে ১১ ম্যাচ বেশী। এই সংখ্যা অদূর ভবিষ্যতে আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া পাঁচবারের ব্যালন-ডি অর বিজয়ী রোনালদো একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি বিশ্বকাপেই গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। লিওনেল মেসির সঙ্গে ইতিহাসে মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে রোনালদো পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সর্বাধিক ১২৮ গোল করার রেকর্ড অর্জন করেছেন রোনালদো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির তুলনায় যা ২৯ গোল বেশী।

আমাদের বিদেশিদের আস্থা অর্জন করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আমাদের প্রচুর রপ্তানি পণ্য আছে। কিন্তু সব কিছু বিদেশিরা নিতে চায় না। কারণ তাদের আমাদের পণ্যের প্রতি বিশ্বাস নেই। যে কারণে তারা নিজেরা এসে পণ্য উৎপাদন করে নিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচুর আম উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু আমরা সেভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে পারছি না। চিংড়ি মাছ আগে ভালো রপ্তানি হতো কিন্তু অপদ্রব্য ঢুকিয়ে আমরা রপ্তানি বাজার নষ্ট করে ফেলেছি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেইফ ফুড কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলুন। তাদের সে বিশ্বাসটা অর্জন করতে হবে। আমাদের অনেক পণ্য বিদেশে যায়। কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশি শপগুলোয় বিক্রি হয়। পণ্য এমনভাবে উৎপাদন করুন যেন বিদেশি চেইন শপে সেগুলোতে পাওয়া যায়।

ভোক্তারাও অনেক সময় খরচ বাঁচাতে নিম্নমানের পণ্য কেনেন বলে মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানসম্মত খাবার পেতে একটু খরচ বেশি হয়। প্রয়োজনে অল্প খাবো কিন্তু মানসম্মত খাবার খাবো। সস্তা পেলেই বেশি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। সেক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিতের পরেই কিন্তু কেনা উচিৎ।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মসজিদের ইমাম যদি জুমার আগে নিরাপদ খাদ্য নিতে সচেতন করেন তাহলে মানুষ কিন্তু শুনবে। স্কুলের শিক্ষকরা তার লেকচারের আগে ২ মিনিট নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব ফেলবে। এভাবে সবার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নিরাপদ খাদ্যের জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে যদি নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া যায় তাহলে বিষয়টি সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইয়ুম সরকার। কার্নিভালটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। কার্নিভালে দেশের ৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

কুবিতে থমকে যাচ্ছে আওয়ামীপন্থী রাজনীতি, অভিযোগের তীর উপাচার্যের দিকে

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাই এ শিক্ষক সমিতিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নামে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুটি সংগঠন রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে দুটি সংগঠনের নেতাদেরই অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এফ এম আব্দুল মঈন নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে তার অনুগত শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্তব্ধ করতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায়ও তিনি বাঁধা প্রদান করছেন বলে অভিযোগ এ শিক্ষক নেতাদের।

এদিকে কমিটি বিলুপ্তির প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়নি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কমিটি বিলুপ্তির বছর পেরোলেও নতুন কমিটি না হওয়ার পেছনে উপাচার্যই দায়ী। এছাড়াও অছাত্র এবং প্রশ্নবিদ্ধ প্রার্থীদের কমিটিতে আনতে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ধর্না দিয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনে সরাসরি বাধা প্রদান করেন উপাচার্য। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

এর আগে ২০২২ সালের পহেলা ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সভাপতি কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ উপাচার্য পন্থি বেশ কয়েকজন শিক্ষক কতৃক নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপরে গত ১ বছরেরও বেশি সময়ে বেশ কয়েকবার সমিতি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও উপাচার্য পন্থি শিক্ষকদের অসহযোগিতায় বিষয়টি আর এগোয়নি।

সম্প্রতি শিক্ষকদের একটি অংশ সমিতি গঠনের উদ্যোগ নিলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন। এতেও উপাচার্যের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন পদে থাকা শিক্ষকদের একটি অংশ স্বাক্ষর করেননি। সর্বশেষ ০৭ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) শিক্ষকদের এক সাধারণ সভায় আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে দীর্ঘ দিন সমিতি গঠন করতে না পারার বিষয়টি উপাচার্যের ইন্ধনে হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড দুলাল চন্দ্র নন্দি জানান, শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন ভন্ডুল করেছেন উপাচার্য পন্থী শিক্ষকগণ৷ স্পষ্টতই তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে এমনটা করেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন পদে তারা বহাল রয়েছেন। উপাচার্যের ইন্ধনেই এমনটা করেছে তারা। এখনও শিক্ষক সমিতি গঠন হোক, একটি অংশ সেটা তারা চায়না।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেজর স্টেক হোল্ডারদের প্রতিনিধিত্ব করে শিক্ষক সমিতি। কিন্তু উপাচার্য শিক্ষকদের মতামতকে অবনমন করতে খুবই চাতুর্যপূর্ণভাবে তার আস্থাভাজন কয়েকজনকে দিয়ে সমিতির নির্বাচন বানচাল করেছেন। তার নির্দেশেই গত এক বছরেরও বেশি সময়ে শিক্ষকদের কোন বৈধ প্রতিনিধিত্ব নেই। ২০১০ সালের পর থেকে কখনও শিক্ষক সমিতি অকার্যকর ছিল না। আরেকটি দিক হলো আমরা দেখেছি, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই যখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারাগারে প্রেরণের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা চালায় স্বাধীনতা বিরোধীরা। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকগণ রাজপথে আন্দোলন করলেও বর্তমান উপাচার্য দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যায়। আবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও বঙ্গবন্ধুর পরিষদকে গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাধা প্রদান করেন। কাজেই বিষয়গুলো খুবই পরিস্কার। বস্তুত উপাচার্য মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা বাস্তবায়নে তৎপর। তিনি সত্যাসত্য কোন মতাদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি তার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যক্রমে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের অসহযোগিতা এবং উপাচার্যের নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের দুটি অংশের নেতারা।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের (কামাল-মাহবুব) সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, উপাচার্য বরাবরই বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর অসহযোগিতা পেয়েছি। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তিনি প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা প্রদান করেন। যেটি প্রমাণ করে, তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুখে বললেও অন্তরে সেটি ধারণ করেন না।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের অপর আরেকটি অংশের (ওমর-মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুক হক ভুঁইয়া জানান, উপাচার্য মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন নেই। কেউ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম করতে পারেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায্য প্রমোশন আটকে দিতে পারে না, অনিয়ম করে প্রক্টরের অবৈধ ডিগ্রির অনুমোদন দিতে পারে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষককে দিয়ে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন, যারা অন্য শিক্ষকদের মারধর, গালিগালাজ করছে। এসব বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নয়। সর্বোপরি এই প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীদারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করেছে। এগুলোর কোনটিকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসরণ বলা যায়?

এদিকে ২০২৩ সালে ০৬ মার্চ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর প্রায় বছর পার হতে চলেছে। তবে বিভিন্ন সময়ে কমিটি গঠনের গুঞ্জন এবং কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও পুনরায় কমিটি গঠিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের অন্তত দশজন নেতাকর্মীদের সাথে কথা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, উপাচার্য নিজের পক্ষে কমিটি আনতে বিভিন্ন সময়ে অছাত্র এবং ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিতের দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দারস্থ হয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাঁধা হওয়ায় শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই৷ শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একজনের বিরুদ্ধে অপরজনকে ব্যবহার করে কোন্দলে জড়িয়েছেন। শাখা ছাত্রলীগের কোন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকুক, সেটি তিনি চাননা। যাদের বিরুদ্ধে শিবিরের সাথে যোগসূত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সাথে থাকার অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তিনি তাদের বিষয়ে তদবির করেছেন। অপরদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধা হওয়ায় গত বছরের ৬ মার্চ কমিটি বিলুপ্তির ঠিক পরদিনই ৭ মার্চ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাদের বহিস্কার করেছিলেন। বস্তত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন রাজনীতি থাকুক সেটি উপাচার্য চায়না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন জানান, এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন ‘ফুল দিতে দেয়নি এটি সত্য নয়। স্বদেশ প্রর্তাবর্তন দিবস পালনে আমি একটি ম্যানেজম্যান্ট কমিটি করি। শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমি তাদের উপাচার্যের বক্তব্যের পরে ফুল দিতে বলেছি।’

কারাগার থেকে ভোট দিলেন ইমরান খান, পারলেন না স্ত্রী বুশরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং পিটিআই-এর বন্দী নেতা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আদিয়ালা কারাগার থেকে ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে) ভোট দিয়েছেন। খবর দ্য ডনের।

অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা যারা ডাকযোগে ভোট দিতে পেরেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী পারভেজ এলাহি, আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রধান শেখ রশিদ এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী।

তবে পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে দোষী সাব্যস্ত এবং গ্রেফতার হওয়ায় ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নিতে পারেননি ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি।