All posts by jitu

দাউদকান্দি থানার নতুন ওসি সাজেদুল ইসলাম

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম পলাশ। ব্রাম্মনবাড়িয়ার নবীনগরে জন্ম নেওয়া এ পুলিশ কর্মকর্তা ২০০৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ দুই দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতায় তিনি বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি চট্টগ্রামের রাউজান থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নতুন ওসিকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা—তিনি দায়িত্বশীল, ন্যায়নিষ্ঠ ও জনবান্ধব পুলিশিং-এর মাধ্যমে দাউদকান্দিকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ থেকে মুক্ত রাখবেন। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন বলেও আশা করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ওসি সাজেদুল ইসলাম থানার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবেন। এতে এলাকার সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।

আজ রবিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, দাউদকান্দিতে সাব ইনিস্পেক্টর( উপপরিদর্শক) হিসেবে আগে ছিলাম। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ামুক্ত রাখতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মাদকমুক্ত দাউদকান্দি গঠনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, এলাকাবাসীর সেই সহায়তাই আমি কামনা করছি।

 

একের পর এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, চাপে নোবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি

 

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ পুইয়ান ও তাঁর স্ত্রী প্রভাষক মীম্মা তাবাসসুমের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, নম্বর মূল্যায়নে অসঙ্গতি, মানসিক হয়রানি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট ও মন্তব্যে নানা অভিযোগ প্রকাশ করায় বিষয়টি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

এর আগে সিলেবাসে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা সফরের বিল উত্তোলন এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁদের অনেকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে মতভিন্ন শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও মানসিক চাপে থাকতেন।

সম্প্রতি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী কবির হোসেন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর ভাষ্য, পোস্ট প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যাচের অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তাঁরা এখনো প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, অভিযোগ করলে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সত্যিই এমন ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়ে থাকে, তবে সেটি বিভাগের জন্য উদ্বেগজনক।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত আবু তারেক রনি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ওই শিক্ষক দম্পতির নেওয়া কোর্সে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পেতেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন শিক্ষকের কাছে সব শিক্ষার্থী সমান হওয়ার কথা হলেও কেন আলাদা পক্ষ বা গোষ্ঠী থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে সৃষ্ট মানসিক চাপের কারণে তিনি ওই বিভাগে মাস্টার্স করার সাহস পাননি।

ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যেও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। ফয়সাল এম রহমান নামের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হলেও মেধাবী অন্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত নম্বর পাননি। নিজের মন্তব্যে তিনি লেখেন, “স্যারের পক্ষে কথা বলা স্টুডেন্ট পায় ৬৯, আর আমাদের বিভাগের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া স্টুডেন্ট পায় ৬০। মার্কস টেম্পারিং ছাড়াও মানসিক হেনস্তার অনেক প্রমাণ আছে।”

বিভাগের মেধাতালিকায় শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থী সুমাইয়া নূর জান্নাত নাবিহাও দীর্ঘ এক পোস্টে অভিযোগ করেন, প্রথম সেমিস্টার থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও শেষ বর্ষে নির্দিষ্ট শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থিসিস বা প্রজেক্ট না করায় তিনি একাডেমিকভাবে বৈষম্যের শিকার হন। তাঁর দাবি, ১০০ নম্বরের ভাইভায় ইচ্ছাকৃতভাবে কম নম্বর দেওয়া হয় এবং ভাইভা বোর্ডে তাঁকে এমনভাবে অপদস্থ করা হয় যে কান্না করতে করতে বের হতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্লাসে তাঁকে বারবার বলা হতো, “ভালো রেজাল্ট করলেই ভালো স্টুডেন্ট হওয়া যায় না” এবং “তুমি কোনো কিছুরই যোগ্য নও”। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনার কারণে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের পরও ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

১৩তম ব্যাচের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ইমন দত্ত তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এই শিক্ষক দম্পতির আচরণের কারণে তাঁদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আড্ডার বড় একটি বিষয় ছিল হতাশা ও মানসিক চাপ। তাঁর অভিযোগ, ১২তম ব্যাচ প্রথমবার নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলার পর সহকারী অধ্যাপক ইফতেখার পারভেজ পুইয়ান ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফোন করে বিবৃতি ও স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ইমন দত্ত আরও দাবি করেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে বলা হয়েছিল, “টিচাররা চাইলে রেজাল্ট তুলতে পারে, নামাতেও পারে”। তাঁর ভাষ্য, কিছু শিক্ষার্থী এতটাই মানসিক চাপে ছিলেন যে আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন।

বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাকিব রহমান তাঁর পোস্টে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক কোরামের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং একটি ‘সিন্ডিকেট’ থাকার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, যেসব শিক্ষার্থী শিক্ষক দম্পতির অপছন্দের ছিলেন, তাঁদের জুনিয়রদের সামনেও অপমান করা হতো। প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অন্যদের তথ্য সংগ্রহ করা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি আগের বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গেও ওই শিক্ষক দম্পতির বিরোধ ছিল বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসে শিক্ষা সফরের বিধান না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা সফরের বিল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ পুইয়ান অস্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বি-স্তর বিশিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে এককভাবে নম্বর কমানোর সুযোগ নেই এবং আমি ও আমার স্ত্রী কখনো একসাথে যুগল পরীক্ষক ছিলাম না, যার দাপ্তরিক প্রমাণ আছে। এছাড়া ভাইভার গোপনীয় নম্বর ফাঁস করা একটি অপরাধ। ক্লাসে ২০ মিনিট দেরিতে আসা শিক্ষার্থীকে পড়া বোঝার সুবিধার্থে পরবর্তী ক্লাসে আসতে বলা একজন শিক্ষকের স্বাভাবিক দায়িত্ব, কোনো মানসিক হয়রানি নয়। আমি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই; সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভাগে থেকে নিয়মিত ক্লাস নিই, যা শিক্ষার্থীরাই নিশ্চিত করবে।

তার স্ত্রী সহকারী অধ্যাপক মীম্মা তাবাসসুমকেও মার্ক টেম্পারিংয় ও মানসিকভাবে হেনস্থার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, আমি ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত। আমি তদন্ত কমিটির সাথে বসবো, বসে পর্যালোচনা করবো। যদি আসলেই তারা দোষী হয় তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা উচিত। তাঁদের মতে, এতে বিভাগের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

মুরাদনগরে চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া পূর্বপাড়া এলাকায় অটোরিকশার চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। অপর ছিনতাইকারী পালিয়ে গেছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোচাগড়া-বাখরনগর সড়কের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

ছুরিকাঘাতে আহত অটোরিকশাচালক সাইদুল ইসলাম (১৭) গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার ছেলে।

গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারী নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের শহিদ মিয়া ওরফে ল্যাংড়া শহিদের ছেলে আল আমিন (২৩)। পলাতক অপর আসামি কুলুবাড়ী গ্রামের মধু মোল্লার ছেলে মো. শামীম মিয়া (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে আল আমিন ও শামীম মিয়া মোচাগড়া যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশাচালক সাইদুল ইসলামের অটোরিকশা ভাড়া করেন। মোচাগড়া পূর্বপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর তারা ইট দিয়ে সাইদুল ইসলামের মাথায় আঘাত করেন। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে তার বুকে ও পিঠে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে। তবে শামীম মিয়া কৌশলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা আহত সাইদুল ইসলামকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত সাইদুল ইসলামের বাবা মো. মাসুদ মিয়া বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ‘এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মো. খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওরফে ল্যাংড়া খোকন জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২ জুলাই রাতে বিজয়পুর বাজারে একটি দোকানের সামনে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ খোকন নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে খোকনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাজারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

ওসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরালের পর খোকন আত্মগোপনে চলে যায়। কৌশলগত অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরুড়ায় খালে বস্তা দেখে ‘লাশ’ আতঙ্ক, খুলে মিলল মৃত কুকুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বরুড়ায় খালে পড়ে থাকা একটি বস্তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে লাশের গুজব। খবরটি মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ গিয়ে বস্তা খুলে দেখতে পায়, এর ভেতরে রয়েছে একটি মৃত কুকুর।

আজ রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের হেরপেটি গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের পাশে পড়ে থাকা একটি বস্তা দেখে কয়েকজনের সন্দেহ হয়, এর ভেতরে মানুষের মরদেহ থাকতে পারে। বিষয়টি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

খবর পেয়ে বরুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বস্তাটি খুলে দেখে। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে একটি মৃত কুকুর উদ্ধার করা হয়।

বরুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছিম্পু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে একটি মৃত কুকুর রয়েছে। মানুষের মরদেহ থাকার যে গুজব ছড়িয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। তবে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করে।

পুলিশ গুজবে কান না দিয়ে যে কোনো সন্দেহজনক বিষয় যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে।

রিয়াদে পরিত্যক্ত কক্ষে কুমিল্লার যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলার পরিত্যক্ত কক্ষে স্ট্রোকে মারা গেছেন মো. শান্ত আহমেদ (২৩) নামে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর (প্রকাশ ছুপুয়া) গ্রামের ওমানপ্রবাসী আবদুল কাদেরের একমাত্র ছেলে।

শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ফরহাদ হাজারী।

জানা যায়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত বছরের ২৩ মে সৌদি আরবে যান শান্ত আহমেদ। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার মা শেফালী বেগম বিদেশে পাঠাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে ছেলের ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন বাবা-মা।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তিনি কর্মসংকটে ছিলেন। সর্বশেষ চার দিন আগে রিয়াদের আল আরিদ এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন। ওই হোটেলের নিচতলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষেই তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

শুক্রবার ভোরে ওই কক্ষেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্ত। খবর পেয়ে সৌদি পুলিশের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে রিয়াদে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর অভিযোগ, যে কক্ষে শান্তকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুৎ চলে গেলে কক্ষটি প্রায় বদ্ধ হয়ে পড়ত এবং সেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যেত। তাদের দাবি, এমন পরিবেশে থাকার কারণে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা কক্ষের পরিবেশের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ফরহাদ হাজারী জানায়, প্রবাসী ইমাম হোসাইনের নেতৃত্বে একটি টিম শান্ত আহমেদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

এদিকে শান্তর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা ও দুই বোন। ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফনের জন্য রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের মা শেফালী বেগম, বাবা আবদুল কাদেরসহ পরিবারের সদস্যরা।

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত খোকন (৫০)-কে আটক করেছে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার (৪ জুলাই) সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মধ্যবয়সী নারীর কাছে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে নারীটিকে দেখতে পান।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে (৫০) অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানায়, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। পরে শনিবার সন্ধ্যায় জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে তাকে রোববার কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।

এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানায়, ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় শনাক্ত, তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মেঘনায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাদক মামলার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বকশিকান্দা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির নাম মো. সোহাগ খান। তিনি ওই গ্রামের শাহাব উদ্দিন খানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের একটি মাদক মামলায় আদালত সোহাগ খানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেঘনা থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চাঁদপুরে ৩ কেজি ওজনের এক ইলিশ বিক্রি হলো ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়। মৌসুমের শুরুতেই এত দামে একটি ইলিশ বিক্রি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ সীমিত এবং ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে মাছটি বিক্রির জন্য চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ বাজারে আনা হয়। পরে রাজধানীর ঢাকার অনিক নামে এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন।

চাঁদপুর বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের শান্তি আড়তের সম্রাট বেপারী জানান, মাছটির ওজন ছিল ২ কেজি ৯৯০ গ্রাম। প্রতি মণের দাম উঠেছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬২৫ টাকা। বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেছে।

বাজার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলে সুজনের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বেশি দামের আশায় সেটি চাঁদপুরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে আনা হয়। প্রত্যাশামতো বাজারে আসার পরই উচ্চমূল্যে বিক্রি হয় মাছটি।

আড়ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ইলিশের মূল মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলের সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে ইতোমধ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় বাজারে এর মূল্য বেশি।

শান্তি আড়তের সম্রাট বেপারী আরও জানান, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দামে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এখন বড় ইলিশ খুব কম আসছে, তাই দাম বেশি।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, বর্ষা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার পরিস্থিতিও বদলাবে। তবে বর্তমানে সীমিত সরবরাহ এবং ক্রেতাদের উচ্চ চাহিদার কà¦