All posts by jitu

‘নৌকার বিজয় ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে’

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন , শাহরাস্তি:

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেজর( অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি বলেছেন, হাজীগঞ্জ – শাহরাস্তি উপজেলায় নৌকার বিজয় ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে শেখ হাসিনা আবাস ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। শাহরাস্তি – হাজীগঞ্জ একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা। এখানে আমরা যুগের পর যুগ এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করি। আপনারা দলমত নির্বিশেষে আগামী ৭ ই জানুয়ারী নৌকা প্রতিককে বিজয়ী করবেন। আমি বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগের লোক, নৌকার লোক কখনো অন্য প্রতিকে ভোট দিতে পারে না।

তিনি শাহরাস্তি -হাজীগঞ্জের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ বছরে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। প্রায় ৮’শ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ, ডাকাতিয়া নদীর উপর ১০টি সেতু, প্রায় সাড়ে ৮’শ ব্রীজ-কালর্ভাট ও প্রায় ৮’শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ এবং শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন বলেই এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আমি ষষ্ঠবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে আবারো আপনাদের কাছে এসেছি। দেশ ও জাতীর উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ দিন।

নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থণা করে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা, স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক নৌকা। এই নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন, সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখুন। ৩ জানুয়ারী দুপুর ৩ টায় নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল নিবাচনী জনসভায় তিনি উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

শাহরাস্তি পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরীর পরিচালনায়, বিশাল জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, উপজিল আওয়ামী লীগের সাবেক সহ -সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ইলিয়াস মিন্টু, সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন পাটোয়ারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএসসি, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা: আবদুর রাজ্জাক, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন মুশু, এ ছাড়াও জনসভায় ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ, পৌর আওয়ামিলীগ, ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সমর্থকরাও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বসে আছে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সারা দেশে নির্বাচনের জোয়ার তৈরি হয়েছে। এতে বিএনপির সুর নরম হয়ে গেছে। বিএনপির নির্বাচন বিরোধিতা সারা দেশে ভোটের প্রচারণায় পদ্মা, যমুনা ও কর্ণফুলী নদীতে ভেসে গেছে। এখন বিএনপির সমর্থকরাও এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বসে আছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা ড. মঈন খান বলেছেন- আমরা আর নির্বাচনবিরোধী প্রচারণা করছি না, প্রতিহত করার কথাও বলছি না। এখন আমরা নির্বাচন বয়কট করার কথা বলছি। এতে বোঝা যায়, এখন তাদের সুর নরম হয়ে গেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ার শিলক ইউনিয়নের কুদ্দুছ মার্কেট চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শিলক, সরফভাটা ও কোদালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এই জনসভার আয়োজন করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি আগে বলেছিল নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। সেই উদ্দেশে তারা মানুষের ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে, ঘুমন্ত মানুষকে, ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারকে মেরেছে। ঘুমন্ত অবস্থায় মা এবং শিশু সন্তানকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে অঙ্গার করে দিয়েছে। এসব করে তারা দেখতে পেল, এতে তাদের কোনো লাভ হয় নাই, মানুষ ভয় পায় নাই। মানুষ নির্বাচনি জোয়ারে শামিল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন আমাদের দেশে এখন উৎসব। সেই উৎসবে মানুষ এখন মেতে উঠেছে। সেই উৎসবের জোয়ারে বিএনপির সুর নরম হয়ে গেছে। তাই এখন তারা বলছে- আমরা নির্বাচন প্রতিহত নয়, নির্বাচন বয়কট করার কথা বলছি। তারা এতদিন পর বুঝতে পেরেছে মানুষ তাদের ডাকে এখন আর সাড়া দেয় না। পরিস্থিতিটা এমন যে বিএনপি আর কয়দিন পরে বলবে নির্বাচনে আমাদের সমর্থকরা অংশগ্রহণ করলেও অসুবিধা নেই। তারা যাই করুক না কেন মাঠপর্যায়ে কিন্তু বিএনপির সমর্থকরা নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা তাদের নেতারাই দিচ্ছে। কিন্তু তাদের প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মী এবং সমর্থকরা এটাকে সমর্থন করে না। এই জনসভাতেও অনেক বিএনপি সমর্থকরা হাজির হয়েছে, যারা নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও এই জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ, তারা বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। রাঙ্গুনিয়ায় এবারের নির্বাচনে যেই উৎসাহ উদ্দীপনা দেখতে পাচ্ছি তা অভাবনীয়। প্রতিটি জনসভা-মিছিলে লোক সমাগম গতবারের চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের উপকার করার ক্ষেত্রে এবং দেশের উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে কখনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি পার্থক্য করেন নাই। সেটিই আমরা তার কাছ থেকে শিখতে পাই। রাঙ্গুনিয়ায়ও আমার উন্নয়ন কার্যক্রমে কে কোন দল বা মতের সেটা কখনো বিবেচনায় আনিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে কাউছার নূর লিটন ও মাহমুদুল হাসান বাদশার সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম চিশতি, নজরুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুল মোনাফ সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আজিম, এমএ মান্নান চৌধুরী, শহীদুল্লাহ চৌধুরী আইয়ুব খান, মুজিবুল ইসলাম সরফি, জাহাঙ্গীর আলম, চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবদূর রউফ মাস্টার, মাস্টার আবুল হাশেম বিএসসি, বদিউল আলম, মো. ইসহাক, আনোয়ার তালুকদার ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুচ প্রমুখ।

সূত্র: যুগান্তর

নির্বাচনের পরিবেশ জানতে আইআরআই প্রতিনিধিদল ডিএমপিতে

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সাত সদস্যের একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে যান আইআরআইয়ের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সাক্ষাৎকালে আইআরআই প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের কাছে জানতে চায়, পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচনে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা কোনো ভয় পাচ্ছেন কি না? এছাড়া ভোট উপলক্ষ্যে কোনো শঙ্কা আছে কি না?

তাদের প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় পুলিশ কাজ করছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পুলিশ সেই পরিবেশ তৈরি করেছে।

ডিএমপি কমিশনার আরো উল্লেখ করেন, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোট প্রদান করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নাতাশা রথচাইল্ড, ক্রিস্পিন কাহেরু, মারিয়াম তাবাতাদজে, নেনাদ মারিনোভিক, ইভো পেন্টচেভ, কাজী শহীদুল ইসলাম ও নুরানী রুপমা।

এছাড়াও একইদিন দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে মিটিং করেন তারা। মিটিং শেষে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। ডিবি পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি ‘গণধর্ষণের’ শিকার ১৬ বছরের কিশোরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

যে কোনো ধর্ষণের ঘটনাই সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। তবে প্রথমবারের মতো আলোচনায় এসেছে ভার্চুয়ালি কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনা। অনলাইন মাধ্যম মেটাভার্সে গণধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে বুধবার (০৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটাভার্সে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটি গেম খেলতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কিশোরী। আশ্চর্য এ ঘটনার মুখোমুখি হওয়া কিশোরীর বয়স ১৬ বছর। তিনি জানান, ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে একটি গেম খেলছিলেন তিনি। এ সময় কয়েকজন অনলাইন দুষ্কৃতকারী দ্বারা তিনি ভার্চুয়ালি গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ব্রিটিশ পুলিশ এমন এক অপরাধের মুখোমুখি হয়েছে।

বিচিত্র এ ঘটনাটি প্রথম সামনে আনে ডেইলি মেইল। ওই কিশোরী শারীরিকভাবে কোনো আঘাত না পেলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মামলা সংশ্লিষ্ট এক সিনিয়র অফিসার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আচরণটি ভুক্তভোগীর ওপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে। এটি শারীরিক আঘাতের চেয়ে অনেক কঠিন।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিদ্যমান আইন অনুসারে এ অপরাধের বিচার করা অসম্ভব হতে পারে। কেননা সম্মতি ছাড়াই যৌন পদ্ধতিতে শারীরিক স্পর্শকে যৌন নিপীড়ন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ভার্চুয়ালি গণধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটিশ প্রশাসন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লিভারলি। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে তিনি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা যাতে আগামী দিনে না ঘটে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিনিয়র এক রাজনীতিবীদ এলবিসির ‘নিক ফেরারি অ্যাট ব্রেকফাস্ট’ প্রোগ্রামে বলেন, এটি বাস্তব নয় বলে খারিজ করা সহজ। কিন্তু ভার্চুয়াল পরিবেশে আজকের প্রজন্ম অবিশ্বাস্যভাবে নিমগ্ন। যে তরুণীর কথা বলা হচ্ছে সে ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে।

ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিলের শিশু সুরক্ষা এবং অপব্যবহারের তদন্তের নেতৃত্বদানকারী ইয়ান ক্রিচলি বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শিকারীদের অবার বিচরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে মেটাভার্স। তিনি অনলাইনে সংঘটিত অপরাধের মোকাবিলা ও ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ব্রিটেনে এর আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। ২০২২ সালে ৪৩ বছর বয়সী এক নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। ওই সময়ে মেটাভার্সে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। গেমে প্রবেশের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিন থেকে চারজন পুরুষ তাকে গণধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী।

বিএনপি নির্মাণশ্রমিকদের দিয়ে পোস্টার লাগাচ্ছে : ডিবি হারুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্মাণশ্রমিকদের দিয়ে পোস্টার লাগাচ্ছে বিএনপি। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

ডিবিপ্রধান জানান, বিএনপির তৎপরতা থেমে নেই, নির্মাণশ্রমিকদের দিয়ে পোস্টার লাগাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট নাশকতার তথ্য নেই, তবে সচেষ্ট রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

হারুন অর রশিদ জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় কাজ করছে পুলিশ। কমিশনের নির্দেশনা, নির্বাচনবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না। যারাই এ ধরনের কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান। যারাই অপতৎপরতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ।

তিনি বলেন, ২৮ তারিখের পর থেকেই একটি দল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সবাই যুবদল ও ছাত্রদলের। সবার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আদম তমিজি হকের সম্পর্কে ডিবিপ্রধান জানান, তিনি এখনো অসুস্থ আছেন। তাকে (আদম তমিজি হক) আবারও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

‘নির্বাচিত হলে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট দেবিদ্বার গড়ে তুলব’

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা-৪ আসনে নৌকা মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রাজী ফখরুল বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, উন্নয়ন চলছে… চলবে। আমি নির্বাচিত হলে আগামীতে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট দেবিদ্বার গড়ে তুলব। সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে।

বুধবার সকালে পৌরসভার ছোট আলমপুরে একটি নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে রাজি ফখরুল আরও জানান, এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা শেখ হাসিনার নৌকা। এই নৌকার বিরুদ্ধে অতীতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, আজও হচ্ছে, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই নৌকাকে ঠেকাতে পারেনি, এখনো পারবে না। নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণেই আজ দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুল আলম ভিপি (কামাল), দেবিদ্বার পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম শামীম, দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. মোর্শেদ আলম মোল্লা, কাউন্সিলর মোসা. শারমিন আক্তার প্রমুখ।

নির্বাচনে যাকে খুশি ভোট দেন, ভোটটা অনেক জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছে আওয়ামী লীগ সরকার- এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা জানান, নির্বাচনে কোনো সংঘাত চাই না। যাকে খুশি ভোট দেবেন। ভোটটা অনেক জরুরি। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেই লুটপাট ও দুর্নীতি শুরু করে। বিএনপির দুর্বৃত্তায়নের জবাব দিতে হবে ভোটের মাধ্যমে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, এ নির্বাচনটা বাংলাদেশের জন্য একান্ত জরুরি। কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেকেই অনেক রকম খেলা খেলতে চায়। এদেশের ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকে, আমাদের সেই চেষ্টাই করতে হবে।

বুধবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে পাঁচটি জেলা ও একটি উপজেলার নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি জানায়, আমরা দেশে একটি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আর বিএনপি চায় কারচুপির নির্বাচন। জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল খালেদা জিয়া। থাকতে পারেনি। ভোট চুরি করলে জনগণ মেনে নেয় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার পতন ঘটে। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়। তারপর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ওদের শিক্ষা হয়নি। তাই আবারও ২০০১ সালে ভোট কারচুপি, ভোট চুরি, জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলা শুরু করে। তাদের দুঃশাসনের কারণে দেশে ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা জারি) হয়।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আমি যখন গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি, তখন ষড়যন্ত্রের শিকার হই। ক্ষমতা আসতে পারেনি। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বিএনপি-জামায়াত জোট আসে। ক্ষমতায় এসেই তারা দুর্নীতি লুটপাত, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অকাট্য নির্যাতন শুরু করে। তাদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও আরেক দিকে তারেক হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির আখড়া গড়ে তোলে। ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে। যার ফলে দেশে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়। তারা জানত জনগণ তাদের ভোট দেবে না, প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার লিস্ট তৈরি করে। সেভাবে নির্বাচন করার প্রচেষ্টা নেয়। সেখানে তারা ব্যর্থ হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টি সিট পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ২৩৩ সিটে জয়ী হয়। আর অন্য সিটগুলো আমাদের জোটের শরিকরা পেয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। দেশবাসী এর সুফলও পাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় আসে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে একটানা ক্ষমতায় আছি বলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করতে পেরেছি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এবং শিক্ষার উন্নয়ন করতে পেরেছি। আমরা বাংলাদেশকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি। আমরা বেকারত্বের হারও কমিয়ে তিন শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। দেশে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি।

বঙ্গভবনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা ভোট দেন। তারা পাবনা সদরের ভোটার।

এ সময় দেশবাসীকে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন নিজে ভোট দেই, অন্যকে ভোট দিতে উৎসাহিত করি।’

মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান।

আশা আশঙ্কার কাছে কখনোই পরাজিত হবে না : ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আশঙ্কার কাছে আশা কখনোই পরাজিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সারা দেশে আজ যে জাগরণ, ৭ জানুয়ারি ভোট, জনগণ প্রস্তুত। গতকালও (মঙ্গলবার) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে আকস্মিক যে সভা ফরিদপুরে করেছেন, যত নারী সেখানে ছিল, এ দৃশ্যপট দেখে বোঝা যায়, বরিশালে যে দৃশ্য দেখেছি, সিলেটে দেখেছি, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে। সে আশাই আমরা করছি। আশঙ্কা তো থাকেই। আশঙ্কা আশঙ্কার জায়গায়। আশা আশঙ্কার কাছে কখনোই পরাজিত হবে না। আশা বেঁচে থাকবে।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন, ক্রমান্বয়ে নির্বাচন কমিশন তার স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে তারা সে অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। দায়িত্ব পালন করতে পারছেন বলেই নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আচরণবিধি যেখানে লঙ্ঘন হয়েছে যেখানেই তার ব্যবস্থা নিয়েছে। কর্তব্য পালনে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করছে না। নির্বাচন কমিশন আইনগতভাবে স্বাধীন দায়িত্ব যথাযথভাবে যতই পালন করতে পারবে, ততই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। এ নির্বাচনের মাধ্যমে যে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা, সেটা আরও গতিময় হবে। দেশের ভবিষ্যৎও সুসংহত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় ৭ জানুয়ারি নির্বাচন। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখন আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। এখান থেকে তারা বের হতে পারছে না। আজ তারা হরতাল-অবরোধ দিলেও যেখানে সেখানে যানজটে হচ্ছে। দূরবর্তী যানবাহনও চলাচল করছে।

‘বিএনপি ভাষাগত বক্তব্যতে যে পরিবর্তনের কথা বলছে, সেটা তাদের আসল কথা নাও হতে পারে। কারণ বিএনপি বলে একটা করে আরেকটা। তারা সত্যি কথা বলছে এ কথা এখনই বলার সুযোগ নেই। ৪ তারিখ পর্যন্ত তারা লিফলেট বিতরণ করবে, এরপর তাদের ভূমিকাটা কী, সেটা আমরা লক্ষ্য করব।’

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে– এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেতাদের কাছ থেকে পাননি বলে জানান তিনি। বলেন, নির্বাচনে একেবারে সীমান্তে, এখন আর এসব দাবি করার সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিনা রহমানের এক বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি ভুল বলেননি। ওনাদের দর্শন, ওনাদের রাজনীতি, ওনাদের নির্বাচন যেভাবে করতেন। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। নির্বাচন শেষে এবং তার পরেও আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনাররা সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন– এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তারা তাদের অভিমত ব্যক্ত করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের চিন্তা-ভাবনার মিল না থাকলেও আমরা কিছু বলব না। আমাদের সঙ্গে যদি অমিলও হয়, আমরা কিছু বলব না।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে ড. ইউনূসের দোষী সাব্যস্ত হওয়াটা বাংলাদেশের মানবাধিকার বিপর্যস্ত হওয়ার প্রতীক। কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা খর্ব করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করছে, সমালোচকদের দমন করছে। আমরা জানি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত আছেন তারেক রহমানের আত্মীয় আইরিন খান। যিনি এক সময় ডেইলি স্টারে কাজ করেছেন। তাদের মন্তব্যটা কেমন হবে, আমরা আগেও লক্ষ্য করেছি। একটা বৈরী মনোভাব এ সরকারের প্রতি তাদের রয়েছে। বাংলাদেশেও টিআইবি, সুজনের যে ভূমিকা, এগুলো সব একই সূত্রে গাঁথা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি জাস্ট একটা কথা বলব, গাজায় ইসরায়েলের যে জেনোসাইড, গণহত্যা চলছে, আমরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে জানতে চাই, আমাদের দেশে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি মামলায় আমাদের স্বাধীন আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটা নিয়ে তাদের এত মাথাব্যথা। গাজায় গণহত্যা নিয়ে তাদের কী ভূমিকা সেটা আমরা জানতে চাই। অবলা নারী, অবুঝ শিশু, ৯৩ জন সাংবাদিককে সেখানে হত্যা করেছে। সেটা আপনারা জানেন। সাংবাদিকদের ব্যাপারে কিছু বলেছে? একটি মামলায় শ্রমিক অধিকারের যে রায় সে রায়কে কেন কটাক্ষ করছেন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেনি।

৭০ ভাগ ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি সেটা বলিনি, আপনি ভুল। আমি যেটা বলেছি, আইআরআই তাদের এক সমীক্ষায় বলেছে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ ভোটার শেখ হাসিনাকে অ্যাপ্রুভাল রেটিং যেটা সেটাতে মতামত এসেছে। এর মানে এই নয় যে ৭০ শতাংশ লোক ভোট দেবে। এ কথা আমি বলিনি। আমি বলেছি, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই: সিটিটিসি প্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট:

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা, জঙ্গিদের মাথাচাড়া বা তাদের তৎপরতা কিংবা কোনো ঝুঁকি আমরা দেখছি না।

তিনি বলেন, আমাদের জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুদিন আগেও আমরা একটি সংগঠনের মূল ব্যক্তিসহ অপারেশনাল কমান্ডারকে গ্রেফতার করেছি, যারা নতুন করে সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। এই মুহূর্তে জঙ্গি হামলার কোনো ঝুঁকি নেই, জঙ্গিদের সেই সক্ষমতাও নেই।

বুধবার (৩ জানুযারি) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য ও পরিবারের জন্য ফ্রি মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এ মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে ক্র্যাব।

সিটিটিসি প্রধান আসাদু্জামান বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় যেসব সংসদীয় আসন রয়েছে, কোথাও কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিরাজ করছে। আমরা আশাবাদী কিছু ঘটবে না এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সেরকম প্রস্তুতিও রয়েছে। যেকোনো ধরনের অরাজকতা, নাশকতা ঠেকাতে ও প্রতিরোধে সক্ষমতা রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ভোট দেওয়া জনগণের সাংবিধানের অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগে যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, জনগণ যাতে নিরাপদে ও নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সেজন্য ডিএমপির সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।