All posts by jitu

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা পাবেন ৮ হাজার টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এজন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তারা আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) থেকে আবেদন করতে পারবেন, যা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সোমবার (২০ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, একাদশ শ্রেণিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা বাবদ আট হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ টাকা পেতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তি সহায়তা পেতে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা দেওয়া হবে। ভর্তি সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে অবেদন করতে হবে।

সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সন্তান আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে।

ই-ভর্তি সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্য সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভর্তি সহায়তা নির্দেশিকা’ অনুসারে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিতকরণে ভর্তি সহায়তা দিয়ে থাকে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঁচ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আট হাজার টাকা এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা হারে ভর্তি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ভর্তি সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের ছবি, জন্ম নিবন্ধন সনদ, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয় পত্র, নির্ধারিত ফরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ প্রয়োজন হবে। আর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকদের কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন বা সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আবেদনের চার থেকে ছয় মাস পর টাকা পাঠানো হয়। শিক্ষার্থী ভর্তি সহায়তার জন্য নির্বাচিত হলে তার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আবারও পেছাল প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আবারও পেছাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের প্রথম ধাপের (রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় জানানো হয়, ৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্বের রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ১৮টি জেলার ৫৩৫টি কেন্দ্রে সকাল ১০ থেকে ১ ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্বের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৭ জন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আগামী ২৪ নভেম্বর এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে আগামী ১ ডিসেম্বর এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আজ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেটি আবারও পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে কুমিল্লায় ৯৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

মহান সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে  কুমিল্লা সেনানিবাসে একটি মনোমুগ্ধকর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ৯৭৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান করা হয়।  পরে অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়।

অনুষ্ঠানে  আগত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল গণ্যমান্য অতিথিদেরকে অভ্যর্থনা জানান ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার  (জিওসি)  মেজর জেনারেল  মোঃ মাইনুর রহমান এসইপি, এডব্লিউসি, পিএসসি।

এরপর প্রধান অতিথি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত তাঁর স্বাগত ভাষণের শুরুতেই স্মরণ  করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং শ্রদ্ধা জানান অগণিত বীর শহিদদের ও সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে কাঙ্খিত স্বাধীনতা। বিশেষ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা অঞ্চলের অসীম সাহসিকতা, সহযোগিতা এবং বীরত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কুমিল্লা অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল বীর শহিদদের প্রতি জানান বিনম্র শ্রদ্ধা। এছাড়াও তিনি আগত সকল মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি মহিমান্বিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি তার ভাষণে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় পর্যায়ে যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জঙ্গী দমন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন দেশগঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। এছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তিনি আরো বলেন যে, আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিক রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শহিদ পরিবারে সদস্যবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময়  অনুষ্ঠানে  আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী,ফেণীর সংসদ সদস্য শিরিন শারমিন, নোয়াখালীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জামাল আবু নাছের, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

মহান সশস্ত্র বাহিনী দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করতে সম্মিলিত আক্রমণ সূচিত হয়। এর ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা অর্জন করি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ- বাংলাদেশ। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ২১ নভেম্বর যথাযথ মর্যাদার সাথে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

চার দিনে আ.লীগের ৩৩৬২ মনোনয়ন ফরম বিক্রি, আয় প্রায় ১৭ কোটি

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জন্য চার দিনে মোট ৩৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে অনলাইনে ১২১ জন ফরম কিনেছেন। এতে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় হয়েছে দলটির।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

বিপ্লব বড়ুয়া জানান, আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রশাসনিক বিভাগ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট বুথ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩২৪১ জন। বাকি ১২১ জন অনলাইনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

মনোনয়ন ফরম বিক্রির চারদিনে (১৮-২১ নভেম্বর) কার্যালয় থেকে ঢাকা বিভাগে ৭৩০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫৯টি, সিলেট বিভাগ ১৭২টি, ময়মনসিংহ বিভাগ ২৯৫টি, বরিশাল বিভাগে ২৫৮টি, খুলনা বিভাগে ৪১৬টি, রংপুর বিভাগে ৩০২টি ও রাজশাহী বিভাগে ৪০৯টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।

এদিকে ৩০০ সংসদীয় আসনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাসে আগুনের ভিডিও পাঠানো হয় লন্ডনে: ডিবি প্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট:

নিউমার্কেট থানার গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় ৪ নভেম্বর মিরপুর সুপার লিংক লিমিটেড বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- তানভীর আহমেদ (২৭), দেলোয়ার হোসেন (৫১) ও মো. ফারুক হোসেন (৪৩)।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে তানভীর আহমেদ ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক। দেলোয়ার হোসেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ফারুক হোসেন বিএনপির সক্রিয় সদস্য।

ডিবির দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে তানভীর বলেছেন- আগুন লাগানোর পর সিনিয়র নেতাদের তারা ভিডিও পাঠাতেন। লন্ডন ও ঢাকার ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও ছবি-ভিডিও পাঠানো লাগতো। মঙ্গলবার দুপুরে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, বাসে অগ্নিসংযোগকারী তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪ নভেম্বর নিউমার্কেট যাত্রী ছাউনির পাশে যে বাসটিতে আগুন লাগানো হয়েছিল সে বাসে আগুন লাগানোর ঘটনায় ডিবি-উত্তরা বিভাগ তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার তানভীর আহমেদই সেদিন বাসটিতে আগুন দেয়।

সেদিন বাসে আগুন দেওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে আগুন লাগানোর কথা জানান তার এক বন্ধুর কাছে। কথোপকথনে তানভীর লিখেছেন, আগুন লাগিয়ে কী হবে? আমরা আগুন লাগাচ্ছি আর লন্ডনে যারা আছেন তারা ভালো আছেন। উল্টো আগুন দিতে গিয়ে আমরা ধরা পড়ছি।

এমন কথোপকথন তিনি করেছেন। তাকে যখন ডিবিতে নিয়ে আসা হলো তখন তিনি স্বীকার করেছেন এটি তিনি লিখেছেন।

ডিবির কাছে তানভীর বলেছেন, আমরা আগুন লাগাচ্ছি, ককটেল নিক্ষেপ করছি কিন্তু জেলে গেলে আমাদের দেখার কেউ নেই। যারা নির্দেশ দিচ্ছেন তারা কোথাও লুকিয়ে আছেন অথবা বিদেশ গিয়ে অবস্থান করছেন।

তানভীরকে রিমান্ডে আনা হয়েছে জানিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, অনেকের নাম ও নম্বর পেয়েছি। তানভীরের সঙ্গে আর কারা কারা ছিল এসব বিষয় জানা যাবে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া থাকে, আগুন লাগানোর পর দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের ছবি-ভিডিও দেখাতে হবে। আগুন দেওয়ার সময় মুখে মাস্ক ও রুমাল ব্যবহার করতে হবে। যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে আগুন দিতে হবে। নিয়ম হলো আগুনটা লাগানোর পরে বড় ভাইদের খুশি করার জন্য টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ককটেল কিনে এনে ককটেল নিক্ষেপ করছে আবার কোথাও পেট্রল ঢেলে আগুন দিচ্ছে।

হারুন বলেন, ডিবির বিভিন্ন টিম অনেককে আইনের আওতায় এনেছে। তাদের মধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। কে কে তাদের সহায়তা করছে তাদের নামও আমরা পেয়েছি।

তিনি বলেন, কোনো বড় ভাইয়ের কথায় যদি আগুন লাগান, ককটেল নিক্ষেপ করেন আসামি-তো আপনিই হবেন। টাকা পেয়ে ধরা পড়ার পর বড় ভাইদের নাম বললে কোনো লাভ হবে না। যারা আগুন দেবেন তারাই ধরা পড়বেন, তারাই মামলা খাবেন আর বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা করছেন গোয়েন্দা প্রধান হারুন তাদের বলেন, যার গাড়িতে আগুন লাগাচ্ছেন তার হয়তো জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে প্রতিদিনের রোজগার হিসেবে তিনি বাসটি চালান। আপনারা যে বাসটি পুড়িয়ে ফেলছেন আসলে একজন মানুষের স্বপ্ন পুড়িয়ে ফেলছেন। তার চলার আর পথ রইল না। জনগণের স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণের কথা বিবেচনা করে আগুনের পথ থেকে সরে আসুন। নয়তো থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ যে কাজ করছে আপনারা অবশ্যই গ্রেফতার হবেন। লুকিয়ে থাকলেও পার পাওয়া যাবে না। বাকি যারা আছেন তাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনব। যে গর্তেই ঢুকে থাকুক নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

লন্ডন থেকে কোনো নির্দেশনা আসছে কিনা জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা বলছে, আগুন লাগানোর পরে সিনিয়র নেতাদের ভিডিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে লন্ডন ও ঢাকার ঊর্ধ্বতন নেতাদের কথাও বলেছেন।

আগুন লাগানোর পরে গ্রেফতাররা অনুতপ্ত কিনা জনাতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন লাগানোর শেষ কোথায় তারাও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা ধরা পড়লে জামিনের জন্য তাদের বড় ভাইয়েরা কাজ করবে কিনা এ নিয়েও গ্রেফতাররা উদ্বিগ্ন।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, গতকাল সোমবার হরতাল ছিল। হরতালের মধ্যেও প্রচুর গাড়ি বের হয়েছিল, যানজট লেগেছিল। সাধারণ মানুষ আগুন, ককটেল পছন্দ করছে না। আমরা বারবার বলছি, নাশকতা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে পুলিশ ডিমোরালাইজড হবে না।

নতুন প্রকল্পে অর্থছাড় এবং ত্রাণ-অনুদান বিতরণ স্থগিতের নির্দেশ ইসির

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচনি এলাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং অর্থ অবমুক্তকরণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে নির্বাচনি এলাকায় নতুন ভিজিডি কার্ড ইস্যুসহ নতুন করে সব ধরনের অনুদান-ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও স্থগিত রাখতে বলেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিঠির একটি কপি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকায় অনুদান দেওয়া, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং অর্থ ছাড় না করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে ইসি। এছাড়া, ভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকায় ভিজিডি কার্ড ইস্যুসহ নতুন ধরনের কোনো প্রকার অনুদান-ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ (সংলগ্নী-২) এর বিধি ৩ক অনুযায়ী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অর্থাৎ নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দেওয়া বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবেন না। এ বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উল্লিখিত আচরণ বিধিমালার বিধি ১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় হবেন।

নতুন এ নির্দেশনায় ইসি জানায়, সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো প্রার্থী সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তি তথা অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ওয়াকি-টকি বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি মাশুল প্রদান করেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

তাছাড়া, কোনো প্রার্থী সরকারি অর্থে ক্রয়কার্য সংক্রান্ত কোনো দরপত্র আহ্বান, গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৩ অনুসারে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবে না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় অনুদান/ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বা উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা প্রদান করা নিতান্ত আবশ্যক হলে জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উল্লিখিত নির্দেশনার আলোকে একটি পরিপত্র জারি করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নতুন ভিজিডি কার্ড ইস্যুসহ নতুন ধরনের কোনো প্রকার অনুদান-ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে যেসব ত্রাণ কার্যক্রম আগে থেকে পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, অনুদান-ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত নতুন কার্যক্রম গ্রহণ আবশ্যক হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুল, খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।

সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। এতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি, পাকা ধান, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেদিনের ঝড়ে উড়ে যায় সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চরজুবলী গ্রামে অবস্থিত আবদুল মালেক উকিল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে তাদের ক্লাস চলছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আব্দুল মালেক উকিল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভিন আক্তার বলেন, শুক্রবার ঝড় হইসে। আমাদের ধানের জমি ও বাড়ি ঘরের ক্ষতি হইসে। সকালে গিয়ে দেখি স্কুলটাও নেই। ঝড়ে আমাদের স্কুল উড়ে গেছে। খোলা মাঠে ক্লাস করতেসি। সামনে আমাদের পরীক্ষা আছে।

ফাতেমা নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, সামনে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আমাদের সামনের দিন গুলো নিয়ে শঙ্কায় আছি। ভবন নির্মাণ না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। রোদ আর গরমে বসে থাকা যায় না। আমাদের একটা স্থায়ী ভবন চাই।

অভিভাবক ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পুরো স্কুলটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা। তাই এখন শিক্ষার্থীদেরকে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. পারভেজ বলেন, এই চরাঞ্চলের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আবদুল মালেক উকিলের নামে। আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ঝড়ে পুরো বিদ্যালয় উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে অনিরাপদ পাঠদান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতা চেয়েছি। যেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পাঠদানে অংশ নিতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ম্পিকার মরহুম মালেক উকিলের পুত্র ও সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন খেলন বলেন, আমি ঊর্ধ্বতনকে অনুরোধ করছি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ভবন নির্মাণ করার জন্য। সেই সাথে বিদ্যালয়টি জাতীয় করণেরও দাবী জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, শিক্ষা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি দেখা হবে।

চৌদ্দগ্রামে আকচর সমাজ কল্যাণ সংস্থার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কেক কাটা ও আলোচনা সভা সহ বর্ণাঢ্য আয়োজনে আকচর সমাজ কল্যাণ সংস্থার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে সংস্থার কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীরহাট প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: এনামুল হক।

বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ওয়াহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সংস্থার সিনিয়র সদস্য এম এস আই নীরব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ আকচর সমাজ কল্যাণ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা আগামী দিনে সংস্থার পথচলা বেগবান করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন। প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সংস্থার সদস্য রিফাত, আকাশ, তোহা, সৌরভ, ফাহিম, বাবু, সাইফুল প্রমুখ। পরে বিগত বছরের হিসাব নিকাশ প্রদানের মাধ্যমে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘটে।

নোয়াখালীতে হরতালের সমর্থনে লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ, ৫ পুলিশ আহত, আটক-১৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হরতালের সমর্থনে লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ করেছে যুবদল নেতা টিটু বাহিনীর অনুসারীরা। এ সময় তার বাহিনীর হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও ১০টি গাবের লাঠি উদ্ধার করে।

আটককৃতরা হলেন,মো.রিয়াজ (২৮) আরিফ হোসেন হৃদয় (১৯) জোবায়ের হোসেন (১৯) মো.রায়হান (১৯) ফিরোজ আলম (২০) মো.আরিফ (২০) মো. রুবেল ওরফে মানিক (২৬) ইমাম হোসেন (২৬) মো.আশিক ওরফে ওমর ফারুক (১৯) রাশেদ হোসেন (১৯) মো. রয়েল (২৫) মো. রাসেল (২০) আরমান হোসেন (১৯) মো.রমজান (১৯) মো. রাসেল (১৯) মো.আরিফ (১৯) নিহাদ (১৯) মো.দেলোয়ার হোসেন (২০) মো.ইউসুফ (২০)।

সোমবার (২০ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের, আলাউদ্দিন ও নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল সায়েদুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন। আহত পুলিশ সদস্যদের বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে দলটির আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিঠু চেয়ারম্যান দাবি করেন মো.আবু হানিফ টিটু (৪২) এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী। সে যুবদলের কোনো দায়িত্বে নেই। কিছু দিন আগে সে জেল থেকে বের হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা সোয়া ১১টার দিকে যুবদলের ব্যানারে টিটু বাহিনীর প্রধান টিটুর নেতৃত্বে তার অনুসারী ২০০-৩০০ জন অনুসারী হরতালের সমর্থনে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে মিছিল নিয়ে তারা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ৯১ রাউন্ড শর্টগানের রাবার কার্তুজ ফাঁকা গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অভিযানে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হরতালের ১৯ সমর্থককে আটক করে।

আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিঠু চেয়ারম্যান অভিযোগ করে আরও বলেন, টিটু চরে থাকে। এমনিতে আলাইয়ারপুর সন্ত্রাসী কবলিত এলাকা। বাহিরের এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যানে করে লোকজন এনে সে এখানে প্রোগ্রাম করে। স্থানীয় কোনো নেতাকর্মি তার সাথে ছিল না।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পিকেটারদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ১০টি গাবের লাঠি উদ্ধার। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। মঙ্গলবার সকালে ওই মামলায় আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আলোচিত রিনা হত্যার ৭২ ঘন্টা ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঘাতক হাবিবুর রহমান গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

শাহরাস্তির আলোচিত রিনা আক্তার (২৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।

২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে প্রেস ব্রিফিং কালে এ এস পি (কচুয়া) সার্কেল রিজওয়ান সাঈদ জিকু জানান, আলোচিত রিনা হত্যার ৭২ ঘন্টা ও মামলার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ঘাতক হাবিবুর রহমান কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।

তাকে উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রাম থেকে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো সাইফুল ইসলাম সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে মামলার প্রধান আসামি রিনার স্বামী হাবিবুর রহমান কে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক হাবিবুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করেছে। অপর ৪ আসামিকে ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

প্রেস ব্রিফিং কালে, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো: খায়রুল আলম উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, টামটা উত্তর ইউনিয়নের সুরসই কাজী বাড়ীতে স্বামী হাবিবুর রহমান( ৪৮) নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তার (২৫)কে। গত ১৭ই নভেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টায় সুরসই কাজী বাড়ীতে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

শাহরাস্তি থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানায়, ২ মাস আগে টামটা উত্তর ইউনিয়নের সুরসই কাজী বাড়ীর হাবিবুর রহমান ( ৪৮) দ্বিতীয় বিয়ে করেন টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের টামটা কাজী বাড়ীর বিল্লাল হোসেনের কন্যা রিনা আক্তার (২৫) সাথে। বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বিরোধ চলে আসছিল।

রিনা আক্তার জড়িয়ে পড়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটকে। স্বামী হাবিবুর রহমান প্রথম স্ত্রীর দেয়া মামলায় গ্রেফতার হলে, গত ১৭ ই অক্টোবর স্ত্রী রিনা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে উধাও হয়ে ঢাকা চলে যান। স্ত্রী রিনা আক্তার ১ মাস পর গত ১৭ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর ২ টায় স্বামীর বাড়ি সুরসই কাজী বাড়ীতে আসে। এ সময় স্বামী হাবিবুর রহমান ও স্ত্রী রিনা আক্তার সাথে বাক বিতন্ডা ও তুমুল ঝগড়া সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বামী হাবিবুর রহমান ছুরি নিয়ে স্ত্রী রিনা আক্তার কে আগাত করতে চাইলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

রিনা আক্তার পাশ্ববর্তী তার দেবর প্রবাসী রেদোয়ান ঘরে আশ্রয় নিতে গেলে, হাবিবুর রহমান দৌড়ে সেই ঘরে গিয়ে তাকে ধরে ফেলে, ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। প্রবাসী রেদোয়ান স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩০) জানায়, ২ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ, পরকীয়া ধরা পড়ে রিনার।

এ সময় টিকটক ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, প্রথম স্ত্রীর মামলায় বাসুর হাবিবুর রহমান গ্রেফতার হলে, সে সুযোগে রিনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। একমাস পর বাড়ি ফেরায় দুজনের ঝগড়ার একপর্যায়ে বাসুর হাবিবুর রহমান তাকে চুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়, ঘটনাস্থলেই রিনা মারা যায়। এ ব্যাপারে নিহত রিনার বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় গত ১৮ ই নভেম্বর ৫ জনকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং ০৬, তাং ১৮/ ১১/২০২৩ ইং।