All posts by jitu

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ হেল্প সোসাইটি ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফখরুদ্দীন ইমন:

আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ হেল্প সোসাইটি এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হোটেল ডলি রিসোর্টে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাজী এনাম ফাউন্ডেশন (ইউএসএ) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মানবিক যোদ্ধা কাজী মোহাম্মদ এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো: মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন শাহেদ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম আজাদ (রাসেল), জায়েদা রহমান স্মৃতি পাঠাগার এর প্রধান উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজী, গোমতি সাইন এন্ড প্রিন্টিং ও আদিবা কর্পোরেশন এর স্বত্ত্বাধিকারী মো: এমরান হোসেন বাপ্পি, চৌদ্দগ্রাম পৌর মিতালী ক্লাব এর সেক্রেটারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো: আবু মূসা, চিওড়া ব্লাড ডোনেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হোসেন নয়ন, চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: গিয়াস উদ্দিন আবু, পাঁচরা জনকল্যাণ সংস্থা এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নূর মোহাম্মদ সুমন, আমরা আমরাইতো সমাজসেবামূলক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আফতাবুল ইসলাম, স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন হাসান।

চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ হেল্প সোসাইটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ হৃদয় এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও সাধারণ সম্পাদক মো: ওমর ফারুক মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেল্প সোসাইটির ব্লাড সম্পাদক এম জে হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ রায়হান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হক নোমান, দফতর সম্পাদক আবু বকর সিদ্দীক, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিয়াম, প্রোগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক মো: উদয় হোসাইন, সুলতানা নূর শ্রাবণ, অর্থ সম্পাদক আনিকা আক্তার সহ হেল্প সোসাইটির সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে মানবিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় হেল্প সোসাইটির পক্ষ থেকে আগত অতিথিদেরকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতেও সকলের সহযোগিতা কামনা করে সংগঠনের পরিচালক, সদস্য সহ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এমন একটি সুন্দর আয়োজন সম্ভব হয়েছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান হেল্প সোসাইটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ হৃদয়।

ঢাকায় সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে সাংবাদিকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবে এ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল জলিল রিপন।

চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার রানার সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান মজুমদার, আবু বকর সুজন, কার্যনিবাহী সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিনু, সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, এম এ আলম, কাজী সেলিম, ঈমাম হোসেন ভূঁইয়া শরীফ, আবুল কাশেম মন্ডল ও আবদুর রউফ, সবুজ খন্দকার প্রমুখ। প্রতিবাদ সভা শেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর নব নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন:

ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর বাৎসরিক কনফারেন্স ও নব নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত ২৭শে অক্টোবর’২০২৩ এ এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় দোহার পাঁচ তারকা হোটেল দি ক্রাউন প্লাজাতে বিজনেস পার্কে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত রাস্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সুদূর ঢাকা থেকে আগত বিশেষ অতিথি আই ডি ই বি সেন্ট্রাল কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী এ কে এম আব্দুল হামিদ, হোস্ট কান্ট্রির প্রতিনিধি কাতারের কমিউনিটি পুলিশিং ডিপার্ট্মেন্টের হেড অফ এডমিনিস্ট্রিভ অফিসার মেজর তালাল মেনাস্সার আল মাধুইরী।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর নবনির্বাচিত সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মুকিত,

মন্সে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি-১ প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন, সহ-সভাপতি-২ প্রকৌশলী আমানত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী হেদায়েত উল্লাহ কবির, উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকৌশলী খন্দকার ওহিদূল আলম ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার আবু রায়হান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকৌশলী আমানত হোসেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী হাসমত আলী সাহেব এর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করা হয়, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন অনুষ্ঠানের আহবায়ক হিসেবে স্বাগত বক্তব্য এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ কবির শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, এরপর পর্যায়ক্রমে নবগঠিত সন্মানিত উপদেষ্টা মন্ডলীগনদের পরিচয় করিয়ে দেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী এম আবদুল মুকিত। নতুন কমিটির সকল সদস্য কর্মকর্তাগনকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকৌশলী খন্দকার ওহিদূল আলম।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী কমিটির সদস্যগন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী খোরশেদ আহমেদ, পাবলিক রিলেশন সম্পাদক প্রকৌশলী নুরুল আলম, সহ-পাবলিক রিলেশন সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী রমজান আলী, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ রনি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রকৌশলী জোবায়ের সুলতান, প্রকৌশলী হাসান চৌধুরী, অর্থ সন্পাদক প্রকৌশলী আমরান হোসেন, প্রকৌশলী আকবর আলী, প্রকৌশলী কাজী রমজান আলী, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও সহ প্রকৌশলী পিন্টু মিয়া এবং প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন। সন্মানিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার ওহিদূল আলম, উপদেষ্টা প্রকৌশলী জহুরুল হক, উপদেষ্টা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা প্রকৌশলী আবদুল বাতেন মিয়া, উপদেষ্টা প্রকৌশলী শাহজাহান খান ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও উপদোষ্টা জনাব প্রকৌশলী জাহেদূল ইসলাম ।

নতুন কমিটির পক্ষে সভাপতি, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বৃন্দকে ফুলের তোডা ও বিশেষ সন্মাননা ক্রেষ্ট উপহার দেয়া হয়।

এরাবিয়ান একচেন্জের সৌজন্যে বিশাল কেক কেটে অনুষ্ঠানের সুভ সুচনা করা হয়। অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে মুদ্রিত বিশেষ স্মরনিকা দী হুইল এর মোডক উন্মোচন করেন মঞ্চে উপবিষ্ট সকল অতিথি ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইনফরমেশন ও রিসার্চ সেক্রেটারি প্রকৌশলী শাহজালাল।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকৌশলী খন্দকার ওহিদূল আলম ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী খন্দকার আবু রায়হান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথি প্রকৌশলী এ কে এম আবদুল হামিদ আই ডি ই বি ঢাকা বাংলাদেশ এর সকল কর্যক্রম ও আগামীর কর্ম পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরন তুলে ধরেন এবং পরিশেষে আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর সভাপতি সহ কর্মকর্তাবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এম ও আই প্রতিনিধি মেজর তালাল মেনাস্সার আল মাধুইরী উনার সংখিপ্ত বক্তব্যে নতুন কমিটিকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। প্রধান অতিথি কাতার নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহোদয় নবনির্বাচিত কর্মকর্তাবৃন্দগনকে অভিনন্দন জানিয়ে দূতাবাসের সাথে আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টারকে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান ও সকল কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মুকিত উনার সমাপনি বক্তব্যে কাতারে আই ডি ই বি কাতার চ্যাপ্টার এর কর্মসূচি ও সদস্যবৃন্দের নানাবিধ সমস্যা, সম্ভাবনা ও সফলতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত সকলকে অংশগ্রহনের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং পরিশেষে একটি ফান একটিভিটি পরিচালনা করে সবাইকে একটি সারপ্রাইজ গিফট দিয়ে ডিনারের অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে পরিসমাপ্তি করেন। পুরো অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, বাংলাদেশ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আজাদ, এরাবিয়ান একচেন্জের সি ই ও নুরুল কবির চৌধুরী , এন আর বি বি এর সভাপতি শাহজাহান সাজু এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা মাসহুদূল কবির, মাহদি হাসান ও মোবাস্সেরা ম্যাডাম সহ অনেক সদস্য পরিবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রদূত মনোযোগ সহকারে সকলের সঙ্গে হৃদ্বতাপুর্ন পরিবেশে কথা বলেন এবং উপদেষ্টা ও অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধ এর প্রেক্ষিতে সহসাই প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে কাতার সরকারের বিভিন্ন মহলে আলোচনা করবেন বলে আস্বস্ত করেছেন।

পরিশেষে গ্রুপ ফটোসেশনের মাধ্যমে সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় জানান।

নোয়াখালীতে ২৭ জেলেকে অর্থদন্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ করায় ২৭ জেলে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১লক্ষ ৩৫হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

দন্ডপ্রাপ্ত জেলেরা ভোলার লাল মোহন এবং চরফ্যাশনের বাসিন্দা।

রোববার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া আক্তার লাকী ও উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম সরওয়ার যৌথ ভাবে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এর আগে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণে তিন চর এলাকার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজু চৌধুরী ও নিঝুমদ্বীপ নৌ-পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ২৭ জেলে আটক করা হয়। এ সময় ২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ২শ’ কেজি মাছ ও ২টি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২৭ জেলেকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সহযোগিতায় আটক করে নৌ-পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক জেলেকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ৫হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। দুই জেলে নাবালক হওয়ায় তাদের দন্ড দেয়া হয়নি। জাল গুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। জব্দকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় পাঁচটি এতিম খানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে জাল গুলো দিয়ে দেওয়া হবে।

কবিতা: মৃত্যুর অবসান 💔

মাইসারা সুলতানা মৈত্রী:

বাতাসে পোড়ার গন্ধ।
মাটিতে লাশের স্পর্শ।
আছে কি মৃত্যু অবসানধারী
যে জন চলে যায়,
ফিরে কি তারে পাই,
কৃষ্ণ- দ্বাদশীর জোছনা যখন মরিয়া,
নদীর ওপারে,
ফিরে কি পাবে তারে!,
বেহুলা ও এদিকে গাঙুরের জলে ভেলা নিয়ে ভাসে,
মৃত্যুজয়ের গতিবেগে।
যে জন চলে যায়
ফিরে কি তারে পাই।
মৃত্যু এত গর্বিত হইচ না,
অথচ কেউ একজন বলেছিল! আমায়,
মৃত্যুপুরীতে যেতে চাও
যাও, যাও তুমি তমসাকে স্বাগতম জানাও।
বেচারা মৃত্যুর এত অহংকার!
পারলে পরাস্ত করে দেখা তো,
কীর্তিমান দের নাম ঠিকানাকে।
বেচারা মৃত্যু পারবে না কাউকে মারতে।
যখন মৃত্যু তোর নিজের অবসান হবে তখন,
মৃত্যুর এত অহংকার কিসের?
শান্তি, অশান্তি বিশ্রামের খেলা,
তা তো তোর এই বৈ প্রতিরূপ এছাড়া কিছুই নয়।
যারা চলে গেছে তারা তো তোর সাথেই পড়ে থাকে।
অস্থিতগুলো ঠিক রেখে শুধু আত্মাগুলোকে মুক্তি দেয়,
মৃত্যুর এত অহংকার কিসের।
মৃত্যু তুই তো,
নাম মাএ দৈব শক্তি।
রাজা উন্মত্ত জনের ক্রীতদাস।
তোর এত প্রতিচ্ছবি কিসের।
পারবি কি তুই,
সবকিছু সর্বশান্ত করে,
যুম কে নিরযুম করে দিতে?
আফিম এর জাদুটোনা এনে দিতে পারে অজস্র যুম।
মৃত্যু তুই তো তার থেকেও অধম!
মৃত্যু তোর এত অহংকার কিসের?
মুহূর্তকালের যুম শেষে ও
জেগে থাকবে সবাই অন্তকাল এ।
মৃত্যু ও বেঁচে রইবি না, একদিন।
তোর ও অবসান ঘটবে।

 

 

নোয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পায়ের রগ কাটল যুবলীগ কর্মী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফখরুল ইসলাম (৩০) নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার পায়ের রগ কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মাসুম ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের রইছ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফখরুল ইসলাম গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আফতাব আহমেদের ছেলে এবং একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়রা তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) শাহজাহান সাজু রবিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল স্থানীয় রইছ মার্কেটের একটি চা দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুমের নেতৃত্বে ৫-৬ জন মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে এসে মার্কেটে হামলা চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুলকে গুলি করে ও কুপিয়ে জখম করে। পরে হত্যা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গেলে ফাকা গুলি ছুড়ে এবং আশপাশের কয়েকজনকেও পিটিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

মেম্বার সাজু জানান, গত ১৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দিনগত রাতে মধুপুরের লেদু মেম্বার বাড়ির আমির হোসেনের রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে দূর্বৃত্তরা। এ নিয়ে মামলা দায়েরের পর স্থানীয় মাসুম বাহিনীর সদস্য শাকিলকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে যুবলীগ কর্মী মাসুম ও ইউসুফকেও আসামি করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম ওই মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর আক্রমণ করেন মাসুম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

তিনি আরও জানান মাসুম ও ইউছুফ বাহিনীর অত্যাচারের বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপাল পুর ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ। তারা সর্বত্র চাঁদাবাজি মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে যাচ্ছে। রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের কে দ্রুত আইনেন আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যুবলীগ কর্মী মাসুমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার পায়ের রগ কাটার বিষয়টি বিষয়টি কয়েক দিন আগে ঘটেছে বলে আমি মৌখিক ভাবে শুনেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশব্যাপী তিনদিনের সড়ক-রেল ও নৌপথ অবরোধের ডাক জামায়াতের

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ৩০ অক্টোবর এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার পরিবর্তে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসার পথে পথে বাধা দেয়। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে এবং বাস, লঞ্চ, ট্রেন থেকে নামার পর গণহারে গ্রেফতার করে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারগ্যাস, গুলি ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। পুলিশের টিয়ারগ্যাস এবং গুলির আঘাতে সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৪ জন নিহত এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মহাসমাবেশ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, সরকারের পদত্যাগ, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেফতার সব রাজবন্দি, আলেম-ওলামার মুক্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতিরোধ, ২৮ অক্টোবর বিরোধী দলের মহাসমাবেশে হামলা, সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের হত্যা এবং সরকারের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঘোষিত অবরোধের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন চাইলে বিএনপি এমন সন্ত্রাস করত না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপির লক্ষ্য নির্বাচনকে বানচাল করা, অংশ নেওয়া নয়। বিএনপির অবরোধ থেকে দেশের স্থাপনা রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহরায় থাকার নির্দেশও দেন তিনি।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর, সহযোগী সংগঠন ও নির্বাচিত দলীয় জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থার নিরিখে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তার দল আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় যাবে।

২৮ অক্টোবর শত উসকানি সত্ত্বেও শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করায় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ২৮ অক্টোবর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিক্টরি মনোভাব দেখেছি, এটাই আমাদের বিজয়। এটাই বিরোধীদের ব্যর্থ আন্দোলনের বিরুদ্ধে নির্বাচনমুখী আমাদের বিজয়ের অভিযাত্রা।

এ সময় দলের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমসহ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা।

ইসলাম শান্তির ধর্ম, সহিংসতা পছন্দ করে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিশৃঙ্খলা, সহিংসতার পথ পরিহার করে সবাইকে শান্তির ধর্ম ইসলামের দিকে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা পছন্দ করে না ইসলাম। নিরীহ মানুষকে যেন হত্যা না করা হয়।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে জাতীয় ইমাম সম্মেলনে এ নির্দেশনা দেন তিনি। এসময় দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকে সম্পৃক্ত না হয়, সেদিকে ইমামদের দৃষ্টি রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, সেটা আমরা বিশ্বাস করি। কোনো ধরনের সন্ত্রাস যেন না হয়। তৃণমূল পর্যায়ে যেন শান্তি থাকে, সেটাই চাই।

তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি, আমরা শান্তি চাই। অশান্তি বা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের ভয়াবহতা আমরা জানি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সহনশীল ধর্ম। এটা আমাদের নবী শিখিয়েছেন। তার বিদায় হজের বাণী আমরা অনুসরণ করি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকে সম্পৃক্ত না হয়, আপনারা (ইমাম) সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মের লোকও আছে। তারাও যেন নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে পালন করতে পারে। কেউ যদি অন্যায় করে, আল্লাহ বিচার করবেন। আমরা বলতে পারি না, কে মুসলমান, কে মুসলমান না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আপনাদের দোয়া চাই। সারা বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ চলছে ফিলিস্তিনে তাদের ওপর যে আক্রমণ, ছোট্ট শিশুদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে আমরা আর তা চাই না। ফিলিস্তিনে বাংলাদেশ থেকে সহায়তা পাঠিয়েছি। পৃথিবীর সব রাষ্ট্র প্রধানদের আমি অনুরোধ করেছি যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের হাজিরা যেন কষ্ট না পায়। হজের ইমিগ্রেশন সহজ করতে ব্যবস্থা নিয়েছি। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিয়েছি। ৩৫ হাজার মসজিদে পাঠাগার করে দিয়েছি। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছি। ওলামারা বিপদে পড়লে সহযোগিতা নিতে পারে। যাকাত তহবিল প্রণয়ন আইন করেছি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী আজ (সোমবার) সকালে সৌদি আরবের মদিনার পবিত্র মসজিদ-ই-নববীর ইমাম শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বুয়াইজানের সঙ্গে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ‘৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন এবং জাতীয় ইমাম সম্মেলন ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৩’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানস্থলে তিনটি প্যান্ডেল তৈরি করে সারা দেশ থেকে আগত ইমামদের সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এবং পবিত্র মসজিদ-ই-নববির ইমাম উভয়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত ইমামদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

হলি আর্টিজান মামলা: ৭ জনের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

হলি আর্টিজান মামলা: ৭ জনের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসা‌মিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ।

রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া কারাগারেই থাকবেন।

এর আগে বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মুল কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর আলোচিত এ মামলায় সাতজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

এ ঘটনার মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান একজনকে খালাস দিয়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেন তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে।

সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।

দে‌শের ই‌তিহা‌সে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।

হামলার পর জিম্মি অবস্থার অবসানে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছিলেন পাঁচ জঙ্গি। তারা হলেন- মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন নব্য জেএমবির আরও ৮ সদস্য। তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।