Tag Archives: কুমিল্লার গোমতীর মাটি এখন সিন্ডিকেটদের কবলে

কুমিল্লার গোমতীর মাটি এখন সিন্ডিকেটদের কবলে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার খরস্রোতা গোমতী নদী এখন মাটিখেকো সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে মৃতপ্রায়। এ নদীর মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ওই সিন্ডিকেটটিকে।

গত ১ জানুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবিদ্বার উপজেলায় গোমতী নদীর অর্ধশত স্পটে চলছে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। নম্বরবিহীন ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব মাটি। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচলের কারণে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে নির্মিত ব্রিজ ও পিলার পড়ছে হুমকির মুখে।

এজন্য নদীপাড়ের বাসিন্দারা দুষছেন প্রশাসনকে। তারা বলছেন, প্রশাসনের সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নদীর দুই পাড়ে ড্রেজার ও ভেকু লাগিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

উপজেলার চরবাকর, লক্ষ্মীপুর, কালিকাপুর, বড় আলমপুর, শিবনগরসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গোমতী নদীর শতাধিক পয়েন্ট থেকে প্রায় ৫০০শ নম্বরবিহীন ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করছে। মাটি কাটায় নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক জানান, গোমতীর মাটি কাটার একাধিক ঘাট রয়েছে। এগুলো একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে।

দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ে বালু উত্তোলনসহ মাটি কেটে বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা। তাই অনেক সময় আমাদের পক্ষে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে ভারী যানবাহন দিয়ে সেগুলো পরিবহন করায় বাঁধ ও পাকা সড়ক নষ্ট হচ্ছে।

নদী পাড় এলাকার ভুক্তভোগী শাহ আলম, আবদুল করিম, চরের কৃষক আবুল মিয়া ও ময়নাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে একটি চক্র গোমতী নদীর বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন ও অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। ট্রাক্টরের বালুতে বাড়িঘর অন্ধকার হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চরবাকরের মো. বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি ৪টি ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করে থাকেন। ট্রাক্টর প্রতি মাটির দাম নেওয়া হয় ৬৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। অভিযুক্ত আরেকজন শাজারুল ইসলাম। তিনি জানান, কয়েকটি ঘাট থেকে তারা মাটি ক্রয় করে থাকেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতি বছরই মাটি ও বালুদস্যুদের কারণে গোমতী নদী নাব্য হারিয়ে দিনে দিনে সরু খালে পরিণত হচ্ছে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সভায় নির্দেশ দিয়েছেন, কোথাও নদী থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। দ্রুত এসব বন্ধের চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ সমস্যায় পুরো কুমিল্লাবাসীর দায় রয়েছে। সবাই এগিয়ে এলে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।

সূত্র: আমাদের সময়।