Tag Archives: নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগের অর্জুনতলা এলাকায় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও কাবিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামকে (৫৩) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (৮অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জহিরুল ইসলাম একটি সালিসের বিষয়ে কথা বলতে শনিবার বিকেলে অর্জুনতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহরিয়ার আলমগীর আলোর বাড়িতে যান। বিকেল চারটার দিকে সেখান থেকে বিদায় নেন। বিদায় নিয়ে অর্জুনতলা চৌরাস্তার কাছাকাছি গেলে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে এবং একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে কাবিলপুর ইউনিয়নের দিলদার মার্কেট এলাকায় নিয়ে অচেতন অবস্থায় খালের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রিগান জানান, হামলাকারীরা জহিরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পাশাপাশি নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। রিপন ও রায়হান নামের দুইজনের নাম তাকে বলেছেন। তিনি বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জহিরুল ইসলামের ওপর হামলার কথা তিনি শুনেছেন। হামলার শিকার জহিরের পারিবারিক কিছু ঝামেলা রয়েছে। তবে কেউ এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ করেনি।

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নোয়াখালীর সদর উপজেলা বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ মোল্লাকে (৫৫) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের তালতলায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত হারুনুর রশীদ মোল্লা উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহেদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়রা দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারপর বলা যাবে এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত কিনা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহত হারুন মোল্লা আন্ডারচর ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও আ. লীগ নেতা হোরন মেম্বার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। হোরন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের পর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং কিছুদিন আগে জামিনে মুক্ত হন।’

‘নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ বলেন ওসি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আকরামুল হাসান বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

নিহতের ভাই আমিনুল হক বলেন, ‘কিছুদিন আগে হারুনের ছেলে সজীবের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে ১৫-২০ একদল দুর্বৃত্ত আজ সন্ধ্যার পর থেকে সজীবকে খুঁজতে থাকে। খবর পেয়ে সজীবের বাবা হারুনুর রশীদ মোল্লা ছেলেকে বাঁচাতে মোটরসাইকেল নিয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে চৌকিদার বাজারের দিকে রওনা হন। পথে তালতলায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে এবং এলোপাতাড়ি কোপায়। এসময় তার সঙ্গে থাকা ভাতিজা রমিজ উদ্দিনকেও (২৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আরেক ভাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে রক্ষা পায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হারুনুর রশীদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ভাতিজা রমিজ নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিহত হারুন মোল্লা আন্ডারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং গত দুটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘হারুনুর রশিদ মোল্লাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’