,

গত পাঁচ বছরে বিএসএফের হাতে নিহত ১৫১ বাংলাদেশি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
April 22, 2025
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত পাঁচ বছরে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) এর হাতে কমপক্ষে ১৫১ বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু রংপুর বিভাগেই নিহত হয়েছেন ৬১ জন। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে লালমনিরহাটে বিএসএফের হাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই জেলায় গত পাঁচ বছরে ১৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। সর্বশেষ, গত ১৭ এপ্রিল লালমনিরহাটের সিংগীমারী সীমান্তে ঘাস কাটতে গেলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হাসিবুল নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

হাসিবুলের মা শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “ওরা রাইফেলের বাঁট দিয়ে আমার ছেলের বুক ক্ষতবিক্ষত করেছে। তারপর তাকে আটার বস্তার মতো ফেলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।”

২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে হত্যার পর সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু ১৩ বছর পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ফেলানীর পরিবার আজও ন্যায়বিচার পায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বাংলাদেশিদের নির্বিচার হত্যা বন্ধ করতে দুই দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ত্বহা হুসাইন বলেন, “সীমান্ত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কেউ সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, গুলি করে হত্যা করার কোনো অধিকার তাদের নেই।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “সীমান্তের জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কেউ প্রবেশ না করে, সেই বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে আমরা নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছি।”

তবে, সীমান্তে বাংলাদেশিদের রক্তঝরা এই পরিসংখ্যান প্রশ্ন তুলছে—কোনো উন্নতি কি আদৌ সম্ভব? নাকি আবারও ফেলানী-হাসিবুলের মতো অসহায় মানুষের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না?

সূত্র: ইত্তেফাক