,

কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, গঠিত ৩টি তদন্ত কমিটি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 22, 2026
news-image

হাবিবুর রহমান মুন্না।। 

কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টুর স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে—কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা, কেউবা স্বামী-সন্তান।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। রোববার দুপুরে স্বজনরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মরদেহ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করেন। হিমঘর এলাকা জুড়ে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।

জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় ট্রেনটির সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনটি সেটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন—তাজুল ইসলাম (৬৭), জুহাদ বিশ্বাস (২৪), সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), বাবুল চৌধুরী (৫৫), ফচিয়ার রহমান (২৬), সোহেল রানা (২৫), নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং সাঈদা (৯)।

নিহত জুহাদ বিশ্বাসের স্ত্রী রুমি আক্তার হিমঘরের সামনে শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,

“ঈদের আগে মেয়েকে দেখতে আসতে পারেনি। ঈদের দিন রাতে মেয়েকে দেখতে যাচ্ছিলো। সে আর ফিরলো না। এখন আমার আর আমার মেয়ের কেউ রইলো না।”

অন্যদিকে, নিহত সাঈদার খালা সাহিদা সুলতানা বলেন,“সাঈদা মারা গেছে। তার বাবা-মাও গুরুতর আহত। তারা বাঁচবে কি না জানি না।”

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান জানান, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসন একটি—মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, গেটম্যানদের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।