,

জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা ব্যবসায়ীর সম্পত্তি দখল, পরিবারে আতঙ্ক

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 15, 2026
news-image

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুরী মৌজায় অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হাজী মোহাম্মদ মুরাদ মিয়ার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল আউয়াল বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তার পরিবারের দাবী, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের চাপ , হুমকি, হামলা নির্যাতনের পর অবশেষে তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আউয়াল ২০২২ সালের ২২শে নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরী মৌজায় দুই শতক বাণিজ্যিক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক হাজী মোহাম্মদ মুরাদ মিয়া তার নিজস্ব বাণিজ্যিক প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য বহুবার বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে জমিটি বিক্রির জন্য চাপ দেন, কিন্তু আব্দুল আউয়াল জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হুমকি – হামলা অপহরণ নির্যাতন ও প্রাণ নাশের শিকার হন।
পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার কারণে মোঃ আব্দুল আউয়াল বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে দেশত্যাগের পরও বিরোধের অবসান হয়নি সম্প্রতি তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জমিটি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী আফরোজা আক্তার মুঠোফোনে জানান, আমার স্বামী দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও আমাদের উপর চাপ ও ভয়ভীতি অব্যাহত ছিল। এখন তার কেনা জমিটিও জোর করে দখল করা হয়েছে । আমি সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জমি দখলের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মোহাম্মদ মুরাদ মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি এবং জমি দখলের অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের আরো দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে এলাকায় তারা প্রভাব বজায় রেখেছেন। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমি দখলের ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আইনি প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা কার্যকর কোন প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে হাজী মোহাম্মদ মুরাদ মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।