,

বুড়িচংয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
February 25, 2018
news-image

আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বুড়িচং।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মিথিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার (৮) নানার বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে এবং অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের আগানগর গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার।

তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব অনটন থাকায় স্থানীয় স্কুলে বিনামূল্যে লেখাপড়ার কোনো সুবিধা না পাওয়াতে একই ইউনিয়নের মিথিলাপুর তার নানার বাড়িতে রেখে চলতি বছরে মিথিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করায়। ভর্তি করার পর নিয়মিত স্কুলে আসা যাওয়া এবং ক্লাস করতেন। বৃহস্পতিবার ( ২২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে তার মামা মাহবুব আলমের স্ত্রী সাবিনা আক্তারের সাথে বাড়ির উঠানে আড্ডা থেকে উঠে চলে যায়। আড্ডার লোকজনেরা কিছুক্ষণ পর তাকে না দেখে বাড়ির আশে পাশে খোজাখুজি শুরু করে। এক পর্যায়ে বাড়ির পশ্চিম ভিটায় টিন সেট ঘরের ভেতর তাকে গলায় ওড়না দিয়ে প্যাচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় আড্ডার লোকজনেরা। এসময় সকলের মাঝে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকের মুখে মুখে এবং গুঞ্জনে শোনা যায় কেউ না কেউ তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এতে বুঝা যায় বাচ্চাটির মৃত্যুর পেছনে রহস্যজনক কোনো ঘটনা রয়েছে। ওই দিন সকালে তার নানী রোজিনা বেগম তাকে বাড়িতে রেখে পীরের বাড়িতে চলে যায়। মামাদের ভিন্ন সংসার থাকায় সে নানীর সাথেই থাকতেন। বাড়িতে থাকতেন তার মামা মাহবুবের স্ত্রী সাবিনা আক্তার। দুই মামা পুলিশের চাকুরী করে আর এক মামা বিদেশ থাকে। তাই তাদের কর্মস্থলে তাদের তারা ছিলেন এবং তার মামা মাহবুব ওই দিন খাড়াতাইয়া এক দোকানে ছিল। পরবর্তীতে বাড়িতে এসে পুলিশকে খবর দিলে বুড়িচং থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ থানায় নিয়ে আসে। লাশটিকে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এতে করে গলায় ফাঁস দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মৃত্যু হওয়ার ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মুখে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন শুনতে পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলে উঠছে এই মৃত্যুর রহস্য তার মামী সাবিনা আক্তার ই বলতে পারবে। বাড়িতে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার সময় সাংবাদিকরা মামীর সাথে কথা বলার সময় স্থানীয় মোবারক হোসেন এবং অন্যান্যরা গরীব বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। রহস্য এর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা থানার পুলিশ এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছে চলে যেতে বলেন। এই মৃত্যুর বিষয়ে নাকি থানার পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান বলতে পারবে বলে মোবারক হোসেন মন্তব্য করেন। এবং ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা একাধিক প্রশ্ন করলে আশে পাশের লোকজনেরা আড়ালে চলে যায়। এ ব্যাপারে কিছু বলতে নারাজ। মৃত সামিয়া আক্তারের নানার নাম মৃত ধুলু মিয়া। এ বিষয়ে সামিয়ার বাবা নাছির উদ্দিনের কাকার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, মেয়ে তার মামার বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে লেখাপড়া করেছে এবং তার মৃত্যুর কোনো রহস্য থাকলে আমরা বেশি বাড়তে চাই না। এটা স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এবং হাজী বিল্লাল হোসেন ঠিকাদার শেষ করে দিবেন। কারণ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আত্মীয়তা বন্ধন ভিন্ন করতে চাই না। এ ব্যাপারে হাজী বিল্লাল হোসেন ঠিকাদারের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রির্পোটের ভিত্তিতে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়ে সালিশ করবো। স্থানীয় কাশেম মেম্বার বলেন, হত্যা না আত্মহত্যা আমি বলতে পারবো না। কারণ আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার দে জানান, আমাদেরকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মৃত্যুর ঘটনা জানালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসি এবং একটি ছোরত হাল রিপোর্ট তৈরী করি এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। ঐ রিপোর্ট আসার পূর্ব পর্যন্ত হত্যা না আত্মহত্যা আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছিনা। তবে ময়নাতদন্তের রির্পোটের ভিত্তিতে আমরা আইননানুগ ব্যাবস্থা নেবো।