,

দাউদকান্দিতে পিএসসি গণিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২ শিক্ষকের কারাদন্ড

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
November 26, 2017
news-image

 

জাকির হোসেন হাজারি,দাউদকান্দিঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পাবলিক পরীক্ষা পিএসসি গনিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পৌরসভা ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোক্তার হোসেন (৪৫) ও এবিসি কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক নাজির হোসেনকে (৪০) ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

রোববার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে এর পিএসসি গণিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় দুই শিক্ষককে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আল-আমিন ।

উপজেলা নির্বাহী অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টায় এক অভিভাবক গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন তার ছেলের নিকট পাওয়ার পর বিষয়টি ওই অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল-আমিনকে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই অভিভাবকে তার বাসায় প্রশ্নের কপিসহ নিয়ে আসতে বলেন। ওই অভিভাবক প্রশ্নের কপিসহ নিয়ে আসলে তিনি ওই এলাকায় কোন শিক্ষক আছেন কিনা তাদেরকে সনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পুলিশের সহযোগিতায় পৌরসভা সদর থেকে ঈদগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোক্তার হোসেনকে সনাক্ত করে সকালে তাকে আটক করা হয়।

পরে আজ গনিত পরীক্ষা শুরু হলে সরকার সরবরাহকৃত প্রশ্নের সাথে শিক্ষকের কপি মিলানো হয়। উভয় প্রশ্ন ৯০ ভাগ মিল থাকায় প্রশ্ন কোথায় পাওয়া গেছে মুক্তার হোসেনকে জিজ্ঞাসা করলে সে এবিসি কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক নাজির হোসেন এর নাম বলে। পরে নাজির হোসেনকেও আটক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মডেল থানা ওসি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনা স্বীকার করায় ভ্রাম্যমান আদালত তাদেরকে ১৫দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি আমাকে জানানোর পর প্রশ্ন পত্র ফাঁসের জড়িতদের ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করি এবং এর সাথে জড়িত অন্যদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন জানান, এক অভিভাবক বিষয়টি আমাকে জানানোর পর প্রশ্নের কপিটি আমি সংগ্রহ করি এবং কারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য মডেল থানার ওসিকে অনুরোধ করি। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগেই প্রথমে মোক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কথা মত নাজির হোসেনকে আটক করা হয়।