All posts by jitu

প্রাইভেটকার ব্যাক দিতে ট্রেনের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাইভেটকার ব্যাক দিতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম কাজী আবদুল কুদ্দুস (৬৬)। তিনি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার নিলসাই গ্রামের কাজী মিন্নাত আলীর ছেলে এবং পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছিলেন।

সোমবার (২১ আগস্ট) সকালের দিকে কুমিল্লার নিলসাই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার চৌমুহনী টু বজরা রেলপথের গণিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার গণিপুর এলাকার চৌমুহনী টু বজরা রেলপথ সড়ক সংলগ্ন গণিপুর এলাকায় নিজের বাসা ছিল নিহত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কুদ্দুসের । তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে সেখানে বসবাস করতেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে তিনি বাসা থেকে নিজে প্রাইভেটকার ব্যাক দিয়ে বের হচ্ছিলেন। তখন অসাবধানতাবশত প্রাইভেটকারটি গণিপুর এলাকার চৌমুহনী টু বজরা রেললাইনে উঠে যায়। এতে আটকা পড়ে প্রাইভেটকার। এ সময় ঢাকা স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

চৌমুহনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

কুবিতে কক্সবাজার স্টুডেন্ট’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ফরহাদ-বাবর

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার স্টুডেন্ট’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক ফরহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মহি উদ্দিন বাবর।

রবিবার (২০ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার স্টুডেন্ট’স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কমিটির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন করা হয়।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তানভীর আবরার,মোস্তফা সাদেক আরমান, উসমান জয় মানিক, আহমেদ মিনার, শাহাজাহান আল সাদাফ, নুরুল বশর, আব্বাস খাঁন,মোহাম্মদ আনোয়ার, আইয়ুব উদ্দিন, শাহজাহান মনির, আসাদ মোহাম্মদ আবু দারদা রুমি, খোরশেদ আলম,প্রেম সাগর দাশ, জাকিয়া ফেরদৌস টিনা, বেবিকা বড়ুয়া, সাদমান সাকিব,ওমর ফারুক মিঠু, নেজাম উদ্দিন, মাহফুজ রাব্বি, সালাউদ্দিন ও এস এম আশফাক উদ্দিন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আজিজুল হক মুন্না,হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল মোমেন,মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ ত্বহা, ইফতি সিরাজ, মোহাম্মদ ফাহাদ, আহমদ হোছাইন, তারজিনা আঁখি ও মোরশেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রফিক উদ্দিন, সায়েদ হাসান, মোহাম্মদ রাশেদ, ওসমানী রাকিব, জাহেদুল ইসলাম, শাহীন মোহাম্মদ লিখন, শবনম প্রিমা, মোশাররফ হোসাইন ও মোহাম্মদ শাকিল নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটিতে অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন প্রচার সম্পাদক আবু শামা, উপ-প্রচার সম্পাদক আল-মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক ইমরান হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মিরহাম রেজা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক আইরিন সুলতানা, আইন বিষয়ক সম্পাদক নূর বিন শাহী ঈশিকা, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আসমাউল হুসনা রৌশনি।

এছাড়াও কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে আছেন আরমান সিদ্দিকী, আনোয়ার জাহিদ, ফরহাদুল ইসলাম, জেমি কর, মামুন উদ্দিন ছোটন, মোহাম্মদ ইমরান, সাঈদ সাকিব, রাশেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আশেক, মোহাম্মদ আমিন, আজাদ হান্নান, নোমান উদ্দিন, সিয়াম, আবিদ আনোয়ার ও সাহেদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, উক্ত কমিটি আগামী ৬ মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।

বিশ্বকাপ জিতে পান বাবার মৃত্যুর খবর ওলগা কারমোনা

অনলাইন ডেস্ক:

ফিফা নারী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া এক গোল করেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ওলগা কারমোনা। তার গোলেই ইংলিশদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতে স্পেন। তবে দলীয় উৎসবের মধ্যমনি কারমোনা জানলেন পৃথিবীতে আর বেঁচে নেই বাবা।

রোববার (২০ আগস্ট) নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুখের দিনেই কারমোনা জানলেন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বাবা। স্প্যানিশ অধিনায়কের বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ও তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মৃত্যুর কারণ বা সময় সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু জানায়নি সংস্থা দুটি।

একপাশে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দ, আরেকপাশে প্রিয় বাবাকে হারানোর বেদনা। সবকিছু মিলিয়ে নীরব সময় কাটছে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ২৩ বছর বয়সি কারমোনার। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উল্লাস-উচ্ছ্বাস শেষে তিনি খবর পান, তার বাবা মারা গেছেন।

সিডনি স্টেডিয়ামে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় স্পেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক কারমোনা। এই গোল উদযাপনে নিজের জার্সি উঁচিয়ে ভেতরের টি-শার্টে মার্চি নামের একজনের নাম দেখান কারমোনা।

ফাইনাল জয়ের পর এমন গোল উদযাপনের কারণ সম্পর্কে কারমোনা জানান, সম্প্রতি তার এক বন্ধুর মা মারা গেছেন। সেই বন্ধুকে বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলটি উৎসর্গ করেছেন তিনি। তবে ট্রফি নিয়ে উদযাপন শেষে সবচেয়ে বড় মৃত্যু সংবাদটি শুনতে পান তিনি। তাকে জানানো হয়, স্পেনে অবস্থান করা তার বাবা মারা গেছেন।

ফাইনাল ম্যাচ শেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারমোনা লিখেছেন, ‘খবরটি আমার জানা ছিল না। আর না জেনেই খেলতে নামি। বিশেষ কিছু অর্জনের জন্য যে শক্তি প্রয়োজন বাবাই আমাকে দিয়েছে। উৎসবের এই রাতে বাবা আমাকে দেখছেন। অবশ্যই বাবা আমাকে নিয়ে গর্ব করছে।’

ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট শুক্রবারে কারমোনার বাবা মারা যান। কিন্তু খবরটি স্প্যানিশ এই তারকাকে দেয়া হয়নি। একদিন পরেই যে ফাইনালের জন্য মেয়েকে মাঠে নামতে হবে। সেই জায়গায় যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য বাবার মৃত্যুর সংবাদ গোপন করেছিল রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

কারমোনার বাবার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, তুমি (কারমোনা) স্প্যানিশ ফুটবলে ইতিহাস হয়ে থাকবে।

অন্যের বুকিং বাতিল করে হাওরে গিয়ে সমালোচনা, জবাব দিলেন মাহি

অনলাইন ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানকার অভিজ্ঞতা জানিয়েই গত রোববার রাতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দুটি পোস্ট দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

ঘুরতে যাওয়ার আগে হাওরের কোনো বোট ফ্রি ছিল না। তবে মাহির আবদারে তার স্বামী রাকিব সরকার সুনামগঞ্জের সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় যুবনেতা ফজলে রাব্বী স্মরণকে বিষয়টি জানালে সুনামগঞ্জের এই নেতা বোটের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বোটটি অন্যদের বুকিং করা ছিল। যা ক্যানসেল করে মাহিদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়।

গত শনিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে মাহির পোস্ট থেকে এমনটাই জানা যায়। সেই পোস্টে মাহি জানান, ‘কোনো রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা হঠাৎ টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু হুট করে চাইলেই সেখানে বোট পাওয়া যায় না। ২০ তারিখের আগে কোনো বোট ফ্রি নেই।

আমিও নাছোড়বান্দা, জামাইকে বলেছি ১৭ তারিখে আমাকে নিয়ে যেতেই হবে। জামাই দিশা না পেয়ে ফোন করলেন সুনামগঞ্জের সাবেক ছাত্রনেতা, কেন্দ্রীয় যুবনেতা ফজলে রাব্বী স্মরণ ভাইকে। তিনি অন্যজনের বুকিং বাতিল করিয়ে ১৭ তারিখে আমাদের জন্য বোট রেডি করে দিলেন। বুঝতে পারলাম সুনামগঞ্জে তার বিশাল প্রভাব। ধন্যবাদ ফজলে রাব্বী স্মরণ ভাই। আপনি ছাড়া এই ট্রিপ বাতিল হয়ে যেত।’

অন্যের বুকিং ক্যানসেল করে বোট নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়েন মাহি। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন অভিনেত্রী। মাহি বলেন, ‘সুনামগঞ্জে স্মরণ ভাইয়ার একটি রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে আমরা যখন খাচ্ছিলাম তখন তিনি বলেছেন যে, এটির (বোট) তো বুকিং ছিল। পরে আমরা যে বোটে গেছি সেটা চেঞ্জ করে আরেকটা ম্যানেজ করে দিয়েছে তাদের (যারা বুকিং দিয়েছিলেন)।’

তিনি বলেন, ‘এটা তো জাস্ট শোনা কথা। কিন্তু আমার কাছে এটা অনেক বড় বিষয় লাগছে যে, আমাদের জন্য সে এতটা হেডেক নিয়েছে। একজনের বোট, ওইটা আবার আরেকটি বোট ম্যানেজ করে দিয়েছে। এই যে আমাদের জন্য তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে- বিষয়টি এভাবেই আমি এক্সপ্লেইন করেছি।

একটা কৃতজ্ঞতাবোধ জানানোর জন্য পোস্টটি করা। কিন্তু এটা নিয়ে এত নেতিবাচকতা ছড়াবে মানুষ, তা আমি বুঝতে পারিনি। যারা নেতিবাচকভাবে নেয়, আমি চাই তারা ইতিবাচকভাবে চিন্তা করুক। আর যারা সবসময় নেতিবাচকভাবে চিন্তা করে তাদের নিয়ে তো কিছু বলার নেই।’

ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক:

ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বাস খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলে। খবর এনডিটিভির।

রোববার (২১ আগস্ট) ভোররাতে দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো হরিজন্তের কাছে হাইওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসটিতে সাও পাওলোর করিন্থিয়ানস ফুটবল ক্লাবের ৪৩ জনেরও বেশি ভক্ত ছিলেন। বেলো হরিজন্তে থেকে একটি ম্যাচ দেখে তারা ফিরছিলেন। পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারানোর কিছুক্ষণ আগে বাসচালক চিৎকার করে বলছিলেন, বাসের ব্রেক কাজ করছে না।

মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ফার্নান্দো ফ্রয়েস জানান, গাড়িটিতে ৪৩ জন লোক ছিল। ভোররাতের দিকে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খাদে পড়ে যায় এবং উল্টে যায়। এ ঘটনায় ৩৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ব্রাজিলের ন্যাশনাল এজেন্সি অব ল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি অনিবন্ধিত ছিল। বাসটির এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন ছিল না।

দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমি আহতদের পুনরুদ্ধার এবং দুর্ঘটনার কারণগুলির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

ঘূর্ণিঝড় হিলারি : ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ‘হিলারি’ আঘাত হেনেছে। এই ঝড় মেক্সিকোর বাহা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে প্রবল বেগে শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এসে পৌঁছায়। যার ফলে লস অ্যাঞ্জেলসের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভারী বৃষ্টিপাত ও নজিরবিহীন বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২০ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঘটনায় মেক্সিকোতে ১ ব্যক্তি মারা গেছেন। সেখানে কিছু সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে শহুরে সড়কগুলো ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতে নদীর মতো রূপ ধারণ করেছে। স্যান ডিয়েগোর মোরেনা বুলেভার্ড সেতুর কাছাকাছি জায়গা থেকে ৯ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে দমকল বাহিনী।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বেশিরভাগ অংশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। সাধারণত খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত এসব অঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত বন্যার সতর্কতা প্রযোজ্য থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার পর্বত ও মরুভূমিগুলোতেও ৫ থেকে ১০ ইঞ্চির মতো বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়াবিদরা জানান, এসব মরুভূমিতে সারা বছরেও এত বৃষ্টিপাত হওয়ার নজির নেই।

আনন্দবাজারের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন ভারতীয় হাই কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক:

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল অটুট নয়, আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। বঙ্গবন্ধুকে দুই দেশের সম্পর্কের প্রাণ পুরুষ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, তার হাত ধরে ১৯৭১ সালে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। সেই বন্ধন প্রতিবেশী দেশ দুটির ‘শক্তিশালী সম্পর্ককে’ এগিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে পারস্পরিক সম্মান থেকে আবদ্ধ প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের বাকি সময়েও অটুট থাকবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন ঢাকায় পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারের সূত্রবিহীন একটি রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। আনন্দবাজার দাবি করেছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার বর্তমান ভূমিকায় ভারত যে খুশি নয়, সেই বার্তা নাকি ওয়াশিংটনকে পৌঁছে দিয়েছে নয়াদিল্লি। রিপোর্টে অগ্নি রায় লিখেন, ঢাকায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক এটা ওয়াশিংটনের মতো ভারতও চায়। কিন্তু যেভাবে হাসিনা সরকারকে অস্থির করার জন্য আমেরিকার তরফে বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক নয়।

বাংলাদেশে হাসিনা সরকার দুর্বল হলে তা ভারত এবং আমেরিকা কারও পক্ষেই সুখকর হবে না এমন মন্তব্য করে বলা হয়, কূটনৈতিক সূত্রে খবরটি বেরিয়েছে। এাটও বলা হয়েছে, একাধিক স্তরের বৈঠকে নাকি নয়াদিল্লি বিষয়টি বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনকে নাকি এটাও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনোভাবে জামায়াতকে আস্কারা দেয়, তাহলে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বাড়তে পারে।

ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সেই সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায় বিচার, অমায়িক আত্মা এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে অসাধারণ আত্মনিবেদন এই অঞ্চলের সকল প্রজন্মের মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের এই উন্নয়ন শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পাশে থাকতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হাই কমিশনার আরও বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংযোগ, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মানুষের বন্ধন প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা শুধু আজকে অতীতের স্মৃতি মনে করছি না। একইসঙ্গে আগামী দিনগুলোকে আরও সম্ভাবনাময় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। দুই দেশের একসঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

একইভাবে সাম্যতা, ন্যায় বিচার ও সততা নিয়ে এগুচ্ছে। উন্নয়ন-সমৃদ্ধিতে ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ইচ্ছা করলেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না। কারণ দেশটির সঙ্গে আমাদের রক্তের বন্ধন। ভারতের সহযোগিতা ছাড়া স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব ছিল না। দু’দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক তা বর্তমান সরকারের সময়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। ভারত স্বাধীনতাযুদ্ধে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১ কোটি মানুষকে থাকতে দিয়েছে।

খাবার প্রদানসহ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ-অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধকে বানচাল করার জন্য সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, কিন্তু পারেনি। পরবর্তীকালে (১৯৭১ সালের) ১৪ ডিসেম্বর তারা যুদ্ধে স্থিতাবস্থার প্রস্তাব করেছিল। তাদের সেই প্রস্তাব মানলে পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে হতো না। তাদের কথামতো কাজ হলে পাকিস্তান টিকে যেতো। আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, এরপর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্র শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ে দেশে দুর্ভিক্ষের পেছনেও তাদের হাত ছিল। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু নগদ পয়সায় আমেরিকার কাছ থেকে চাল ও গম কিনলেন।

কিন্তু তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায়নি। এতেই দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি, এভাবেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সমস্ত পথ খুব সুকৌশলে তারা তৈরি করলো। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসানীতি ঘোষণাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ সাময়িক নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এত মাথাব্যথা কেন? এই বছর তো পৃথিবীর প্রায় ২১টি রাষ্ট্রে নির্বাচন হবে। কিন্তু সেসব দেশে কোনো কথা নেই। পাকিস্তানে কোনো কথা নেই, আফগানিস্তান নিয়েও কোনো কথা নেই।

জিয়াউর রহমানের সময় ভোটের নামে যা হয়েছে সেদিনতো আমেরিকা কিছু বলে নাই। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মানবতার পক্ষে কিছু না করে উল্টো তার আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে। এতেই তো প্রমাণ হয় ১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ডে তারা সম্পৃক্ত!

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রশিদুল আলম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ন সাহা মনি। গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, সংসদ সদস্য আরমা দত্ত ও বাসন্তী চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হক।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা

অনলাইন ডেস্ক:

ভয়াল ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ব্যক্তিদের অন্যতম আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। আজ থেকে ১৯ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আহত হন তিনি। সেই হামলায় গ্রেনেডের স্প্রিন্টার এখনো তার শরীরে যন্ত্রনার সৃষ্টি করে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার বিষয়ে স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের জন্য একটি ট্রাক ব্যবহার করে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। বিকাল ৫টায় মঞ্চে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা এবং বিকাল ৫টা ২ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করেন। তিনি একটি টানা ২০ মিনিট বক্তৃতা করেন। তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দক্ষিণ দিক থেকে প্রথম গ্রেনেডটি নিক্ষেপ করা হয়। এরপর শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে, দক্ষিণ দিক থেকে একের পর এক মোট ১৩টি কুখ্যাত আর্জেস গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।

এ বিষয়ে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ‘আক্রমণে আমি গুরুতর আহত হই এবং তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম। দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছি। এখনো যন্ত্রণা সহ্য করছি।’

হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকা উত্তর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহেদা খানম দীপ্তি। তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে হামলার পর প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ঢাকা উত্তর শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপ্তি বলেন, ‘আমি পরের সাত দিন অজ্ঞান ছিলাম। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত ও সিঙ্গাপুরে পাঠান। আমি ভারতের পিয়ারলেস হাসপাতাল ও বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। অসংখ্য স্প্রিন্টারের কারণে সৃষ্ট ক্ষত ঢেকে কিছুটা স্বাভাবিক দেখাতে আমাকে স্কিন গ্রাফটিং করাতে হয়। পরের ছয় মাস আমি শয্যাশায়ী ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘এখনও আমি কী কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা প্রকাশ করার ভাষা নেই। এখনও মাঝে মাঝে আমার অসহ্য যন্ত্রণা, চুলকানি ও মাথাব্যথা হয়। আমার দলের অনেক কর্মী এ বর্বর হামলার কারণে একই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে।’ দীপ্তি তার ও অন্য আহতদের দেখাশোনা এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সাংবাদিক ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আশরাফুল আলম খোকনও ওই দিন তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্রিন্টারের আঘাতের কারণে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভুগছেন। ভয়ঙ্কর ঘটনাটি স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ কভার করছিলাম। সেখানে একটি ট্রাক ব্যবহার করে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। খোকন জানান, সংসদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সামনে তিনি অস্থায়ী মঞ্চের নীচে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খোকন বলেন, ‘যখন প্রথম গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়, তখনও তিনি তার বক্তব্য শেষ করতে পারেননি। প্রথম বোমা ছোড়া হলে আমি আহত হই। তবে এটি প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনাকে মিস করে।’

তিনি তার সহকর্মী এবং অন্যরা যাকে পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাঁচিয়ে তুলেন- তাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, কিছু লোক তাকে নিকটবর্তী সরকার পরিচালিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে হামলায় গুরুতর আহত অসংখ্য লোককে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ডাক্তাররা সেখানে তাদের চিকিৎসা দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

আশরাফুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালের কিছু স্টাফ আমাকে মৃত ভেবে লাশের স্তূপে রেখে দেয়। পরে, আমার অফিসের সহকর্মীরা আমাকে সেখানে জীবিত দেখতে পেয়ে আমাকে বেসরকারি হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আঘাত থেকে সেরে ওঠার পর, আমি জানতে পারি যে হাসপাতাল প্রথমে আমাকে চিকিৎসা দিতে চায়নি এবং চিকিৎসা না দিয়ে আমাকে জরুরি বিভাগে ফেলে রাখে।’ এরপর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার অ্যাটেন্ড্যান্টদের জানায় যে হামলায় আহত কোনো ব্যক্তিকে সেখানে ভর্তির অনুমতি না দেওয়ার জন্য তাদের কাছে সরকারের ‘উচ্চ পর্যায়ের’ নির্দেশ ছিল।

আশরাফুল আলম আরও বলেন, চ্যানেল আইয়ের উচ্চপদস্থরা পরে তাকে সেখানে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংককে যান। এরপর থেকে এখনও তাকে আঘাতের জন্য চিকিৎসা নিতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।’

হামলার সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীম শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। গ্রেনেডের ২০-২২টি স্প্রিন্টারের আঘাতে সৃষ্ট যন্ত্রণা তিনি এখনও বহন করছেন। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল তা স্মরণ করে তিনি বলেন, মঞ্চ লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর দলীয় নেতাকর্মীরা তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষায় মানব ঢাল গঠন করেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সেদিন জঘন্য গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। গ্রেনেড হামলায় বেঁচে যাওয়ায় শেখ হাসিনাকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে কয়েক ডজন গুলি লাগে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বহনকারী গাড়িটি বুলেটগ্রুফ হওয়ায় গুলি ঢুকতে পারেনি। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে একটি গাড়িতে করে ধানমন্ডিতে তার তৎকà