All posts by jitu

তারেকের ৯ ও জোবায়দার ৩ বছরের কারাদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন অভিযোগের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। তারেককে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় পড়া শুরু করেন।

এর আগে চার মামলায় তারেক রহমানের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান। তবে, জোবায়দার এটি প্রথম ও একমাত্র মামলার রায় বলে জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

মুদ্রা পাচারের মামলায় ২০১৩ সালে তারেক রহমানকে প্রথমে খালাস দিয়েছিলেন ঢাকার আদালত। তবে, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের পর হাইকোর্টের রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তার পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেকের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। খালেদার হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড, তারেকের ১০ বছর। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার প্রতিটিতে কয়েকটি ধারায় তাকে তিনবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিস্ফোরক আইনের আরেক ধারায় তার ২০ বছর কারাদণ্ডাদেশ হয়। তবে, সবগুলো সাজা একসঙ্গে কার্যকরের উল্লেখ থাকায় তারেককে যাবজ্জীবন সাজা খাটার বিষয় রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে নড়াইলে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় তারেক রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে, গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে তারেক-জোবায়দার মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪২ জন সাক্ষ্য দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক ও জোবায়দার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক জহিরুল হুদা। এতে তাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত আয়ের বাইরে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া মামলায় আসামি করা হয় তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে।

এরপর ২০০৮ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। এ মামলা থেকে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বর্তমানে তারা পলাতক। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। আর জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে সহযোগিতার অভিযোগে ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

আগের চেয়ে বেশি দামের গাড়ি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই তা শিথিল করে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা এখন আগের চেয়ে বেশি দামের গাড়ি পাবেন।

নির্দেশনায় গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার গাড়ি কেনা যাবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালে এটি ছিল ৯৪ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে সোমবার প্রজ্ঞাপনটির অনুমোদন হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে ও কৃচ্ছ্র সাধনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি দপ্তরে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকবে বলে পরিপত্র জারি করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য যানবাহন ক্রয় বা বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার বা মিনিবাস (এসি/ননএসি), বাস (ননএসি) ও ট্রাকের বাজারদর বিবেচনা করে যানবাহনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জিপ (অনূর্ধ্ব ২ হাজার ৭০০ সিসি) কেনা যাবে ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের জন্য জিপের (অনূর্ধ্ব ২ হাজার সিসি) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকায়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জিপের দাম ছিল ৯৪ লাখ টাকা এবং গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের জন্য ছিল ৫৭ লাখ টাকা।

রেজিস্ট্রেশন ও ভ্যাটসহ কারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ১ হাজার ৬০০ সিসি)। ২০১৯ সালে যা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এবার মূল্য ১০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া পিকআপ (সিঙ্গেল কেবিন) ৩৮ লাখ টাকা এবং ডাবল কেবিন পিকআপের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। মোটরসাইকেল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মাইক্রোবাস ৫২ লাখ টাকা, অ্যাম্বুলেন্স ৫৪ লাখ টাকা, কোস্টার বা মিনিবাস ৭৫ লাখ টাকা, ননএসি মিনি বাস ৩২ লাখ টাকা, বড় ও ননএসি বাস ৪৬ লাখ টাকা, ৫ টন ট্রাকের দাম ৩৯ লাখ এবং ৩ টন ট্রাকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

নোয়াখালীতে বিএনপির ২ নেতা গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহ দুই বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ আগস্ট) বিকেলের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, একই দিন ভোর রাতের দিকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মির্জা সোলেমান।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ দুটি মামলা রয়েছে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মো.মফিজুর রহমান বলেন, এসব ঘটনা এবং মামলা গুলো গায়েবি। বিএনপি নেতাদের ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানির উদ্দেশে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ দুটি মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৪টি ভারতীয় গরুসহ ২ জন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৪টি ভারতীয় গরুসহ ২ জন চোরাচালানকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ আগস্ট) ভোর ৫টায় উপজেলার ৪ নং শশীদল এলাকায় এসআই (নিরস্ত্র) শান্তনু দেব নাথ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া চোরাচালানকারীরা হলেন, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল ইউনিয়নের শফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ ইয়াছিন (৪০) ও একই এলাকার মৃত. আবু জাহেরের ছেলে মোঃ বাদশা মিয়া (৪৫)।

উক্ত বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লাকসাম, দাউদকান্দি ও মুরাদনগরে পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসাম, মুরাদনগর ও দাউদকান্দি উপজেলায় পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে লাকসাম উপজেলার লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের পৈশাখি গ্রামে  বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হচ্ছে- ওই গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে নাবিলা আক্তার মণি (১৪) ও হাফসা আক্তার মিলি (৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদুল ইসলাম নরসিংদী জেলা সদর এলাকায় ব্যবসার সুবাধে পরিবার নিয়ে সেখানে বসাবস করে। নিহত দুজন নরসিংদী জেলা সদরের একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ ও ৪র্থ শ্রেণিতে পড়তো। বাড়িতে নতুন ঘর উঠানো উপলক্ষ্যে তারা বাবা-মায়ের সাথে বেড়াতে এসেছিলো। বুধবার পুনরায় তাদের নরসিংদী চলে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দুই বোনের। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পানিতের ডুবে দুই বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ। স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মণি ও মিলিসহ তিনজন ওই পুকুরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর মণি ও মিলি পানিতে তলিয়ে গেলে তাদের সাথে থাকা অপরজন এসে বাড়ির লোকদের খবর দেয়। পরে লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পেয়ে পুকুরে জাল ফেলে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এক শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার মধ্যে দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপর তিন শিশুকেই দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়।

মারা যাওয়া দুই শিশু হলো ১৮ মাস বয়সী রাধিকা রানী দাস ও ৮ বছর বয়সী মো. মুনতাছির। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এক বছর বয়সী তানভীরকে।

ওই শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবীর কুমার দাসের স্ত্রী শিউলী রানী দাস সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শিশুকন্যা রাধিকা রানী দাসকে (দেড় বছর) ঘরে রেখে রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করছিলেন। এ সময় রাধিকা হামাগুড়ি দিয়ে একা খেলতে খেলতে বসতঘরের পাশের পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুর থেকে রাধিকাকে উদ্ধার করা হয়। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আকলিমা আক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মুরাদনগর উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মো. মুনতাছির (৮) বসতঘরের পাশে একা খেলার সময় হঠাৎ পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে মুনতাছিরকে উদ্ধার করা হয়। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকলিমা আক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বিকেল পাঁচটার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার এক বছরের ছেলে তানভীর পরিবারের সবার অগোচরে বসতঘরের পাশের ডোবায় পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর ডোবা থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তানভীরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে তানভীরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে কুমিল্লার লাকসামে বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের পৈশাখি গ্রাম এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে- ওই গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে নাবিলা আক্তার মণি (১৪) ও হাফসা আক্তার মিলি (৯)।

এ নিয়ে একই দিনে কুমিল্লায় পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু হলো।

চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী (৮৫) বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার দুপুর ১টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীর মরহুম নজির আহম্মেদের পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকাল দশটায় মরহুমের নিজ বাড়িতে জানাযা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন সহ চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম।

মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ পাটোয়ারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মো: মুজিবুল হক মুজিব এমপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম, বাতিসা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী ফখরুল আলম ফরহাদ সহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার সর্বোচ্চ মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

নগরীর সেবা হাসপাতালে অপারেশনের ১দিন পর রোগির মৃত্যু, ২ লাখ টাকায় সমঝোতা

 

ইসতিয়াক আহমেদঃ

কুমিল্লা নগরীর ডিসিরোড এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি সেবা হাসপাতালের স্টাফদের গাফিলতির কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরবানু নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তানভীর সুমন নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে। সোমবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরবানু (৪৫) কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার কাবিলা মনশাসন এলাকার মৃত আব্দুল হকের স্ত্রী।

নিহতের মেয়ে তাসলিমা সময় সংবাদকে জানান নুরবানুর জরায়ুতে সমস্যা নিয়ে গত রবিবার (৩০ই জুলাই) বিকেলে সেবা হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসক রুমানা পারভিন একই দিনে সন্ধ্যায় হাসপাতালের তৃতীয় তলায় নুরবানুর জরায়ুর অপারেশন করে অবজারভেশনে রাখে।
অপারেশন করার সময় নুরবানুর শরিরে ৪ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। পরদিন সোমবার বিকেলে অন্য একটি রোগীর অপারেশন করা হলে নুরবানুকে হাটিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার কিছুক্ষণ পরই নুরবানুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নুরবানু শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে যায়। হাসপাতালটিতে আইসিসিইউ, সিসিইউ না থাকায় সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় নুরবানু মারা যায়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের আর্তনাদের ভারী হয়ে উঠে হাসপাতালের পরিবেশ। পরিবারের স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। এমন সময় পরিবারের সদস্যদের শান্ত করতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর সুমন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফা করলে ভুক্তভোগীর পরিবার রাতে নিহতের লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে যায়৷

নিহতের মেয়ের জামাই শরিফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, আমার শাশুড়ী মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসে আমাদের অনুরোধ করে এই ব্যাপারে কাউকে না জানানোর জন্য। বিনিময়ে আমাদেরকে ২লাক ২০ হাজার দিবে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে আমাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেয়। বাকী ২ লাখ টাকার খালি চেক আজকে (মঙ্গলবার) দিবে বলে জানায়। তবে চেক দিলেও টাকা দিবে ১ মাসের মধ্যে ১ লাখ করে। পরে আমরা নিহতের লাশ নিয়ে বাসায় চলে আসি।

এই বিষয়ে সেবা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর সুমন সময় সংবাদকে জানান, ঘটনার সময় আমি হাসপাতালে ছিলাম না। রোগীর অপারেশন করেছে অন কলে আসা চিকিৎসক রুমানা পারভিন। অপারেশন পর রোগী ভাল ছিল। ১ দিন পর তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় নামানোর পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তার কিছুক্ষন পর মারা যায়। এই ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে। গতরাতে নগদ ২০ হাজার টাকা আর বাকী টাকার চেক দেয়া হবে। ১ মাসের মধ্যে বাকী টাকা পরিশোধ করা হবে।

কুমিল্লা ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ম নীতি না মেনেই নগরীতে গড়ে উঠেছে। অথচ এই সব কিছু জেনেও নির্বিকার প্রশাসন। এই ঘটনা বিষয়ে জানতে সিভিল সার্জন ডা:নাসিম আক্তার সময় সংবাদকে জানান, এমন কোনো কিছু আমি জানি না। এমন কোন অভিযোগও আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গল্প: বিলম্বিত সমাপ্তি

 

সুলেখা আক্তার শান্তা:

প্রেম ভালবাসা বুঝার মতো বয়স হয়নি রিতার। কিন্তু তারপরও হৃদয়তার মায়ায় ভরা থাকে আবিরের জন্য। ছোট্ট রিতা ক্লাস ফাইভে পড়ে আর আবির ক্লাস নাইনে। ‌ক্লাস সহপাঠী না হলেও একই স্কুলে পড়ে দু’জন। আবিরের প্রতি বিশেষ আগ্রহের কোন কারণ খুঁজে পায় না তার ক্ষুদ্র বুদ্ধি। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আড়াল থেকে দেখে ‌আবিরকে। স্কুল বা খেলার মাঠে যেখানেই আবির সেখানেই রিতা হাজির। রিতা চায় যেকোনো খেলায় আবির জয়ী হোক।‌ আবির যে খেলাতে অংশ নেয় প্রায় খেলাতেই জয়ী হয়। একদিন খেলায় আবির জয়ী হলে চারিদিকে তুমুল হাততালি শুরু হয়। রিতারও হাতে তালি আর মুখে হাসি। এই প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস থামেই না রিতার। আশেপাশের সবাই তাকায় রিতার দিকে। আবির বিষয়টি লক্ষ্য করে। সে রিতার কাছে এসে বলে, এবার তালিটা থামাও। তখনই রিতা লাজুক ভাবে হাসি দিয়ে হাতে তালি থামায়। বাহ তোমার মুক্তঝরা হাসি দেখে মন ভরে গেল। রিতা আরো লজ্জা পেয়ে যায়। আবির আরো বলে, তোমার মুক্তঝরা হাসি থামিও না। রিতা যেন আরো লজ্জা পেয়ে যায়।

রিতা খালার বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে দেখে খালাতো ভাই সজীবের সঙ্গে সোফায় বসে আছে আবির। আবিরকে দেখে দরজার আড়ালে চলে যায় রিতা। একটু পর পর উঁকি দিয়ে দেখত থাকে আবিরকে। আবির তাকাতেই হাসি দিয়ে আড়ালে চলে যায়। আবিরের এমনটা দেখে ভালোই লাগে। আবির ভালোবাসে রিতার মেজো খালা মেয়ে সানজানাকে। সানজানা ও প্রায়ই বেড়াতে আসে খালা কহিনূরের বাড়িতে। আবির আর সজীব তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নয়। সানজানার কারণেই আবির সজীবের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ট হয়। সজীব ব্যাপারটা একটু অনুমান করতে পারলেও বন্ধুত্ব কারণে আবিরকে কিছু বলে না। আবিরও একসময় খুলে বলে সানজানাকে সে ভালোবাসে। কৈশোর প্রেমের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না। সজীব তখন গুরুজনের মতো উপদেশ দেয় আবিরকে। ভালোবাসো ঠিক আছে পড়ালেখা শেষ করো। চাকরি, ব্যবসা কিছু একটা করো তারপরে বোনকে তোমার হাতে তুলে দেব। তার আগে কিন্তু বিয়ের কথা বলোনা। এমন ভাই থাকতে বোনের আর চিন্তা কি আবির বলে। আমাকে কেমন অগ্রিম শর্ত দিয়ে আটকে রাখলে। বোন আর ভগ্নিপতি উভয়ের মঙ্গলের জন্য এই চাওয়া।

রিতা আর সানজানা খালা কহিনূরের বাড়ির ছাদে উঠে কথায় মেতে আছে।‌ আবির ইশারায় সানজানাকে ডাকে কিন্তু সে লক্ষ্য করে না।আবির এবার রিতাকে ইশারা করে। রিতা ব্যাপারটি লক্ষ্য করে ছাদ থেকে নেমে আসে। আবির একটা চিঠি রিতার হাতে দিয়ে বলে, চিঠিটি তোমার সানজানা আপুকে দিও। রিতা চিঠিটা নিয়ে ছাদে যায়। আপু তোমার চিঠি আবির ভাইয়া দিয়েছে। সানজানা ভ্রূকুঞ্চিত হাসি দিয়ে চিঠিটা হাতে নেয়। বলে, ভালোই হলো রে তোকে দিয়ে আবিরের কাছে চিঠি দেওয়া যাবে। রিতা বয়সে ছোট। প্রেম, ভালোবাসার পর্যায় গুলো এখনো তার কাছে পরিষ্কার নয়। সানজানা আপুকে আবিরের চিঠি দেওয়া দেখে তার মধ্যে আগের মত উচ্ছ্বাসে ভাটা পরে। আবির আর সানজানা তাদের কয়েকটা চিঠি দেওয়া নেওয়া করে রিতাকে দিয়ে। রিতাকে এক অকারণ মনঃক্ষুণ্য অনুভূতি ঘিরে ধরে। আবিরকে এখন আর আগের সেই উচ্ছ্বাস নিয়ে চোখে চোখে রাখেনা। আবির কোন খেলায় অংশগ্রহণ করলেও সেখানে রিতা হাজির হয় না। আবিরএসএসসি পাস করে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে যায়। সেখানেই চলে তার পড়ালেখা। সানজানা সঙ্গে পত্রবিনিময় নিয়মিত চলতে থাকে।রিতার সঙ্গে আবিরের আর দেখা কিংবা কোন যোগাযোগ হয় না।

কোহিনুরের স্বামী আতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আসন্ন একটি ছবির মহরত উপলক্ষে বাসায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র বাইরেও পারিবারিক আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এসেছেন। আবির এবং সানজানাও এসেছে। ‌অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে।

রিতা এসেছে তার স্বামী অনিককে নিয়ে। আবির রিতাকে দেখে বলে, কেমন আছো রিতা?

ভালো।

আপনি?

ভালো।

ও পরিচয় করিয়ে দেই, আমার  হাজব্যান্ড অনিক।

ও আচ্ছা, তুমি এই ছোট্ট বয়সে বিয়ে করে ফেলেছ!

হ্যাঁ, মেয়ের জন্য ভালো বর পেয়ে বাবা মা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।আবির দেখে রিতা অনেক ভালো বর পেয়েছে। আবির আর অনিক দুজনে হ্যান্ডশেক করে। দুজনের মধ্যে আলাপচারিতা ভালোই জমে ওঠে।

আবির আর সানজানার ভালোবাসার কথা দুই পরিবারের মধ্যে কমবেশি অনেকেই জানে। কিন্তু সানজানার বাবা মোতাহার হোসেন এই ভালোবাসা মানেন না। তিনি মেয়েকে বিয়ে দিবেন দেখেশুনে তার পছন্দমতো ছেলের সঙ্গে। তিনি তাই করেন, কারো কোন কথায় কর্ণপাত নাকরে। সুপাত্র দেখে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন।‌ আবিরের সঙ্গে সানজানার আর কোন যোগাযোগ থাকে না।

বহু বছর পর। হঠাৎ আবিরের সামনে একটি ফেসবুক আইডি ভেসে আসে, রিতা আহমেদ অনিক। আবির ওই আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। আবির নাম দেখে রিতা একটু চমকে যায়। সে ফেসবুক আইডিটি একসেপ্ট করে। আবির ধন্যবাদ জানায়, রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার জন্য। প্রশ্ন করে, তুমি আমাকে চিনেছো? আমি আবির।

হ্যাঁ।

কিভাবে চিনলে?

চিনলাম। এই যে আবির নাম।

আবির নামে তো কত ফেসবুক আইডি আছে।

হ্যাঁ আছে। আমার মনে হলো আমি যে আবিরকে চিনতাম এ সেই আবির।

সে কোন আবির?

আমি যে আবিরকে স্কুলে চিনতাম।

তোমার মনে আছে! এটা জেনে খুবই ভালো লাগলো। তুমি আমাকে মনে রেখেছো। তুমি আমাকে দেখলে হাসতে আবার আড়ালে চলে যেতে। আমার এটা মনে পড়তো।

ও আচ্ছা।

কেমন আছো তুমি?

ভালো।

আপনি কেমন আছেন?

ভালো। রিতা তোমার সঙ্গে আমি কথা বলছি কোন সমস্যা নেই তো?

না।

সমস্যা থাকলে বলো।

আমার দিক থেকে সমস্যা নেই। আপনার দিক থেকে সমস্যা আছেকিনা সেটা দেখেন।

না নেই।

রিতা জানো, তোমার আইডিটি দেখেই আমি চিনেছিলাম যে এটা তুমিই।

এত কনফিডেন্স কিভাবে আসলো।

তোমার ছবি দেখলাম সঙ্গে তোমার হাজব্যান্ড। তারপর তোমার পরিবারের। বিশেষ করে তোমার খালুর ছবিটা তোমার প্রোফাইলে দেখে আরো শিওর হলাম, তুমি রিতা।

ও আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি।

আবির আর রিতার মধ্যে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং চলতে থাকে। আবির জানতে চায় রিতার ছেলে মেয়ের কথা। রিতা প্রতি উত্তরে বলে, বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর আমার একটি মেয়ে হয় সে এখন অনার্সে পড়ে।

ও আমার ছেলে তো পড়ালেখা শেষ করেছে। এখন ছেলের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখছি। আবির রিতার প্রোফাইল থেকে একটি ছবি নিয়ে রিতার মেসেঞ্জারে দেয়। জিজ্ঞেস করে, এটি তোমার মেয়ে।

হ্যাঁ, আমার মেয়ে অহনা।

আমি বুঝতে পেরেছি যে তোমার মেয়ে। রিতা আমার ছেলে নিরবের জন্য তোমার মেয়েকে আনতে চাই কি বলো তুমি?

ও আচ্ছা ভালো কথা।

তোমার সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি। চলো একদিন দুজনের ছেলে মেয়ে নিয়ে দেখা করি কোন রেস্টুরেন্টে। ছেলে মেয়েজ্ঞ দুজন দুজনকে দেখুক।ওদের যদি ভালো লাগে আমরা বিয়ের কথা পাকাপাকি করব।

ঠিক আছে। আবির তার ছেলে নিরবকে নিয়ে রিতা তার মেয়ে অহনাকেনিয়ে রেস্টুরেন্টে হাজির হয়। রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া আলাপচারিতায়সৃষ্টি হয় আন্তরিক পরিবেশ। নিরব আর অহনাকে আলাদাভাবেআলাপ করতে দেয়া হয়। নিরব আর অহনা একে অপরকে বুঝতে চেষ্টাকরে। প্রাথমিক আলাপে উভয়েই সন্তুষ্ট। দুজনই ভাবে তাদের বাবা-মাতাদের পারফেক্ট মনের মানুষ সঙ্গে পরিচà