Tag Archives: লাকসাম

কুমিল্লার লাকসামে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লার লাকসামে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার লাকসামে পুকুরে ডুবে ইব্রাহীম (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের পাওতলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহীম ওই গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি দুপুরে সবার অলক্ষ্যে কোনো এক ফাঁকে ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাকে না দেখে পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে।

একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পানিতে তাকে ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করে দ্রুত লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটি খেলতে গিয়ে কোনো এক সময় অসাবধানে হয়তো পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে দ্রুত লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে সিনথিয়া উদ্দিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে পৌরভবনের সামনের একটি ভবন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সিনথিয়া উদ্দিন লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে লালমাই উপজেলার সিংহরিয়া গ্রামের প্রবাসী সাহাব উদ্দিন ও কোমারডোগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খালেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সিনথিয়ার মা লাকসাম পৌরভবনের সামনে চাচা-ভাতিজা ভবনের চারতলায় ভাড়া থাকতো। সোমবার সন্ধ্যায় বান্ধবীদের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট না করার জন্য তার মা বকাঝকা করে। এ সময় অভিমান করে সে তার শয়ন কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ শয়ন কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার ৮/১০টি চিহ্ন রয়েছে।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদ আহম্মেদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে যা ভাবছেন নেতাকর্মীরা

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:
অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। পূর্বের কমিটির বিলুপ্তির এক মাসের মাথায় (২ ফেব্রুযারি) সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমনকে আহ্বায়ক ও আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে রয়েছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আমিরুজ্জামান আমীর। এছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন।

তবে এই কমিটি ঘোষণা পর বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। কমিটি নিয়ে শীর্ষ নেতারাও কথা বলছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বিগত ১৫ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন। মামলা পরিচালনা করতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর নামে চাদাঁবাজির কোন একটি অভিযোগও নেই। হাজী ইয়াছিনের মত ক্লিন ইমেজের লোককে সদস্য করে উনার সাথে উপহাস করা হয়েছে। এখানে সদস্য করে উনার মহানগর কমিটিতে যাওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হল। উনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

এদিকে একাধিক নেতাকর্মী জানান, এই কমিটি ৩১ বা ৪১ সদস্য বিশিষ্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কি কারণে আবার ৫ সদস্য বিশিষ্ট করা হল, তা বোধগম্য নয়। এই কমিটিতেও মো: মোজাহিদ চৌধুরী, এড. কাইমুল হক রিংকুর মত লোকদের জায়গা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ধোয়াশা-সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। মাহবুবুল আলম চপল, মো: হুমায়ন কবির, নজরুল হক ভূইয়া স্বপনসহ সাবেক মেয়র সাক্কুর সাথে রাজনীতি করা নেতাকর্মীদের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাওয়া উচিত। তা না হলে বৈষম্য রয়ে যাবে।
কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাবেক শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মোজাহিদ চৌধুরী জানান, ঘোষিত নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে অভিনন্দন। দলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হলে কমিটির বিকল্প নেই। এই কমিটি জেলার সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করবে বলে প্রত্যাশা রাখি। আশা বুড়িচং

করি অচিরেই পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং তাতে ত্যাগি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করা হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মাহবুবুল আলম চপল জানান, নতুন কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন। আশা করি পূর্নাঙ্গ কমিটিতে মূলধারার ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ণ হবে।

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এড. কাইমুল হক রিংকু জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যেভাবে ভাল মনে করেছেন, সেভাবে কমিটি দিয়েছেন। যদি পূর্নাঙ্গ কমিটিতে দলের ত্যাগি নেতাকর্মীরা স্থান পায়, সেটা ভাল হবে। আপাতত দৃষ্টিতে কমিটিকে ভালই মনে হয়েছে।

নতুন কমিটির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরো মজবুত ও কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে আমরা কাজ করবো।

নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমীর জানান, প্রথমত আমাদের দলের নেতা জনাব তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই কমিটি ঘোষণা দেওয়ায়। দল গোছানোর জন্য যে দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবো। আশা করি ভাল কিছু হবে। এই কমিটি দলের ও কুমিল্লাবাসির মঙ্গলের জন্য কাজ করবে।দলের কোন্দল নিরসনে কমিটির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা পরিবারের মধ্যে সমস্যা থাকতেই পারে, তবে সেই সমস্যা আমরা সবাই একসাথে বসে সমাধান করবো ইনশাল্লাহ।

নতুন কমিটির সদস্য ও বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন জানান, ঘোষিত কমিটি ভাল হয়েছে। আমাদের দলের নেতা জনাব তারেক রহমান যা ভাল মনে করেছেন, সেভাবেই কমিটি করেছেন। কমিটির সবাইকে অভিনন্দন।দলের কোন্দল নিরসনে এই কমিটির ভূমিকা কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবার সাথে আলোচনা করে একসাথে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।

নতুন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

লাকসাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদয়ের

লাকসাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদয়ের ভুয়া ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন

লাকসাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদয়ের ভুয়া ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন

কুমিল্লা দক্ষিন জেলা প্রতিনিধিঃ

লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগন উপজেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন না করেই গত পাঁচ বছরে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জ্বালানি ও ভ্রমণ ভাতা বাবদ ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৬শ ৭১টাকা উত্তোলন করেছেন।

উপজেলা পরিষদের জন্য বরাদ্দকৃত জীপগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অফিসে আসা-যাওয়া, অন্যান্য প্রশাসনিক ও উন্নয়য়নমূলক কাজ পরিদর্শনের জন্য ব্যবহার করার সরকারী বিধান অমান্য করে উপজেলা পরিষদের জীপ গাড়িটি ব্যবহার করেছেন একান্ত ব্যক্তিগত কাজে।

ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে জ্বালানি বাবদ গত পাঁচ বছরে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ টাকা এবং ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৯ লাখ ৩০ হাজার ৬শ ২৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের গাড়ীর জন্য লগ বই সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। উক্ত লগ বইয়ে ব্যবহারকারীর নাম, পদবী, স্বাক্ষর ও তারিখ উল্লেখপূর্বক প্রতিদিন গাড়ী ভ্রমণের স্থান, দূরত্ব (মাইল/কিলোমিটার) ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে মর্মে নির্দেশনা থাকলেও লাকসাম উপজেলা পরিষদের জিপ গাড়ির কোন লগ বই পাওয়া যায়নি।

জিপ গাড়ি চালক আব্দুল কাদের জানিয়েছে, ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে গাড়ির লগ বই উপজেলা পরিষদে জমা দিয়েছে।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাউসার হামিদ এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি।

এদিকে উপজেলা পরিষদের সাট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটার রাকিবুল হাসান, অফিস সহায়ক মানিক মিয়া ও আহসানুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সিএ) মোঃ হারুনুর রশিদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ শফিকুল ইসলাম, অফিস সহকারী মোঃ আবুল বাশার ও অফিস সহকারী মোঃ এনামুল করিম কেউ উক্ত লগ বই সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, উক্ত জিপ গাড়ির জ্বালানি ব্যয়, মেরামত ব্যয় ও ভ্রমণ ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল যেভাবে মহা লুটপাট হয়েছে তাহা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এই লগ বই লুকানো হয়েছে অথবা লগ বই ব্যবহার করেনি।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লাকসাম উপজেলা পরিষদের জিপ গাড়ি মেরামত খাতে এপ্রিল ২০২০ ইং মাসে ৫০ হাজার টাকা, জানুয়ারি ২০২১ ইং মাসে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯ শত ৫০ টাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইং মাসে জিপি গাড়ির ডেন্টিং পেন্টিং খাতে ৭০ হাজার টাকা, জুন ২০২১ ইং মাসে মেরামত খাতে ৩০ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং মাসে ৬৪ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং মাসে ২৩ হাজার টাকা, অক্টোবর ২০২২ ইং মাসে ৩৪ হাজার ১শত টাকা, মার্চ ২০২৩ ইং মাসে ৩৪ হাজার ১শত টাকা, জুন ২০২৩ ইং মাসে ৩১ হাজার ৮ শত টাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং মাসে ৫৫ হাজার টাকা, নভেম্বর ২০২৩ ইং মাসে ৪৫ হাজার টাকা, মার্চ ২০২৪ ইং মাসে ৩ লাখ টাকা এবং সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং মাসে ২৫ হাজার টাকা জিপ গাড়ি মেরামত খাতে খরচের টাকা উত্তোলন হয়েছে।

ভ্রমণ ভাতা বাবদ মে ২০২০ ইং মাসে ১লাখ ৭৩ হাজার ৩শ ৭৫ টাকা, মে ২০২১ ইং মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮ শ ৭৫ টাকা, জুন ২০২১ ইং মাসে ৩২ হাজার ৫ শত টাকা, মার্চ ২০২২ ইং মাসে ৯৭ হাজার ৫ শত টাকা,এপ্রিল ২০২২ ইং মাসে ৯২ হাজার ৬ শত ২৫ টাকা, জুন ২০২২ ইং মাসে ৩২ হাজার ৫ শত টাকা, এপ্রিল ২০২৩ ইং মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা,জুন ২০২৩ ইং মাসে ৬৫ হাজার টাকা,মার্চ ২০২৪ ইং মাসে ৯৭ হাজার ৫ শত টাকা এবং এপ্রিল ২০২৪ ইং মাসে ৪৮ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা চেয়ারম্যানদয়ের ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে এপ্রিল ২০২২ ইং মাসে ৫৬ হাজার ৩ টাকা, জুন ২০২২ ইং মাসে ৪১হাজার ১ শত টাকা, এপ্রিল ২০২৩ ইং মাসে ১ লাখ ৫ হাজার ৬ শত ৪০ টাকা, জুন ২০২৩ ইং মাসে ৫২ হাজার ৮ শত ২০ টাকা, এপ্রিল ২০২৪ ইং মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার ২ শত ৬৫ টাকা, জুন ২০২৪ ইং মাসে ৪০ হাজার ২ শত ১৫ টাকা এবং সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং মাসে ৫৬ হাজার ৩ টাকা জ্বালানি খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। জ্বালানি, ভ্রমণ ও গাড়ি মেরামত খাতে গত পাঁচ বছরে ২৬ লাখ ৮ হাজার ৬ শত ২১ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সাধারণভাবে উপজেলা এলাকার বাইরে গাড়ী ব্যবহার করা যাবে না। তবে সরকারী কাজে জেলা সদরে কিংবা জেলা এলাকার মধ্যে গাড়ী ব্যবহার করা যাবে। যদি কোন বিশেষ কারণে জেলার বাইরে গাড়ী নেয়ার প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
উপজেলা পরিষদের জীপগাড়ী কোন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

উপজেলা পরিষদের গাড়ীর ব্যবহার ও জ্বালানী ব্যয় যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বলে উপজেলা পরিষদ ম্যানুয়ালে নির্দেশনা থাকলেও লাকসামে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে মনে করেন বিজ্ঞ মহল। উক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি জানান এলাকাবাসি।

আত্মগোপনে থাকা লাকসাম রেলওয়ে কর্মচারীর

আত্মগোপনে থাকা লাকসাম রেলওয়ে কর্মচারীর ভুতুড়ে হাজিরা

আত্মগোপনে থাকা লাকসাম রেলওয়ে কর্মচারীর ভুতুড়ে হাজিরা

সেলিম চৌধুরী হীরাঃ

চার মাস আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ হাজিরা খাতায় দুই দিনের স্বাক্ষর দিয়ে সমালোচনায় এসেছেন পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে লাকসামের ট্রেন পরীক্ষক (টিএক্সআর) আরিফুল হায়দার চৌধুরী মান্না।

তিনি লাকসাম রেল অঙ্গন সহ বিভিন্ন মহলের এবং কর্মচারীদের জন্য ছিলেন আতংক।

তার পরম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাকসাম হেড টিএক্সআর অফিসের ষ্টোর মুন্সী হাসান আহমেদ পলাশ।

সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের শ্যালক মহব্বত আলীর নাম ভাঙিয়ে প্লাটফর্মের মসজিদের পাশেই মাদক আখড়া বসানো, দখল ও টিকিট কালোবাজারি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের কারণে তারা সমালোচিত ছিলেন।

সামান্য ও তুচ্ছ কারণে রেলওয়ের কর্মচারী সহ সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন করতো তারা।
৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান তারা । ভুক্তভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পোস্টার ও ব্যনার সাটানোসহ মিছিল মিটিং করেছেন।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকাবস্থায় হঠাৎ এক ও দুই ডিসেম্বর ২০২৪ ইং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েছে আরিফুল হায়দার চৌধুরী ওরফে মান্না ও অজ্ঞাত ইউনুস৷

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়াকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে রেল অঙ্গনে। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে চলে যায় লাকসাম রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন টিএক্সআর আরিফুল হায়দার চৌধুরী মান্না এবং রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাকসাম হেড টিএক্সআর দপ্তরের ষ্টোর মুন্সী হাসান আহমেদ পলাশ।

আত্মগোপনে থাকা আরিফুল হায়দার চৌধুরী মান্নার স্বাক্ষরটি হেড টিএক্সআর আক্তার হোসেন নিজে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।খোঁজ নিয়ে হাজিরা খাতায় এই স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে অজ্ঞাত স্থান থেকে মান্নার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের খবরে তার হাতে নির্যাতিত লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত আরিফুল হকের কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে। এখনো কোন জবাব পাওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জানাগেছে, টিএক্সআর মান্না ও ষ্টোর মুন্সী হাসান আহমেদ পলাশ তারা বিগত ১০ বছর চাকরি না করেই তুলতেন বেতন ভাতা এবং টিএ বিল।
সাবেক সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের শ্যালক মহব্বত আলীর সঙ্গে চলাফেরা করার কারণে তাদের সঙ্গে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারতোনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, প্রকাশ্যে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, জিম্মি, হকারদের থেকে চাঁদাবাজিসহ সকল ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল তারা। সারাক্ষণ ঘুরাফেরা আর নেতাগিরি করে বেড়াতেন। পলাশ রেলওয়ের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলতো। লাকসাম স্টেশনকে নিজের কব্জায় রেখে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদেরকে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অটোরিক্সা চালক

লাকসামে অটোরিক্সা চালকের মরদেহ উদ্ধার

অটোরিক্সা চালক

লাকসাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার লাকসামে অটোরিক্সা ছিনিয়ে নিয়ে চালককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) লাকসাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টার থেকে মোঃ শাহজাহান (১৮) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শাহজাহান পার্শ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একটি পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়াটারে অজ্ঞাত অর্ধ গলিত গলাকাটা মরদেহের সন্ধান পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯ টায় মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে। বুধবার সকালে মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুদ্দিন খান জানান, সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার হলেও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি কেউ। তার গলা কাটা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

জানা জানি হলে বুধবার সকালে শাহজাহানের পিতা আব্দুল হান্নান ও মা নুরজাহান বেগম এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

পিতা আব্দুল হান্নান জানান, সোমবার সকালে শাহজাহান ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর আর ফিরে আসেনি।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে বুধবারে লাকসাম থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) সৌমেন মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন খান আরও বলেন, সিআইডি’র একটি দল এবং তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ দলসহ পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।