All posts by jitu

মে মাসে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৯%, ঝরেছে ৬৩১ প্রাণ: সেভ দ্য রোড

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০২৩ সালের শুরুতে দুর্ঘটনা কমলেও মে মাসে সড়কপথে আবারো ছোট-বড় দুর্ঘটনা বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ এবং এতে আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৩৬ জন। সেভ দ্য রোড-এর মহাসচিব শান্তা ফারজানা প্রেরিত প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, মে মাসে সড়কপথ দুর্ঘটনায় ৬৩১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৬২ টি মোটর বাইক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন, নিহত হয়েছেন ৫০ জন; ১ হাজার ৪৯৬ টি ট্রাক দুর্ঘটনায় আহত ১ হাজার ৭৫২ এবং নিহত হয়েছেন ৬২ জন, নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে, পরিবহন মালিকদের উদাসিনতা ও সতর্কতা অবলম্বন না করায় বিশ্রাম না নিয়ে টানা ১২ থেকে ২০ ঘন্টা বাহন চালনাসহ বিভিন্ন নিয়ম না মানায় ১ হাজার ৬০৫ টি বাস দুর্ঘটনায় আহত ১ হাজার ৮৫৩ এবং নিহত হয়েছেন ২৬৩ জন, দায়িত্বে অবহেলা, স্থানিয় পুলিশ-প্রশাসনের দুর্নীতিসহ বিভিন্নভাবে সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ বাহন নাসিমন-করিমন এবং অন্যান্য ৩ চাকার বিভিন্ন ধরণের বাহনে ১ হাজার ৩৩৭ টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪৪ এবং নিহত হয়েছেন ২৫৬ জন।

সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, জিয়াউর রহমান জিয়া, আইয়ুব রানা ও লায়ন ইমাম হোসেন-এর তত্বাবধায়নে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক দেশ রূপান্তর, দৈনিক দিনকাল, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক কালের কন্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক জনকন্ঠ, দৈনিক কালবেলাসহ ২২ টি জাতীয় দৈনিক, আরটিভি, জিটিভি, যমুনা নিউজ, মাছরাঙ্গা, এটিএন বাংলাসহ ২০ টিভি-চ্যানেল, জাগো নিউজ, বাংলা নিউজ, বিডি নিউজসহ আঞ্চলিক ও স্থানিয় ৮৮ টি নিউজ পোর্টাল এবং স্থানিয় প্রত্যক্ষদর্শী-সেভ দ্য রোড-এর স্বেচ্ছাসেবিগণের দেয়া তথ্যানুসারে এই প্রতিবেদন দুর্ঘটনামুক্ত পথ-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে। আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র সচেতনতা-গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়- ১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত নৌপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫২ টি। আহত হয়েছে ৯৭ জন, নিহত হয়েছে ১১ জন। রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১ টি। আহত হয়েছে ৫৮। নিহত হয়েছে ২১ জন। আকাশপথে কোন দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা. দায়িত্বে অবহেলা আর উদাসিনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্রবাসীদেরকে সহ্য করতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথের দুর্ঘটনামুক্ত পথ চলাচলের অধিকার রক্ষায় মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনিক এবং সাধারণ জনগনের সমন্বয়ের কোন বিকল্প নেই বলে সেভ দ্য রোড মনে করে। আর তাই বারবার ৭ দফায় ফিরে যাই। পাশাপাশি সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে গত ১৪ বছর যাবৎ ৪ পথ দুর্ঘটনামুক্ত করতে সেভ দ্য রোড-এর ৭ দফা দাবী নিয়ে এগিয়ে চলা অব্যহত রয়েছে ছাত্র-যুব-জনতা-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার ঐক্যবদ্ধতায়।

আর সেই ৭ দফা হলো- ১. মিরেরসরাই ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়ক পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগি নিয়োগ ও হেলপারদ্বারা পরিবহন চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দূর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারীভাবে দিতে হবে। ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দূর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সকল পরিবহন চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে আর কোন প্রাণ দিতে না হয়।

উল্লেখ্য, ‘সেভ দ্য রোড-এর অঙ্গীকার পথ দূর্ঘটনা থাকবে না আর…’ বাক্যটিকে লালন রেখে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ২০০৭ সালে পথচলা শুরু করে আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র সচেতনতা-গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড।

শাবল দিয়ে কুপিয়ে নিজের বাবাকে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রায় ১ বছর ঘর ছাড়া ছিলেন ইসমাইল হোসেন নামের এক যুবক। এর মধ্যে পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিলনা। হঠাৎ বাড়িতে ফিরে বাবার কাছে জমিজমার ভাগ চেয়ে বসেন তিনি। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে বাবাকে শাবল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে।

২০১৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর মহিউদ্দিন গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত ওই যুবককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দিয়েছেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে এ রায় দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন—মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ চর মহিউদ্দিন গ্রামের মৃত নজির আহম্মদের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে প্রায় এক বছর বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরুদ্দেশ ছিলেন ইসমাইল হোসেন। ওই এক বছর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর কোনোরকম যোগাযোগ ছিল না। ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে হঠাৎই গভীর রাতে বাড়িতে ফেরেন ইসমাইল। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী খেতে কৃষিকাজ করছিলেন তাঁর বাবা নজির আহম্মদ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই খেতে গিয়ে নজির আহম্মদের কাছে জমির ভাগ চান ইসমাইল। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে নজির আহম্মদের হাতে থাকা কাজ করার লোহার শাবল (খন্তা) কেড়ে নিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন ইসমাইল। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তক্ষরণ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নজির আহম্মদ।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ১টার দিকে মারা যান নজির আহম্মদ। পরে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ইসমাইলকে আসামি করে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ইসমাইলকে ঘটনার পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি ইসমাইল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু হত্যা, আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলায় আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী শিব নাথ ভৌমিক।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তীব্র গরমে এবার বিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তীব্র গরমে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এবার ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদেরকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৭ জুন) উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠ দানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে মঙ্গলবার একই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার (১২) তীব্র তাপ প্রবাহে অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া বলেন, প্রতি শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও স্কুল চলাকালীন বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আজ এসব ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী তীব্র তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।

গরমে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

তীব্র দাবদাহের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর এবার দেশের সব মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদিনের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সবমিলিয়ে টানা তিনদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

বুধবার (৭ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ‘তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা’ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৫ থেকে ৬ দিন দেশের ওপর দিয়ে চলমান মৃদু, মাঝারি এবং তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এই তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার কারণে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম আগামী ৮ জুন বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সৌদি আরবে কুমিল্লার যুবকের আত্মহ’ত্যা

 

সালাহ উদ্দিন সোহেলঃ

সৌদি আরবের রিয়াদে নিজ কক্ষ থেকে মোঃ হৃদয় (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছেন।

নিহত প্রবাসী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মিন্নত নগর গ্রামের আব্দুল সাত্তার বাবুলের মেজো ছেলে।

নিহত হৃদয়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে সে আত্মহ’ত্যা করেছে। এঘটনায় তার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ড.ইউনূসকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে কোম্পানীগঞ্জে বিক্ষোভ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ এ কর্মসূচি পালন করে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আইনুল মারুফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আরমান আল ইসলাম তন্ময়ের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

এর আগে, উপজেলার সরকারি মুজিব কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা, বসুরহাট পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বসুরহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক পরিদর্শন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে কাদের মির্জা বলেন, ড. ইউনূসকে সুদের ওপর নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। আজকে তার বিচার শুরু হয়েছে। এতদিন সে কোথায় ছিল, এখন কোথা থেকে আবির্ভাব হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ দখল করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্র বানাতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ঘাটি বানাতে চায়। সেখান থেকে তারা চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়। বাংলাদেশকে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর,বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি সামছু উদ্দিন নোমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রনি প্রমূখ।

কুবিতে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

 

কুবি সংবাদদাতাঃ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মানববন্ধন করেছে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা। বুধবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তারা।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ওমর ফারুকী তাপসের সঞ্চলনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠ ও লেখনীকে রুদ্ধ করে দিতে এ হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ হামলা করে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যাবেনা। সাংবাদিকরা সবসময়ের মত আজও ঐক্যবদ্ধ। এমন ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানাই আমরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন যদি কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।

এসময় মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু মুসা বলেন, সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের উপর দুর্বৃত্তদের এমন হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাব সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সমাধান করুন।

দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি আবদুর রহমান বলেন, সাংবাদিক সমিতির অফিসে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলছি হামলাকারীরা কাপুরুষের দল। তা না হলে এভাবে রাতের অন্ধকারে হামলা করতে পারেনা। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। হামলা করে সাংবাদিকদের দাবাইয়া রাখা যাবে না। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

দৈনিক সময়ের আলোর জেলা প্রতিনিধি ও কুমিল্লার কাগজের উপ-সম্পাদক জহির শান্ত বলেন, কুবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলার এতদিনেও কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাংবাদিকরা কেন আক্রমনের শিকার হয় তা আমরা জানি। দুর্বৃত্তরা যখন কোন অপকর্ম করে তা ডাকার জন্য তারা এ হামলা চালায়। সাংবাদিকরা বরাবরই হামলার শিকার হচ্ছে, হেনস্তার শিকার হচ্ছে কিন্তু তার কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। কোন বিচার না হওয়ায় বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তারাই ধারাবাহিকতা আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনারা সজাগ হোন।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইনকিলাবের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাদিক হোসেন মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের কার্যালয়ে হামলা ও সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা দেখেছি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি টেন্ডার বাণিজ্যের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িত। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করে তারা লেখাপড়াও করে। আর যারা রাজনীতি করে তারা পাশাপাশি টিকাদারি করে। এখানেই মজা নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আপনারা সাংবাদিকতা যারা করছে তাদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে তাদের দুর্বল করে দিতে চান। এছাড়া যারা রাজনীতি যারা করে তাদের মধ্যেও পিং সৃষ্টি করেছেন। আপনারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ভালমতো পালন না করেন, ছাত্রদের যদি সন্তান সমতুল্য মনে না করেন তাহলে আপনাদের কপালে দুঃখ আছে।

এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি খায়রুল আহসান মানিক বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালমন্দ নিয়ে লেখালেখি করে, দেশবাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানায় তাদের হেনস্তা করেছে এবং অফিস ভাঙচুর করেছে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা সাহসী। এরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ইত্যাদির অনিয়ম নিয়ে কথা বলে। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাদের সাহসের পরিচয় আমি পেয়েছি। সাংবাদিকদের হেনস্তা ও কার্যালয় ভাংচুর একান্তভাবে এটা দুঃখের, ঘৃনার।

এসময় বুড়িচং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বাবু বলেন, কুমিল্লা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সী, কুমিল্লার বার্তার সম্পাদক শামছুল আলম রাজন, জাগরনী টেলিভিশনের স্টাফ রির্পোটার আশিকুর রহমান আশিক, এখন টিভির ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, দৈনিক রূপসী বাংলার ফারুক আজম, দৈনিক আমাদের কুমিল্লার প্রতিবেদক সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, জাগরনী টিভির জেলা প্রতিনিধি আয়েশা আক্তার, দুর্নীতির সন্ধানের প্রতিনিধি ম্যাক রানা, বাংলাদেশ সমাচারের বিশেষ প্রতিনিধি মো. শাফি, দৈনিক গণমুক্তির প্রতিনিধি মহিউদ্দিন আকাশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইউসুফ আকাশসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীতে বৃষ্টির জন্য ইস্তিসকার নামাজ আদায়

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে অসহনীয় গরমে বৃষ্টির আশায় ইস্তিসকার নামাজ আদায় করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে জেলার সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের মুন্সি সেকান্দর আহমেদ জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে এ ইস্তিসকার নামাজ আদায় করা হয়।

মুন্সি সেকান্দর আহমেদ জামে মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত ইস্তিসকার নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় জামেয়া মাদানিয়া মাদরাসার মুহ্তামিম মুফতি নুরুল ইসলাম।

নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। একইসঙ্গে চোখের পানি ফেলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন মুসল্লিরা। এ সময় ইস্তিসকার নামাজে ছমির মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী,মাদরাসার ছাত্র,শিক্ষক, সাধারণ মুসুল্লি সহ দুই শতাধিক মানুষ নামাজে অংশ গ্রহণ করে।

মুসল্লিরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে নোয়াখালীতে তাপদাহে পুড়ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। রোদে কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে নোয়াখালীল ৯টি উপজেলার মানুষ। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বৃষ্টির আশায় ইস্তিসকার নামাজ শেষে ১২মিনিট পর্যন্ত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা সময় থেকে হালকা বাতাস বইতে শুরু করে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়তে থাকে।

“ঠিকরে ওঠো বাঙ্গালী”

“ঠিকরে ওঠো বাঙ্গালী”
এ কে সরকার শাওন

উন্নয়ন অদ্য ছুঁয়েছে খমধ্য,
মনুষ্য চরিত্র কুবিন্দুতে!
চরিত্র গঠন আশু প্রয়োজন
বাঙ্গালীর উতরে উঠতে!

অর্ধ-উন্মাদের লম্ফ-ঝম্ফে
সজ্জন অতি তাজ্জব!
অর্ধমৃতের উলম্ব নৃত্য
হায় হায় কী গজব!

চাড়াল-চণ্ডাল, ধড়িবাজ-ফিচেল
ঠগ শোতে জাঁহাবাজ!
সাংবাদিকে দেশ ভরপুর
সিংহভাগই ধোঁকাবাজ !

পথের কোনে ট্রেনে ষ্টেশনে
রংবাজ সাজে বিজ্ঞ!
তাদের চোখে রবীন্দ্র-নজরুল
নেহায়েতই অনভিজ্ঞ!

দেশদ্রোহীর প্রগভলতায়
জীবিত-মৃত স্তম্ভিত!
বদমাশ বদের বজ্জাতিতে
সুধী সমাজ লজ্জিত!

চেয়ার বসে বড় লাট বনে
বাঙ্গালী সেবক বিরল।
আরাম, আয়েশ, জবর দখল
কাজের কাজ অস্তাচল!

বক-ধার্মিক, চোর-ডাকু
শত নীতিকথা শোনায়!
রোষে জোশে জৌলুশে
মাইকে খৈ ফোঁটায়!

ভূমি-দস্যু, শিক্ষা-দস্যু,
কুচক্রী ব্যবসায়ী মহল!
জনতার রোদন ক্রমাগত ক্রন্দন
কে মোছাবে আঁখি জল?

মজুতদার ঘুষখোর চির বেজন্মা
শয়তানের গুরুভাই!
ওদের নখরে জাতি ফাঁপড়ে;
বিধাতার সাহায্য চাই।

অসৎ মাতালে কিলবিল করে
দেশের মনুষ্য জাতি!
দলগুলোর সাধ্য নাই আজ
ফেরাতে জাতির দুর্গতি!

পলাশীর প্রান্তরে এক মীরজাফরে
নবাবের করুণ পরাজয়!
সহস্র মীরজাফর-মোস্তাক আজ
নাচে শেয়ালের ইশারায়!

আবার পুরানো শকুনের দৃষ্টি,
দে