All posts by jitu

ঈদে মোটরসাইকেল পারাপারে থাকছে না নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক:

এবারও ঈদে লঞ্চে মোটরসাইকেল পারাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (৩১ মে) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুষ্ঠুভাবে নৌযান চলাচল এবং যাত্রী নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঈদ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকেই যায়, তারা লঞ্চে মোটরসাইকেল পারাপার করে। আমরা বিআইডব্লিউটিএকে বলেছি, এটা যতটুকু পারা যায় এডজাস্ট করার জন্য, মোটরসাইকেল লঞ্চে করে পারাপারের ক্ষেত্রে মালিকদেরকেও আমরা বলেছি।’ নৌপথে ভাড়া আগের মতোই থাকবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়ার ব্যাপারে কোন উঠানামা নেই।’

এসময় নৌপথের ভোগান্তি কমাতে আসন্ন ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে তিনদিন পর পর্যন্ত নদীতে বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান নৌ প্রতিমন্ত্রী। একই সময় পর্যন্ত পচনশীল পণ্য ও কোরবানির পশু ছাড়া অন্য মালামাল নৌপথে পরিবহন করা যাবে না।

৩ জুন শপথ নেবেন এরদোয়ান

অনলাইন ডেস্ক:

তুরস্কের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান আগামী ৩ জুন শপথ নেবেন। এদিকে দেশটির নতুন সরকার পরের দিন শপথ নিতে পারে। আঙ্কারার এক সূত্র বার্তা সংস্থা তাস’কে এ কথা জানিয়েছে। ওই সূত্র জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট শনিবার শপথ নেবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা রোববার শপথ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং নতুন সরকার তাদের কাজ শুরু করবে।’

ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) মুখপাত্র ওমার সেলিক বলেন, শপথ গ্রহণের পরপরই এরদোয়ান তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন। বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে মাত্র তিনজন তাদের পদে বহাল থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা হলেন পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বুধবার এরদোয়ান বর্তমান সরকারের শেষ অধিবেশন করবেন। এটি মস্কো সময় ১৫:৩০ টায় শুরু হবে এবং তা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তুরস্কের সর্বোচ্চ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল মঙ্গলবার ১৪ মে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করে। প্রটোকল অনুযায়ী ২ জুন পার্লামেন্ট সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা।

২৮ মে তুরস্কে দ্বিতীয় দফার পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে এরদোয়ানকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। ৯৯.৪৪ শতাংশ ভোট গণনা করে দেখা যায় এরদোগান ৫২.১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। সেখানে বিরোধী দলীয় প্রার্থী কামাল কিলিকদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭.৮৬ শতাংশ ভোট।

সূত্র -বাসস।

ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকার:মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির আন্দোলনকে বন্ধ করতে সরকার ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার বিরোধী দলের সাড়ে ১৩শ’ মামলা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আগামী নির্বাচনের আগে কিভাবে এই মামলাগুলো দ্রুত শেষ করে বিএনপি নেতাদের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠনোর যায়। যাতে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ছাড়া খালি মাঠে গোল দিতে পারে।’

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে ফখরুল আরও বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সাথে লক্ষ্য করছি, যে মামলা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে পুনরায় শুনানি করে সে মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেয়া হলো।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর ২০০৭ সালের মামলাগুলো অতিদ্রুত চালু করা হয়েছে। আত্মপক্ষের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন সাক্ষী হাজির করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কথা বলতে চাইলে তাদের ওপর সরকারি দলের আইনজীবীরা হামলা করে এবং পুলিশ দিয়ে নির্যাতন চালায়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সরকার এমন নোংরা ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দানবীয় সরকারকে সরানোর যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা হামলা মামলা দিয়ে দমানো যাবে না। এরা আমাদের কর্মসূচিতে আগ বাড়িয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। কেরানীগঞ্জ আমাদের নিপুন রায়কে মেরে আহত করা হলো, অথচ তাকেই মামলার এক নাম্বার আসামি করা হয়েছে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম, যুুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক প্রমুখ।

কুবিতে সাংবাদিক হেনস্থা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির জেরে এক শিক্ষার্থীকে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনার কারণ জানেতে চাওয়ায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিনিধি রুদ্র ইকবাল। তিনি ইংরেজি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে ছাত্রলীগের দাবি, রুদ্র ইকবাল নিজ বিভাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুই দফায় হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুদ্র ইকবাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। একই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা।

মানববন্ধনে উপস্থিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, ছাত্রলীগের এমন কর্মকান্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। সাংবাদিকদের কাজ হলো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা। তারই ধারাবাহিতায় রুদ্র ইকবাল সংবাদ তুলে আনতে গেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে ছাত্রলীগ তার উপর হামলে পড়ে। বিষয়টি ন্যাক্কারজনক। আমরা আশা করব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এসময় মানববন্ধনে অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (২৯ মে) দুপুর ১২ টার দিকে ইংরেজি বিভাগে ১৫ তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী হীরা ও আরমানের মধ্যে বিভাগেই মারামারির ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে আরমান কুমিল্লা শহরে থাকেন আর হীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকেন। মারামারির এক পর্যায়ে হীরা আহত হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান জানান, হীরাদের সম্ভবত ২ বন্ধুর মধ্যে কোন ঘটনা ঘটছিল। যখন সে আসে তার নাকের উপরের অংশে আঙ্গুলের নখ লাগাতে রক্ত বের হয়। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু কী নিয়ে ঘটনা ঘটছে, তা তারা বলতে চায়নি।

এদিকে হীরার পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিচে জড়ো হন। একই বিভাগ হওয়ায় দুপুর ১ টার দিকে রুদ্র ইকবাল পরীক্ষা শেষ করে বের হলে বিভাগটির ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার বন্ধুদের বিষয়টি জানান। মারধরের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১৫ তম ব্যাচের ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫জন নেতাকর্মী অনুষদের নিচে অবস্থান নেন।
এরই মধ্যে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ আরমানকে মূল ফটক থেকে শহরের গাড়িতে তুলে দেন। গাড়িটি আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত গেলে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের ঐ নেতা-কর্মীরা আরমানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এসময় গুরুতর আহত আরমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডিসহ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ হীরাকে দেখতে এবং বিষয়টি মীমাংসা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে যান।

একই সময়ে রুদ্র ইকবালও সংবাদ সংগ্রহের জন্য বঙ্গবন্ধু হলে যান। সেখানে শিক্ষকরা মারামারিতে জড়িতদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার এক পর্যায়ে রুদ্র ইকবাল প্রশ্ন তোলেন, ‘বিভাগের মারামারির বিষয়ে কেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করলো?’ এতে উপস্থিত ছাত্রলীগের কর্মী অমিত সরকার, আসিফ ইনতাজ রাব্বিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা গায়ে হাত তোলার উদ্দেশ্যে ইকবালের দিকে তেড়ে আসেন। পরে ইকবাল সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসেন।

এ ঘটনায় হীরা মিয়া বলেন, শিক্ষকরা যখন মিচ্যুয়াল করার কথা বলছিলো তখন রুদ্র ইকবাল বলেন মিটমাট কীসের? ওকে (আরমান) তো আবার পেটানো হয়েছে। এসময় তিনি আমার বন্ধুদের দেখিয়ে বলেন, এরা এরা পিটিয়েছিলো। তবে রুদ্র ইকবাল ছাত্রলীগকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ। এই মুহুর্তে কথা বলতে পারছি না।

একই ঘটনার জেরে বিকেল ৪টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই ফের সাংবাদিকদের সাথে উচ্চবাচ্য করেন রেজা-ই-এলাহি, মাহি হাসনাইন, আমিনুর বিশ্বাস, ওয়াসিফ, আসিফ এন্তাজ রাব্বি, নূরউদ্দিন হোসাইন, রাকিব হোসাইন, রাকেশ দাস, সাদ্দাম, মাহাবুব, মাসুম, নওশীন, রাফিসহ অন্যান্যরা। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে তেড়ে আসতেও দেখা যায় তাঁদেরকে। এদের মধ্যে রেজা-ই-এলাহি ও তার অনুসারী হেনস্তাকারীদের অনেকেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই।

এসময় ২০১৭ সালে ছাত্রলীগের কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক শিক্ষার্থী রেজা-ই ইলাহির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মীরা সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন ও উচ্চবাচ্য করেন। এসময় তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাংবাদিকরা এখনও আমাকে চিনে না, আমি কে। এই ক্যাম্পাস কারো বাপের না। সাংবাদিকরা আমাদের কী করবে, দেখে নেব। গুন্ডামির কী দেখছে।’

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজা-ই-এলাহি বলেন, সে (ইকবাল) বলেছে, ‘ইংলিশ ডিপার্মেন্টে নাকি ছাত্রলীগ ঢুকতে পারবে না। সে ছাত্রলীগকে দেখে নেবে। তবে আমি সাংবাদিকদের হেনস্তা করিনি। তারা আমাদের সাথে উচ্চবাচ্য করেছে। বিশৃঙ্খলাকারী কেউ আমার কর্মী নয়।’

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। আগামীকাল ১১টায় আমাদের একটা মিটিং আছে আমরা সেখানে এটা নিয়ে আলোচনা করবো।

কুমিল্লা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার অসহায়-নি:স্ব মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও  ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।

৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র দিক নির্দেশনায় ৩১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার (৩০ মে) কুমিল্লা সদরের কালিরহাট এলাকার এবিসি ইন্টারন্যাশাল স্কুলে সারাদিন ব্যাপি এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

৩১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ মেহেদীসহ ৩১ ও ৩৫ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্সের ক্যাপ্টেন ইয়াছিন, ক্যাপ্টেন তানহিয়াতসহ ৭ জন চিকিৎসক এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।

৩১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ মেহেদী জানান, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের দিক নিদেশনায় আমরা ৩১ ও ৩৫ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স আজ কালিরবাজার এলাকায় স্থানীয় অসামরিক জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ প্রদানের আয়োজন করেছি। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বেসামরিক ও অসহায় মানুষের জন্য এমন মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে থাকি। এখানে আসা রোগিদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী-শিশু ও বয়স্ক লোকের সংখ্যাই বেশি। আমরা ফ্রি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে ঔষধও প্রদান করেছি।

বুড়িচংয়ে মাদক কারবা‌রি‌দের গ্রেপ্তারের দাবীতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় মাদক কারবা‌রিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে ব‌্যানার ফেস্টুন নি‌য়ে গ্রা‌মের নারী -পুরুষ সড়‌কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ।

মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়‌কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনু‌ষ্ঠিত হয়।উক্ত সমাবেশে প্রায় ৫ শতাধিক গ্রামের সাধারণ ও সচেতন মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মাদক‌ বি‌রোধী সমা‌বে‌শে গ্রা‌মের সাধারণ মানু‌ষেরা বলেন,কু‌মিল্লার সীমান্তবর্তী লড়িবাগ ও তার আশপা‌শের ক‌য়েক‌টি গ্রামে একাধিক মাদক মামলার আসামী মাদককারবা‌রিরা ওই গ্রামের সড়ক দি‌য়ে মাদক কারবা‌র ক‌রেছে। মাদক সেবনে গ্রামের যুবসমাজ‌কে উৎসা‌হিত ক‌রে ধ্বংস কর‌ছে।আর তাই গ্রামের যুবসমাজ‌কে রক্ষায় মাদককারবার বন্ধের দাবীতে প্রশাস‌নের কার্যকর পদ‌ক্ষেপ নেয়ার দাবী গ্রামবা‌সির।

সম্প্রতি মাদক ব্যবসার সংবাদ প্রশাসন‌কে দেয়ায় ওই গ্রা‌মের পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসায়ী আবদুল খালেক শাহীনকে প্রাণনা‌শের হুম‌কি‌ দেয় চি‌হিৃত মাদক কারবা‌রিরা। মাদকব্যবসায়ীদের বিরু‌দ্ধে কথা বল‌লেই গ্রা‌মের মানু‌ষদের প্রতি‌নিয়ত হামলা শিকার হয় এবং অপপ্রচার চালায় । চিহৃিত মাদক কারবারিরা হলেন বুড়িচং থানার মাদক মামলার আসামি মোঃ আলম,মোঃ মনির হোসেন, মোঃ আলী জিসান, খোকন মিয়া,খসরু,সাইফুল,মোঃ গিয়াস উদ্দিন,মোঃ মানিক মিয়া,মোঃ হান্নান,মোঃ গিয়াস উদ্দিন-২সহ আরো অনেকে।গ্রামবা‌সিরা দ্রুত মাদককারবা‌রি‌দের গ্রেপ্তারের দাবী জানান।

মানববন্ধন পথপ্রতিবাদ সমা‌বে‌শে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, সাবেক ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন, প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম, হুমায়ূন সদ্দারসহ আরো অনেকে।

নোয়াখালীতে গুলিবিদ্ধ আ.লীগ নেতার মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হাজী মো.দুলাল মেম্বার (৪৭) মারা গেছেন।

সোমবার (২৯ মে) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত দুলাল আন্ডারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। তিনি আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ছিলেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজারের পূর্ব পাশে জাকিরের বাড়ির একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও নিহতের জেঠাতো ভাই মো.হানিফ দুলাল মেম্বারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে আন্ডারচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়াম্যান জসিমের বাড়িতে একটি সালিশ করতে যান দুলাল মেম্বার। সেখানে থেকে সালিশ শেষে তিনি মোটরসাইকেল যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রা পথে মোটরসাইকেলটি জসিম চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন বাংলাবাজারের পূর্ব পাশে জাকিরের বাড়ির সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরপর ছোড়া দুই রাউন্ড গুলি দুলালের পিঠের বাম পাশে এবং ডান হাতে বিদ্ধ হয়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে দুলালের দুই সহযোগী হাসান ও শহীদ গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ৪দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে দুলাল মেম্বারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ হচ্ছে না।

গুন্ডামির কি দেখছো, সাংবাদিকদের দেখে নিবো!

 

চাঁদনী আক্তার ,কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রুদ্র ইকবাল।

সোমবার দুপুরে ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী হীরা মিয়া ও আরমান উদ্দিনের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে হীরার সমর্থনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন  আনসার ক্যাম্পের সামনে আরমানকে মারধর করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহি সমর্থিত শাহাদাত তানভীর রাফি, নওশীন আল ইসলাম, সাইফ আদনান, ফয়সাল, সজীব, আরিয়ান অঞ্জন ও তন্ময়সহ ১০ থেকে ১২জন ছাত্রলীগ কর্মী।

রেজা-ই-এলাহি ৬ বছর আগে বিলুপ্ত কুবি শাখা ছাত্রলীগ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি কুবি শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রার্থী । তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদেরকে দিয়ে ফাঁকাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো এবং মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে।

সোমবারের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক রুদ্র ইকবালকে হেনস্তা করেন রেজা সমর্থিত আসিফ এন্তাজ রাব্বি, অমিত সরকার ও সাদ্দামসহ অন্যান্যরা।

একই ঘটনার জের ধরে বিকেল ৪টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই ফের সাংবাদিকদের সাথে উচ্চবাচ্য করেন রেজা-ই-এলাহি, লোক প্রশাসন ৯ম ব্যাচের মাহি হাসনাইন, নৃবিজ্ঞান ১০ ব্যাচের আমিনুর বিশ্বাস, সিএসই বিভাগের ওয়াসিফুল ইসলাম, আসিফ এন্তাজ রাব্বি, লোক প্রশাসন ১১ ব্যাচের নূরউদ্দিন হোসাইন, বাংলা বিভাগের রাকিব হোসাইন, নৃবিজ্ঞান ১৪ ব্যাচের রাকেশ দাস, লোক প্রশাসন ১৩ ব্যাচের সাদ্দাম, লোক প্রশাসন ১৪ ব্যাচের মাহাবুব, ১২ব্যাচের রিফাত, অর্থনীতি বিভাগের মাসুম, নওশীন, রাফিসহ অন্যান্যরা। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে তেড়ে আসতেও দেখা যায় তাঁদেরকে।

এদের মধ্যে রেজা-ই-এলাহি ও তার অনুসারী হেনস্তাকারীদের অনেকেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই।
এ সময় সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্য করে রেজা-ই-এলাহি বলেন, ‘সাংবাদিকরা এখনও আমাকে চিনে না, আমি কে। এই ক্যাম্পাস কারো বাপের না। সাংবাদিকরা আমাদের কী করবে, দেখে নেব। গুন্ডামির কী দেখছে।’

এ ঘটনার পর রেজা সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মিছিল দেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুদ্র ইকবাল বলেন, ‘আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানিতেই আমার ওপর হামলে পড়ে।’

এসব বিষয়ে রেজা-ই-এলাহী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের হেনস্তা করিনি। তারা আমাদের সাথে উচ্চবাচ্য করেছে। বিশৃঙ্খলাকারী কেউ আমার কর্মী নয়।’

নিয়মিত ছাত্র না হয়েও আপনি ক্যাম্পাসে মিছিল করতে পারেন কি না-এমন প্রশ্নে রেজা-ই-এলাহি বলেন, ‘এটা প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেন। আমাকে কেন? আমি সবকিছুই করতে পারি। প্রশাসন এই বিষয়ে অবগত আছে।’

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘রেজা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেনিং এমবিএ করছে। তবে ক্যাম্পাসে কেউ কিছু করতে চাইলে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। তারা বলছে তারা মিউচুয়াল হয়ে গেছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি এখানে মধ্যস্থতা করেছি।’
তবে সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রক্টর।

পদ প্রত্যাশীর কথা বলে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদেরকে পদে আনার কোনো প্রশ্নই আসে না দাবি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘এই মুহুর্তে কুবি ছাত্রলীগের কোনো সাংগঠনিক কমিটি নেই। কেউ ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তার দায়ভার নেবে না।

ইনান আরও বলেন, সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, তারা যেন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।