All posts by jitu

দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দামে রেকর্ড, লাখ টাকা ছুঁই ছুঁই

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এতে করে নতুন করে সব থেকে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম হয়েছে ৯৯ হাজার ১৪৪ টাকা। এটি দেশের বাজারে সোনার দামে রেকর্ড।

শনিবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) দাম নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক ভূঁইয়া লিটনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা বাড়িয়ে ৯৯ হাজার ১৪৪ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৯৪ হাজার ৬৫৩ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৮১ হাজার ১২৩ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫৯৩ টাকা করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার ১ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ১ হাজার ৬৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ১ হাজার ৫০ টাকা ভরি বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ মার্চ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১৬৭ টাকা বাড়িয়ে ৯৭ হাজার ৬২৮ টাকা করা হয়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ৯৩ হাজার ১৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৯১ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৮৯৮ টাকা এবং আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৬৬ হাজার ৫৪৩ টাকা করা হয়।

ইফতারিতে নিষিদ্ধ কাপড় ও টেক্সটাইল রং ব্যবহার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার তৈরি ও নিষিদ্ধ কাপড়ের রং ও টেক্সটাইল রং ব্যবহার করায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

শনিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাওছার মিয়ার নেতৃত্বে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ডিবি রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

এসময় চিকেন চাপ, চিকেন টিক্কা, আলুরচপে নিষিদ্ধ কাপড়ের রং, টেক্সটাইল রং ব্যবহার করায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার তৈরি করায় আজমেরী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শওকত আলী এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ।

পুলিশের পোশাক পরে বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় ভুয়া পুলিশ আটক

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার পুলিশের পোশাক পড়ে বান্ধবীকে নিয়ে রিক্সায় বেড়ানোর সময় মো. সাগর হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।

তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি ভূয়া পুলিশের আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

মো. সাগর হোসেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলাম এর ছেলে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, কিছুদিন পূর্বে সারা দেশে পুলিশ কনস্ট্রেবল নিয়োগে তার চাকুরী হয়েছে বলে বান্ধবীকে জানায়। এসময় পুলিশের পোশাক পড়ে বান্ধবীকে ছবি তুলেও পাঠায়। এরই মধ্যে ওই বান্ধবীকে নৌ-বাহিনীতে চাকুরী দিবে বলে প্রলোভন দেখাতে শুরু করে ওই যুবক। ইতিমধ্যে তার বান্ধবীর কাছ থেকে সকল কাগজপত্রও নিয়ে নেয় সে। ওই বান্ধবীর সাথে চলা ঘনিষ্ট সম্পর্কের অপর বান্ধবীকেও ওই চাকুরী দিবে বলে শুক্রবার পোশাক পড়ে চান্দিনায় আসে সাগর হোসেন।

বান্ধবীকে নিয়ে রিক্সায় যাওয়ার পথে নজরে পড়ে চান্দিনা থানা পুলিশের। এসময় চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঢাকায় কর্মরত আছে বলে দাবী করেন ওই যুবক।

তার কথায় গড়মিল থাকায় থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বান্ধবীর কাছে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিতে এ কৌশল নিয়েছে ওই যুবক। এসময় তার কাছ থেকে পুলিশের একটি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামানসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রমজানের ৮ম দিনেও অসহায়দের মাঝে ইফতার বিতরণ

উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:
কুমিল্লা সিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নগরীজুড়ে মাসব্যাপি ইফতার বিতরণ কর্মসূচী চলছে। নগরীর খন্দকার হক ট্ওায়ারের সামনে নিয়মিত প্রতিদিন ৫ শতাধিক মানুষকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন বিকেল ৫ টা থেকে এই ইফতার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সমাজের নি:স্ব, অসহায়, দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের জন্য সিটি ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে এই কর্মসূচী।

এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলেও ৬ শতাধিক মানুষকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইফতার বিতরণ কর্মসূচীতে প্রতিদিন অংশগ্রহণ করছেন সিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি জামাল খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন , উপদেষ্টা মোঃ সালাউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক তারিকুল ইসলাম লিটন , যুগ্ম সম্পাদক গোলজার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি সুমন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশামুল হক জাবেদ, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক জমাত উল্লাহ, মনির হোসেন,আনোয়ার হোসেন,নির্বাহী সদস্য মাসুদ করিম মাসুম, খোরশেদ আলম, সাদ্দাম, আরিফ হোসেন প্রমুখ।

৭ এপ্রিল “ফ্রেন্ডস অব কুমিল্লা‘র ইফতার ও দোয়া মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার:

আগামী  ৭ এপ্রিল ১৬ রমজানে “ফ্রেন্ডস অব কুমিল্লা-২০০১ ব্যাচের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল -২০২৩ অনুষ্ঠিত হবে।

নগরীর  কান্দিরপাড়ের ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডের  গোল্ডেন স্পুন বাফেট রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে এ ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, আমরা আশা রাখছি সকলের অংশগ্রহণে গতবারের ন্যায় এবারো একটি সুন্দর ইফতার মাহফিল ও বন্ধুদের সফল মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ !

 

নগরীতে পোশা‌কের ব্রান্ড সপ ও বাজা‌রে অভিযান চালিয়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় ৯তম রমজা‌নেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩ প্রতিষ্ঠানকে ১১ হাজার টাকা জ‌রিমানা ক‌রে‌ছে ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ।

শনিবার (১ এপ্রিল) সকাল সা‌ড়ে ১০টা থে‌কে নগরীর ঝাউতলা, বাদুরতলা ও নিউমা‌র্কেট এলাকার পোশা‌কের ব্রান্ড সপ, ফল ও ইফতা‌রি বাজা‌রে তদার‌কি অ‌ভিযান প‌রিচালনা করা হ‌য়।

এ সময় বি‌দেশী প‌ণ্যে আমদা‌নি কার‌কের স্টিকারবিহীন নি‌জে‌দের ম‌তো মূল‌্য ব‌সি‌য়ে বি‌ক্রি করার অ‌ভি‌যো‌গে ঝাউতলা এলাকার ডিজাইন লাইফ স্টাইল সপ‌কে ৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়েছে। বা‌সি খাবার বি‌ক্রির উ‌দ্দে‌শ্যে সংরক্ষণ করায় সি‌টি মা‌র্কেটের হাজী বি‌রিয়া‌নি হাউজ‌কে ৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয় ও বা‌সি ডিম জব্দ ক‌রে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও আজ অন‌্যায‌্য মূ‌ল্যে ফল বিক্রি ও ক্রয় ভাউচার দেখাতে না পারায় নিউমা‌র্কেট এলাকার সোহাগ ফল বিতান‌কে ১ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়।

সহকার‌ী প‌রিচালক মো: আছাদুল ইসলা‌মের নেতৃ‌ত্বে প‌রিচা‌লিত এ অ‌ভিযা‌নে উপ‌জেলা স‌্যা‌নিটা‌রি ইন্স‌পেক্টর এ‌কে আজাদ এবং জেলা পু‌লি‌শের এক‌টি টিম উপ‌স্থিত থে‌কে সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতা ক‌রেন। জনস্বা‌র্থে এ কার্যক্রম অব‌্যাহত থাক‌বে।

১ হাজার টাকার জন্য রোগীকে আটকে রাখল কুমিল্লার ইউনাইটেড হাসপাতাল!

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এক রোগি মাত্র ১ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাকে হাসপাতালে আটক করে রাখেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) নগরীর ইউনাইটেড নামক একটি হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটে।এমন খবর নগরীতে ছড়িয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিক কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সনজুর মোর্শেদের নির্দেশনায় একটি টিম হাসপাতালে যাওয়ার পরে ওই রোগীকে উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দ প্রশাসনের নিকট তাৎক্ষণিক ক্ষমা চান।

জানা যায়, কুমিল্লার বরুড়া থেকে সাইফুল (২৫) নামে এক রোগী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিতে ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি হন।ইমারজেন্সি বিভাগে সাইফুলের একটু উন্নতি হতে থাকলে পরিবারের লোকেরা এক দালালের খপ্পরে পড়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী সাইফুলকে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রীজের ইউনাইটেড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। এতে রোগী ওই হাসপাতালে ৯ ঘন্টা ভর্তি থাকার পর চলে যেতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীর পরিবারের নিকট প্রায় ২২ হাজার টাকার একটি ছাড়পত্র ধরে দেন।রোগী এতো টাকার পত্র দেখে আঁতকে ওঠে। রোগী সাইফুল ও তার পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুনয়-বিনয় করেও এই টাকার কোনো কমতি না পাওয়াই নিরুপায় হয়ে নগরীতে তার আত্মীয়দের দারস্থ হয়।আত্মীয়দের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। রোগী অতোটা স্বাবলম্বী না হওয়াতে ১ হাজার টাকা দিতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটকিয়ে রাখে রোগীকে।

ভুক্তভোগী সাইফুল বলেন,দালাল যখন হাসপাতালে নিয়ে আসে আমরা এতোটা বুঝতে পারিনি, এখানে এতো টাকার বিল আমাদের দিবে। হাসপাতালে দশ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও তারা আরো টাকা চায়। হাসপাতালের ম্যানেজার বলে দালালকে নাকি ৫ হাজার টাকা দিতে হইছে । তাই তাদের বাড়তি টাকা দিতে হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সনজুর মোর্শেদ বলেন,ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ঘটনার সমাধান হয়।  পরবর্তীতে রোগীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে এমনিতে সেবার মান এতোটা ভাল নয়। তার মধ্যে রোগীদের নিকট এতো টাকা কেন নেয়,তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। তবে রোগীকে টাকার জন্য আটকিয়ে রাখাটা তারা ঠিক করেনি।

নোয়াখালীতে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে তানিয়া আক্তার (২২) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত তানিয়া উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরবাটা গ্রামের মো.রিপনের স্ত্রী।

শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে তার শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত দুদিন আগে স্বামীর জামা কাপড় ধোয়া ও টাকা নিয়ে তানিয়ার সাথে স্বামীর ঝগড়া হয়। পরে তার স্বামী তার রাগ ভাঙাতে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর ওপর অভিমান করে নববধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেব প্রিয় দাশ জানান, ৪-৫ মাস আগে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামের রিপনের সাথে জেলার সদর উপজেলার দত্তের হাট এলাকার নুরুল হকের মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। গতকাল দুপুরের দিকে সে স্বামীর বাড়িতে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় এনে রাখা হয়।

ওসি আরো জানায়, শনিবার সকালের দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

সনদ নেই, তারপরও বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক পরিচয়ে দুই যুগ পার!

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:
‘ডাক্তার’ জোহরা আক্তার। রোগীদের গাইনি বিভাগের চিকিৎসা দিয়ে বেশ খ্যাতি ছড়িয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলাসহ আশ-পাশের কয়েকটি উপজেলায়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি অন্তত শতাধিক রোগী দেখেন তিনি। অন্যান্য ডাক্তাদের তুলনায় ভিজিট কম হওয়ায় রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বেশ।

প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি নারীদের সকল সমস্যায় রোগী ভিজিট, আল্টাসনোগ্রাফী, সন্তান প্রসব করিয়ে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাবী করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন জোহরা আক্তার। এছাড়া অনাকাঙ্খিত অনাগত সন্তান পরোচিত গর্ভপাত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে ইতিমধ্যে কোটিপতি বনে গেছেন সনদহীন ওই চিকিৎসক।

সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন সংলগ্ন ‘মা-মনি মেডিকেল সেন্টার’-এ গিয়ে দেখা যায় অনেক নারী রোগীর ভীড়। তারা কার কাছে এসেছেন জানতে চাইলে তারা জানান, ‘আমরা জোহরা ডাক্তারের কাছে এসেছি’। দেখা যায়, ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচ তলার একটি কক্ষে রোগী দেখছেন জোহরা আক্তার। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর স্বাক্ষাৎ হয় তার সাথে। তিনি কোন মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করেছেন এমন প্রশ্নে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

‘ডাক্তার’ হিসেবে তার নেই এমবিবিএস পাশের সনদ। ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে জানতে চাইলে তিনি দেখান কুমিল্লা মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের একটি সনদপত্র। ওই সনদেও নেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর! তারপরও তিনি ‘ডাক্তার’ লিখেন কিভাবে? এমন প্রশ্নে তিনি সোজা-সাফটা উত্তর দেন, ‘আমার নামই ডাক্তার’! ডাক্তার আবার নাম হয় কিভাবে? এমন প্রশ্নে তিনি বের করে আনেন নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র স্মার্ট কার্ড। সেখানে লিখা আছে ‘ডা. জোহরা আক্তার’!

 

 

জানা যায়, প্রাইভেট হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মজীবন শুরু করেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা জোহরা আক্তার। ২০০২ সাল থেকে নিজেকে এমবিবিএস (গাইনি) চিকিৎসক দাবী করে শুরু করেন চিকিৎসা সেবা। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের ‘জননী হাসপাতাল প্রা. লি.’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ বছর গাইনি রোগীদের সেবা দেওয়ার পর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভিজিটে ধরা পরেন তিনি। ২০০৮ সালে ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতকালে তিনি এনআইডি কার্ডে কৌশলে নিজের নাম দিয়েছেন ‘ডা. জোহরা আক্তার’। এনআইডি কার্ডে নিজের স্বাক্ষরও দিয়েছেন ‘ডা. জোহরা আক্তার’ লিখে। প্রশাসন বা সচেতন মহলের প্রশ্নের জবাব দিতে ডাক্তার পরিচয় প্রদানে ওই অভিনব কৌশল তার।

 

 

পরবর্তীতে চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সীমান্তবর্তী চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন এলাকার একটি ওষুধ দোকানে রোগী দেখা শুরু করেন জোহরা আক্তার। সেখানে সকাল-বিকাল রোগী দেখার পাশাপাশি সুবিধাজনক স্থানে জায়গা কিনে অনুমতি ছাড়াই গড়ে তুলেছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেখানে গড়ে তুলেছেন ৭তলা ভবন। আর ওই ভবনের নামও দিয়েছেন ‘ডা. জোহরা আক্তার কমপ্লেক্স’। নামের পাশে ডাক্তার লিখে রোগী দেখার অপরাধে প্রশাসন কয়েকবার তাকে আটক করে তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় এখন কৌশল পরিবর্তন করেন তিনি। ডায়গনস্টিক সেন্টারের নামের নিচে বড় অক্ষরে নিজের নাম ‘ডা. জোহরা আক্তার কমপ্লেক্স’ প্রেসক্রিপশন প্যাড তৈরি করে সেই প্যাডে রোগীর চিকিৎসাপত্র লিখেন তিনি। যে কোন রোগী গেলেই চিকিৎসাপত্রের বাম পাশে লিখে দেন ৪-৫টি পরীক্ষা। যার সবগুলোই নিজের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করা বাধ্যতা মূলক। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি যেন বাধ্যতা মূলক একটি পরীক্ষা! রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা থেকে শুরু করে রিপোর্টও করেন তিনি। আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টের রেফারেন্স ডাক্তারের নামের স্থানেও লিখে ‘ঝবষভ ’ (নিজ)।

সম্প্রতি হালিমা আক্তার নামে চান্দিনার এক কলেজ ছাত্রী সামান্য সমস্যা নিয়ে যান তার কার্যালয়ে। ৩শ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখানোর পর যথারীতি গদবাঁধা সেই পরীক্ষা। আর চিকিৎসাপত্রে রোগীর সমস্যা কথা থেকে শুরু করে ওষুদের বানানে বহু ভুল থাকার বিষয়টি জানান একাধিক চিকিৎসক।

তার এ অনিয়ম এর অনুসন্ধান করতে গেলে স্বঘোষিত ‘ডাক্তার’ জোহরা আক্তার অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমারটা দেখেন আর কারও টা দেখেন না? চান্দিনা-দেবীদ্বারসহ সারা দেশেই তো কতমানুষ ডাক্তার লিখে চিকিৎসা দিচ্ছে সেগুলো বন্ধ করেন আগে’।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছিমা আক্তার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু এখন জেনেছি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।