All posts by jitu

সদর দক্ষিণে ২৬৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণের কনেতলা বাজার এলাকা হতে ২৬৪ বোতল ফেন্সিডিল’সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল ২৮ মার্চ সকালে সদর দক্ষিণের কনেশতলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণের দূর্গাপুর গ্রামের মৃত. এরশাদ মিয়ার ছেলে মোঃ মনির হোসেন (২৯)।

এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

সিএনজি স্টেশন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংগ্রহ করে হোটেলে সরবরাহ,সিলিন্ডারসহ ২ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের  চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে জমজম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং ‘মায়ামী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’ এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে ৩টি  রেজি: নাম্বার বিহীন ডেলিভারি ভ্যানের ভেতরে  বিশেষ কায়দায় ফিটিং অবস্থায় অবৈধ ২৭ টি গ্যাস সিলিন্ডার আটক করে জেলা ডিবি পুলিশ। এ সময় এ ঘটনায় জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া দুইজন হলেন  কুমিল্লা সদরের মৃত. আ; রশিদের ছেলে মোঃ রইস (৪০) ও মৃত. মোসলেমের ছেলে মোঃ ফয়সাল (২০)।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) কুমিল্লা  পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  আটক হওয়া দুইজন জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত বিশেষ প্রক্রিয়ায় গাড়ির ভিতর গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করে ‘রানা সিএনজি স্টেশন’ নামক সিএনজি স্টেশন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংগ্রহ করে জমজম হোটেল ও মায়ামী হোটেল ছাড়াও অন্যান্য অনেক হোটেলেই এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

এ ঘটনায় এসআই মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে  কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

দেবিদ্বারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

 

স্টাফ  রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার সড়কে এ কর্মসূচী পালন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা বলেন, চলতি বছরের ১৫ মার্চ মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কিছু লোক অভিযোগ আনে। অভিযোগে তারা বলেন, এই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং একই দিন শ্রেণিকক্ষের সকল শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়ে ওই ছাত্রীকে পুনরায় শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মূলতপক্ষে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত সাজানো ঘটনা। বিদ্যালয় চলাকালে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে কিংবা অফিসের দরজা-জানালা বন্ধ করে এমন ঘটনা করা সম্ভবপর নয়। এছাড়া ওইদিন বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করেও এমন কোন ঘটনা পাওয়া যায়নি বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমাদের জানিয়েছে। অথচ এই সাজানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতি অল্প সময়ে শতশত ককটেল বিস্ফোরণ, বিদ্যালয় ভাংচুর, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, প্রধান শিক্ষক ও তার জামাতার দুটি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যা আমাদের কাছে পূর্বকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রদ্যাহারসহ নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোমেন, সহসভাপতি আবু সেলিম ভূইয়া, আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আকবর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

সেহরি খেতে উঠে ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখল মা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বসত ঘর থেকে এক যুবকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মো.তাওহিদ (২০) উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার আর্মি বাড়ির মো.মহিউদ্দিন ওরফে খোকনের ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সুন্দলপুর গ্রামের দেলোয়ার আর্মি বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের মা রেহানা আক্তার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মঙ্গলবার ভোর রাতে সেহরি খেতে উঠেন। ওই সময় রোজা রাখার জন্য সেহরি খেতে ছেলেকে ডাকাডাকি শুরু করেন তিনি । ছেলে তার মায়ের ডাকে সাড়া না দিলে, তিনি জোরে দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। রেহানা বেগম দরজা খুলে দেখেন ছেলে তাওহিদ টিনের ঘরের আড়ায় গামছা দিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। এরপর রেহানা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, ৮-৯মাস আগে তাওহিদ প্রেম করে বিয়ে করে ফেনীর পশুরাম এলাকার মমতাজ নামের এক তরুণীকে। বিয়ের পর থেকে
বাবা-মায়ের সাথে স্ত্রী মমতাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ লেগে থাকত। পরিবার ও স্ত্রীর ওপর অভিমান করে সোমবার দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময়ে বসত ঘরের নিজ শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস্ এসোসিয়েশনে’র নেতৃত্বে ইকরাম-রবি

 

কুবি প্রতিনিধি :

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক ছাত্র সংগঠন “কিশোরগঞ্জ জেলা স্টুডেন্টস্ এসোসিয়েশনে’র নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৭মার্চ) সংগঠনের সভাপতি কাজল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান হৃদয় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নবগঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবি চঁন্দ্র দাস।

এছাড়াও সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.আবু সালেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া সুলতানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজীব।

নবনিযুক্ত সভাপতি ইকরাম হোসাইন নিজের অনূভুতি ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আমাদের সংগঠন অতীতের ন্যায় কিশোরগঞ্জ হতে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা,সহমর্মিতা ও কল্যানমূলক কাজে নিয়োজিত থাকবে। আমার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো অতীতের ন্যায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও সাবলীলভাবে সংগঠনের প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

তিনি আরো বলেন, অতীতে যেমন আমরা মিলেমিশে কাজ করেছি, ভবিষ্যতে যেন তা অব্যাহত রাখতে পারি এ জন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চাই।

উল্লেখ এ কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।

কুবিতে আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও পুরস্কার বিতরণ

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী সংগঠন আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ‘প্রত্নতত্ত্ব সপ্তাহ-২০২২’ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৩টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হল রুমে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

বি এম সুমন ও খন্দকার নাঈমা আক্তার নূরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্ট এন্ড হেরিটেজ সোসাইটির সভাপতি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহারাব উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ও প্রভাষক রেজওয়ানা আফরিন রুম্পা।

আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, সদ্য বিদায়ী কমিটি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছে। আশাকরি নতুন কমিটি এ দ্বারা অব্যাহত রাখবে।

মহান স্বাধীনতা দিবসে দেবিদ্বারে আ’লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা আ’লীগের আয়োজনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনাসভা রোববার বিকেলে উপজেলার মোহনা আবাসিক এলাকার রৌশন ভিলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এ কে এম শফিউদ্দিন’র সভাপতিত্বে এবং আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মিজানুর রহমান এর পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ রৌশন আলী মাস্টার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর আ’লীগের  উপদেষ্টা এটিএম মেহেদী হাসান বুলবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, ধর্ম বিষয় সম্পাদক মোতাহের হোসেন মোল্লা, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ মাসুদ পাখি, সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মোসলেহ উদ্দিন মাস্টার, উপজলে আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ মাহমুদ, মোঃ ওমর ফারুক, আ’লীগ নেতা লুৎফর রহমান বাবুল, উপজেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তফাফিজুর রহমান, আ’লী নেতা মফিজুল ইসলাম দুলাল সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও ইউপি চেয়ারম্যান গণ বক্তব্য রাখেন।

এসময় উপস্থিত বক্তারা বলেন , যারা জয় বাংলা ধানের শীষের রাজনৈতি যারা করে তাদের রাজনীতি আমরা করিনা।আমরা রাজনীতি করি জয় বাংলার নৌকার। বক্তারা আরো বলেন -দেশ যখন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে তখন একটি চক্র উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই সকলে ঐক্য বদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা হাতকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে নৌকা কে বিজয় করতে হবে।

আইনজীবীদের নিকট হতে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ভূয়া আইনজীবী সহযোগীসহ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:
অসংখ্য শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের নিকট হতে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া ভূয়া আইনজীবী সহযোগীসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া দুইজন হলেন কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার মো: শামসুল হকের ছেলে প্রতারক মোঃ এহতেশামুল হক@ এ্যাডভোকেট নোমান (৩৪) ও বুড়িচং উপজেলার বাহেরচর গ্রামের মহসীন ভূইয়ার ছেলে জাহিদ হাসান ভূইয়া (২১)। এসময় তাদের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তরপত্র, আইন সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র, ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া সার্টিফিকেট, হলফনামা, ০১ টি এটিএম কার্ড, ০১ টি সিটি ব্যাংকের চেকবই, স্ট্যাম্প, কথোপকথনের স্ক্রীনশট, ০২ টি পেনড্রাইভ, ০২ টি আইনজীবী সম্বলিত মনোগ্রাম, ০১ টি কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি, ০৫ টি মোবাইল ও নগদ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।


আইনজীবীর মতো মহান পেশাকে পুঁজি খাটিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১, কুমিল্লা যে কিনা আইনের জ্ঞান সম্পর্কে অবগত না অথচ জনসমাজে আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। দেখে নেওয়া যাক তার প্রতারণার কৌশল। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ এহতেশামুল হক @ এ্যাডভোকেট নোমান (৩৪) জন্মগ্রহণ করেন ১৫ আগষ্ট ১৯৮৮ সালে। ২০০৫ সালে এসএসসি পাশ করেন, ২০০৭ সালে কারিগরি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ০১ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর পরবর্তীতে ২০০৮ সালে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইন এ ভর্তি হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় নিজের অক্ষমতার দরুন সেখান থেকেও ছিটকে পড়েন এবং ২০১৪ সালে ০৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জনৈক ফারুক নামের এক ব্যক্তির নিকট হতে আইন বিষয়ে অনার্স উত্তীর্ণ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে নোমান তার পরিচিত বন্ধু কাউসারের মাধ্যমে ২০১৫ সালে কুমিল্লা কোর্টে কর্মরত জনৈক আইনজীবীর একটি কোচিং সেন্টার ভর্তি হন। উক্ত আইনজীবীর যাবতীয় কাজ সম্পাদন করার জন্য একজন লোকের প্রয়োজন হতে তিনি নোমানকে তার নিজের অধীনে নিয়োগ করেন এবং নোমান তার অধীনে কুমিল্লা কোর্টে কাজ শুরু করে। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে নোমান পায়ের ব্যাথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ০৬ মাস কর্মবিরতিতে থাকে এবং ০৬ মাস পর জনৈক আইনজীবির নিকট গেলে তিনি নতুন একজনকে তার স্থলে নিয়োগ করেছেন মর্মে নোমানকে অবগত করেন। ২০১৭ সালে নোমান ঐ কোর্টেই কর্মরত অন্য একজন আইনজীবীর অধীনে কাজ করতে থাকে। পরবর্তীতে একই সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভের আশায় বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন এবং অনিয়মিতভাবে কোর্টে কাজ করতে থাকেন। ইতিমধ্যে নোমান মুসলিম বিবাহ সম্পাদন সহ অন্যান্য আইনী কার্যক্রম মোটামুটিভাবে রপ্ত করে ফেলেন ও কর্মক্ষেত্রে তার প্রতিফলনও ঘটায়। ২০২১ সালে সে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভের আশায় বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং পুনরায় অকৃতকার্য হন।

মূল ঘটনা মূলত শুরু হয় ২০২২ সালের প্রথম থেকেই। কোর্টের যাবতীয় কর্মকান্ডে নোমানের যথেষ্ট জ্ঞান অর্জনের পর সে মোটা অংকের টাকা উপার্জনের পথ খুজতে থাকে। ইতিমধ্যে সে নিজের নামে একটি ভুয়া এ্যাডভোকেট কার্ড ও মানবাধিকার কার্ড তৈরী করে ফেলে। পরবর্তীতে নোমান তার বন্ধু কাউসারের মাধ্যমে পরিচিত হয় ভিকটিম মোঃ রেজাউল করিম খান (৩৩) এর সাথে। ভিকটিম রেজাউল পেশায় একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবি হওয়ায় কোর্টে যাওয়া আসা ও কাজ করার সময় প্রতারক নোমানের সাথে পরিচিত হয়। এরই মধ্যে প্রতারক নোমান ভিকটিমকে তার ভুয়া এ্যাডভোকেট কার্ড ও মানবাধিকার কর্মীর কার্ড দেখিয়ে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করে ফেলে ও নিজেকে আসল আইনজীবী বলে তার কাছে পরিচয় দেয়। নোমান ভিকটিমকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষার এমসিকিউ পর্বে পাশ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে ভিকটিমের নিকট তার কথা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। ভিকটিম তার পরিচিত অন্যান্য শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষার এমসিকিউ পর্বে পাশ করিয়ে দিতে পারবে মর্মে তার এক পরিচিত এক আইনজীবীর বিষয়ে অবহিত করলে তারা সকলে একমত পোষণ করে ও টাকা প্রদানে রাজি হয়। এছাড়াও নোমান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনে কর্মরত তার পরিচিত এক উচ্চপদস্থ আইনজীবী আছে যে কিনা তাদেরকে সকল পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিতে পারবে এবং শুধুমাত্র হোয়াটস এ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমেই তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব মর্মে ভুক্তভোগীদের নিকট তথ্য প্রকাশ করে ও উক্ত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের জন্য নোমান তাদেরকে একটি নাম্বার প্রদান করে যেটি কিনা ছিল নোমানের নিজের আরেকটি নতুন নাম্বার যেটি মোবাইলে সেভ করলে হোয়াটস এ্যাপের আইকোনে ইধৎ ঈড়ঁহপরষ নামে প্রতীয়মান হত। ভুক্তভোগীরা উক্ত হোয়াটস নম্বরে মেসেজ প্রেরণ করলে নোমান নিজেই উচ্চপদস্থ আইনজীবী সেজে তাদের সকল মেসেজের ফিডব্যাক প্রদান করত ও তাদেরকে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করত। ইতিমধ্যে ভিকটিম পরীক্ষায় পাশ করার আশায় নিজে ও অন্যান্য শিক্ষানবিশ আইনজীবী কর্তৃক প্রদানকৃত সর্বমোট ৬,৪০,০০০/- টাকা প্রতারক নোমানকে প্রদান করে। টাকা প্রদানের পরিমান, টাকা প্রদানের জায়গাসহ অন্যান্য কথোপকথন প্রতারক নোমান অন্য একটি হোয়াটস এ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে সম্পাদন করত ও এর সফটকপি তার নিজ কম্পিউটারে সংরক্ষন করে রাখত। ইতিমধ্যে এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে ০২ জন শিক্ষানবিশ নিজের যোগ্যতায় কৃতকার্য হয়। কিন্তু নোমান বিষয়টি তার নিজের কৃতিত্বের মাধ্যমে সম্পাদন করেছে বিধায় ঐ ০২ জন শিক্ষানবিশ কৃতকার্য হয়েছে বলে অন্যান্য শিক্ষানবিশকে অবহিত করে। এমতাবস্থায় এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফলে নোমানের নিকট টাকা প্রদানকৃত ০২ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবী কৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বিষয়টি জানতে পারলে তাদের কাছেও বিষয়টি আসল বলে প্রতীয়মান হয় ও তারাও টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে ভুক্তভোগীদেরকে পাশ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারক নোমান ভিকটিম রেজাউল ও অন্যান্য শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের নিকট হতে আরো ১৫,৫০,০০০/- টাকা দাবী করলে ভুক্তভোগীরা পাশের আশায় উক্ত টাকা ভিকটিম রেজাউলকে প্রদান করে এবং রেজাউল তা প্রতারক নোমানকে প্রদান করে। টাকা প্রদানকৃত মোট ১৭ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে মাত্র ০১ জন পাশ করলে ভিকটিমদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেগ হয়। তখন তারা প্রতারক নোমানকে বিষয়টি অবগত করলে প্রতারক নোমান জানায় ১৫/২০ দিন পর প্রকাশিত পেন্ডিং ফলাফলে তাদের নাম আসবে ও তারা সবাই কৃতকার্য হবে। উপরন্তু পেন্ডিং ফলাফলে কৃতকার্য হওয়ার জন্য নোমান পুনরায় তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। পেন্ডিং ফলাফলে কৃতকার্য হওয়ার আশায় নোমান ভিকটিমদের নিকট হতে আরো ২২,১০,০০০/- টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পেন্ডিং ফলাফলে কেউই কৃতকার্য না হলে ভিকটিমরা বুঝতে পারে তারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। এমতাবস্থায় তারা তাদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত পাবার জন্য প্রতারক নোমানের বাসায় গেয়ে নোমান জানায় সে তাদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত দিয়ে দেবে। যেহেতু শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রদানকৃত সমস্ত টাকা রেজাউল সংগ্রহ করে নোমানকে প্রদান করেছে তাই রেজাউল ও অন্যান্য শিক্ষানবিশদের মধ্যে দ্বন্দ সৃষ্টির লক্ষ্যে নোমান তার শ্যালক জাহিদ হাসান ভূইয়া (২৫) কে বার কাউন্সিলের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে বলে। নোমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহিদ শিক্ষানবিশদের সাথে যোগাযোগ করে। যেহেতু লেনদেনের সূত্রপাত হয় রেজাউলকে দিয়ে তাই শিক্ষানবিশরা সম্পূর্ণ টাকা রেজাউলকে দেয় নোমানকে প্রদান করার জন্য ও নোমান টাকাগুলো জাহিদকে প্রদান করার কথা থাকলেও জাহিদ সম্পূর্ণ টাকা পাওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে এবং তাদেরকে জানায় হয়তো নোমান সব টাকা রেজাউলের নিকট হতে বুঝে পায় নাই তাই সে তাকে সব টাকা দিতে পারে নাই। সে আরো জানায় তাকে প্রতিটা কাজের জন্য মাত্র ৭০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এজন্যই সে তাদের কাজগুলো করতে পারে নাই। তাদের কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আরো টাকা প্রয়োজন বিধায় সে আরো টাকা দাবী করে। তখন শিক্ষানবিশরা জানায় তারা সম্পূর্ণ টাকা রেজাউলকে দেয় নোমানকে প্রদানের জন্য। তখন জাহিদ বলে সে নোমানকে ভালভাবে চেনে, নোমান কখনো তার টাকা আত্নসাৎ করবে না, টাকা আত্নসাৎ করলে রেজাউল ই করবে। এছাড়াও সে শিক্ষানবিশদেরকে রেজাউলের নিকট হতে টাকা উদ্ধার সহ নোমানকে টাকা ফেরত প্রদানের জন্য চাপ দিতে নিষেধ করে। উপরন্তু যদি তারা নোমানকে অতিরিক্ত চাপ দেয় তবে তারা যেন কোনদিন আইনী পেশায় নিয়োজিত না হতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এমতাবস্থায়, শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা ব্যাংক হতে লোন গ্রহণ ও ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত টাকা প্রদানের ফলে পরিবার, সমাজ হতে হতাশাগ্রস্থ ও দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং কোন দিশা না পেয়ে গত ০৩ মার্চ র‌্যাব-১১, কুমিল্লা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা উক্ত প্রতারক ও তার সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং মাঠ পর্যায়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত প্রতারক ও তার সহযোগীকে চিহ্নিত করার নিমিত্তে একাধিক টীম মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে।

ছায়া তদন্তের প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৬ মার্চ রাতে কুমিল্লা সদরের ধর্মসাগর এলাকা হতে প্রতারক মোঃ এহতেশামুল হক@ এ্যাডভোকেট নোমান ও তার তার শ্যালক জাহিদ হাসান ভূইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।